• ই-পেপার

যেভাবে বিএনপির রাজনীতিতে আসেন জমির উদ্দিন সরকার

দেশে ১০০ বছরেও আর গণঅভ্যুত্থান হবে না : রুমিন ফারহানা

অনলাইন ডেস্ক
দেশে ১০০ বছরেও আর গণঅভ্যুত্থান হবে না : রুমিন ফারহানা

বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণঅভ্যুত্থান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

গতকাল শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনীতি: সংকট, সম্ভাবনা ও উত্তরণের পথ’ শীর্ষক জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘যত সহজে আপনারা বলেন আরেকটা গণঅভ্যুত্থান আমরা করবো, বাংলাদেশে আগামী ১০০ বছরেও আর কোনো গণ-অভ্যুত্থান হবে না। গণ-অভ্যুত্থানে যে স্বপ্ন ছিল চব্বিশে, শেষবারের মতো মানুষ তার জীবন বাজি রেখেছিল। তারপর যখন দেখল, এটা কতিপয় মানুষের নিজস্ব সম্পত্তি, এটা বাংলাদেশে উগ্রবাদের নতুন উত্থান, অদ্ভুতভাবে কিছু নেই থেকে শতকোটি টাকার মালিক হয়ে যাওয়ার একটা প্রকল্প, তখন স্বাভাবিকভাবেই গণমানুষ হাজারবার, লক্ষবার, কোটিবার চিন্তা করবে এ রকম গণ-অভ্যুত্থানে যাওয়ার জন্য।

গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী সময়ে দেশে ‘ভয়াবহ উগ্রবাদের উত্থান হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেন রুমিন ফারহানা। সেটা আগে জানলে কয়জন রাস্তায় আন্দোলনে নামতেন, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।

১৯৪৭ সালের দেশভাগ, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং ৯০–এর গণ-আন্দোলনের পরও দেশের মানুষ প্রতারিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে রুমিন ফারহানা বলেন, ‘দেশের সাধারণ মানুষ বারবার রক্ত দিয়েছে এবং প্রতারিত হয়েছে।’

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন রাষ্ট্রসংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ুম, জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব, রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমেদ, জেএসডির সহ-সভাপতি নুরুল আখতার, সিরাজ মিয়া প্রমুখ।

সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন

অনলাইন ডেস্ক
সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন
সংগৃহীত ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার মারা গেছেন (ইন্না-লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ রবিবার (১২ জুলাই) ভোরে রাজধানীর শ্যামলীতে বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন দেশের প্রবীণ এই রাজনীতিক।

তিনি দুই দফা বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া দুইবার বাংলাদেশের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। তার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী মুহম্মদ আজিজ বক্স ও মা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ ও এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।

পরে ১৯৬১ সালে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান এবং লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল’ ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে তিনি আইন পেশায় যুক্ত হন এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইনের একজন প্রখ্যাত বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুনাম কুড়ান।

রাজনৈতিক জীবন ও কর্ম

ছাত্রাবস্থায় ১৯৪৫ সালে ছাত্র ফেডারেশনের মাধ্যমে তার রাজনৈতিক জীবনের সূচনা হয়। পরে তিনি ছাত্র ইউনিয়ন ও ন্যাপের রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দল গঠনের প্রাথমিক পর্যায়ে ‘জাগদল’ গঠন করলে তিনি তাতে যোগ দেন। পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি এর প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য হন এবং শুরু থেকেই দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন

২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদে স্পিকার হিসেবে তিনি অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী পদত্যাগ করার পর সংবিধান অনুযায়ী তিনি ২১ জুন ২০০২ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর ২০০২ পর্যন্ত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রপ্রধানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন।

মন্ত্রীত্ব ও সংসদ সদস্য

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার মোট পাঁচবার (১৯৭৯, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৯ সালে) জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি পঞ্চগড়-১, ঢাকা-৯, বগুড়া-৬ ও দিনাজপুর-১ আসন থেকে জনপ্রতিনিধিত্ব করেছেন।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, আবদুস সাত্তার ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায় তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। বিভিন্ন মেয়াদে তিনি গণপূর্ত ও নগর উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভূমি প্রতিমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী হিসেবে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন।

ব্যক্তিগত জীবন

ব্যক্তিগত জীবনে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এক কন্যা (নিলুফার জমির) ও দুই পুত্রের (নওশাদ জমির ও নওফল জমির) বাবা। তার স্ত্রী নূর আখতার। তার ছেলে ব্যারিস্টার নওশাদ জমিও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।

স্থায়ী কমিটির বৈঠক

স্থানীয় নির্বাচনের আগেই সংগঠন শক্তিশালী করতে চায় বিএনপি

মাহমুদুল হাসান
স্থানীয় নির্বাচনের আগেই সংগঠন শক্তিশালী করতে চায় বিএনপি
সংগৃহীত ছবি

বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রায় দুই মাস পর এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে দলের সাংগঠনিক বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আগেই সংগঠনকে ঢেলে সাজাতে চায় দলের হাইকমান্ড। দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তৃণমূলে সংকট তৈরি হয়েছে, যা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে এসবের লাগাম টানতে চান দলটির শীর্ষ নেতারা। এ ছাড়া চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি দলীয় সহায়তা কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গতকাল শনিবার রাত ৮টায় গুলশান কার্যালয়ে দলের এ বৈঠক শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ১০টায়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলটির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও বেগম সেলিমা রহমান। এ ছাড়া মালয়েশিয়ায় চিকিত্সাধীন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস স্কাইপে এই বৈঠকে যোগ দেন। 

বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক দীর্ঘদিন পরে হয়েছে। সাংগঠনিক বিষয়েই মূলত আলোচনা হয়েছে। অন্যান্য বিষয়ও ছিল। সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। দলগত প্রস্তুতির জন্য সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। একই সঙ্গে অঙ্গ সংগঠনগুলোকেও ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ 

বৈঠকের শুরুতে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য ধন্যবাদ জানানো হয়।

বৈঠক সূত্র জানায়, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে কয়েকজন সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে নির্বাচন শুরু করার পক্ষে মত দেন। তবে নির্দিষ্ট কোনো সময় নির্ধারণ করা হয়নি। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া বেশির ভাগ সদস্যের মত ছিল, স্থানীয় সরকার নির্বাচন একটি বড় চ্যালেঞ্জ এবং এ জন্য এখন থেকেই সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিতে হবে। তৃণমূলের সাংগঠনিক অবস্থা এবং স্থানীয় পর্যায়ে দলের অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

জাতীয় কাউন্সিল আয়োজনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়। কয়েকজন সদস্য কাউন্সিলের প্রসঙ্গ উত্থাপন করলে দলের চেয়ারম্যান বলেন, ‘দলের কাউন্সিল অবশ্যই হবে।’

বৈঠকে বেশির ভাগ সদস্য চলতি বছরের শেষ দিকে কাউন্সিল আয়োজনের পক্ষে মত দেন। একই সঙ্গে যেসব জেলা, মহানগর ও অন্যান্য সাংগঠনিক ইউনিটের কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলো পুনর্গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথাও উঠে আসে।

দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে তৃণমূল পর্যায়ে নতুন নেতৃত্ব তৈরির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মনে করেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ভবিষ্যত্ রাজনৈতিক কর্মসূচি সামনে রেখে সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করা জরুরি।

বৈঠকে দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং কর্মসংস্থান নিয়েও আলোচনা হয়। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিয়েও আলোচনা হয়। একই সঙ্গে যেসব প্রতিশ্রুতি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি, সেগুলো বাস্তবায়নের রূপরেখা নিয়েও মতবিনিময় করেন নেতারা।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও বেগম সেলিমা রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘বৈঠকে দেশ ও সার্বিক অবস্থা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৈঠকের বিস্তারিত জানাবেন।

২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এটি বিএনপির স্থায়ী কমিটির তৃতীয় বৈঠক।

নিজের অধিকার জনগণকেই আদায় করে নিতে হবে : মঈন খান

অনলাইন ডেস্ক
নিজের অধিকার জনগণকেই আদায় করে নিতে হবে : মঈন খান

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান বলেছেন, নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। নিজের অধিকার যতক্ষণ না জনগণ নিজেরাই আদায় করবে, ততক্ষণ কেউ তা এনে দেবে না।

শনিবার (১১ জুলাই) নরসিংদীর পলাশ উপজেলার পাকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে তার মা বেগম খোর্শেদা বানুর ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, খান পরিবার দেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় সব সময় ভূমিকা রেখে এসেছে। তিনি জানান, তার মা বেগম খোর্শেদা বানু খান ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে অসহায় ও নিগৃহীত মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন।

তিনি বলেন, আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়াতে ও সহায়তা করতে পারি, তবে নিজের অধিকার আদায়ে জনগণকেই অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য কমিয়ে একটি সাম্যভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি মানুষের সেবায় আজীবন কাজ করে যেতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন।