• ই-পেপার

লেবাননে জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা, আইরিশ সেনা নিহত

বিশ্বে চীনের গ্রহণযোগ্যতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি : পিউ গবেষণা

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্বে চীনের গ্রহণযোগ্যতা এখন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি : পিউ গবেষণা
ছবি: রয়টার্স

বিশ্বের অনেক দেশে এখন যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন এক বৈশ্বিক জরিপে এমন তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিষ্ঠানটির ২০০২ সাল থেকে পরিচালিত জরিপের ইতিহাসে এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের প্রতি মানুষের ইতিবাচক মনোভাব দেখা গেল।

পিউ রিসার্চ সেন্টার জানিয়েছে, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা এখন রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক ধারণা আগের তুলনায় আরো কমেছে। জরিপে আরো দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিং—দুজনের প্রতিই মানুষের আস্থা তুলনামূলকভাবে কম। তবে বেশির ভাগ দেশে ট্রাম্পের চেয়ে শি চিনপিংয়ের ওপর কিছুটা বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন অংশগ্রহণকারীরা। গবেষণার জন্য চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে বিশ্বের ৩৬টি দেশের ৪২ হাজারের বেশি মানুষের মতামত নেওয়া হয়। তাদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনকে খুব ইতিবাচক, কিছুটা ইতিবাচক, কিছুটা নেতিবাচক নাকি খুব নেতিবাচকভাবে দেখেন। জরিপে অংশ নেওয়া ৩৬টি দেশের মধ্যে ২৫টিতে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করা মানুষের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় বেশি। মাত্র ছয়টি দেশে এখনো যুক্তরাষ্ট্রকে চীনের চেয়ে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। দেশগুলো হলো পোল্যান্ড, ফিলিপাইন, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত, জাপান ও ইসরায়েল। এগুলোর বেশির ভাগই যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র।

পিউ রিসার্চ সেন্টারের গবেষক জনাথন শুলম্যান বলেন, ২০০২ সাল থেকে তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বড় শক্তিধর দেশগুলো সম্পর্কে মানুষের মতামত নিয়ে কাজ করছেন। কিন্তু এবারই প্রথম এত বেশি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখা হয়েছে। তিনি জানান, অতীতেও যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয়তা কমেছে। বিশেষ করে ২০০৮ সালে জর্জ ডব্লিউ বুশ প্রশাসনের শেষ দিকে এবং ২০১৭ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের শুরুতে এমন প্রবণতা দেখা গিয়েছিল। তবে তখনও চীনের ভাবমূর্তি সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের সমান বা কিছুটা কম ছিল। এবারের জরিপে চীনের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব সবচেয়ে বেশি বেড়েছে স্পেন, ইন্দোনেশিয়া, ইতালি, গ্রিস ও কানাডায়। এ ছাড়া ইতালি, স্পেন, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়া ও তুরস্কে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মতামত ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মধ্যম আয়ের দেশগুলোর মানুষ সাধারণভাবে চীনকে বেশি ইতিবাচকভাবে দেখেন। অন্যদিকে ধনী দেশগুলোতে চীন সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তুলনামূলক বেশি।

তবে এই প্রবণতার একটি ব্যতিক্রম সিঙ্গাপুর। মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে জরিপে থাকা দেশগুলোর মধ্যে সিঙ্গাপুর শীর্ষে থাকলেও দেশটিতে চীন সম্পর্কে ইতিবাচক মনোভাব শক্তিশালী। জরিপে সবচেয়ে বেশি ইতিবাচক মত এসেছে পাকিস্তান থেকে। সেখানে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষ চীনকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ইতিবাচক মত এসেছে জাপান থেকে। সেখানে মাত্র ১১ শতাংশ মানুষ চীন সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা প্রকাশ করেছেন। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের কাছে আরো জানতে চাওয়া হয়, বিশ্ব রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা ডোনাল্ড ট্রাম্প ও শি চিনপিংয়ের ওপর কতটা আস্থা রাখেন। ফলাফলে দেখা যায়, দুই নেতার প্রতিই আস্থার হার বেশির ভাগ দেশে ৫০ শতাংশের নিচে। তবে অনেক দেশেই ট্রাম্পের তুলনায় শি চিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা বেশি। শি চিনপিংয়ের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা দেখা গেছে পাকিস্তানে। সেখানে ৮৩ শতাংশ মানুষ তার ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। বিপরীতে সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে জাপানে। সেখানে মাত্র ৭ শতাংশ মানুষ শির ওপর আস্থা রাখেন। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি সবচেয়ে বেশি আস্থা প্রকাশ করেছেন ফিলিপাইনের মানুষ। সেখানে তার প্রতি আস্থার হার ৬৮ শতাংশ। আর সবচেয়ে কম আস্থা দেখা গেছে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে। সেখানে মাত্র চার শতাংশ মানুষ ট্রাম্পের ওপর আস্থা প্রকাশ করেছেন। গবেষক জনাথন শুলম্যান বলেন, শি চিনপিংকে নিয়ে মানুষের মতামত সাধারণত খুব শক্ত অবস্থানের হয় না। কিন্তু ট্রাম্পের ক্ষেত্রে মানুষ অনেক বেশি স্পষ্ট ও চরম অবস্থান থেকে মতামত দিয়েছেন।

জরিপে দেখা গেছে, এখনো বেশির ভাগ মানুষ মনে করেন, চীনের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার নিজেদের নাগরিকদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে বেশি সম্মান করে। তবে আগের তুলনায় এই ব্যবধান কমে এসেছে। অন্যদিকে পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। মধ্যম আয়ের কয়েকটি দেশে করা অতিরিক্ত জরিপে ৭৫ শতাংশ মানুষ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনেক বেশি হস্তক্ষেপ করে। একই প্রশ্নে চীনের ক্ষেত্রে এই মত দিয়েছেন ৪৫ শতাংশ মানুষ। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অন্যান্য আন্তর্জাতিক গবেষণাতেও একই ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। জরিপকারী প্রতিষ্ঠান গ্যালাপ জানিয়েছে, গত বছর বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার দিক থেকে চীন প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রকে ছাড়িয়ে গেছে। গত দুই দশকের মধ্যে এটিই ছিল সবচেয়ে বড় ব্যবধান।

তবে এশিয়া সোসাইটির আরেকটি গবেষণায় বলা হয়েছে, করোনা মহামারির সময় চীনের যে ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তা এখন পর্যন্ত সীমিত পরিসরে উন্নতি করেছে। কার্নেগি চায়নার গবেষক ড. চং জা ইয়ান বলেন, পিউর সর্বশেষ ফল তার কাছে অস্বাভাবিক মনে হয়নি। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে ঘন ঘন পরিবর্তন, শক্তি প্রয়োগের প্রবণতা এবং এর অর্থনৈতিক প্রভাব অনেক দেশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। ফলে অনেক দেশের মানুষ চীনকে তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল ও পূর্বানুমানযোগ্য অংশীদার হিসেবে দেখতে শুরু করেছেন। তিনি বলেন, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নত করতে চীন দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। এর প্রভাবও এখন দেখা যাচ্ছে। তবে ড. চং মনে করেন, চীনের প্রতি ইতিবাচক ধারণা বাড়লেও শি চিনপিংয়ের প্রতি মানুষের আস্থা তুলনামূলক কম থাকার কারণও রয়েছে।

তার ভাষায়, অনেক মানুষ চীনকে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসেবে দেখেন। কিন্তু একই সঙ্গে তারা শি চিনপিংকে একজন শক্তিশালী কর্তৃত্ববাদী নেতা বলেও মনে করেন। তিনি আরো বলেন, শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বে চীন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরো দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান অন্য দেশগুলোর ওপরও জোর দিয়ে তুলে ধরছে। এ ছাড়া দেশটিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও তাদের সঙ্গে আচরণ নিয়েও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশ্ন রয়েছে। তার মতে, অনেক মানুষ প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির মতো ইতিবাচক বিষয়গুলো চীনের সাফল্য হিসেবে দেখেন। তবে কঠোর নীতি ও চাপ সৃষ্টি করা সিদ্ধান্তগুলোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে শি চিনপিংকেই দায়ী করেন।

সৌদি আরবকে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
সৌদি আরবকে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র সৌদি আরবের কাছে ১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

এই চুক্তির আওতায় সৌদি আরব ১০ হাজারটি এয়ার-টু-এয়ার গাইডেন্স সেকশন এবং ১০ হাজারটি এয়ার-টু-গ্রাউন্ড গাইডেন্স সেকশন কিনতে চেয়েছে। এসব প্রযুক্তি ক্ষেপণাস্ত্রকে আরো নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সহায়তা করবে।

চুক্তির প্রধান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করবে বিএই সিস্টেমস। চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে ১৫ জন সরকারি কর্মকর্তা ও ১৫ জন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিকে সৌদি আরবে পাঠাবে। তারা সামরিক কার্যক্রম, প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, প্রশিক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণ কাজে সহায়তা করবেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, এই অস্ত্র বিক্রি উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মিত্র সৌদি আরবের নিরাপত্তা জোরদার করবে। একই সঙ্গে এটি আঞ্চলিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন বজায় রাখতে সহায়ক হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা লক্ষ্য বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখবে।

পররাষ্ট্র দপ্তরের মতে, এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরো শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও অন্যান্য মিত্র দেশের বাহিনীর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সক্ষমতাও বাড়বে। এ ছাড়া সৌদি আরব বর্তমান ও ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকবে। এই অস্ত্র ব্যবস্থা দেশটির বিমানবাহিনীর কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করবে এবং শত্রু বিমান ও স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষার সক্ষমতা উন্নত করবে।

বালেন্দ্র শাহকে ‘নেপালি হিটলার’ আখ্যা দিলেন জেএসপি সদস্য

অনলাইন ডেস্ক
বালেন্দ্র শাহকে ‘নেপালি হিটলার’ আখ্যা দিলেন জেএসপি সদস্য

নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেন্দ্র শাহের শাসন পদ্ধতির সমালোচনা করে তাকে ‘নেপালি হিটলার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন  জনতা সমাজবাদী পার্টির (জেএসপি) সদস্য মহান্থ ঠাকুর।

বুধবার জাতীয় পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় এ মন্তব্য করেন জনতা সমাজবাদী পার্টির (জেএসপি) জাতীয় পরিষদের সদস্য মহান্ত ঠাকুর।

তিনি অভিযোগ করেন, বালেন্দ্র (বালেন) শাহের নেতৃত্বাধীন সরকার কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছে। তার ভাষায়, সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আন্তরিকতার অভাব দেশের মানুষের মধ্যে হতাশা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

মহান্থ ঠাকুর আরো অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পদচ্যুত করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, যার ফলে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে।

তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যালয়ের কার্যক্রমেও হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, বিভিন্ন স্থানে আসবাবপত্রে আগুন দেওয়া হচ্ছে এবং রাজনৈতিক দলগুলো ধারাবাহিকভাবে হামলার শিকার হচ্ছে।

শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরো বলেন, বোর্ডিং স্কুল ও নার্সিং হোমগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান লাখো শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, এসব পদক্ষেপ নেপালের অর্থনীতিকেও আরো দুর্বল করবে এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা কেবল সরকারি উদ্যোগের ওপর নির্ভর করে পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ করে মহান্থ ঠাকুর বলেন, ‘তাকে আমরা কী বলব—নেপালি স্বৈরশাসক, নাকি নেপালি হিটলার? তিনি নেপালি হিটলারে পরিণত হয়েছেন। তিনি যা বলেন সেটাই সঠিক, তিনি যা করেন সেটাই আইন। এভাবে দেশকে আরো সংকটের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।’

এ ছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার সংগঠিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিষিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তার দাবি, সরকার ট্রেড ইউনিয়ন ও ছাত্র সংগঠনগুলো বিলুপ্ত করেছে, কারণ এসব সংগঠনের কার্যক্রম তারা সহ্য করতে পারছে না।

মহান্থ ঠাকুর বলেন, সরকারের এই শাসনব্যবস্থা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পরিচালনায় সরকারের ভূমিকা নিয়েও তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সূত্র : এএনআই

ইরানে নতুন দফায় মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—‘ঠিকভাবে চলুন’

অনলাইন ডেস্ক
ইরানে নতুন দফায় মার্কিন হামলা, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি—‘ঠিকভাবে চলুন’
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্র বুধবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে আরো এক দফা সামরিক হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘ঠিকভাবে চলুন’।

মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করা বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। এ ছাড়া, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবার চালু করা মার্কিন অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করা একটি জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে ইরান দাবি করেছিল, তারা বাহরাইন, কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে প্রাথমিক সমঝোতা হলেও, টানা পঞ্চম দিনের মতো নতুন সংঘর্ষ চলতে থাকায় পরিস্থিতি আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এদিকে ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন, যদি যুদ্ধবিরতির সমঝোতা থেকে কোনো বাস্তব লাভ না হয়, তাহলে সেটি মেনে চলার ‘কোনো কারণ’ তেহরানের নেই। তিনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে বলেন, যুদ্ধের পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যাওয়াও ইরানের প্রতিরোধ কৌশলের অংশ। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান এই সংঘাত ইরানের জন্য ‘অস্তিত্বের লড়াই’। 

এর আগে মঙ্গলবার রাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে ইরান যদি আবার আলোচনায় না ফেরে, তাহলে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। বুধবার রাতে সাংবাদিকরা ট্রাম্পের কাছে জানতে চান, এমন হামলার আগে তিনি ইরানকে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দেবেন কি না। জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সময়সীমা দিতে পছন্দ করি না। তবে তারা মোটামুটি পুরো বিষয়টিই জানে। তাদের ঠিকভাবে চলতে হবে।’ পরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন কঠিন চাপে রয়েছে। তার দাবি, ‘তারা খুবই মরিয়া হয়ে সমঝোতা করতে চায়। আমরা যা করছি, তা তাদের ভালো লাগছে না। আমরা দেখব যে আমরা তাদের সাথে মীমাংসা করব, নাকি ব্যাপারটা এখানেই শেষ করে দেব।’  তবে এর আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ২০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পরিকল্পনার বদলে তিনি উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে বড় আকারের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তি করতে চান।

এদিকে গালিবাফ বলেছেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা দেশের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার দিনের বেলায় এটি ছিল তাদের দ্বিতীয় দফার হামলা। তাদের দাবি, দিনের শুরুতে চালানো হামলায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা আরো দুর্বল করা হয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ৯০ মিনিটের অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের গুদাম এবং ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় বুধবার রাত ৯টায় সেন্টকম জানায়, দ্বিতীয় দফার হামলাও শেষ হয়েছে। সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলায় ইরানের কমান্ড সেন্টার, আকাশ প্রতিরক্ষা ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন পরিচালনার সক্ষমতা এবং উপকূলীয় নজরদারি কেন্দ্রগুলোকে লক্ষ্য করা হয়েছে। হামলার লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে হরমুজ প্রণালির তীরে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসও ছিল। এ ছাড়া সেন্টকম জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আবার অবরোধ চালু করার পর থেকে দুটি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে। এই অবরোধের কারণে বর্তমানে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় কোনো জাহাজ যাতায়াত করতে পারছে না বলে দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

গত মাসে দুই দেশের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এই অবরোধ তুলে নেওয়া হয়েছিল। সেই সমঝোতার উদ্দেশ্য ছিল কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটানো। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন করে বিরোধ শুরু হওয়ায় পরিস্থিতি আবার জটিল হয়ে উঠেছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে অবরোধ চালু করার পর ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী পাল্টা সতর্কবার্তা দিয়েছে। বাহিনীটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থ রক্ষা করে—এমন তেল ও গ্যাস রপ্তানির পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তবে কোন কোন পথ বন্ধ করা হতে পারে, সে বিষয়ে তারা বিস্তারিত কিছু জানায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সংঘাত আবারও প্রমাণ করেছে, বিশ্ব জ্বালানি বাজারের জন্য হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব কতটা বেশি। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে গেছে।
 

লেবাননে জাতিসংঘের গাড়িবহরে হামলা, আইরিশ সেনা নিহত | কালের কণ্ঠ