ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ও কঠোর ভিসানীতির ঘোষণা দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া বিষয় পরিবর্তন এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে।
আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারত। তবে নতুন নীতিতে সেই সুবিধাও কমানো হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এই নীতিমালা কার্যকর হবে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, এর উদ্দেশ্য ভিসার অপব্যবহার রোধ করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা। তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস এই নীতিকে ভুলভাবে নির্দেশিত এবং অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেছে।
এর আগে, এফ-১ ও জে-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতেন। নতুন নীতি সেই অবস্থানের ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না বিদেশি শিক্ষার্থীরা। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ স্নাতক পর্যায়ের কোর্স সাধারণত চার বছরের হলেও, ডক্টরেটসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সাধারণত বেশি সময় লাগে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এসব বিষয়ে গবেষণা ও গবেষণাপত্র প্রকাশে বেশি সময় লাগে। এ ছাড়া গবেষণার অর্থায়নের অভাব ও ব্যক্তিগত কারণে অনেকের পড়াশোনার সময়ও বেড়ে যায়।
নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, পড়াশোনা শেষ করার পর বা অন্য কোনো ভিসায় পরিবর্তন হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। আগে এ জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হতো। এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।
বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা নাফসা : অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতির সমালোচনা করেছে।
সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফ্যান্টা আও বলেন, এই নীতিমালা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর একটি ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। তার মতে, এটি এমন একটি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।
বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আরও সীমিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। এর অংশ হিসেবে প্রশাসন কিছু নামকরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তি সীমিত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করা কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের উদ্যোগও নিয়েছে।










