• ই-পেপার

মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ

হরমুজের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আলোচনায় কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি : ইরান

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজের পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আলোচনায় কোনো অনুরোধ জানানো হয়নি : ইরান
ছবি : রয়টার্স

ইরানের ওপর টানা ১৩ দিন বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। হামলার মধ্যে চাউর হয়েছে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে, এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে ইরান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর টানা ১৩ দিনের বিমান হামলা বন্ধ করার পর সোমবার এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে তেহরান।

এক সংবাদ সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনার খবরগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আলোচনার অনুরোধ করা আমাদের ডিএনএতে নেই।’

 আলোচনার খবর অস্বীকার করলেও বাঘাই জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে এখনো বার্তা আদান-প্রদান চলছে। ইরান কূটনীতিকে পুরোপুরি বর্জন করেনি।

ইরান দাবি করেছে, সোমবার সকালে তাদের অনুমতি ছাড়া হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করায় তারা ছয়টি ‘আইন লঙ্ঘনকারী’ জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের খাবার উৎসবে বন্দুকধারীদের গোলাগুলিতে নিহত বেড়ে ৩

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের খাবার উৎসবে বন্দুকধারীদের গোলাগুলিতে নিহত বেড়ে ৩
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে শহরে জনপ্রিয় খাবার  উৎসবে দুই বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বেড়ে ৩ জন। এতে এক শিশুসহ চারজন আহত হয়েছে। রবিবার সন্ধ্যায় সিয়াটেল সেন্টারের ঐতিহ্যবাহী স্পেস নিডলের কাছে বার্ষিক ‘বাইট অব সিয়াটেল’ উৎসব চলাকালীন এই ঘটনা ঘটে। 

সিয়াটেল পুলিশ জানিয়েছে, দুই ব্যক্তি একে অপরকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। খবর রয়টার্স 

হামলার খবর পাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, দমকলকর্মী এবং জরুরিসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা পুরো এলাকা খালি করে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।

একই সঙ্গে নগরীর কেন্দ্রের ঠিক উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে।

হারবারভিউ মেডিক্যাল সেন্টারের মুখপাত্র সুসান গ্রেগ জানান, হাসপাতালে চারজন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক ছোট শিশু রয়েছে।

আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ‘বাইট অব সিয়াটল’ শহরের অন্যতম বড় খাবার উৎসব। আয়োজকদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে এই উৎসব শুরু হয়। প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের খাবার, পানীয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ অংশ নেয়।

মিয়ানমারে বেসামরিকদের ওপর হামলা বেড়েছে, পর্যবেক্ষক সংস্থার সতর্কবার্তা

অনলাইন ডেস্ক
মিয়ানমারে বেসামরিকদের ওপর হামলা বেড়েছে, পর্যবেক্ষক সংস্থার সতর্কবার্তা
ছবি : রয়টার্স

সংঘাত পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আর্মড কনফ্লিক্ট লোকেশন অ্যান্ড ইভেন্ট ডেটা প্রজেক্ট (এসিএলইডি) বলেছে, নতুন প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে।

সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, মার্চের শেষ দিকে নতুন সামরিক প্রধান দায়িত্ব নেওয়ার পর সেনাবাহিনীর কৌশলে পরিবর্তন এসেছে। ওই সময় আগের সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসিএলইডির দাবি, সামরিক কমান্ড কাঠামো পুনর্গঠনের পর থেকে বেসামরিক মানুষ আরো বেশি দমন-পীড়ন ও তীব্র বিমান হামলার শিকার হচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন কৌশলের অংশ হিসেবে দুই থেকে পাঁচটি যুদ্ধবিমান নিয়ে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। এসব দল একই লক্ষ্যবস্তুতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে রয়টার্সের প্রশ্নের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি মিয়ানমার সরকার। এসিএলইডি জানিয়েছে, তারা গণমাধ্যম, স্থানীয় সহযোগী, জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা এবং স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য বিশ্লেষণ করে মিয়ানমারের সংঘাত পরিস্থিতির প্রতিবেদন তৈরি করে।

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকেই মিয়ানমার গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর, যেখানে বেশিরভাগ বিরোধী দল অংশ নিতে পারেনি, মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতি হওয়ার কয়েক দিন আগে তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ইয়ে উইন উ-কে সেনাবাহিনীর নতুন প্রধান হিসেবে নিয়োগ দেন। নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব নেওয়ার পর সেনাবাহিনী দেশের কয়েকটি সীমান্ত এলাকায় নতুন করে অভিযান শুরু করেছে। এসব এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও বাণিজ্য পথ রয়েছে।

এসিএলইডি বলেছে, মিন অং হ্লাইং রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর সামরিক সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরো শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। ফলে বেসামরিক মানুষের জন্য পরিস্থিতির উন্নতির সম্ভাবনা খুবই কম। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিলে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বেসামরিক মানুষের ওপর সামরিক বাহিনীর হামলা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এসিএলইডি আরো জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে তারা মিয়ানমারে এক ডজনের বেশি গণহত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এসব ঘটনায় ৪৫০ জনের বেশি বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন। নিহতদের প্রায় ৪০ শতাংশই দেশের মধ্যাঞ্চলের শুষ্ক আনিয়ার অঞ্চলের বাসিন্দা।

সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে শত শত সেনা বাগানের প্রাচীন মন্দির এলাকার কাছে নদীতীরবর্তী মিত চায় শহরে অভিযান চালায়। স্থানীয় তিন বাসিন্দার দাবি, ওই অভিযানে অন্তত ৪০ জন নিহত হন। স্থানীয় বাসিন্দা ইয়ে নাউং রয়টার্সকে বলেন, প্রায় ৭০০ সেনা শহরে ঢুকে মানুষের জিনিসপত্র লুট করে এবং অনেককে মারধর ও হত্যা করে। তবে রয়টার্স এই ঘটনার পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি। এসিএলইডির তথ্যভান্ডারে ঘটনাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং স্থানীয় গণমাধ্যমে অন্তত পাঁচজন নিহত হওয়ার খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এসিএলইডির মতে, ২০২৬ সালে সামরিক বাহিনীর কৌশলে কিছু পরিবর্তন এলেও বেসামরিক মানুষের ওপর নির্যাতন কমেনি। বরং হামলার ধরন আরো বদলে গেছে। এদিকে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশটিকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতাও বেড়েছে। এর অংশ হিসেবে রাষ্ট্রপতি মিন অং হ্লাইং সম্প্রতি ভারত ও চীন সফর করেছেন।

মিয়ানমারের নতুন প্রশাসন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ান-এর সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছে। ২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর আসিয়ান মিয়ানমারের সামরিক শাসকদের শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে দেয়নি। তবে সম্প্রতি দুই পক্ষের মধ্যে সীমিত পরিসরে আবার যোগাযোগ শুরু হয়েছে।

কূটনৈতিক স্বীকৃতি বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মিন অং হ্লাইং আগামী ৬ ও ৭ আগস্ট থাইল্যান্ডে সরকারি সফর করবেন। এই সফরে দুই দেশের সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
 

‘দানব’ দাবানলের সঙ্গে লড়ছে ফ্রান্স-স্পেন

অনলাইন ডেস্ক
‘দানব’ দাবানলের সঙ্গে লড়ছে ফ্রান্স-স্পেন
ছবি : রয়টার্স

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, দেশজুড়ে চলমান দাবানল নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই দিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা আরো বেড়ে যাওয়ার আগে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে হবে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।

সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ ও আগামীকাল খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বুধবার থেকে আবহাওয়া এমন হবে, যা আগুন নেভানোর কাজকে আরো কঠিন করে তুলবে।’ দাবানলের কারণে ইতিমধ্যে হাজার হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে দমকলকর্মী ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো জোরালো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে আগামী কয়েক দিনে দাবানল আরো ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে। 

ফ্রান্স ও স্পেনে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল নিয়ন্ত্রণে সোমবারও দমকলকর্মীরা প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে, নতুন তাপপ্রবাহের আশঙ্কায় পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

দাবানলের কারণে দুই দেশে এখন পর্যন্ত ৩ লাখ ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বেশিরভাগই ফ্রান্সের বোর্দো শহরের কাছের জিরোন্দ অঞ্চলের বাসিন্দা। স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের কাছাকাছি এলাকাতেও আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

ফ্রান্সের ন্যাশনাল ফায়ারফাইটার্স ফেডারেশন জানিয়েছে, এই দাবানল থেকে বিরল ‘পাইরোকিউমুলোনিম্বাস’ অগ্নি-মেঘ তৈরি হয়েছে। এই ধরনের মেঘ নিজেই শক্তিশালী বাতাস ও বজ্রপাত সৃষ্টি করতে পারে, যা নতুন করে আগুন ছড়িয়ে দিতে পারে।

সংস্থাটির মুখপাত্র এরিক ব্রোকার্ডি বলেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। তবে দমকলকর্মীরা আগুনের দুর্বল অংশ খুঁজে নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ দাবানল পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকেছেন।

অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ দাবানল-কবলিত ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চল পরিদর্শন করছেন। সেখানে নতুন করে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আরো ১৫ হাজার মানুষকে বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যেতে হয়েছে।

স্পেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্নান্দো গ্রান্দে-মার্লাস্কা বলেছেন, আগুন ধীরে ধীরে এগোলেও সামনে পরিস্থিতি আরো কঠিন হতে পারে। আভিলা প্রদেশে আগুনের বিস্তারকে দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগের প্রধান ভার্জিনিয়া বারকোনেস ‘একটি দানবের বিরুদ্ধে লড়াই’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, সেখানে প্রায় ৭৭ হাজার হেক্টর এলাকাজুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এমন তীব্র দাবানল ও চরম আবহাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় বেশি ঘটছে। দীর্ঘ তাপপ্রবাহ, বৃষ্টির অভাব এবং শুকিয়ে যাওয়া বনভূমি আগুনকে আরো ভয়াবহ করে তুলেছে। ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলে পর্যটকদের ওই এলাকা এড়িয়ে অন্যত্র যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ৪৫টি ক্যাম্পসাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যার ফলে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের ছুটির পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ স্কাউটদের রাত্রিযাপন কর্মসূচি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য আয়োজিত ছুটির ক্যাম্পও বন্ধ ঘোষণা করেছে। জিরোন্দের বাসিন্দা জর্জেস ক্লিভাজ জানান, আগুন থেকে বাড়ি রক্ষার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের নিয়ে বাগানের পাইপ দিয়ে বাড়ির চারপাশে পানি ছিটাচ্ছেন।

তবে দমকলকর্মীরা সতর্ক করেছেন, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আগুন তাদের এলাকায় পৌঁছে যেতে পারে। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেস বলেছেন, সারা দেশে পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত প্রতিকূল। তবে জিরোন্দের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার ভোর পর্যন্ত আগুন মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল।

ফ্রান্সের দাবানলে আহত ৮৪ দমকলকর্মী, নতুন তাপপ্রবাহের সতর্কতা

ফ্রান্সের জিরোন্দ অঞ্চলের ভয়াবহ দাবানলে এখন পর্যন্ত ৮৪ জন দমকলকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১০ জনকে চিকিৎসার জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ফ্রান্সের সিএফডিটি ইউনিয়নের ফেডারেল সেক্রেটারি সেবাস্তিয়েন বুভিয়ের অভিযোগ করেছেন, আগুনের বিষাক্ত ধোঁয়া থেকে সুরক্ষার জন্য দমকলকর্মীদের কাছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জাম নেই।

আবহাওয়াবিদরা সতর্ক করেছেন, মঙ্গলবার থেকে ফ্রান্সে নতুন তাপপ্রবাহ শুরু হতে পারে। এতে কিছু এলাকায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত উঠতে পারে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ আরো কঠিন করে তুলবে। জিরোন্দ অঞ্চলে দাবানলে অন্তত ২৪০টি বাড়ি পুড়ে গেছে। এর বেশিরভাগই লে পোর্জ গ্রামে।

তবে বোর্দোর মেয়র থমাস ক্যাজেনভ বলেছেন, ৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষের শহর বোর্দো খালি করার কোনো পরিকল্পনা নেই। যদিও শহরটিতে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হাজার হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, তবু পরিস্থিতির ওপর কর্তৃপক্ষ সতর্ক নজর রাখছে।

বুধবার থেকে শুরু হওয়া দাবানলে জিরোন্দ অঞ্চলের প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর বন ও জমি পুড়ে গেছে। ফ্রান্সের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বোর্দোর কাছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ মহাকাশ শিল্প এলাকা রক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এদিকে, বোর্দোর দক্ষিণের প্রধান মহাসড়ক ও রেল যোগাযোগ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। দাবানল নিয়ন্ত্রণে জিরোন্দ অঞ্চলে প্রায় দুই হাজার ৫০০ দমকলকর্মী, এক হাজার ৫০০ সেনাসদস্য এবং এক হাজার ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

স্পেনে দাবানলে ‘অকল্পনীয়’ ক্ষতি, হাজারো মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে

স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ বলেছেন, দেশের ভয়াবহ দাবানলে প্রাকৃতিক পরিবেশের অকল্পনীয় ক্ষতি হয়েছে। মাদ্রিদের পশ্চিমে ভিলামান্তা এলাকার একটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শনের সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। দাবানলের কারণে মাদ্রিদ অঞ্চল, আভিলা, টোলেডো এবং পূর্বাঞ্চলের কাস্তেলোন থেকে প্রায় ৭৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ভিলামান্তার একটি জিমনেসিয়ামকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পরিণত করা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নেওয়া আজুসেনা পাগুয়াদা বলেন, ‘আমরা খুব ভয় পেয়েছিলাম। গার্ডিয়া সিভিল আমাদের বাড়িতে এসে দ্রুত এলাকা ছেড়ে যেতে বলে।’

৭০ বছর বয়সী আরেক আশ্রয়প্রার্থী মার্গারিটা জানান, তিনি চার দিন ধরে একই পোশাক পরে আছেন। তিনি বলেন, ‘রানি আমাদের দেখতে এসেছিলেন, আর আমি এই নোংরা পোশাকই পরে ছিলাম।’

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাতাসের কারণে মাদ্রিদের কাছের আগুন আপাতত রাজধানী থেকে দক্ষিণ দিকে সরে যাচ্ছে। তবে আগুনের পথের গ্রামগুলো থেকে আরো মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এদিকে ভ্যালেন্সিয়া অঞ্চলে নতুন দাবানল খুবই তীব্র আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি পিলার বার্নাবে। ভ্যালেন্সিয়ার কাছে আরেকটি ছোট দাবানলে শনিবার একজন বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এটি স্পেনে চলমান দাবানলে প্রথম বেসামরিক মৃত্যুর ঘটনা। অন্যদিকে, ফ্রান্সের বোর্দোর কাছে আগুন নেভানোর সময় মঙ্গলবার দুই দমকলকর্মী নিহত হন।

রবিবারের প্রার্থনায় পোপ লিও চতুর্থ স্পেন ও ফ্রান্সের দাবানলে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের জন্য প্রার্থনা করার আহ্বান জানান। এদিকে ইতালিও দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছে। 

দেশটির উপকূলরক্ষী বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলের পুগলিয়া অঞ্চলের পেশিচি শহরের কাছে সমুদ্রপথে ৪০০ জনের বেশি পর্যটক ও সৈকত ভ্রমণকারীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। আরো প্রায় ৩০০ জনকে উদ্ধার করার প্রস্তুতি চলছে।


 

মার্কিন নাগরিকদের দ্রুত সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ | কালের কণ্ঠ