• ই-পেপার

শূন্যরেখায় আটকা পড়া সেই বৃদ্ধকে উদ্ধার, মিলেছে পরিচয়

ফেনীতে গ্যাসবোঝাই ট্রাকে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, নিহত ২

ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীতে গ্যাসবোঝাই ট্রাকে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কা, নিহত ২
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফেনীতে গ্যাসবোঝাই একটি ট্রাকের পেছনে কাভার্ডভ্যানের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অন্তত আরো আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার (১০ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে সদর উপজেলার খাইয়ারা ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতদের মধ্যে একজনের নাম জাহাঙ্গীর (৪০)। অপরজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি।

পুলিশ, হাসপাতাল ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম থেকে আসা একটি গ্যাসবোঝাই ট্রাকের চাকা পাংচার হলে সেটি মহাসড়কের পাশে থামিয়ে চালক ও হেলপার চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন। এ সময় ঘটনাস্থলে স্থানীয় কয়েকজন উৎসুক মানুষ জড়ো হন। পরে আকস্মিকভাবে ঢাকামুখী একটি কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাক ও সেখানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকজনকে চাপা দেয়।

খবর পেয়ে মহিপাল হাইওয়ে থানা-পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়।

আহতদের মধ্যে আবদুর শুক্কুর (৫২), বেলাল হোসেন (৩৭), আরিফুল ইসলাম (৩২), আরিফ (২০) ও মো. রাসেলকে (৩২) গুরুতর অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া কক্সবাজারের কুতুবদিয়ার মো. মিজান (৩৫) এবং নোয়াখালীর সোনাপুর এলাকার সাগর (২২) ফেনী জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত জুয়েল (১৬) প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শী আবুল কালাম বলেন, ঘটনাস্থলের পাশেই আমার রেস্টুরেন্ট। হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাইরে এসে দেখি একটি গ্যাসবোঝাই ট্রাকের চাকা পাংচার হয়েছে। চালক ও হেলপার চাকা পরিবর্তনের কাজ করছিলেন, আর কয়েকজন মানুষ দাঁড়িয়ে দেখছিলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি কাভার্ডভ্যান এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুরো জটলার ওপর উঠে যায়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয় ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. মোশাররফ হোসেন তালুকদার বলেন, অন্তত ১০ জন আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের মধ্যে একজন হাসপাতালে আনার আগেই মারা যান। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরে আরো একজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের অনেকের হাত-পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাঁচজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে ও একজন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে ফাজিলপুর হাইওয়ে থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নিহত একজনের পরিচয় জানা গেছে। অপরজনের বিস্তারিত পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি। পিবিআই তাদের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

রংপুরে ৯১ মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ৯২

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরে ৯১ মাদক মামলায় গ্রেপ্তার ৯২
সংগৃহীত ছবি

রংপুরে এক মাসে ৯১ মাদক মামলায় ৯২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মে মাসে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরপিএমপি) আওতাধীন বিভিন্ন থানায় মোট মামলা করা হয় ১৪৬টি। এর মধ্যে মাদক মামলা ৯১টি।

বুধবার বিকেলে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের মিলনায়তনে আয়োজিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। 

আরপিএমপি সূত্রে জানা গেছে, অভিযানে প্রায় ৮ কেজি গাঁজা, ১ হাজার ২৪৯ পিস ইয়াবা, ৩০ লিটার চোলাই মদসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মে মাসে হওয়া ১৪৬টি মামলার মধ্যে মাদক মামলা ৯১টি, অস্ত্র আইনে ১টি, নারী ও শিশু নির্যাতন সংক্রান্ত ৫টি, ধর্ষণ ২টি, চুরি ১২টি এবং অন্যান্য অপরাধে ৩৫টি মামলা রয়েছে। পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট মামলার বড় অংশই মাদকসংশ্লিষ্ট, যা নগরীতে মাদক বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আরপিএমপি জানিয়েছে, মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান, গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে বিশেষ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত অভিযানে মাদক কারবারি ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ বলেন, ‘রংপুরবাসীকে একটি শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ পরিবেশ উপহার দিতে আরপিএমপির প্রতিটি ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা আন্তরিকভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’

বান্দরবান সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান
বান্দরবান সদর হাসপাতালে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ২ নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে নির্মাণকাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সাকিব (২০) ও কামরুল হাসান (৩৫)। তারা উভয়েই ভোলা জেলার চরফ্যাশন উপজেলার বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনের নির্মাণকাজে নিয়োজিত ছিলেন সাকিব ও কামরুল। কাজ করার এক পর্যায়ে ভবনের পাশে থাকা বৈদ্যুতিক মেইন লাইনের তারের সঙ্গে একটি লোহার অ্যাঙ্গেলের সংস্পর্শ হলে তারা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এতে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেন এবং প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।

এ বিষয়ে বান্দরবান ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মান্নান আনসারী বলেন, ‘বান্দরবান সদর হাসপাতালের সার্ভিস ভবনে কাজ করার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে এসে পরিদর্শন করছি। পরিদর্শন শেষে ঘটনার বিস্তারিত কারণ জানা যাবে।’

দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর স্টেশনে ট্রেনের আসন বৃদ্ধির দাবি সংসদ সদস্যের

ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি
বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহর স্টেশনে ট্রেনের আসন বৃদ্ধির দাবি সংসদ সদস্যের

পাবনার ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর এলাকায় ঢাকাগামী আন্ত নগর ট্রেনের যাত্রা বিরতি বৃদ্ধি এবং আসন সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা।

বুধবার জাতীয় সংসদে তিনি এ দাবি উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, এই দাবি বাস্তবায়িত হলে ভাঙ্গুড়া, চাটমোহর ও আশপাশের এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি অনেকাংশে কমে আসবে।

জানা গেছে, ব্রিটিশ আমল থেকে ট্রেনে যাত্রী পরিবহনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বড়াল ব্রিজ ও চাটমোহরের চাটমোহর রেলস্টেশন অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ স্টেশন। ঢাকা যাতায়াতে জেলার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর ও চাটমোহরের আংশিক অঞ্চলের জনগণ বড়াল ব্রিজ স্টেশন ব্যবহার করে। অন্যদিকে পাবনা জেলা সদর, আটঘরিয়া ও চাটমোহরের যাত্রীরা ঢাকা যাতায়াতে চাটমোহর স্টেশন ব্যবহার করে। বর্তমানে দুটি স্টেশনে ঢাকাগামী পাঁচটি ট্রেনের যাত্রা বিরতি হয়। বড়াল ব্রিজ স্টেশনে পাঁচটি ট্রেনে প্রায় ১৮০টি ও চাটমোহর স্টেশনে প্রায় ২৮০টি আসন বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু এ দুটি স্টেশনে প্রতিদিন বরাদ্দের চেয়ে চার থেকে পাঁচ গুণ যাত্রী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াত করেন। ফলে অধিকাংশ যাত্রীকে আসন বিহীন টিকিটে যাত্রা করতে হয়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি ও সীমাহীন কষ্ট পোহাতে হয়। বিষয়টি বিবেচনা করে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এই রুটে ঢাকাগামী সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও অধিক আসন বরাদ্দের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য বলেন, কৃষি, শিক্ষা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চাটমোহর ও ভাঙ্গুড়া উপজেলার অনেক গুরুত্ব রয়েছে। এসব প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষকে নিয়মিত ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে যাতায়াত করতে হয়। ট্রেন পথ এ অঞলের মানুষের ঢাকা যাতায়াতের প্রধান ও সাশ্রয়ী মাধ্যম। কিন্তু ট্রেনে আসন সংখ্যা সীমিত হওয়ায় এ অঞ্চলের মানুষকে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই তিনি এই রুটের সব ট্রেনের যাত্রা বিরতি ও আসন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।

ভাঙ্গুড়া বাজারের বাসিন্দা আব্দুল মালেক বলেন, যাত্রীদের চাপের বিবেচনায় বড়াল ব্রিজ স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কম। ফলে অনলাইনে টিকিট বরাদ্দের পরপরই শেষ হয়ে যায়। এতে অধিকাংশ যাত্রীকে দাঁড়িয়ে ট্রেনে যাতায়াত করতে হয়। যা অত্যন্ত কষ্টের। তাই সংসদ সদস্যের এই দাবিকে সাধুবাদ জানাই।

বড়াল ব্রিজ স্টেশনের ইনচার্জ শফিউল ইসলাম বলেন, এই স্টেশনে আসন বরাদ্দের চেয়ে যাত্রীর চাপ অনেক বেশি। ফলে সংসদ সদস্যের এই দাবি অত্যন্ত যৌক্তিক ও জনকল্যাণকর। ফলে এটি বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।