• ই-পেপার

ইরান ও মিত্রদের ওপর আক্রমণের প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি খামেনির

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচিত নতুন ৫ দেশ

অনলাইন ডেস্ক
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে নির্বাচিত নতুন ৫ দেশ
নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য নির্বাচনে জয়লাভের পর পর্তুগিজ প্রতিনিধিদল উল্লাস করছে। ছবি : রয়টার্স

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ আগামী ১ জানুয়ারি, ২০২৭ থেকে দুই বছর মেয়াদের জন্য নতুন ৫ দেশকে নির্বাচিত করা হয়েছে। অস্থায়ী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত নতুন দেশগুলো হলো—অস্ট্রিয়া, কিরগিজস্তান, পর্তুগাল, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো ও জিম্বাবুয়ে।

বুধবার (৩ জুন) সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে গোপন ভোটাভুটিতে তাদের বেছে নেয় সদস্য দেশগুলো। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে।

গণমাধ্যমটির তথ্য মতে, ইউরোপ থেকে জার্মানিকে হারিয়ে সদস্য নির্বাচিত হয়েছে অস্ট্রিয়া ও পর্তুগাল। অন্যদিকে, ফিলিপাইনকে হারিয়ে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে সদস্যপদ পেয়েছে কিরগিজস্তান।

বাকিরা নির্বাচিত হয়েছে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। পাকিস্তান, সোমালিয়া, পানামা, গ্রিস ও ডেনমার্কের স্থলাভিষিক্ত হবে দেশগুলো।

ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রতি বছর ৫টি করে দেশ ২ বছরের জন্য অস্থায়ী সদস্য নির্বাচিত হয়। ১০ অস্থায়ীসহ নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা ১৫।

নিরাপত্তা পরিষদের এই নির্বাচনের আগের দিন (মঙ্গলবার) জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য দেশের সমন্বয়ে গঠিত সাধারণ পরিষদ ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে নির্বাচিত করেছে। আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে তার এই ঐতিহাসিক মেয়াদকাল শুরু হবে।

চীনের গুপ্তচর তৎপরতা বাড়ছে, সতর্কবার্তা ফাইভ আইজের

অনলাইন ডেস্ক
চীনের গুপ্তচর তৎপরতা বাড়ছে, সতর্কবার্তা ফাইভ আইজের
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের গোয়েন্দা জোট ‘ফাইভ আইজ’ চীনা গুপ্তচরবৃত্তি নিয়ে নতুন সতর্কবার্তা জারি করেছে। বুধবার প্রকাশিত এক যৌথ বুলেটিনে বলা হয়, চীনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সংবেদনশীল তথ্যের প্রবেশাধিকার রয়েছে এমন ব্যক্তিদের নিয়োগে অনলাইন চাকরি ও পেশাদার নেটওয়ার্কিং প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করছে।

‘সেফগার্ডিং আওয়ার সিক্রেটস’ শীর্ষক ওই বুলেটিনে বলা হয়েছে, চীনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সরকারি কর্মকর্তা, সামরিক সদস্য এবং গোপন তথ্যের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্যবস্তু করছে। এ জন্য তারা বিভিন্ন অনলাইন নিয়োগ সেবা ও পেশাদার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ফাইভ আইজভুক্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর দাবি চীনের উদ্দেশ্য হলো সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা, যা তাদের কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত সুবিধা দিতে পারে।

যদিও এর আগে বিভিন্ন দেশ পৃথকভাবে এমন অভিযোগ তুলেছিল, তবে পাঁচ দেশের যৌথভাবে এ ধরনের সতর্কবার্তা প্রকাশকে নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বেইজিং এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। চীনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

লন্ডনে চীনা দূতাবাসের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, তথাকথিত ‘চীনা গুপ্তচরবৃত্তির হুমকি’ নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা ‘সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বিদ্বেষপূর্ণ অপবাদ’। তিনি এ ধরনের অভিযোগের নিন্দাও জানান।

পশ্চিমা গোয়েন্দা জোট ফাইভ আইজ সতর্ক করে বলেছে, চীনা গুপ্তচররা বিশেষভাবে প্রতিরক্ষা, পররাষ্ট্র ও গোয়েন্দা বিষয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞ এবং সামরিক সদস্যদের লক্ষ্যবস্তু করছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে কর্মরত ব্যক্তিরাও এই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

সংস্থাটি জানিয়েছে, শুধু সরকারি কর্মকর্তা নয়, সাংবাদিক, থিংক ট্যাংকের গবেষক এবং যাদের সরকারি তথ্যের পরোক্ষ প্রবেশাধিকার রয়েছে, তারাও নজরদারির আওতায় আছেন।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, চীনা গুপ্তচররা মানুষ নিয়োগের জন্য আক্রমণাত্মক অনলাইন কৌশল ব্যবহার করছে। সফলভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের চীনা সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গ্রাহকের জন্য গোপন বা সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করতে চাপ দেওয়া হয়।

এ ধরনের কাজের বিনিময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের প্রতিটি প্রতিবেদনের জন্য কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত অর্থ দেওয়া হতো। আরো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্যের জন্য বেশি অর্থের প্রস্তাবও দেওয়া হতো। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করেছিল, চীনা গোয়েন্দারা প্রতারণামূলক পদ্ধতিতে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের টার্গেট করছে।

অন্যদিকে, গত নভেম্বরে ব্রিটেনের গোয়েন্দা সংস্থা এমআই ৫ সংসদ সদস্যদের চীনা এজেন্টদের গুপ্তচরবৃত্তির প্রচেষ্টা সম্পর্কে সতর্ক করেছিল।


 

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলায় নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন হামলায় নিহত ২
ছবি : ইউএস সাউথ কমান্ড।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত একটি নৌকায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। বুধবারের এ ঘটনায় দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বর থেকে যাদের ‘নারকো-টেররিস্ট’ বা মাদক-সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে নৌকা হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২০৭ জন নিহত হয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসন লাতিন আমেরিকায় কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কয়েক মাস ধরে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এ অভিযানের অংশ হিসেবে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবিয়ান সাগরের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানো হচ্ছে।

মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, পরিচিত মাদক পাচার রুটে চলাচলকারী একটি নৌকাকে লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়। তবে নৌকাটিতে মাদক ছিল, এমন কোনো প্রমাণ তারা প্রকাশ করেনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে চলা নৌকাটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, লাতিন আমেরিকার মাদক চক্রগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কার্যত ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ ও অতিরিক্ত মাদক সেবনে মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে এসব অভিযান প্রয়োজন। তবে প্রশাসনের সমালোচকদের অভিযোগ, ‘মাদক-সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে যাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর নৌকা হামলাগুলোর বৈধতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা। তাদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী মাদক ওভারডোজের জন্য দায়ী ফেন্টানাইলের বেশিরভাগই মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে স্থলপথে প্রবেশ করে। এই মাদক তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক সাধারণত চীন ও ভারত থেকে আসে।

এ কারণে সমুদ্রপথে কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে হামলা চালিয়ে সমস্যার সমাধান হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ। হামলাগুলো নিয়ে ডেমোক্র্যাটিক দলের কিছু আইনপ্রণেতা ও সামরিক আইন বিশেষজ্ঞও তীব্র সমালোচনা করেছেন। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শুরুতে চালানো প্রথম হামলাটি ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করে।

ওই হামলায় একটি নৌকায় থাকা ১১ জনের মধ্যে ৯ জন নিহত হন। হামলার পর দুজন জীবিত ছিলেন এবং ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছিলেন। পরে নৌকাটিতে আবার হামলা চালানো হলে তারাও নিহত হন।

হোয়াইট হাউস দ্বিতীয় হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, নৌকাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করা এবং আত্মরক্ষার স্বার্থে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তাদের দাবি, এটি সশস্ত্র সংঘাতের আইন মেনেই করা হয়েছে। তবে কিছু আইন বিশেষজ্ঞের মতে, কোনো সংঘাত চললেও আহত বা বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দ্বিতীয়বার হামলা চালানো আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে অবৈধ হতে পারে।

এদিকে পেন্টাগনের তদারকি সংস্থা মে মাসে জানিয়েছে, এসব হামলা পরিচালনার সময় মার্কিন সামরিক বাহিনী নির্ধারিত লক্ষ্য নির্বাচন ও হামলার প্রক্রিয়া সঠিকভাবে অনুসরণ করেছে কি না, তা তারা পর্যালোচনা করবে। তবে তদন্তটি হামলার বৈধতা নয়, বরং সামরিক বাহিনী তাদের নিজস্ব লক্ষ্য নির্ধারণের নিয়ম মেনেছে কি না, সেটির ওপরই কেন্দ্রীভূত থাকবে।

ভারতে হাসপাতালে আগুন, ৪ রোগীর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
ভারতে হাসপাতালে আগুন, ৪ রোগীর মৃত্যু
ছবি : এনডিটিভি

ভারতের বিহারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত চারজন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। মুজাফফরপুর জেলায় অবস্থিত প্রসাদ হাসপাতালের পঞ্চম তলার ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় মৃতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় সময় ভোর ৩টা ৫৫ মিনিটে দমকল বিভাগ একটি জরুরি ফোন পায় এবং একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আইসিইউ থেকে প্রায় ২০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি রোগীদের নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মুজাফফরপুরের দমকল বিভাগের কর্মকর্তা রাম নিবাস পান্ডে বলেন, ‘আমরা আইসিইউ থেকে ১৫-২০ জন রোগীকে উদ্ধার করেছি, যাদের মধ্যে দুজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি রোগীদের নিকটবর্তী হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে আমাদের কাছে কোনো নতুন তথ্য নেই।’

প্রাথমিক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, শর্ট সার্কিটের কারণে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মুজাফফরপুরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত কুমার সেন বলেন, ‘আইসিইউতে প্রায় ১৩ জন রোগী ছিলেন এবং আরো কয়েকজনকে সিসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। তদন্তের ভিত্তিতে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গতকাল বুধবার দক্ষিণ দিল্লির মালভিয়া নগরের একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত এবং ২৬ জন আহত হওয়ার এক দিন পর এই ঘটনাটি ঘটল। হাউজ রানি এলাকার ‘ফ্লোরিশ স্টে’ বেড-অ্যান্ড-ব্রেকফাস্টে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আগুন লাগে। আগুন লাগার সময় হোটেলে প্রায় ৪০ জন অতিথি ছিলেন, যাদের বেশিরভাগই ঘুমিয়ে ছিলেন।

দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটিতে প্রবেশ ও প্রস্থানের জন্য মাত্র একটি পথ ছিল। জানালাগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ ছিল এবং প্রধান দরজাটি সেন্সর দ্বারা চালিত ছিল। আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর অতিথিদের বের হওয়ার উপায় খুব সীমিত ছিল।

ইরান ও মিত্রদের ওপর আক্রমণের প্রতিশোধের হুঁশিয়ারি খামেনির | কালের কণ্ঠ