• ই-পেপার

৪০ দিনে সারা দেশে গ্রেপ্তার ১৮৩২৮

বাজেট ২০২৬-২০২৭

শিক্ষাখাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষাখাতে ৪৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব
সংগৃহীত ছবি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য বিশাল বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে এই বাজেট উত্থাপন করবেন তিনি।

এবারের বাজেটের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হতে যাচ্ছে শিক্ষাখাত, যেখানে গত অর্থবছরের তুলনায় বরাদ্দ একলাফে প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা বাড়ানোর আভাস পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আগামী অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করতে পারেন অর্থমন্ত্রী, যা দেশের মোট জিডিপির ২ শতাংশ। উল্লেখ্য, বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই খাতে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা (জিডিপির ১.৩৯ শতাংশ)। নতুন বাজেটে সরকার মূলত গবেষণা ও উদ্ভাবনমূলক কাজে কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করতে এই বিপুল বরাদ্দ দিচ্ছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রথাগত পড়াশোনার বাইরে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দময় শিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতির বিকাশকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা ও সাহিত্যচর্চার মতো সহশিক্ষা কার্যক্রমে জোর দেবে সরকার।

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসছে ভাষা শিক্ষায়। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য এখন থেকে কারিকুলামে তৃতীয় ভাষা বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এর আওতায় জাপানিজ, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফ্রেঞ্চ ও জার্মান ভাষার মতো আন্তর্জাতিক ভাষাগুলো শেখার সুযোগ পাবে শিক্ষার্থীরা।

মাদ্রাসাশিক্ষার্থীদের মূলধারার কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং কর্মমুখী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করা হবে। দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও স্কুলব্যাগ সরবরাহ, প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষায়িত সহায়ক প্রযুক্তি ও শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের পুষ্টির চাহিদা মেটাতে এবং সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ এবং ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্যানিটেশন ও হাইজিনকে প্রাধান্য দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে মোট ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি থাকতে পারে।

বিবিএসের দাবি

মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার মার্কিন ডলার, জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন

অনলাইন ডেস্ক
মাথাপিছু আয় ছাড়াল ৩ হাজার মার্কিন ডলার, জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন

দেশের অর্থনীতির আকার অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ৫০১ বিলিয়ন ডলারে। অন্যদিকে দেশের মানুষের মাথাপিছু আয়ও ৩ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এখন মাথাপিছু গড় আয় ৩ হাজার ২০ ডলার বা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা। এ ছাড়া চলতি অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মাথাপিছু আয় ও জিডিপির প্রাক্কলিত সাময়িক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিবিএসের তথ্য মতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। এক বছরের ব্যবধানে মাথাপিছু আয় ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা বেড়েছে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এটি ছিল ৩ লাখ ৪ হাজার ১০২ টাকা। অর্থাৎ দুই বছরে বেড়েছে প্রায় ৬৪ হাজার টাকা।

এদিকে বিনিয়োগ ও সঞ্চয় স্থবিরতার মধ্যেও চলতি অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি হয়েছে দশমিক ৬৫ শতাংশ। খাতভেদে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি হয়েছে সেবা খাতে। এ খাতে প্রবৃদ্ধির হার ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ। এ ছাড়া শিল্পে ২ দশমিক ৮৬ এবং কৃষিতে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় কৃষি ও সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কমলেও শিল্প খাতে বেড়েছে।

বর্তমানে প্রচলিত বাজারমূল্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার প্রথমবারের মতো ৫০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতির আকার দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা প্রায় ৫০১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশের অর্থনীতির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা প্রায় ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার।

বাজেট

১০০ শতাংশ কর মওকুফ হচ্ছে যেসব খাত

অনলাইন ডেস্ক
১০০ শতাংশ কর মওকুফ হচ্ছে যেসব খাত

প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের ওপর ব্যয়ের বোঝা কমাতে বেশ কিছু খাতে ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতি ও শুল্ক মওকুফের ঐতিহাসিক প্রস্তাব করতে যাচ্ছে সরকার। কর মওকুফের এ বড় ঘোষণার মধ্যে রয়েছে ভোজ্য তেল উৎপাদন। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্য তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রথম ৫ বছর ১০০ শতাংশ কর অব্যাহতি প্রদানের প্রস্তাব করা হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জাতীয় সংসদে বাজেট পেশ করার সময় দেশীয় শিল্প এবং জনকল্যাণমূলক সেবায় এই বড় ছাড়ের ঘোষণা দিতে পারেন।

বাড়তি বরাদ্দ নেই বাজেটে, তবু সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সুসংবাদ পরবর্তী ৩ বছর ৫০ শতাংশ এবং তার পরের ২ বছর ২৫ শতাংশ কর অব্যাহতির সুবিধা পাবেন উদ্যোক্তারা। অর্থাৎ ভোজ্য তেল খাতে দীর্ঘ ১০ বছরের জন্য কর ছাড়ের একটি বড় সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বাজেটে।

পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য শতাংশ কর হারের প্রস্তাব করা হতে পারে। এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের বিপরীতে ৫ শতাংশ কর রেয়াত দেওয়ার সুবিধাও রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

একই সঙ্গে শিক্ষার্থী পরিবহনে ব্যবহৃত ইলেকট্রিক বাস আমদানিতে ভ্যাট ছাড়া বাকি সব ধরনের শুল্ক ও কর ১০০ শতাংশ মওকুফ করা হচ্ছে।

প্রযুক্তি খাতে বিপ্লব ঘটাতে এবং তরুণদের উৎসাহিত করতে বাজেটে প্রতিটি মোবাইল সিম কার্ডের ওপর থাকা ৩০০ টাকা কর সম্পূর্ণরূপে (১০০ শতাংশ) প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ আরো সাশ্রয়ী হবে।

এ ছাড়া স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় পর্যায়ের ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও ফ্রিল্যান্সারদের সেবার ওপর থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট সম্পূর্ণরূপে অব্যাহতি এবং ল্যাপটপ, ডেস্কটপ ও প্রিন্টার আমদানিতেও সমুদয় শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

কিডনি রোগীদের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনায় নিয়ে ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে থাকা ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে, যা প্রতিটি ডায়ালিসিসের ব্যয় প্রায় ৮০০ টাকা কমিয়ে দেবে।

এ ছাড়া বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য ২১ ধরনের সহায়ক যন্ত্রপাতির আমদানিতে সমুদয় আমদানি শুল্ক, রেগুলেটরি ডিউটি ও অগ্রিম কর ১০০ শতাংশ অব্যাহতি দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।

ভূমি কর্মকর্তাদের জন্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

বাসস
ভূমি কর্মকর্তাদের জন্য মন্ত্রণালয়ের নতুন নির্দেশনা

ভূমি উন্নয়ন কর আদায় জোরদার করতে ভূমি উন্নয়ন কর (এলডি ট্যাক্স) সিস্টেমে জমা থাকা হোল্ডিং খোলার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে ভূমি মন্ত্রণালয়।

একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি ভূমি মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাইজেশন, নলেজ ম্যানেজমেন্ট ও পারফরম্যান্স (ডিকেএমপি) অনুবিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।

উপসচিব সাদেকুর রহমান স্বাক্ষরিত এ নির্দেশনা দেশের সব জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে তিন পার্বত্য জেলাকে এ নির্দেশনার আওতার বাইরে রাখা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর সিস্টেমে প্রায় ১ লাখ ২৮ হাজার নাগরিকের হোল্ডিং খোলার আবেদন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ফলে ভূমি উন্নয়ন কর আদায় কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এ অবস্থায় অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা সব আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এতে আরো বলা হয়, কোনো সুনির্দিষ্ট ও যৌক্তিক কারণ ছাড়া নাগরিকদের হোল্ডিং খোলার আবেদন বাতিল করা যাবে না।

আবেদন অনুমোদনযোগ্য না হলে, বাতিলের ক্ষেত্রে যথাযথ কারণ উল্লেখ করতে হবে, যাতে আবেদনকারী নাগরিকরা সিদ্ধান্তের কারণ জানতে পারেন।

ভূমি মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের উদ্দেশে জারি করা নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে, যেসব ভূমি সহকারী কর্মকর্তা বা ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা হোল্ডিং খোলার আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি করছেন না, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

ভূমি উন্নয়ন কর ব্যবস্থাকে আরো কার্যকর ও নাগরিকবান্ধব করতে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।