অবশেষে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েল। দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আগামী ২২ জুন আলোচনায় বসছে উভয় পক্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, এক যৌথ বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
তবে চলমান এই যুদ্ধবিরতির মধ্যে গেল বুধবার ইসরায়েলি হামলায় দক্ষিণ লেবাননে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৯ জন। জবাবে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। তাদের দাবি, ইসরায়েল হামলা বন্ধ না করলে কোনো ধরনের আলোচনা বা চুক্তিতে যাবে না লেবানন।
দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার যুদ্ধবিরিতি হলেও তা কার্যত কার্যকর হয়নি। দফায় দফায় বৈঠক করেও হয়নি কোনো সুরাহা। অবশেষে গত দুই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চতুর্থ দফায় আলোচনায় যুদ্ধবিরতি মেয়াদ বাড়াতে সম্মত হয় লেবানন ও ইসরায়েল।
যুদ্ধবিরতির শর্ত অনুযায়ী, হামলা সম্পূর্ণ বন্ধ করে লেবাননের দক্ষিণ লিতানি অঞ্চল থেকে সব সদস্যদের সরিয়ে নেবে হিজবুল্লাহ। তবে লেবাননের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকবে দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে। এ ছাড়া লেবাননে কোনো আঞ্চলিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ থাকতে পারবে না।
সব ধরনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের লক্ষ্যে আগামী ২২ জুন রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা বিষয়ে আলোচনা পুনরায় শুরু করবে দুই পক্ষ। যেখানে মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করবে যুক্তরাষ্ট্র। উভয়পক্ষ একটি বাস্তবায়নযোগ্য রূপরেখায় পৌঁছাবে বলে আশাবাদী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বড় ধাক্কা খেলো ট্রাম্পের ইরান যুদ্ধনীতি। ইরান যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে একটি প্রস্তাব পাস হয়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে। ট্রাম্পের যুদ্ধক্ষমতা কমাতে এরইমধ্যে ২১৫ ও ২০৮ ভোটের ব্যবধানে প্রস্তাবটি পাস হয়েছে। যা এখন উচ্চকক্ষ সিনেটে পাস হলে মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা পাঠানো অথবা যুদ্ধ পরিচালনায় কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হবে ট্রাম্পকে। নিজ দলের ৪ রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা প্রস্তাবে পক্ষে রায় দিয়েছেন।
তবে কয়েক দিনের মধ্যেই ইরানের সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প আশাবাদী জানালেও, আলোচনার অগ্রগতি অস্বীকার করেছে তেহরান।
লেবানন ও ইসরায়েলের সংঘাতকে ইরান যুদ্ধ থেকে আলাদাই রাখছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার আশা কয়েকদিনের মধ্যেই একটি চুক্তি হবে এবং ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুদ থাকবে।
তবে ট্রাম্পের এমন দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, চুক্তির বিষয়ে অগ্রগতি না থাকলেও, আলোচনার পথ খোলা রয়েছে। তবে কোনো ধরণের শত্রুতামূলক আচরণ করলে কঠোর জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে তেহরান।




