• ই-পেপার

নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা, নিহত ১৫

ইরানে হামলা

যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধাপরাধ’ করেছে : আরাগচি

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র ‘যুদ্ধাপরাধ’ করেছে : আরাগচি
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ করার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা এবং সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি যুক্তরাষ্ট্রের ‘অপরাধমূলক উদ্দেশ্য’ প্রকাশ করে।

টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আরাগচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলা জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। তার দাবি, এসব হামলা ১৯৪৯ সালের চারটি জেনেভা কনভেনশনসহ আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আইনের মৌলিক নীতির আওতায় গুরুতর আন্তর্জাতিক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

আরাগচি আরো বলেন, এ ধরনের অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা সব রাষ্ট্রের দায়িত্ব। 

তিনি মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্যকে ‘অযৌক্তিক বক্তব্য ও শয়তানি হুমকি’ বলে অভিহিত করেন। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের জনগণ তাদের স্বাধীনতা, বৈধ অধিকার ও মানবিক মর্যাদার পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে এই বৈরিতা প্রদর্শন করা হচ্ছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘যারা এসব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী, তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কাজ করেছেন—এমন অজুহাত দেখিয়ে আইনি দায় এড়াতে পারবেন না।’

স্বামীর নিথর দেহ ও রক্তাক্ত সন্তান, পাশে শুয়ে ফোনে ব্যস্ত স্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
স্বামীর নিথর দেহ ও রক্তাক্ত সন্তান, পাশে শুয়ে ফোনে ব্যস্ত স্ত্রী

একটি সুরক্ষিত আবাসিক ভবনের ফ্ল্যাটে থেকে আহত সন্তানসহ এক চিকিৎসকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে অন্য ঘটনায়। ঘটনাস্থলে স্বামীর নিথর দেহ পড়ে থাকলেও পাশে শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে তার স্ত্রীকে।

ভারতের কর্ণাটকের ধারওয়াড়ে রাঙ্কা স্টেলো অ্যাপার্টমেন্টসে এ ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। এক প্রতিবেদনে এনডিটিভি বলছে, নিহত চিকিৎসকের নাম ডা. কিরণ হোনান্নাভার (৪৫)। তিনি পেশায় অ্যানেস্থেটিস্ট ছিলেন।

পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার রাত থেকে স্বজনদের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেলে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা ফ্ল্যাটে গিয়ে দীর্ঘ সময় দরজা না খোলায় জোর করে ভেতরে প্রবেশ করেন। ঘরে ঢুকে তারা দেখতে পান, ডা. কিরণ মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছেন। তার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

আর অন্য একটি কক্ষে তার ৮ বছর বয়সী ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় পড়ে ছিল। পরে ছেলেটিকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়া হয়। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।

কর্ণাটক বিশ্ববিদ্যালয় রোড এলাকায় অবস্থিত ভবনটিতে নিরাপত্তাবেষ্টিত হওয়ায় পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, ঘটনার সময় ফ্ল্যাটে বাইরের কেউ প্রবেশ করেনি। এ ঘটনায় নিহত চিকিৎসকের স্ত্রী চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. প্রিয়াঙ্কাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে হুবলি-ধারওয়াড় পুলিশের কমিশনার এন শশিকুমার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের থাকতে পারে। তবে হত্যার সঠিক কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা এখনো নিশ্চিত নয়।

পুলিশের বরাতে এনডিটিভি বলছে, ঘটনার পর ফ্ল্যাটের ভেতরের একটি ভিডিওতে ডা. কিরণকে একটি কক্ষে উপুড় হয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায়। অন্য একটি কক্ষে আহত ছেলেটিকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। একই কক্ষে ডা. প্রিয়াঙ্কাকে বিছানায় শুয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

স্বজনরা পুলিশকে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর থেকেই তারা ডা. কিরণের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছিলেন।

এ বিষয়ে পুলিশ কমিশনার জানান, ফোন ঠিকই ধরেছিলেন ডা. প্রিয়াঙ্কা। তবে তিনি বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেন। প্রথমে বলেন, স্বামী বিশ্রাম নিচ্ছেন; পরে বলেন, তিনি বাইরে গেছেন।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, জিজ্ঞাসাবাদের সময় ডা. প্রিয়াঙ্কাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত মনে হয়েছে এবং তার বক্তব্যে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ অ্যাপার্টমেন্টের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করছে এবং উভয় পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

জার্মান নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, মেৎসের হুঁশিয়ারি

অনলাইন ডেস্ক
জার্মান নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র, মেৎসের হুঁশিয়ারি
ছবি : রয়টার্স

জার্মানির আসন্ন নির্বাচনে হস্তক্ষেপ না করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, জার্মানির আইনে বিদেশ থেকে রাজনৈতিক দলকে অর্থায়ন করা অবৈধ।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের মতে, মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইউরোপে ‘মাগা’সমর্থিত বিভিন্ন উদ্যোগে অর্থায়নের একটি কর্মসূচি ঘোষণা করে। এই কর্মসূচির আওতায় ইউরোপের বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা, থিংক ট্যাংক ও ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ৩০ লাখ ডলার পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হবে।

তবে এই অর্থায়ন তাদের জন্য যারা ‘জাতীয় সার্বভৌমত্ব, অভিবাসন, সেন্সরশিপ ও আইনগত হয়রানির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন, আইনের শাসন এবং পশ্চিমা সভ্যতার যৌথ ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ’ উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

ইউরোপীয় রাজনীতিতে সরাসরি প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এমন উদ্বেগের মধ্যেই দেশটির বর্তমান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎস বলেন, ‘আমরা যেমন আমেরিকার নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করি না, তেমনি আমি চাই না মার্কিন সরকার বা সরকারের ঘনিষ্ঠ কোনো প্রতিষ্ঠান জার্মান নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করুক।’

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কয়েকজন কর্মকর্তা প্রতিবেদনে দাবি করেছেন, এই অনুদান কর্মসূচি ইউরোপের ডানপন্থী গোষ্ঠী এবং সম্ভাব্য রাজনৈতিক দলগুলোকে সহায়তা দিতে সরকারি অর্থ পুনর্বিন্যাসের দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার অংশ।

এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইউরোপের রাজনৈতিক দলগুলোকে অর্থায়নে আগ্রহী। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশি সহায়তাসংক্রান্ত আইন এ ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ব্রাজিলের পণ্যে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

ব্রাজিল থেকে আমদানি করা অধিকাংশ পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন এই শুল্ক আগামী ২২ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

ওয়াশিংটনের দাবি, মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি ব্রাজিলের ‘অন্যায্য আচরণ’ এবং বাণিজ্যিক প্রতিবন্ধকতার জবাব হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক বছর তদন্তের ভিত্তিতে ১৯৭৪ সালের মার্কিন ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই আইনের মাধ্যমে বিদেশি রাষ্ট্রের অন্যায্য বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের জবাবে যুক্তরাষ্ট্র শুল্কসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে পারে।

তবে, নতুন শুল্কের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে কফি ও গরুর মাংসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভোগ্যপণ্য। হোয়াইট হাউস বলছে, তাদের মূল উদ্দেশ্য মার্কিন ভোক্তাদের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব কমিয়ে রেখে ব্রাজিলের ওপর চাপ বাড়ানো।

এদিকে আমদানি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ব্রাজিল সরকার।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্সির সামাজিক যোগাযোগ সচিবালয় স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ব্রাজিলের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা এ ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো যৌক্তিকতা নেই। ব্রাজিল এসব তদন্তের বৈধতা অস্বীকার করে কারণ এগুলোর পক্ষে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতিমালার কোনো ভিত্তি নেই।

এ ছাড়া এই সিদ্ধান্তকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ‘দুঃখজনক মাইলফলক’ বলে আখ্যা দিয়ে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা বলেন, একতরফাভাবে শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই।

কেন এই শুল্ক আরোপ?

এ বিষয়ে এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন প্রযুক্তি ও পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য অন্যায্য বাধা সৃষ্টি করছে ব্রাজিল। এ ছাড়া অবৈধ বন উজাড় রোধে কার্যকর আইন প্রয়োগে ব্যর্থ হচ্ছে ব্রাজিল। এর ফলে দেশটির উৎপাদকরা মার্কিন প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অন্যায্য ব্যয়গত সুবিধা পাচ্ছে।

মার্কিন ইথানলের বাজারে প্রবেশ সীমিত করছে এবং মেধাস্বত্ব সুরক্ষায় যথাযথ ব্যবস্থা নিচ্ছে না ব্রাজিল। পাশাপাশি লাতিন এই দেশটি কিছু দেশের জন্য অগ্রাধিকারমূলক শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে বলেও জানান ওই কর্মকর্তা।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত কেবল বাণিজ্যিক তদন্তের ফল নয়; এটি ট্রাম্প ও ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার মধ্যে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনারও প্রতিফলন। 

এর আগে ট্রাম্প তার রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক ব্রাজিলীয় প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর প্রতি ব্রাজিলের আচরণের সমালোচনা করে দেশটির ওপর পৃথক শুল্ক আরোপ করেছিলেন। যদিও মার্কিন প্রশাসনের দাবি, গত ছয় সপ্তাহের আলোচনায় আরও গঠনমূলক মনোভাব দেখিয়েছেন ব্রাজিলের কর্মকর্তারা। 

এই পরিস্থিতির জন্য ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দ্য সিলভা এবং তার সরকারকেই দায়ী করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি বলেন, লুলার অর্থনৈতিক নীতি আমেরিকানদের জন্য যেমন ক্ষতিকর, তেমনি ব্রাজিলের জনগণের জন্যও ক্ষতিকর। গত এক বছর তিনি নিজের অহংকে জনগণের স্বার্থের ওপরে রেখেছেন, আর এই শুল্ক সেই সিদ্ধান্তেরই মূল্য।

তবু দুই দেশের অবস্থানের মধ্যে এখনো উল্লেখযোগ্য দূরত্ব রয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

নাইজেরিয়ায় মসজিদে হামলা, নিহত ১৫ | কালের কণ্ঠ