• ই-পেপার

যাত্রাবাড়ীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কলেজ শিক্ষার্থীর মৃত্যু

জামায়াত গণতান্ত্রিক দল কি না, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের

রংপুর অফিস
জামায়াত গণতান্ত্রিক দল কি না, প্রশ্ন মির্জা ফখরুলের
সংগৃহীত ছবি

বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদের দল বলে তাদের জ্ঞানের অভাব রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। জামায়াতের আমিরকে তাদের দলের গঠনতন্ত্র পড়ে দেখার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত গণতান্ত্রিক দল কি না এমন প্রশ্নও তোলেন বিএনপি মহাসচিব।

সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে রংপুরে বিআরডিবির বিভাগীয় কার্যালয় উদ্বোধন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটি সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থীদের যোগ্যতা নির্ধারণে সিদ্ধান্ত নেবে ইসি।’

কৃষি খাতে সুদমুক্ত ঋণ ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বাণিজ্যিক কৃষি অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ বছরের শেষে বা আগামী বছরের শুরুতে হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন।’

এ সময় রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামু, রংপুর মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী ডন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামসহ মহানগর ও জেলা বিএনপির স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এনসিপি সমর্থিত রিকশা ও ভ্যান চালকদের সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এনসিপি সমর্থিত রিকশা ও ভ্যান চালকদের সংগঠনের আত্মপ্রকাশ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির নতুন ইউনিট জাতীয় রিকশা-ভ্যান চালক শক্তির আত্মপ্রকাশ হয়েছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে নেভি গলিতে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে শ্রমিক শক্তির নতুন এই ইউনিটের কমিটি ঘোষণা করা হয়।

এনসিপির সদস্যসচিব সংসদ সদস্য আখতার হোসেন জাতীয় রিকশা-ভ্যান চালক শক্তির কমিটি ঘোষণা করেন। এতে ফয়সাল আহমেদকে আহ্বায়ক ও মুহাম্মদ ওবায়দুল ইসলামকে সদস্যসচিব করা হয়েছে।

সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন ফরিদুল ইসলাম এবং যুগ্ম আহ্বায়ক হয়েছেন ওহিদুল ইসলাম ও মুহাম্মদ জয়নাল। সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব হয়েছেন সুমন রহমান সালেহ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব হয়েছেন মুহাম্মদ রাজু, সাকা নূর ও মিসেস দিলরুবা বেগম। জাতীয় শ্রমিক শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ ইসহাক নতুন ইউনিটের তত্তাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

জাতীয় রিকশা-ভ্যান চালক শক্তির মুখ্য সংগঠক হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ হানিফ মিয়া। সংগঠক হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ সানোয়ার, মোহা. রফিক, মোহা. হুমায়ুন, আলাউদ্দিন খান, মোরশেদ আলম, আনোয়ার হোসেন, মোহা. শাহজালাল, মোহা. খোকন ও লিটন আকন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন বাবুল শিকদার, মো. বাচ্চু, রবিউল ইসলাম, মো. বাবুল, মনির হোসেন, মো. মুরাদ, মো. হাবীব, মো. মাসুদ, মো. জুয়েল, তাসলিমা আক্তার লিপি, মো. মোস্তফা, মো. রমজান, মো. জাফর, মো. শাহজালাল, রজ্জব আলী, লোকমান হোসেন, আক্তার হোসেন ও সাদা মিয়া।

শ্রমিক সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন ছাড়াও সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ, যুগ্ম সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সাইফ মোস্তাফিজ, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহার ইসলাম ফকির, সদস্য সচিব ঋয়াজ মোর্শেদ, মুখ্য সংগঠক আরমান হেসেনসহ অনেকেই বক্তব্য দেন। শ্রমিক সমাবেশের শেষে গণসংগীত পরিবেশনার আয়োজন করা হয়।

জাতীয় পার্টির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় পার্টির আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি

নির্বাচন কমিশনে ২০২৫ সালের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিয়েছে গোলাম মোহাম্মদ (জিএম) কাদেরের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি। দলটি গত বছরে আয় করেছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা এবং ব্যয় করেছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩। বর্তমানে দলটির ব্যাংকে জমা আছে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা।

রবিবার (২৬ জুলাই) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের কাছে গত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেন জাপার অতিরিক্ত মহাসচিব রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।

রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমাদের দলের আয় হয়েছে ১ কোটি ৮২ লাখ ৪ হাজার ২৭০ টাকা। ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ৮৭ লাখ ৯৩ হাজার ৪৩৩ টাকা। এক্ষেত্রে আমাদের ৫ লাখ ৭৯ হাজার ১৬৩ টাকা বেশি খরচ হয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের (২০২৪) স্থিতিসহ ব্যাংকে জমা ছিল ২ কোটি ৬৬ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৪ টাকা। ২০২৫ সালের খরচ শেষে এখন জমা আছে ৭৮ লাখ ৬১ হাজার ৭৩১ টাকা। এ বছর নির্বাচন হওয়ায় আমাদের খরচ বেশি হয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জাপার সমর্থিত প্রার্থী থাকবে জানিয়ে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, এবার স্থানীয় সরকার দলগতভাবে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। তারপরও বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের বাইরে থাকে না, সমর্থন করে থাকে। গতবার আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রার্থী দিলেও এবার আমাদের প্রার্থীরা যার যার মতো অংশ নেবেন এবং আমাদের তাতে সমর্থন থাকবে।

সদ্য পদত্যাগী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিচারের দাবি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, তিনি অসুস্থতাজনিত কারণে পদত্যাগ করেছেন। সেক্ষেত্রে তিনি রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন সময়ে সংবিধানবিরোধী কার্যক্রম করেছিলেন কিনা দেখার বিষয়। ওই কার্যক্রম না করলে আমরা কেন তার গ্রেপ্তারের দাবি করব? এ বিষয়ে জাপার কোনো মন্তব্য নেই।

আওয়ামী লীগের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পরে জাপায় ভাঙন হয়েছে—এর প্রভাব সম্পর্কে জানতে চাইলে দলটির অতিরিক্ত মহাসচিব বলেন, যারা দল ভেঙেছিলেন তাদের অধিকাংশই জিএম কাদেরের নেতৃত্বে ফিরে এসেছেন। আগামী নির্বাচনে (স্থানীয় সরকার) সারা দেশে আমরা ভালো করব বলে বিশ্বাস করি এবং কিছু অঞ্চলভেদে আমাদের প্রার্থীরা ভালো রেজাল্ট করবেন বলে প্রত্যাশা করি। আর এ ভাঙনের প্রভাব তৃণমূলে নেই। দুই অংশ একীভূত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে বলেও মন্তব্য করেন রেজাউল ইসলাম ভূঁইয়া।

ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে : জামায়াতের আমির

নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট
ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে লড়াইয়ের দুর্গ গড়তে হবে : জামায়াতের আমির
ছবি : কালের কণ্ঠ

সরকারকে জুলাই সনদ মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ভালোয় ভালোয় জুলাই সনদ মেনে নিন। যদি না মানেন, তাহলে এই দেশের মানুষ জীবন দিয়ে, পঙ্গুত্ব বরণ করে, গুলি খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কিভাবে হাঁটতে হয়।’

শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেলে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে ১১ দলের উদ্যোগে আয়োজিত বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘বাংলাদেশে আমরা আর কোনো ফ্যাসিবাদ চাই না। আমরা দুঃখের সঙ্গে বলতে বাধ্য হচ্ছি—তারাও মজলুম ছিলেন, যারা এখন সরকার গঠন করেছেন। কিন্তু তারা ভুলে গেছেন। সেই ফ্যাসিবাদী পথ ধরেই তারা হাঁটা শুরু করেছেন। সমাজের সব ক্ষেত্রে তারা বেপরোয়া, নির্লজ্জ, দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে জাতীয়করণ করতে যাচ্ছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মানব না। হাসিনা তাড়িয়েছি, যদি ফ্যাসিবাদ আপনারা কায়েম করেন, আপনাদেরকেও জনগণ তাড়াবে। আপনাদেরকেও ছেড়ে কথা বলবে না।’

গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সারা বাংলাদেশ আমরা ঘুরেছি, মানুষের একটিই দাবি—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করতে হবে। জনগণ আমাদের বলে, সরকারি দল ও বিরোধী দল—আপনারা হ্যাঁ ভোট দিতে বলেছেন, আমরা হ্যাঁ ভোট বিজয় করে দিয়েছি। এখন আমাদের হ্যাঁ ভোটের বাস্তবায়ন দেখতে চাই, এখন কোনো টালবাহানা মানি না।’

জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করব না, জুলাইযোদ্ধাদের সঙ্গে বেঈমানি করব না। আঠারো কোটি মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করব না। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব, ইনশাআল্লাহ।’

সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি আগামী দিনের আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হন। ঢাকার জন্য ডাক আসবে, ঘরে ঘরে সেই লড়াইয়ের দুর্গ গড়ে তুলতে হবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ ও দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। মুক্তির মঞ্জিলে না পৌঁছা পর্যন্ত আমরা থামব না।’

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই বিভাগীয় সমাবেশে ১১ দলের শীর্ষপর্যায়ের অন্যান্য নেতারাও বক্তব্য দেন।