• ই-পেপার

নিলামে কেনা স্যুটকেসে মিলল দেহাবশেষ

সংস্কারে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান

অনলাইন ডেস্ক
সংস্কারে যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান
সংগৃহীত ছবি

মাত্র ১৯ দিনের মাথায় সংস্কারকাজে পাঠানো হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ান বহরের নতুন বিমানটি। রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে ভিন্ন উপায়ে নতুন বিমানটির নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের সত্যতাই স্বীকার করে নেওয়া হলো।

এর আগে গত ১ জুলাই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ান বহরে যুক্ত হয় কাতারের দেওয়া উপহার বোয়িং ৭৪৭-৮ বিমানটি। গতবছর কাতার রাজপরিবার ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিমানটি উপহার দিয়েছিল। আরো ৪০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ১০ মাস সংস্কারকাজের পর গত ১৯ জুন এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেজ অ্যান্ড্রুজে বিমানটি উদ্বোধন করতে গিয়ে উচ্ছ্বসিত ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন ‘সবকিছুর ডিজাইন দারুণ করা হয়েছে। আমি বলব, এটি আমার রুচিমতো হয়েছে। বিমানটিকে এমন এক বিলাসবহুল উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।’

গত ১ জুলাই ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথম নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে চড়ে নর্থ ডাকোটায় একটি জাদুঘর উদ্বোধন করতে যান। কিন্তু ১৯ দিনের মাথায় ট্রাম্পের উচ্ছ্বাস মিইয়ে গেল। বহরে যুক্ত হওয়ার ৮ দিনের মাথায় এয়ারফোর্স ওয়ানের বিমানটির নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে আলোচনা-বিতর্ক সৃষ্টি হয়। গত ৮ জুলাই ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্কের আঙ্কারা থেকে ফেরার পথে হুট করে নতুন বিমানটি ফেলে এয়ারফোর্স ওয়ানের পুরনো বিমানে চড়ে বসেন ট্রাম্প। ইরান ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে, এমন আলোচনার মধ্যে ট্রাম্পের হঠাৎ বিমান বদল নতুন মাত্রা যুক্ত করে। পরদিন ৯ জুলাই নিউইয়র্ক টাইমস এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানায়, নতুন বিমানটিতে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাসহ বেশ কিছু জরুরি নিরাপত্তা প্রযুক্তির ঘাটতি রয়েছে। ১০ জুলাই সিএনএন জানায়, তড়িঘড়ি সংস্কারের কারণে নতুন বিমানটিতে অনেক স্ট্যান্ডার্ড ফিচার বাদ পড়েছে।

তবে নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে বিমান বদল হয়েছে, এমন দাবিকে পাত্তাই দেননি ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং বিমানের নিরাপত্তা ঘাটতি সংক্রান্ত সংবাদ পরিবেশন নিয়ে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই তথ্য কারা সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস করেছে তা তদন্তে হোয়াইট হাউস বেশ জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে। চিফ অব স্টাফ সুজি ওয়াইলস এবং এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল ব্যক্তিগতভাবে এই তদন্তের সঙ্গে যুক্ত আছেন। হোয়াইট হাউজে কর্মকর্তাদের তাদের ব্যক্তিগত ফোন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। সমন পাঠানো হয়, নিউইয়র্ক টাইমসের ৪ সাংবাদিককেও।

এসব আলোচনা-বিতর্কের মধ্যেই বিমানটি সংস্কারকাজে পাঠানোর কথা জানালেন ট্রাম্প। রবিবার নিউজার্সিতে ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখে ফিরে আসার পর, বিমান থেকে নামার সময় ট্রাম্পকে নতুন বিমানটির ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘এটির অনেক সক্ষমতা রয়েছে, তবে আমি যতটুকু জানি, আগামী এক মাসের মধ্যে তারা এটিকে সর্বোচ্চ আধুনিকায়নের জন্য পাঠাবে।’ তিনি বলেন, ‘তারা এটি পাঠাতে যাচ্ছে এবং এটিকে সর্বোচ্চ আধুনিকীকরণ করা হবে। এতে প্রায় ১ মাস সময় লাগবে।’

উল্লেখ্য, বোয়িং কম্পানি এয়ারফোর্স ওয়ান বহরের জন্য দুটি বিমান তৈরি করছে। ২০২৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে বিমান দুটি মার্কিন বিমানবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে হস্তান্তরের পর বিমান দুটি প্রেসিডেন্টের ব্যবহার উপযোগী করতে ২০২৯ সাল বা তারও বেশি সময় লেগে যেতে পারে। কিন্তু তর সইছিল না ডোনাল্ড ট্রাম্পের। পুরনো বিমানে অসন্তুষ্ট ট্রাম্পের রুচির সঙ্গে তাল মিলিয়ে তার পরামর্শেই সংস্কার করা হয় কাতারের রাজপরিবারের দেওয়া রাজকীয় বিমানটি। তবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়েই সৃষ্টি হয়েছে সমস্যার। যে কারণে ১৯ দিনের মাথায় আবার সংস্কারে পাঠাতে হচ্ছে বিমানটিকে।

ওডেসা বন্দরে জাহাজে হামলা, ৪ ভারতীয় নাবিক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
ওডেসা বন্দরে জাহাজে হামলা, ৪ ভারতীয় নাবিক নিহত
সংগৃহীত ছবি

ইউক্রেনের ওডেসা বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর এক ভারতীয় নাবিকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। খবর এনডিটিভি

বুধবার (১৯ জুলাই) সন্ধ্যায় এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাগুলো।

হামলার শিকার ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামের জাহাজটিতে ভারতীয় ও সিরীয় নাগরিকসহ মোট ১৭ জন ক্রু ছিলেন। এর মধ্যে পাঁচজন ছিলেন ভারতীয়। গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ও ভুট্টাবোঝাই এই জাহাজটির মালিকানা মুম্বাইভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ওশান গ্রেস শিপিং লিমিটেড’-এর।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিজ্ঞপ্তিতে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানো, বেসামরিক নাবিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা কিংবা মুক্ত নৌচলাচল ও বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরত থাকা উচিত।’ একই সঙ্গে ইউক্রেনে নিযুক্ত ভারতীয় দূতাবাস উদ্ধারকাজ ও ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে বলে জানানো হয়।

ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর দাবি, রুশ বাহিনী জাহাজটি লক্ষ্য করে তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালে সেটিতে আগুন ধরে যায়। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আটজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও জাহাজটির ৯ জন ক্রু এবং ১ জন মেরিন পাইলট নিহত হন।

কৃষ্ণসাগরে সাম্প্রতিক সময়ে তৈরি হওয়া উত্তেজনার মধ্যে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করেছে ওডেসা বন্দর কর্তৃপক্ষ।

চলতি মাসে ওডেসা অঞ্চলে রুশ হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, একই দিনে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় এক শিশুসহ ৫ জন নিহত হন এবং ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে রুশ হামলায় আরো ৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে দুই পক্ষের সংঘাত সম্প্রতি আরো ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে।

ইকামা নিয়ে সুখবর দিল সৌদি আরব

অনলাইন ডেস্ক
ইকামা নিয়ে সুখবর দিল সৌদি আরব
সংগৃহীত ছবি

গৃহকর্মীদের রেসিডেন্সি পারমিট বা ‘ইকামা’ নবায়নের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও নমনীয় নিয়ম চালু করেছে সৌদি আরব।

নতুন এই নিয়ম অনুযায়ী, নিয়োগকর্তারা এখন থেকে ‘আবশের’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে শুরু করে বিভিন্ন মেয়াদের জন্য ইকামা ইস্যু বা নবায়ন করতে পারবেন। রবিবার (১৯ জুলাই) সৌদি আরবের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই ঘোষণা দেয়।

ওকাজ’ পত্রিকার তথ্য অনুযায়ী, এই নতুন ব্যবস্থার অধীনে নিয়োগকর্তারা গৃহকর্মী এবং সমমানের অন্যান্য ক্যাটাগরিতে কর্মরত কর্মীদের জন্য ৩, ৬, ৯, ১২, ১৫, ১৮, ২১ বা ২৪ মাসের আবাসিক মেয়াদের যেকোনো একটি বেছে নিতে পারবেন। ‘আবসের’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই পারমিটগুলো জারি বা নবায়ন করা যাবে।

এই পরিবর্তনের ফলে নিয়োগকর্তাদের একসঙ্গে দীর্ঘ মেয়াদের জন্য ফি পরিশোধ করতে হবে না। বরং তারা কেবল নির্বাচিত মেয়াদের জন্যই আবাসিক ফি পরিশোধের সুযোগ পাবেন। তিন মাস বা তিন মাসের গুণিতক হিসেবে জারি বা নবায়নকৃত ইকামার ফি মূলত ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

এর আগে গৃহকর্মীদের ইকামার মেয়াদ সাধারণত এক বা দুই বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

পরিবার এবং গৃহকর্মীদের বিভিন্ন প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়োগকর্তাদের আরো বেশি নমনীয়তা প্রদান করার জন্যই এই নতুন ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এটি সরকারি প্রক্রিয়াগুলোর কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল সেবার পরিধি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে সৌদি সরকারের গৃহীত অন্যতম পদক্ষেপ।

জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে সহায়তার প্রতিশ্রুতি—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম

নুরুল হক শিপু, যুক্তরাজ্য
জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহে সহায়তার প্রতিশ্রুতি—প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে অ্যান্ডি বার্নহ্যাম
ছবি : রয়টার্স

ব্রিটেনের রাজনীতিতে শুরু হলো ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম যুগ। দেশটির ৫৯তম সরকারপ্রধান হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম ভাষণে জীবনযাত্রার ব্যয়সংকট মোকাবেলায় আগামীকাল (২১ জুলাই ২০২৬) থেকে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী।

সোমবার (২০ জুলাই) ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া ভাষণে জনগণকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, এই পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষকে কিছুটা স্বস্তি দেবে।

ব্রিটেনের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, রাজা তৃতীয় চার্লস তাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানান। বাকিংহাম প্রাসাদে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ডাউনিং স্ট্রিটে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন বার্নহ্যাম।

দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে দেওয়া প্রথম বক্তব্যে উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের কাছে ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত বার্নহ্যাম বলেন, ব্রিটেনের মানুষ পরিবর্তন, স্থিতিশীলতা এবং নতুন আশার প্রত্যাশা করছে। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিভাজন পেছনে ফেলে দেশের মানুষের আস্থা পুনর্গঠন, অর্থনীতিকে আরো শক্তিশালী করা, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দেশের প্রতিটি অঞ্চলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে তাঁর সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং স্থানীয় নেতৃত্বকে আরো শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

বার্নহ্যাম বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল রাজধানীকেন্দ্রিক হতে পারে না; যুক্তরাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলকে সমান গুরুত্ব দিয়েই এগিয়ে নিতে হবে। তাঁর ভাষায়, মানুষের আস্থা অর্জনই হবে নতুন সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি এবং সেই লক্ষ্য নিয়েই তিনি কাজ করবেন। একই সঙ্গে গৃহহীনতা কমানো, আবাসন নির্মাণ, শিক্ষা ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন এবং জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

অন্যদিকে দায়িত্ব হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ছাড়েন স্যার কিয়ার স্টারমার। বিদায়ি বক্তব্যে তিনি দেশ ও দলের জন্য কাজ করার সুযোগ পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। দীর্ঘদিন পর লেবার পার্টিকে সরকারে ফিরিয়ে আনাকে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের প্রতি শুভকামনা জানিয়ে দেশের স্বার্থে তাঁর সফলতা কামনা করেন।

বার্নহ্যামের দায়িত্ব গ্রহণের জন্য কোনো সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। যুক্তরাজ্যের সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী, পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা পরিবর্তিত হলে সেই নেতাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেই সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই লেবার পার্টির নতুন নেতা হিসেবে ব্রিটেনের নেতৃত্বে এলেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম।

অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ব্রিটিশ রাজনীতির অন্যতম অভিজ্ঞ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি এবং অর্থ-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে জাতীয় রাজনীতিতে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান গড়ে তোলেন।

বিশেষ করে করোনা মহামারির সময় উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে তাঁর দৃঢ় অবস্থান এবং আঞ্চলিক উন্নয়নের দাবিতে ধারাবাহিক ভূমিকা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়। সেই সময় থেকেই রাজনৈতিক মহলে তিনি ‘কিং অব দ্য নর্থ’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠেন। স্থানীয় সরকারকে আরো ক্ষমতায়ন, আঞ্চলিক বৈষম্য কমানো এবং উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকে জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বার্নহ্যামের নেতৃত্বে ব্রিটেনের রাজনীতিতে আঞ্চলিক উন্নয়ন, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্যের প্রশ্নটি আরও বেশি গুরুত্ব পাবে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তর ইংল্যান্ডের উন্নয়ন নিয়ে সোচ্চার এই নেতা এখন জাতীয় পর্যায়ে সেই দর্শন বাস্তবায়নের সুযোগ পেলেন। ফলে তাঁর নেতৃত্বে লেবার সরকারের নীতিনির্ধারণে স্থানীয় সরকারকে আরো কার্যকর ভূমিকা দেওয়ার উদ্যোগ জোরালো হতে পারে।

ব্রিটেনের রাজনীতিতে এই নেতৃত্ব পরিবর্তন কেবল একজন প্রধানমন্ত্রীর বিদায় ও আরেকজনের দায়িত্ব গ্রহণ নয়; এটি নতুন রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি, নতুন প্রত্যাশা এবং নতুন নেতৃত্বের সূচনা। এখন নজর থাকবে—উত্তর ইংল্যান্ডের মানুষের আস্থার প্রতীক ‘কিং অব দ্য নর্থ’ জাতীয় নেতৃত্বেও সেই আস্থা কতটা ধরে রাখতে পারেন এবং পরিবর্তনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তা বাস্তবে কতটা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেন।

সর্বশেষ সংবাদ