• ই-পেপার

বাধা ভেঙে কেমব্রিজে, ঘানার তিন নারীর সাফল্য

‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ ঘোষণা করল নাসা

অনলাইন ডেস্ক
‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ ঘোষণা করল নাসা
ছবি: রয়টার্স

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে মানুষ আবার চাঁদে ফেরার স্বপ্ন দেখে আসছে। তবে এবার লক্ষ্য শুধু চাঁদে গিয়ে ফিরে আসা নয়। বিজ্ঞানীরা সেখানে গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা, দীর্ঘমেয়াদে মানুষের অবস্থান নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার জন্য চাঁদকে একটি যাত্রা ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা করছেন।

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে নতুন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে নাসা। সংস্থাটি আর্টেমিস-৩ মিশনের চার নভোচারীর নাম ঘোষণা করেছে। নাসা এই দলকে ‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। 
আর্টেমিস কর্মসূচি নাসার দীর্ঘমেয়াদি মহাকাশ পরিকল্পনার অংশ। এর মূল উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আবার চাঁদে পাঠানো এবং ভবিষ্যতে আরো গভীর মহাকাশ অনুসন্ধানের পথ তৈরি করা।

আর্টেমিস-৩ কী?

অনেকের ধারণা ছিল, আর্টেমিস-৩ মিশনের মাধ্যমে মানুষ সরাসরি চাঁদের মাটিতে নামবে। তবে নাসা এখন সেই পরিকল্পনায় পরিবর্তন এনেছে। বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে আর্টেমিস-৩ উৎক্ষেপণ করা হবে। তবে এই মিশনে নভোচারীরা চাঁদে অবতরণ করবেন না। বরং এটি হবে একটি বড় ধরনের পরীক্ষামূলক অভিযান। মিশনের সময় প্রায় দুই সপ্তাহ পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে অবস্থান করবে নভোচারীরা। সেখানে বিভিন্ন মহাকাশযান ও প্রযুক্তির মধ্যে সংযোগ, সমন্বয় এবং পরিচালন ব্যবস্থা পরীক্ষা করা হবে। নাসা চায়, ভবিষ্যতে চাঁদে অবতরণের আগে সব প্রযুক্তি বাস্তব পরিবেশে পরীক্ষা করে নিশ্চিত হতে।

কেন গুরুত্বপূর্ণ এই মিশন?

এই মিশনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো নাসার ওরিয়ন মহাকাশযানকে ভবিষ্যতের চন্দ্র অবতরণযানের সঙ্গে যুক্ত করার প্রযুক্তি পরীক্ষা করা। চাঁদে মানুষ পাঠানোর আগে কক্ষপথে একাধিক মহাকাশযান নিরাপদভাবে একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজে ব্যবহার হবে বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স ও ব্লু অরিজিনের প্রযুক্তি।  বিশেষজ্ঞদের মতে, আর্টেমিস-৩ ভবিষ্যতের চন্দ্র অভিযানের ভিত্তি তৈরি করবে। আর্টেমিস-২ এবং চাঁদে অবতরণ মিশনের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধন হিসেবেও কাজ করবে এটি। নাসার বর্তমান পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮ সালে আর্টেমিস-৪ মিশনের মাধ্যমে সত্যিকার অর্থে চাঁদের মাটিতে মানুষ নামানোর চেষ্টা করা হবে। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো মানুষ আবার চাঁদের মাটিতে পা রাখবে।

কারা থাকছেন আর্টেমিস-৩ দলে?

চার সদস্যের এই দলে রয়েছে অভিজ্ঞ মহাকাশচারী, দীর্ঘ সময় মহাকাশে থাকার রেকর্ডধারী, একজন নতুন নভোচারী এবং আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধি। মিশনের নেতৃত্ব দেবেন র‍্যান্ডি ব্রেসনিক। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন বাহিনীর সাবেক কর্নেল এবং একজন অভিজ্ঞ নভোচারী। এর আগে তিনি ১৫০ দিনেরও বেশি সময় মহাকাশে কাটিয়েছেন। দলের পাইলট হিসেবে থাকবেন ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার নভোচারী লুকা পারমিতানো। তিনি ইউরোপের সবচেয়ে অভিজ্ঞ মহাকাশচারীদের একজন। আর্টেমিস কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া প্রথম ইউরোপীয় নভোচারীও তিনি। মিশন বিশেষজ্ঞ হিসেবে থাকছেন ফ্র্যাঙ্ক রুবিও। তিনি টানা ৩৭১ দিন মহাকাশে অবস্থান করে একজন মার্কিন নাগরিক হিসেবে দীর্ঘতম মহাকাশযাত্রার রেকর্ড গড়েছেন। দলের চতুর্থ সদস্য আন্দ্রে ডগলাস। তিনি একজন প্রকৌশলী, রোবট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং সাবেক উপকূলরক্ষী কর্মকর্তা। এটি হবে তাঁর প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ।

নাসার মতে, ভবিষ্যতে চাঁদের উৎক্ষেপণ কেন্দ্র পরিচালনা এবং স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাঁর দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ কেন?

নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান আর্টেমিস-৩ দলের পরিচয় করিয়ে দিতে গিয়ে ‘পৃথিবীর প্রথম তারকা বহর’ (আর্থস ফার্স্ট স্টারফ্লিট) কথাটি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে তিনি এমন একটি ভবিষ্যতের কথা তুলে ধরেন, যেখানে মহাকাশ অনুসন্ধান শুধু একটি দেশের সরকারি কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। বর্তমানে বিভিন্ন দেশের মহাকাশ সংস্থা, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারেরা একসঙ্গে কাজ করছে। 
আর্টেমিস কর্মসূচিও এই বৈশ্বিক সহযোগিতার ফল। স্পেসএক্স চাঁদে মানুষের অবতরণের জন্য স্টারশিপ প্রযুক্তি তৈরি করছে। অন্যদিকে ব্লু অরিজিনও নিজেদের অবতরণযান উন্নয়নের কাজ করছে।

এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রযুক্তি, সরঞ্জাম ও নভোচারী দিয়ে এই কর্মসূচিতে সহযোগিতা করছে।

চন্দ্র পোশাকে 'প্রাডা'?

সম্প্রতি নতুন প্রজন্মের চন্দ্র পোশাক তৈরিতে ইতালির বিলাসবহুল ফ্যাশন ব্র্যান্ড 'প্রাডা'র সম্পৃক্ততার খবর আলোচনায় আসে। তবে বিষয়টি ফ্যাশনের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। প্রাডা সরাসরি নাসার জন্য পোশাক তৈরি করছে না। তারা নাসার চুক্তিকারী প্রতিষ্ঠান 'অ্যাক্সিয়ম স্পেস'কে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছে। প্রাডা উন্নত কাপড়, বিশেষ উপকরণ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি বিষয়ে তাদের অভিজ্ঞতা ব্যবহার করছে। এই সহযোগিতার ফল হিসেবে তৈরি হয়েছে নতুন অ্যাক্সইএমইউ স্পেসস্যুট। নতুন এই পোশাক নভোচারীদের চাঁদের চরম তাপমাত্রা, ধুলা ও বিকিরণ থেকে সুরক্ষা দেবে। এতে বিশেষ শীতলীকরণ ব্যবস্থাও রয়েছে। পোশাকের ভেতরে এমন একটি ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে পানির প্রবাহের মাধ্যমে নভোচারীদের শরীর ঠান্ডা রাখা হবে।

চাঁদ থেকে মঙ্গলের পথে

আর্টেমিস-৩ মিশনের ঘোষণা এসেছে আর্টেমিস-২ এর সফলতার পর। ২০২৬ সালে আর্টেমিস-২ মিশনে নভোচারীরা চাঁদের চারপাশ ঘুরে নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরে আসেন। সেই মিশন প্রমাণ করে, নাসার ওরিয়ন মহাকাশযান গভীর মহাকাশে মানুষকে নিরাপদে বহন করতে সক্ষম। এখন আর্টেমিস-৩-এর দায়িত্ব হলো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি মহাকাশযান ও প্রযুক্তি একসঙ্গে কাজ করতে পারে কি না, তা প্রমাণ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধাপটি চাঁদে অবতরণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাপোলো কর্মসূচি প্রমাণ করেছিল মানুষ চাঁদে পৌঁছাতে পারে। আর্টেমিস কর্মসূচির লক্ষ্য হলো দেখানো যে মানুষ সেখানে দীর্ঘ সময় থাকতে পারে, ঘাঁটি তৈরি করতে পারে এবং ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহে যাওয়ার উৎক্ষেপণ কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করতে পারে। তাই আর্টেমিস-৩ চাঁদে না নামলেও এর গুরুত্ব কম নয়। বরং এই মিশনের সফলতা নির্ধারণ করতে পারে ভবিষ্যতের চন্দ্র ঘাঁটি বা উৎক্ষেপণ কেন্দ্র ,  মহাকাশ গবেষণা এবং মঙ্গল অভিযানের পথ।

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, মানুষ আবার চাঁদে ফিরবে। আর সেই পথ ধরেই একদিন শুরু হতে পারে মঙ্গল গ্রহে মানুষের যাত্রা।


 

লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান নেতানিয়াহুর

অনলাইন ডেস্ক
লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহবিরোধী অবস্থান নেওয়ার আহ্বান নেতানিয়াহুর
ছবি : রয়টার্স

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বুধবার লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের লড়াইয়ে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, জঙ্গি গোষ্ঠীটি তাদের দেশকে ‘জিম্মি’ করে রেখেছে।

লেবাননের জনগণের উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইসরায়েল আপনাদের সঙ্গে যুদ্ধে নেই। আমরা হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধে আছি। তারা আপনাদের দেশকে জিম্মি করে রেখেছে... আমরা আপনাদের সঙ্গে, লেবাননের সঙ্গে শান্তি কামনা করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইসরায়েল আপনাদের সঙ্গে শান্তি চায়। নিজেদের ভবিষ্যৎকে নিজের হাতে তুলে নিন। ইসরায়েলের সঙ্গে যোগ দিন। আমাদের সকল সন্তানের জন্য নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি গড়ে তুলুন। আর একবার হিজবুল্লাহকে নির্মূল করা গেলে, সম্ভাবনার কোনো শেষ থাকবে না এবং তা হবে আকাশচুম্বী।’

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য ক্রমেই আরো গভীর সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাব পুরো অঞ্চলের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্য আরো গভীর সংকটে নিমজ্জিত হচ্ছে এবং এর পরিণতি শুধু এই অঞ্চলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।’

গুতেরেস বলেন, ‘এই সপ্তাহে হামলার পরিধি বেড়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বর্তমানে যে যুদ্ধবিরতি রয়েছে, তা অনেকটা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের বদলে কম মাত্রার সংঘাতের মতো।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘কম মাত্রার এই সংঘাত যে কোনো সময় পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। এই ঝুঁকিকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’ সব পক্ষকে কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আর কোনো হামলা নয়, আর কোনো অজুহাত নয়।’


 

মধ্যপ্রাচ্যে ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, নিশানায় মার্কিন ঘাঁটি

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি আইআরজিসির, নিশানায় মার্কিন ঘাঁটি
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ডবাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে প্রায় ১৮টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাও ছিল।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, জর্ডানের আল-আজরাক বিমানঘাঁটিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা হয়েছে। তাদের দাবি, ওই ঘাঁটিতে অবস্থান করা মার্কিন যুদ্ধবিমানগুলোর বিরুদ্ধে ১২টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে।

আইআরজিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বিমানগুলো ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। লক্ষ্যবস্তুতে থাকা যুদ্ধবিমানগুলোর মধ্যে এফ-১৫, এফ-১৬ এবং এফ-৩৫ মডেলের বিমান ছিল বলে দাবি করেছে তারা।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আল-আজরাক ঘাঁটিতে থাকা বেশ কয়েকটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। তবে এই দাবির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

শুধু জর্ডান নয়, কুয়েতের দুটি বিমানঘাঁটি এবং বাহরাইনের একটি বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি।

ইরানের এই বাহিনী আরো জানিয়েছে, তাদের কয়েকটি হামলার লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি। তাদের দাবি, এসব হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং হামলার প্রভাব ছিল ব্যাপক।

আইআরজিসির মতে, এসব অভিযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। হামলাগুলো সমন্বিতভাবে পরিচালনা করা হয় বলে তারা জানিয়েছে।

ইরানি বাহিনীর দাবি, তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র যে সাম্প্রতিক হামলা চালিয়েছে, তার জবাব হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আইআরজিসি বলছে, রাতে এক বা দুই দফায় মার্কিন বাহিনী ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানোর পর তারা পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে উঠেছে। আঞ্চলিক দেশগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা এভাবে বাড়তে থাকলে সংঘাত আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে।
 

বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমলেও রয়েছে উদ্বেগ : ইউএনএইচসিআর

অনলাইন ডেস্ক
বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমলেও রয়েছে উদ্বেগ : ইউএনএইচসিআর

সংঘাত, সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে বিশ্বজুড়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ২০২৫ সালে এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো কমেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর। তবে গত বছর নতুন করে ৫৪ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। ফলে বিশ্বব্যাপী শরণার্থী বা শরণার্থীসদৃশ পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৬ লাখে, যার মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ফিলিস্তিনি শরণার্থী রয়েছেন। ফলে জনমনে রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট এখনো উদ্বেগজনক।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

আরো পড়ুন
কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

কুয়েতের আকাশসীমা সাময়িক বন্ধ ঘোষণা

 

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, একই সময়ে প্রায় ১ কোটি ৪৭ লাখ শরণার্থী ও অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তি নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন। আগের বছরের তুলনায় এ সংখ্যা ৫০ শতাংশ বেশি এবং ১৯৬৫ সালের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রত্যাবর্তনের ঘটনা।

সবচেয়ে বেশি মানুষ ফিরে গেছেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সুদান, সিরিয়া, আফগানিস্তান, ইউক্রেন ও মিয়ানমারে। তবে অনেক ক্ষেত্রেই তারা নিরাপত্তাহীনতা, অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি এবং মৌলিক সেবার সংকটের মধ্যে নিজ দেশে ফিরেছেন বলে জানিয়েছে ইউএনএইচসিআর।

আরো পড়ুন
ভারতেই তৈরি সি-২৯৫ বিমানের প্রথম উড্ডয়ন

ভারতেই তৈরি সি-২৯৫ বিমানের প্রথম উড্ডয়ন

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে প্রায় ২৯ লাখ আফগান দেশে ফিরেছেন, যার মধ্যে ১৯ লাখই শরণার্থী। অন্যদিকে, বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায়ও প্রত্যাবর্তনের হার বেড়েছে। গত বছর প্রায় ১৩ লাখ সিরীয় নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

তবে ইউএনএইচসিআর সতর্ক করে বলেছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা কমলেও দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট এখনো উদ্বেগজনক। বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ৭০ শতাংশ শরণার্থী পাঁচ বছর বা তার বেশি সময় ধরে নিজ দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন।

ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার বারহাম সালিহ বলেন, আশ্রয় ও সুরক্ষা মানুষের জীবন রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এমন পরিস্থিতি গ্রহণযোগ্য নয়, যেখানে লাখ লাখ শরণার্থী বছরের পর বছর নিজেদের জীবন পুনর্গঠনের সুযোগ ছাড়া অনিশ্চয়তার মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হন।

আরো পড়ুন
হজ শেষে ফিরলেন ৪৯৯৮২ হাজি

হজ শেষে ফিরলেন ৪৯৯৮২ হাজি

 

সংস্থাটি ২০৩৫ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী ও মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্যে শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সূত্র : দ্য হিন্দু