• ই-পেপার

পুতিন ঘনিষ্ঠতম বন্ধু : কিম

ন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, আগে মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি

অনলাইন ডেস্ক
ন্যাটোর সমালোচনায় উত্তর কোরিয়া, আগে মার্কিন মিত্রদের নিরস্ত্রীকরণের দাবি
ছবি: রয়টার্স

উত্তর কোরিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কড়া সমালোচনা করেছে। দেশটি বলেছে, সাম্প্রতিক ন্যাটো সম্মেলনের পর পশ্চিমা দেশগুলো সামরিক জোট আরো শক্তিশালী করছে এবং অস্ত্র কেনা ও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে। এতে বিশ্বে সংঘাতের ঝুঁকি আরো বাড়বে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

শনিবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতি প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ন্যাটো নেতারা উত্তর কোরিয়ার বৈধ সার্বভৌম অধিকারকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরছেন। পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অধিকারকে ইচ্ছাকৃতভাবে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ন্যাটো শুধু সদস্য দেশগুলোর প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়াচ্ছে না, একই সঙ্গে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতাও আরো জোরদার করছে। উত্তর কোরিয়ার মতে, এর মাধ্যমে ন্যাটো সামরিক জোটভিত্তিক মুখোমুখি অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করছে।

গত মঙ্গলবার তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে পাঁচ হাজার কোটি ডলারের বেশি মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম কেনা এবং প্রতিরক্ষা শিল্প খাতে নতুন চুক্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। একই সময়ে ইউরোপের মিত্র দেশগুলোর ওপর নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যয় আরো বাড়ানোর জন্য চাপ অব্যাহত রেখেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেন, সিউল ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে গবেষণা ও উন্নয়ন, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি এবং আধুনিক অস্ত্র উৎপাদনে সহযোগিতা আরো বাড়াতে চায়।

এ বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে উত্তর কোরিয়া। দেশটির দাবি, ন্যাটো মূলত যুদ্ধ ও সংঘাতের জন্য গড়ে ওঠা একটি সামরিক জোট। তাদের অভিযোগ, ইউরোপ ও এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার কথা না ভেবে ন্যাটো শুধু নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে। উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়াকে পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি ছেড়ে দিতে চাপ দিয়ে আসছে। কিন্তু পিয়ংইয়ং মনে করে, সেই প্রচেষ্টা এখন আর সফল হওয়ার সুযোগ নেই। তাদের দাবি, নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে আলোচনা করতে হলে আগে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের দিকে নজর দেওয়া উচিত। উত্তর কোরিয়ার অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার নিচে থেকে এই দুই দেশ পারমাণবিক সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছে। পাশাপাশি ন্যাটোর যেসব সদস্য দেশ পারমাণবিক অস্ত্র ভাগাভাগির ব্যবস্থায় অংশ নিয়েছে, তাদের ভূমিকাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

বিবৃতিতে আরো বলা হয়, উত্তর কোরিয়া নিজেদের সার্বভৌম অধিকার দায়িত্বশীলভাবে প্রয়োগ করবে। একই সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর এক দিন আগে শুক্রবার কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন সেনাবাহিনীকে আরো  আধুনিক ও শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর আহ্বানের পর দেশটি পারমাণবিক শক্তি সংখ্যাগত ও গুণগত- উভয় দিক থেকেই আরো বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। 
 

কুয়েত-বাহরাইন-জর্ডানে একাধিক হামলা ইরানের

অনলাইন ডেস্ক
কুয়েত-বাহরাইন-জর্ডানে একাধিক হামলা ইরানের

কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে একাধিক দফায় ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আলজাজিরা

এক বিবৃতিতে ইরানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, বিস্ফোরকবাহী ড্রোন ব্যবহার করে কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর একটি ‘প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা’ ব্যবস্থা, একটি গোলাবারুদ গুদাম এবং একটি রাডার স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।

এ ছাড়া বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও একটি রাডার স্থাপনায়ও আরেক দফা ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের সেনাবাহিনী।

বিবৃতিতে বলা হয়, দক্ষিণ ইরানের বিভিন্ন এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার জবাব হিসেবেই এই ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা জর্ডানের প্রিন্স হাসান বিমানঘাঁটিতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের মহাকাশ বাহিনী হামলায় ঘাঁটির একটি ‘কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল সেন্টার’ ধ্বংস করেছে। এ ছাড়া সেখানে থাকা ‘এমকিউ-৯ ড্রোন’ সংরক্ষণের হ্যাঙ্গারও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভারত

পাহাড়ে ওঠার সময় শিশুকে টেনে নিয়ে গেল সিংহ, তীর্থযাত্রা স্থগিত

অনলাইন ডেস্ক
পাহাড়ে ওঠার সময় শিশুকে টেনে নিয়ে গেল সিংহ, তীর্থযাত্রা স্থগিত
ছবি : রয়টার্স

গুজরাটের বিখ্যাত গিরনার পাহাড়ে পরিবারের সাথে ওঠার সময় একটি সিংহের আক্রমণে ১১ বছর বয়সী এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (১২ জুলাই) ভোরে শত শত ভক্তের চোখের সামনে সিংহটি শিশুটিকে টেনে-হিঁচড়ে জঙ্গলে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পর কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে গিরনার পাহাড়ের তীর্থযাত্রা স্থগিত করেছে।

নিহত শিশুটি গুজরাটের খেড়া জেলার মোদাজ গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। বনবিভাগ জানিয়েছে, রবিবার ভোর আনুমানিক ৫টা ৪৫ মিনিটের দিকে গিরনার তীর্থযাত্রা পথের ৫০তম ধাপের কাছে এই ঘটনা ঘটে। পরিবারটির সাথে শিশুটি যখন পাহাড়ে উঠছিল, তখন আকস্মিকভাবে একটি সিংহ তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং তাকে কাছের ঘন জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পর পরই বনকর্মী ও ট্র্যাকাররা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে শিশুটির দেহের খণ্ডাংশ উদ্ধার করা হয়, যা পরবর্তীতে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।

নিরাপত্তার স্বার্থে বনবিভাগ অবিলম্বে ভক্তদের গিরনারের সিঁড়ি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়। এরপর বনরক্ষী, ট্র্যাকার ও পশুচিকিৎসকদের দল নিয়ে চার ঘণ্টার একটি চিরুনি অভিযান চালিয়ে হামলার জন্য দায়ী সিংহটিকে ধরে ফেলা হয়। এ ছাড়া সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আশপাশের এলাকায় দেখা যাওয়া আরো দুটি সিংহকে ধরে জুনাগড়ের সাক্কারবাগ চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।

বন কর্মকর্তারা জানান, আটক করার পর সন্দেহভাজন সিংহটি বমি করে এবং সেই বমির মধ্যে মানবদেহের খণ্ডাংশ পাওয়া গেছে। এটি শিশুটির ওপর ওই সিংহের হামলার প্রমাণকে আরো জোরালো করেছে। এ ছাড়া ঘটনাস্থল থেকে সিংহের থাবার ছাপ ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে।

গুজরাটের জুনাগড়ের গিরনার পাহাড় ভারতের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান। এখানে বিখ্যাত আম্বাজি মন্দির ও দত্তাত্রেয় মন্দিরসহ প্রাচীন হিন্দু ও জৈন ধর্মের বহু মন্দির রয়েছে। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত প্রায় ১০,০০০ সিঁড়ি বেয়ে এই পাহাড়ে ওঠেন।

শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষায় শতভাগ সফল, দাবি ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষায় শতভাগ সফল, দাবি ট্রাম্পের
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ড অঙ্গরাজ্যের বেথেসডায় অবস্থিত ওয়াল্টার রিড ন্যাশনাল মিলিটারি মেডিকেল সেন্টারে সর্বশেষ স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি মানসিক (কগনিটিভ) পরীক্ষাতেও শতভাগ নম্বর পেয়েছেন।

শনিবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, তিনি প্রতি ছয় মাস অন্তর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করান এবং এবার নিজ উদ্যোগে আরও একটি কগনিটিভ টেস্ট দিতে চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের ভাষায়, ‘আমি মাত্রই ওয়াল্টার রিডে একটি নিখুঁত শারীরিক পরীক্ষা শেষ করেছি। আমি প্রতি ছয় মাসে এটি করাই। আমি আরও একটি কগনিটিভ টেস্ট দেওয়ার অনুরোধ করেছি।’

তিনি আরও লেখেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের একমাত্র প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি তিনবার এই পরীক্ষা দিয়েছি এবং প্রতিবারই সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছি।’

এর আগে নিউইয়র্ক টাইমসের সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কয়েকটি বক্তব্যের পর তার শারীরিক ও মানসিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ভুল করে ইরানকে ‘ইসলামিক স্টেট অব জাপান’ এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘ভ্লাদিমির পুতিন’ বলে উল্লেখ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ইরানে হামলার সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছিল, হামলার পর ট্রাম্পকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্পের ট্রুথ সোশ্যালের পোস্ট থেকে বোঝা যায়, তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্যই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। যদিও ওই সফরের সুনির্দিষ্ট সময় তিনি জানাননি।

হোয়াইট হাউসের আগের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন

গত মে মাসের শেষ দিকে হোয়াইট হাউস ট্রাম্পের বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার একটি চিকিৎসা প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ২৬ মে ওয়াল্টার রিড হাসপাতালে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় ট্রাম্পের স্বাস্থ্য ‘চমৎকার’ বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। মন্ট্রিয়াল কগনিটিভ অ্যাসেসমেন্ট (এমওসিএ) পরীক্ষায় ট্রাম্প ৩০-এর মধ্যে পূর্ণ ৩০ নম্বর পান এবং তার স্নায়বিক পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।

যদিও ওই পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চিকিৎসকদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের উদ্ধৃত এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা জানান, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়, ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসকেরা এই পরীক্ষায় যুক্ত ছিলেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের লুকানোর কিছু নেই।’

পুতিন ঘনিষ্ঠতম বন্ধু : কিম | কালের কণ্ঠ