• ই-পেপার

ট্রাম্পের অনুরোধ উপেক্ষা করে ইরানে পাল্টা হামলা ইসরায়েলের

নিউইয়র্কের পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতে ৫ জন আহত, সন্দেহভাজন আটক

অনলাইন ডেস্ক
নিউইয়র্কের পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতে ৫ জন আহত, সন্দেহভাজন আটক
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্যস্ততম পেন স্টেশনে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। রবিবার (৭ জুন) সন্ধ্যার এই ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারীকে পুলিশ ইতিমধ্যে আটক করেছে। আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের ধারণা, আটককৃত ব্যক্তি একজন গৃহহীন হতে পারেন।

নিউইয়র্ক সিটি ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, রবিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পেন স্টেশনের একটি প্রবেশপথে (ওয়েস্ট ৩৩তম স্ট্রিট এবং ৭ম অ্যাভিনিউ) একাধিক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতের খবর পেয়ে তারা দ্রুত ছুটে যান। হামলায় আহত পাঁচজনকেই বেলভিউ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর হলেও কারো আঘাতই প্রাণঘাতী নয়।

ম্যানহাটনের বিখ্যাত ‘ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন’-এর ঠিক নিচে অবস্থিত এই পেন স্টেশনটি শহরের সাবওয়ে এবং যাত্রীবাহী রেলের একটি প্রধান সংযোগস্থল। এনবিএ ফাইনালের তৃতীয় ম্যাচ দেখতে সোমবার (৮ জুন) এই ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের যাওয়ার কথা রয়েছে। ট্রাম্পের এই সফরের ঠিক আগের দিন এই হামলার ঘটনায় পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

অ্যামট্র্যাক পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করে। নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এই ঘটনার কারণে ট্রেন বা রেল পরিষেবার ওপর কোনো প্রভাব পড়বে না।

সোমবারের (৮ জুন) এনবিএ ফাইনালে মুখোমুখি হবে ‘নিউইয়র্ক নিকস’ ও ‘সান আন্তোনিও স্পার্স’। ১৯৯৯ সালের পর এই প্রথম এখানে ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোনের মাধ্যমে পুরো এলাকায় কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

সূত্র : সিএনএন

ডিএমকে নেই, তৃণমূল ক্ষমতাহীন—গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট

অনলাইন ডেস্ক
ডিএমকে নেই, তৃণমূল ক্ষমতাহীন—গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ‘ইন্ডিয়া’ জোট

ভারতের বিরোধী দলগুলোর জোট ‘ইন্ডিয়া’ নতুন করে রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ ও অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবেলায় আজ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসছে। শুধু সংসদের আসন্ন বর্ষাকালীন অধিবেশন বা বিজেপির মোকাবেলার কৌশল নয়, জোটের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানা গেছে।

জোটের অভ্যন্তরীণ সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে দুটি কারণে। প্রথমত, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট ভেঙে দক্ষিণ ভারতের প্রভাবশালী দল ডিএমকের  ‘ইন্ডিয়া’ জোট ত্যাগ।

আরো পড়ুন
আমিও তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব

আমিও তো ১০ হাজার কর্মী ছাঁটাই করব

 

দ্বিতীয়ত, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়, যা বিরোধী রাজনীতির নেতৃত্ব নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে।

আজকের বৈঠকটি দিল্লির কন্টিনেন্টাল ক্লাবে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনে জোটের বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এবার নিরপেক্ষ স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকটি সহজ হবে না। কংগ্রেস ও ডিএমকের বিচ্ছেদ নিয়ে জোটের শরিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ডিএমকে এরইমধ্যে স্পষ্ট জানিয়েছে, তারা বৈঠকে অংশ নেবে না এবং ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অংশ হিসেবেও আর থাকবে না।

আরো পড়ুন
বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ব্রাজিল দলে পরিবর্তন

বিশ্বকাপের আগ মুহূর্তে ব্রাজিল দলে পরিবর্তন

 

সম্প্রতি তামিলনাড়ু সরকারে অংশীদার হওয়ার বিষয়ে ডিএমকের অনীহার পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিনের জোট ভেঙে দেয় কংগ্রেস। পরে তারা অভিনেতা বিজয়ের নেতৃত্বাধীন তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)-এর নেতৃত্বাধীন জোটে যোগ দেয়।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী পরাজয় বিরোধী শিবিরের নেতৃত্ব প্রশ্নে নতুন বাস্তবতা তৈরি করেছে। আগে অনেক দলই কংগ্রেসের বাইরে কোনো নেতার হাতে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের নেতৃত্ব দেখতে চেয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এখন কংগ্রেসের সমর্থনের প্রয়োজন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আজকের বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে তাদের নেতাকর্মীদের ওপর কথিত হামলার বিষয়টি উত্থাপন করতে পারে। দলটির নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘সুস্পষ্ট লক্ষ্য ও অভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে বৈঠক হচ্ছে। ‘ইন্ডিয়া’ ঐক্যবদ্ধ। বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশে বৈঠকের অপেক্ষায় রয়েছে অনেক দল।’

আরো পড়ুন
পলাতক সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের সম্পদ জব্দে আইনি প্রক্রিয়া শুরু

পলাতক সাবেক ডিবি প্রধান হারুনের সম্পদ জব্দে আইনি প্রক্রিয়া শুরু

 

এদিকে, অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি (আপ) এরই মধ্যে প্রকাশ্যে জোট থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে। কংগ্রেসের সঙ্গে মতবিরোধ থাকা সত্ত্বেও সিপিএম বৈঠকে অংশ নেবে বলে জানিয়েছে।

সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি সম্প্রতি কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকে চিঠি দিয়ে রাহুল গান্ধীর এক মন্তব্যের প্রতিবাদ জানান, যেখানে কেরালার সাবেক মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও বিজেপির মধ্যে আঁতাতের অভিযোগ তোলা হয়েছিল।

কংগ্রেসের দাবি, আজকের বৈঠকে ২৩টি রাজনৈতিক দল অংশ নেবে। তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং ফারুক আবদুল্লাহর ন্যাশনাল কনফারেন্সসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দল এতে উপস্থিত থাকবে।

আরো পড়ুন
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানির

ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়াকে ৫ শর্ত যুক্তরাজ্য-ফ্রান্স-জার্মানির

 

এদিকে কেন্দ্রীয় সরকার শিগগিরই সংবিধান সংশোধনী সংক্রান্ত দুটি বিল পুনরায় সংসদে উত্থাপন করতে পারে বলে জল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে সীমানা পুনর্নির্ধারণ (ডিলিমিটেশন) ও নারী সংরক্ষণ বিল উল্লেখযোগ্য। বাজেট অধিবেশনে বিরোধী দলগুলোর ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের কারণে সরকার বিল দুটি পাস করাতে ব্যর্থ হয়েছিল।

ধারণা করা হচ্ছে, আজকের ‘ইন্ডিয়া’ জোটের বৈঠকে এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হবে। এর আগে গত এপ্রিল মাসেও একই ইস্যুতে জোটের নেতারা বৈঠকে বসেছিলেন।

সূত্র : এনডিটিভি

সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ বলে এনবিসির সাক্ষাৎকার থেকে বেরিয়ে গেলেন ট্রাম্প

অনলাইন ডেস্ক
সংবাদমাধ্যমকে ‘অসৎ’ বলে এনবিসির সাক্ষাৎকার থেকে বেরিয়ে গেলেন ট্রাম্প
ছবি : রয়টার্স

২০২০ সালের নির্বাচনে কারচুপি এবং ৬ জানুয়ারির বিদ্রোহে অভিযুক্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয় নিয়ে কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়ে এনবিসি-র ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠান থেকে মাঝপথেই বেরিয়ে গেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। উইসকনসিনে এনবিসি-র সাংবাদিক ক্রিস্টেন ওয়েলকারের সাথে এক উত্তপ্ত তর্কাতর্কির পর ট্রাম্প সাক্ষাৎকারটি বন্ধ করে দেন। শুক্রবার (৫ জুন) ধারণ করা এই সাক্ষাৎকারটি রবিবার (৭ জুন) প্রচারিত হয়।

সাক্ষাৎকারে আলোচনার একপর্যায়ে ট্রাম্প দাবি করেন, ২০২০ সালের মার্কিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার চলতি প্রাইমারি নির্বাচন—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপক কারচুপি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচনের ভোট গণনা নিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘চার দিন পার হয়ে গেলেও কেন ফলাফল দেওয়া হচ্ছে না? তারা নির্বাচনে প্রতারণা করছে।’ উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার যখন এই কারচুপির দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ চান, তখন ট্রাম্প কোনো প্রমাণ দিতে না পেরে বলেন, ‘আমার শুধু তাকাতে হয়, আর আমি শুনি।’

উপস্থাপিকা তাৎক্ষণিক বাধা দিয়ে বলেন, এটা কোনো প্রমাণ নয়। ক্যালিফোর্নিয়ায় ডাকযোগে ভোটের ব্যাপক ব্যবহার এবং সতর্কতার কারণে ফলাফল দিতে কিছুটা দেরি হওয়া স্বাভাবিক—এই বিষয়টি মনে করিয়ে দিলে ট্রাম্প আরো রেগে যান। তিনি উপস্থাপিকাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ওরা অসৎ, ঠিক তোমার মতোই অসৎ। তুমি হয় অসৎ, না হয় বোকা।’

সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের পরিকল্পিত ১.৮ বিলিয়ন ডলারের ‘অস্ত্রায়ন-বিরোধী’ তহবিল নিয়েও কথা হয়। সরকারি তদন্তের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার জন্য এই তহবিল গঠনের কথা ছিল, যা বর্তমানে বাতিল করা হয়েছে। ডেমোক্র্যাট ও কিছু রিপাবলিকান নেতার আশঙ্কা ছিল, এই তহবিল থেকে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ক্যাপিটল দাঙ্গায় অভিযুক্তদের অর্থ দেওয়া হতে পারে। এই দাঙ্গা এবং ইরানের সাথে মার্কিন সংঘাতের প্রসঙ্গ নিয়েও সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ আলোচনা হয়।

টানা ৫০ মিনিট ধরে চলা এই সাক্ষাৎকারে বারবার প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত বলেন, ‘দুঃখিত, এখানেই শেষ করা যাক, কারণ আমার যথেষ্ট হয়েছে।’ তিনি ক্যামেরার পেছনের কর্মীদের দিকে ইশারা করে বলেন, ‘চলো, যাই।’ সেট ছাড়ার আগে তিনি যোগ করেন, ‘একটি অসৎ সংবাদমাধ্যম নিয়ে কোনো দেশ কখনো মহান হতে পারে না।’

সাক্ষাৎকারটি প্রচারিত হওয়ার পর উপস্থাপিকা ক্রিস্টেন ওয়েলকার জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া ও বৃষ্টির কারণে সাক্ষাৎকারে কিছুটা যান্ত্রিক গোলযোগ হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সাথে তার পরবর্তীতে কথা হয়েছে এবং ট্রাম্প খুব শীঘ্রই ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আরেকটি সাক্ষাৎকার দিতে রাজি হয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি

আমাদের সম্পদ ওয়াশিংটনের যুদ্ধের লুট বা বন্ধুদের তহবিল নয় : ইরান

অনলাইন ডেস্ক
আমাদের সম্পদ ওয়াশিংটনের যুদ্ধের লুট বা বন্ধুদের তহবিল নয় : ইরান
ছবি : রয়টার্স

উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের ক্ষয়ক্ষতি পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানি সম্পদ ব্যবহারের পরিকল্পনার তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আঞ্চলিক সরকারগুলো ইরানের কাছ থেকে কোনো ধরনের ‘ক্ষতিপূরণ দাবি করার অবস্থানে নেই।’

রবিবার (৭ জুন) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে ঘারিবাবাদী বলেন, ‘ইরানের সম্পদ ওয়াশিংটনের জন্য কোনো যুদ্ধের লুট নয়, কিংবা তাদের মিত্রদের দেওয়ার কোনো পেমেন্ট ফান্ডও নয়।’ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

সম্প্রতি গণমাধ্যমটির অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট একটি বিশেষজ্ঞ দলকে উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে ইরানের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের নির্দেশ দিয়েছেন। ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন ও অতীতে হওয়া ক্ষয়ক্ষতি পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জব্দকৃত সম্পদ তাদের উপসাগরীয় মিত্রদের দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

গণমাধ্যমটি জানায়, চলমান এই যুদ্ধে ইরান বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দাবি, তারা ওই অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ও ইসরায়েলি স্বার্থকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে। গত শনিবারও কুয়েত ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিতে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তারা ৭টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৬টি প্রতিহত করেছে। এই হামলায় কুয়েতে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

গবেষণা সংস্থা ‘রাইস্ট্যাড এনার্জি’র এপ্রিলের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকটে কেবল জ্বালানি খাতের অবকাঠামো মেরামতেই এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রায় ৫৮ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে।

ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘারিবাবাদী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান সরকারের সম্মতি ছাড়া তাদের যেকোনো সম্পদ বাজেয়াপ্ত, স্থানান্তর বা বণ্টন করা হলে তা হবে একটি ‘নতুন আন্তর্জাতিক অপরাধ’। ওয়াশিংটন যখন তেহরানের সঙ্গে আলোচনা ও সমঝোতার দাবি করছে, ঠিক তখনই এমন পদক্ষেপ পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটাবে এবং ইরান এর ‘উপযুক্ত জবাব’ দেবে।

তিনি আরো যোগ করেন, আঞ্চলিক কিছু দেশ নিজেদের ভূখণ্ড এবং সামরিক সুবিধা ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালানোর জন্য মার্কিন বাহিনীকে ছেড়ে দিয়েছে। ফলে তারা ক্ষতিপূরণ পাওয়ার যোগ্য নয়, বরং তাদেরই উচিত ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া।

উল্লেখ্য, ইরান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশের মধ্যে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা তাদের শত কোটি ডলার ছাড় করার দাবি জানিয়ে আসছে। যুদ্ধ বন্ধে তেহরানের অন্যতম শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিলিয়ন ডলারের ফ্রিজড অ্যাসেট (স্থগিত সম্পদ) অবমুক্ত করা, মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের কর্তৃত্বের স্বীকৃতি।