• ই-পেপার

কভিডের ট্যাবলেট আসছে

মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক শক্তি, মুহুর্মুহু হামলার আগাম বার্তা

অনলাইন ডেস্ক
মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে মার্কিন সামরিক শক্তি, মুহুর্মুহু হামলার আগাম বার্তা

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কয়েক দফায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। চলমান এই তীব্রতা আরো বাড়াতে এবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েনের কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি বলছে, বুধবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংবাদমাধ্যমটির এক প্রদিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরও জোরদার হবে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছি। উপকূল ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় তাদের যা কিছু আছে, সবকিছুই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ না আমি বলব যে- (থামো) যথেষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ হামলা চলবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ রাতে আমরা কঠোর হামলা চালাব। আগামীকাল রাতেও হামলা হবে। তার পরের রাতেও হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কারণ তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হবে। এরপর সেতুগুলোতে হামলা হবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেব। সব সেতু ধ্বংস করে দেব, যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে।’

ইরানের সামনে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। তাদের চুক্তি করাই ভালো। নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না’।

যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায় বলেও জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি আগে সেখানে (হরমুজ প্রণালি) একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চায়, যা আমার কাছে আরও ভালো মনে হয়েছে।’

তবে আমি ফি আরোপের ধারণাটি পছন্দ করি না। হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। না হলে অন্যরাও একই কাজ শুরু করবে বলেও জানান তিনি। ট্রাম্পের এই মন্তব্যের আগে মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টির বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।

ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এই লোকদের সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন। আর সেই শক্তি হলো সামরিক শক্তি। আমরা সেটাই করেছি’।

রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে কড়াকড়ি, ভারতসহ ৫ দেশর জন্য নতুন মার্কিন বিল

অনলাইন ডেস্ক
রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যে কড়াকড়ি, ভারতসহ ৫ দেশর জন্য নতুন মার্কিন বিল
ছবি : রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিলে বলা হয়েছে, রাশিয়ার তেল কেনা চালিয়ে গেলে ভারতসহ পাঁচটি দেশ অতিরিক্ত শুল্ক ও অন্যান্য অর্থনৈতিক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে পারে।

বিল অনুযায়ী, মার্কিন প্রশাসন রাশিয়ার তেলের বড় ক্রেতা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করতে পারবে। ব্লুমেনথাল যে পাঁচটি দেশের নাম উল্লেখ করেছেন, সেগুলো হলো, চীন, ভারত, স্লোভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও আজারবাইজান।

মঙ্গলবার সিনেটর রিচার্ড ব্লুমেনথাল, জিন শাহিন, রজার উইকার, কেটি ব্রিট এবং উভয় দলের আরো কয়েকজন আইনপ্রণেতা আনুষ্ঠানিকভাবে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘লিন্ডসে গ্রাহাম রাশিয়া অ্যাকাউন্টেবিলিটি বিল’। প্রয়াত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি বিলের পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছিলেন। তার অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বিলটির সঙ্গে তার নাম যুক্ত করা হয়েছে।

সিনেটর ব্লুমেনথাল বলেন, এই বিল শুধু শুল্ক আরোপের বিষয় নয়। এর মাধ্যমে রাশিয়ার জ্বালানি ও আর্থিক খাত, প্রতিরক্ষা শিল্প, ধনী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী এবং প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

এ ছাড়া রাশিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। তবে যেসব দেশ রাশিয়া থেকে ১৫ শতাংশের কম গ্যাস আমদানি করে এবং সেই আমদানি কমিয়ে আনছে, তারা এই বিধানের বাইরে থাকবে। ফলে ইউরোপের বেশিরভাগ মিত্র দেশ এ থেকে অব্যাহতি পাবে।

সিনেটররা জানিয়েছেন, শুল্কের হার এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। এটি পরে মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি ঠিক করবেন। তবে ব্লুমেনথাল বলেছেন, শুল্ক এমন মাত্রায় নির্ধারণ করা হতে পারে যাতে চীন, ভারত ও অন্যান্য বড় ক্রেতা দেশ রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কেনা নিরুৎসাহিত হয়। বিলটিতে শুল্ক মওকুফের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে শুল্ক কমানো হলে সে বিষয়ে কংগ্রেসকে জানাতে হবে।

সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্ক কমিটির চেয়ারম্যান জেমস রিশ রাশিয়ার তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন ট্যাংকার বহরের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, রাশিয়া এসব ট্যাংকার ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি চালিয়ে যাচ্ছে।

আইনপ্রণেতারা বলেছেন, আগের খসড়াগুলোর তুলনায় বর্তমান বিলটি অনেক সীমিত। আগে সর্বোচ্চ ৬৩টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের প্রস্তাব ছিল, কিন্তু এখন তা কমিয়ে মাত্র পাঁচটি প্রধান ক্রেতা দেশের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিলটি ঘোষণার সময় অনেক সিনেটর প্রয়াত লিন্ডসে গ্রাহামের অবদানের কথা স্মরণ করেন। সিনেটর রজার উইকার এটিকে গ্রাহামের ‘সবচেয়ে বড় অর্জন’ বলে উল্লেখ করেন। সিনেটর টেড ক্রুজ জানান, মৃত্যুর আগে গ্রাহাম ব্যক্তিগতভাবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বিলটি নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

সিনেটরদের আশা, আগস্টের শেষের আগেই বিলটি সিনেটে পাস হতে পারে। তবে এর আগে বিলটি সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে অনুমোদন পেতে হবে। এরপর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের স্বাক্ষর পেলেই এটি আইনে পরিণত হবে। ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে কম দামে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করছে। ভারত বলছে, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই আমদানি প্রয়োজন।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বিলটিকে সমর্থন করেন। বিলটি আইনে পরিণত হলে ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি খাতের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পাবেন। এর ফলে ভারতসহ কয়েকটি দেশ নতুন বাণিজ্যিক চাপের মুখে পড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ৬১৬ কোটি টাকায় বিক্রি টি.রেক্সের কঙ্কাল, গড়ল নতুন বিশ্বরেকর্ড

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রে ৬১৬ কোটি টাকায় বিক্রি টি.রেক্সের কঙ্কাল, গড়ল নতুন বিশ্বরেকর্ড
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে নিলামে ৫ কোটি ১ লাখ মার্কিন ডলারে (প্রায় ৬১৬ কোটি টাকা) বিক্রি হয়েছে ‘গাস’ নামে পরিচিত একটি টাইরানোসরাস রেক্স (টি.রেক্স) ডাইনোসরের কঙ্কাল। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান সোদেবিজের আয়োজিত নিলামে এই কঙ্কালটি বিক্রি হয়। এর মাধ্যমে এটি নিলামে বিক্রি হওয়া বিশ্বের সবচেয়ে দামি ডাইনোসরের কঙ্কালের নতুন রেকর্ড গড়েছে।

নিলামের সময় কঙ্কালটি কিনতে সাতজন আগ্রহী ক্রেতা অংশ নেন। প্রায় ১০ মিনিট ধরে তাদের মধ্যে টানা দর হাঁকার প্রতিযোগিতা চলে। শেষ পর্যন্ত এক অজ্ঞাত পরিচয়ের ক্রেতা ৫ কোটি ১ লাখ ডলারে কঙ্কালটি কিনে নেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গাস’ বিশ্বের সবচেয়ে সম্পূর্ণ টি. রেক্স কঙ্কালগুলোর একটি। এতে মোট ১৮৩টি জীবাশ্মে পরিণত হওয়া হাড় রয়েছে। পুরো কঙ্কালের প্রায় ৬৩ শতাংশ এখনো অক্ষত রয়েছে। এর দৈর্ঘ্য ৩৮ ফুট বা ১১ দশমিক ৬ মিটার। আকারের দিক থেকেও এটি এখন পর্যন্ত পাওয়া সবচেয়ে বড় টি. রেক্স নমুনাগুলোর একটি।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ডাকোটা অঙ্গরাজ্যের একটি গরুর খামারে কঙ্কালটি খুঁজে পাওয়া যায়। পরে গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, এই ডাইনোসরটি আজ থেকে প্রায় ৭ কোটি ২০ লাখ থেকে ৬ কোটি ৬০ লাখ বছর আগে পৃথিবীতে বাস করত। সে সময় পৃথিবীর জলবায়ু বর্তমানের তুলনায় অনেক বেশি উষ্ণ ছিল। সমুদ্রের পানির উচ্চতাও ছিল অনেক বেশি। উপকূলজুড়ে বিস্তীর্ণ সমতল এলাকা ছিল, যেগুলো প্রায়ই বন্যার পানিতে প্লাবিত হতো। নিলামে এত বড় অঙ্কে এই কঙ্কাল বিক্রি হওয়ার ঘটনা দেখিয়ে দিয়েছে, ডাইনোসরের জীবাশ্ম ও হাড়ের আন্তর্জাতিক বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তবে এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অনেক জীবাশ্মবিদ। তাদের মতে, এমন গুরুত্বপূর্ণ জীবাশ্ম ব্যক্তিগত সংগ্রহে চলে গেলে গবেষণা ও জনসাধারণের দেখার সুযোগ সীমিত হয়ে যায়। 

নিলামের আগে বার্তা সংস্থা এএফপিকে সোদেবিজের বিজ্ঞান ও প্রাকৃতিক ইতিহাস বিভাগের প্রধান ক্যাসান্দ্রা হ্যাটন বলেন, বিশ্বের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র দেশ, যেখানে এ ধরনের জীবাশ্ম ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি বলেন, কোনো জমির মালিক যদি একটি জীবাশ্ম খুঁজে পান, তাহলে সেই জীবাশ্মের মালিকানাও তার হয়। তিনি চাইলে সেটি বিক্রি করতে পারেন। তাই ব্যক্তিগতভাবে ডাইনোসরের জীবাশ্ম কিনতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রই একমাত্র জায়গা, যেখানে তা আইনগতভাবে সম্ভব। এর আগে জীবাশ্মের নিলামে সর্বোচ্চ দামের রেকর্ড ছিল ‘এপেক্স’ নামে একটি স্টেগোসরাসের কঙ্কালের। ২০২৪ সালে হেজ ফান্ডের ধনকুবের কেন গ্রিফিন এটি ৪ কোটি ৪৬ লাখ মার্কিন ডলারে কিনেছিলেন। এবার ‘গাস’ সেই রেকর্ড ভেঙে নিলামে বিক্রি হওয়া সবচেয়ে দামি ডাইনোসরের কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।
 

১৩৬ শিশুকে যৌন নির্যাতন, ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করল অস্ট্রেলিয়া

অনলাইন ডেস্ক
১৩৬ শিশুকে যৌন নির্যাতন, ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করল অস্ট্রেলিয়া
ছবি : রয়টার্স

অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বহু শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে ৩২৯টি মামলার মুখোমুখি হওয়া এক ডে কেয়ার কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করেছে কর্তৃপক্ষ।

পরিচর্যাকর্মী হ্যামিশ টেইটের বিরুদ্ধে ১৬ বছর ধরে বিভিন্ন ডে কেয়ার কেন্দ্রে ১৩৬ শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মোট ৩২৯টি অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের গোপনীয়তা আদেশ প্রত্যাহারের পর সোমবার এই পরিচর্যাকর্মীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়।

৩৫ বছর বয়সী টেইটকে গত বছরের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং তিনি এখনো পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শিশু নির্যাতনের সামগ্রী তৈরির ১৬২টি এবং অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত কার্যকলাপের ভিডিও ধারণের ৮১টি অভিযোগসহ আরো নানা অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত ১২১টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনো ২২ জন সম্ভাব্য ভুক্তভোগীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেল পুলিশের (এএফপি) ভারপ্রাপ্ত কমান্ডার লিউক নিডহ্যাম বলেন, ‘শিশুদের প্রতি যেকোনো ধরনের যৌন নির্যাতনই অত্যন্ত মর্মান্তিক ও জঘন্য। এমন অভিযোগ যখন এমন একজনের বিরুদ্ধে ওঠে, যার দায়িত্ব ছিল শিশুদের দেখভাল করা, তখন তা আরো উদ্বেগজনক।’

পুলিশ জানিয়েছে, হ্যামিশ টেইট ২০০৯ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সিডনির ৬২টি শিশুশিক্ষা ও পরিচর্যা প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন বা সেখানে যাতায়াত করেছেন। তবে তিনি মূলত শহরের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের কেন্দ্রগুলোতে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুদের প্রতি নির্যাতনের ঘটনাগুলো চারটি শিশু পরিচর্যাকেন্দ্র এবং টেইটের নিজস্ব একটি ব্যক্তিগত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ মোট পাঁচটি স্থানে ঘটেছে। পুলিশ একটি বিশেষ ওয়েবসাইট চালু করেছে, যেখানে টেইট যে শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে কাজ করতেন সেগুলোর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

টেইটের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি ১৪ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য শিশু নির্যাতনের সামগ্রী তৈরি করেছেন। এ ধরনের ২২টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ বছরের কম বয়সী শিশুদের ইচ্ছাকৃতভাবে যৌনভাবে স্পর্শ করার ১৮টি অভিযোগও রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত বছরের জুনে তারা প্রথম টেইটকে অবৈধ অনলাইন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করে। পরে সিডনির বাইরে গ্লেনোরি এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে শিশু নির্যাতনমূলক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার ডে কেয়ার কেন্দ্রগুলোতে শিশু নির্যাতনের একাধিক অভিযোগ দেশজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

এর মধ্যে অন্যতম অ্যাশলি পল গ্রিফিথের মামলা। তিনি ২০২৪ সালে কুইন্সল্যান্ড ও বিদেশের শিশু পরিচর্যা কেন্দ্রগুলোতে ২০ বছর ধরে সংঘটিত ৩০৭টি অপরাধের কথা স্বীকার করেন। এ ছাড়া গত বছর জোশুয়া ডেল ব্রাউনের বিরুদ্ধে চারটি ডে কেয়ার কেন্দ্রে শিশু নির্যাতনের বহু অভিযোগ আনা হয়। এরপর পুলিশ ভিক্টোরিয়ার এক হাজার ২০০-র বেশি শিশুর যৌনবাহিত রোগ পরীক্ষা করার আহ্বান জানায়।

কভিডের ট্যাবলেট আসছে | কালের কণ্ঠ