• ই-পেপার

প্যারিসে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আলজেরীয় নারী অভিযুক্ত

এআই ছবির ঝড় তুললেন ট্রাম্প, দিচ্ছেন সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
এআই ছবির ঝড় তুললেন ট্রাম্প, দিচ্ছেন সামরিক শক্তি ও রাজনৈতিক বার্তা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি একাধিক ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন। এসব ছবিতে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি তুলে ধরার পাশাপাশি ২০২৮ সালের নির্বাচনী প্রচারের বিভিন্ন রাজনৈতিক বার্তাও দিয়েছেন।

রবিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ছবিগুলো পোস্ট করেন ট্রাম্প। ছবিগুলোতে যুদ্ধ, সামরিক অভিযান, সমুদ্রে অভিযান, ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাস এবং নির্বাচনী প্রচারের নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। প্রথম দফায় প্রকাশিত ছবিগুলোর বেশিরভাগই ছিল মধ্যপ্রাচ্য এবং ইরানকে কেন্দ্র করে। ‘গার্ডিয়ানস অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামের একটি ছবিতে ট্রাম্পকে বিশাল আকৃতিতে দিগন্তের পেছনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তার সামনে ‘ইউএসএ’ লেখা যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোপন যুদ্ধবিমান উড়ছে। নিচে ‘ইরান’ লেখা একটি স্থল লক্ষ্যবস্তুতে বড় বিস্ফোরণ দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে সমুদ্রে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ টহল দিচ্ছে।

‘স্ট্রাইক অন খার্গ’ শিরোনামের আরেকটি ছবিতে ইরানের খার্গ দ্বীপের প্রধান তেল টার্মিনালে বিমান হামলার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সেখানে যুদ্ধবিমান, বড় আগুন, ঘন কালো ধোঁয়া এবং জ্বলতে থাকা তেলের ট্যাংক দেখা যায়। ‘ইটস আওয়ার অয়েল ট্যাঙ্কার নাউ!’ শিরোনামের আরেকটি ছবিতে ট্রাম্প ও অস্ত্রধারী মার্কিন সেনাদের একটি ইরানি জাহাজের ওপর দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরা কয়েকজন মানুষ সমুদ্রে ঝাঁপ দিচ্ছেন। পেছনে একটি মার্কিন বিমানবাহী রণতরীও দেখা যায়। ‘নো মোর ইঞ্জিনস’ শিরোনামের আরেকটি ছবিতে একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় দেখানো হয়েছে। জাহাজটির পেছনের অংশ উড়ে গেছে এবং সেখান থেকে আগুন ও কালো ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।

আরো কয়েকটি ছবিতে ট্রাম্পকে যুদ্ধজাহাজ পরিচালনা করতে এবং যুদ্ধক্ষেত্রে সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিতে দেখা যায়। একটি ছবিতে তার মাথায় ‘এফএএফও’ লেখা একটি টুপি রয়েছে। ট্রাম্প শেয়ার করা ছবিগুলোর মধ্যে একটি চার্টও ছিল। সেখানে আগের মার্কিন প্রেসিডেন্টদের আমলে ভিয়েতনাম ও ইরাক যুদ্ধের মতো দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সঙ্গে তার সময়ের স্বল্পমেয়াদি সামরিক অভিযানের তুলনা করা হয়েছে। চার্টে দাবি করা হয়েছে, চার মাসের ‘ইরান সামরিক সংঘাত’-এ ১৮ জন নিহত হয়েছেন। আর এক দিন স্থায়ী ‘ভেনেজুয়েলা যুদ্ধ’-এ কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। দ্বিতীয় দফার ছবিগুলোতে ট্রাম্প মূলত রাজনৈতিক প্রচার এবং নিজের ভাবমূর্তি তুলে ধরেন।

‘গিভ দ্য এনেমি নাইটমেয়ার্স’ শিরোনামের একটি ছবিতে ট্রাম্পকে অন্ধকার ও কুয়াশাচ্ছন্ন বনের মধ্যে হাঁটতে দেখা যায়। তার চারপাশে লাল জ্বলজ্বলে চোখওয়ালা সৈন্য রয়েছে। ছবিতে বড় অক্ষরে ‘ট্রাম্প ২০২৮’ লেখা ছিল। আরেকটি ছবির শিরোনাম ছিল ‘কসমিক কমান্ডার’। বিজ্ঞান কল্পকাহিনিভিত্তিক এই পোস্টারে মহাকাশের পটভূমিতে ট্রাম্পের বড় মুখাবয়ব দেখানো হয়েছে। চারপাশে ভবিষ্যতের মহাকাশযান এবং সামরিক মহাকাশ বাহিনীর প্রতীকও রয়েছে। আরেকটি ছবিতে ট্রাম্পকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা নেতা জর্জ ওয়াশিংটন, থমাস জেফারসন এবং আলেকজান্ডার হ্যামিলটনের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ছবিটির স্লোগান ছিল ‘আমেরিকা ফার্স্ট’। আরেকটি ছবিতে গাঢ় রঙের পটভূমিতে ‘প্ল্যান ট্রাস্টেড’ লেখা দেখা যায়। এ ছাড়া ‘ট্রাম্প ২০২৮’ ব্যানারের অধীনে নিজের, মার্কিন সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষের আরও কয়েকটি এআই-নির্মিত ছবি পোস্ট করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এসব পোস্ট এমন সময় প্রকাশিত হলো, যখন 'দ্য নিউইয়র্ক টাইমস' জানিয়েছে, তিনি আপাতত ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা মধ্যপ্রাচ্যে পেন্টাগনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে তারা সতর্ক করেছেন, বড় আকারের সামরিক অভিযান চালানো হলে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে। কর্মকর্তাদের মতে, এতে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সেনা, উপসাগরীয় অঞ্চলের মিত্র দেশ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো পাল্টা হামলার বেশি ঝুঁকিতে পড়বে। পাশাপাশি বড় ধরনের সামরিক সংঘাত শুরু হলে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক সংকট আরো বাড়তে পারে বলেও তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রে খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় নিহত ২, আহত ৫
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটল শহরে একটি জনপ্রিয় খাবার উৎসবে বন্দুক হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একটি ছোট শিশু রয়েছে। হামলার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রবিবার সন্ধ্যায় সিয়াটলের বিখ্যাত ‘স্পেস নিডল’ টাওয়ারের কাছের ‘সিয়াটল সেন্টারে’ এ ঘটনা ঘটে। সিয়াটল অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, বন্দুক হামলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে এবং পাঁচজন আহত হয়েছেন। পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে সিয়াটল সেন্টারে চলা ‘বাইট অব সিয়াটল’ খাবার উৎসবের মধ্যে গুলির ঘটনা ঘটে। হামলার খবর পাওয়ার পর বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য, দমকলকর্মী এবং জরুরিসেবা কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তারা পুরো এলাকা খালি করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেন। পুলিশ ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। একই সঙ্গে নগরীর কেন্দ্রের ঠিক উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ওই এলাকা এড়িয়ে চলতে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ করা হয়েছে।
 
হারবারভিউ মেডিক্যাল সেন্টারের মুখপাত্র সুসান গ্রেগ জানান, হাসপাতালে চারজন আহতকে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে এক ছোট শিশু, ২৩ বছর বয়সী এক তরুণ এবং দুজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী রয়েছেন। তিনি জানান, আহতদের একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনার সময় উৎসবে উপস্থিত ছিলেন এস্তান ওয়াকোনাবো। তিনি জানান, তিনি ও তার বান্ধবী একটি ছবি তোলার বুথের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ কেউ তাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। ঘুরে তাকিয়ে তিনি দেখেন, চারদিকে মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছে।

ওয়াকোনাবো বলেন, ‘মানুষ নিরাপদ জায়গায় লুকানোর চেষ্টা করছিল। সবাই একে অন্যকে ধাক্কা দিচ্ছিল। অনেকে মাটিতে পড়ে যাচ্ছিল। এমনকি শিশুদের ঠেলাগাড়িও উল্টে যাচ্ছিল।’  এরপরই তিনি গুলির শব্দ শুনতে পান। তার ভাষায়, “আমি যখন ‘পপ, পপ, পপ’ শব্দ শুনলাম, তখনই বুঝতে পারলাম একজন বন্দুকধারী গুলি চালাচ্ছে।”  তিনি জানান, প্রথমে তিনি তার বান্ধবীকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে আবার ঘটনাস্থলে ফিরে এসে মাটিতে পড়ে থাকা একাধিক আহত ব্যক্তিকে দেখতে পান।

উল্লেখ্য যে, ‘বাইট অব সিয়াটল’ শহরের অন্যতম বড় খাবার উৎসব। আয়োজকদের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৮২ সালে এই উৎসব শুরু হয়। প্রতিবছর তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনে বিভিন্ন ধরনের খাবার, পানীয় এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করতে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ অংশ নেয়।
 

জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
জাহাজে হামলার পর ইউক্রেনকে ইরানের কড়া হুঁশিয়ারি
ছবি: রয়টার্স

কাস্পিয়ান সাগরে একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনায় ইউক্রেনকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। দেশটির পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বলেছেন, এই হামলার জবাব দেওয়া হবে এবং ইরান কোনো হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেবে না।

রবিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আজিজি এ কথা বলেন। এর আগে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানের একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নাবিক নিহত এবং আরেকজন আহত হন। ইরান এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করেছে। আজিজি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো হুমকি বা হামলার জবাব দিতে দেশটি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তিনি লেখেন, ‘ইরানের ওপর যেকোনো হামলার মূল্য দিতে হয়। অতীতেও তা হয়েছে, এখনো হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এটি ভালোভাবেই জানে। ইউক্রেনও খুব শিগগির বুঝতে পারবে, ইরান কোনো পদক্ষেপের জবাব না দিয়ে ছেড়ে দেয় না।’ আরেকটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘যারা ভুল হিসাব করেছে, তাদের তালিকা আরো বড় হচ্ছে।’

একই ঘটনায় রবিবার প্রতিক্রিয়া জানান ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়েদ আব্বাস আরাগচি। তিনি ইরানি জাহাজে হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, এ ঘটনার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে। এক্সে দেওয়া পোস্টে আরাগচি দাবি করেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নিজেই ইরানি জাহাজে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ দেননি। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনতে ইসরায়েলের ইচ্ছায় এই হামলা চালানো হয়েছে এবং এর মাধ্যমে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করা হয়েছে। আরাগচি লেখেন, ‘জেলেনস্কি একটি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছেন। এতে একজন নাবিক নিহত হয়েছেন। ইউরোপকে নিজেদের যুদ্ধে টেনে আনতে ইসরায়েলের ইচ্ছায় প্রকাশ্যে জাতিসংঘ সনদ লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে।’ তিনি আরো জানান, ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রধান কাজা কালাস এবং রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময়ও তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই হামলার জবাব না দিয়ে ইরান বসে থাকবে না।

হামলার ঘটনায় এর আগেই তেহরানে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ইরান। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘটনার প্রতিবাদ জানানো হয়। ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনার তথ্য অনুযায়ী, ইউরেশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মহাপরিচালক মানুচেহর মোরাদি ইউক্রেনের কূটনীতিবিদের কাছে তেহরানের কড়া প্রতিবাদ তুলে ধরেন। তিনি ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলাকে ‘শত্রুতাপূর্ণ ও অপরাধমূলক কাজ’ বলে উল্লেখ করেন। মোরাদির ভাষ্য, এই হামলা জাতিসংঘ সনদের মৌলিক নীতির লঙ্ঘন এবং এটি আগ্রাসনের শামিল। পাশাপাশি কাস্পিয়ান সাগরসংলগ্ন দেশগুলোর নিরাপত্তার জন্যও এটি একটি বড় হুমকি। তিনি বলেন, এই ঘটনার জন্য ইউক্রেনকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং দায়ীদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটি নিজেদের জাতীয় নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরানের নাগরিকদের জীবন ও সম্পদের ওপর কোনো হামলা বিনা জবাবে ছেড়ে দেওয়া হবে না। ইরানের কূটনৈতিক প্রতিবাদের আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক্সে এক পোস্টে জানান, ইউক্রেন রাশিয়ার সামরিক সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে দূরপাল্লার হামলা চালিয়েছে। তিনি বলেন, এসব হামলার মধ্যে কাস্পিয়ান সাগরের লক্ষ্যবস্তুও ছিল। তবে জেলেনস্কি তার পোস্টে কোনো ইরানি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার কথা উল্লেখ করেননি।

ভেন্টিলেটর সংকটে ইসলামাবাদের সরকারি হাসপাতাল, দুর্ভোগে রোগীরা

অনলাইন ডেস্ক
ভেন্টিলেটর সংকটে ইসলামাবাদের সরকারি হাসপাতাল, দুর্ভোগে রোগীরা
ছবি : রয়টার্স

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের সরকারি হাসপাতালগুলোতে ভেন্টিলেটর (নিবিড় পরিচর্যা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের যন্ত্র) তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পর্যাপ্ত যন্ত্র না থাকায় আইসিইউ বেডগুলো সবসময় পূর্ণ থাকে, ফলে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের লাইফ সাপোর্ট পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সম্প্রতি এই চিকিৎসার অভাবে একজন প্রবীণ সাংবাদিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

‘ডন’ পত্রিকার খবর অনুযায়ী, স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে আবিদ রাজা কাজমি নামের এক সাংবাদিক হাসপাতালে ভর্তি হন। চিকিৎসকরা তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালে একটি ভেন্টিলেটরও খালি ছিল না। পরে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।

এ ছাড়া পাকিস্তানের পিমস হাসপাতালে ৯০টির বেশি ভেন্টিলেটর থাকলেও সেগুলো সবসময় অন্য রোগীদের দখলে থাকে। অনেক রোগীকে টানা ২০ দিন পর্যন্ত লাইফ সাপোর্টে রাখতে হয়। পলিক্লিনিক হাসপাতালে তাদের ৩৫টি ভেন্টিলেটরের সবগুলোই ২৪ ঘণ্টা চালু থাকে। হাসপাতালটি মাত্র ৫ লাখ মানুষের জন্য তৈরি হলেও এখন সেখানে সেবা নিতে আসেন প্রায় ৫০ লাখ মানুষ। নতুন যন্ত্র কেনার বাজেট এবং তা চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় ডাক্তার ও টেকনিশিয়ানের অভাব রয়েছে। বেসরকারি হাসপাতালে দৈনিক খরচ ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত হওয়াতে তা দেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই সবাই সরকারি হাসপাতালেই লাইন দিচ্ছেন।

সমস্যা মেটাতে পিমস হাসপাতালে নতুন ৪০টি ভেন্টিলেটর বসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতাল বড় করার পাশাপাশি দেশেই ভেন্টিলেটর তৈরি এবং সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো দরকার।

প্যারিসে কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় আলজেরীয় নারী অভিযুক্ত | কালের কণ্ঠ