• ই-পেপার

বাল্টিমোর সিটির রাস্তা থেকে নামিয়ে নেওয়া হলো জিয়ার নামফলক

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসানীতি কঠোর করল যুক্তরাষ্ট্র
ছবি : রয়টার্স

ট্রাম্প প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন ও কঠোর ভিসানীতির ঘোষণা দিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফেডারেল সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশি শিক্ষার্থীরা চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবেন না। এ ছাড়া বিষয় পরিবর্তন এবং এক বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজ থেকে অন্যটিতে স্থানান্তরের সুযোগও সীমিত করা হবে।

আগে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলো শিক্ষার্থীদের ভিসার মেয়াদ বাড়াতে পারত। তবে নতুন নীতিতে সেই সুবিধাও কমানো হচ্ছে। আগামী সেপ্টেম্বর থেকে এই নীতিমালা কার্যকর হবে। মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ বলেছে, এর উদ্দেশ্য ভিসার অপব্যবহার রোধ করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা আরো জোরদার করা। তবে বিদেশি শিক্ষার্থীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস এই নীতিকে ভুলভাবে নির্দেশিত এবং অপ্রয়োজনীয় বলে সমালোচনা করেছে।

এর আগে, এফ-১ ও জে-১ ভিসাধারী শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকার সুযোগ পেতেন। নতুন নীতি সেই অবস্থানের ওপর নির্দিষ্ট সময়সীমা আরোপ করবে। সরকারের অনুমতি ছাড়া চার বছরের বেশি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করতে পারবেন না বিদেশি শিক্ষার্থীরা। যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ স্নাতক পর্যায়ের কোর্স সাধারণত চার বছরের হলেও, ডক্টরেটসহ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের অনেক কর্মসূচি সম্পন্ন করতে সাধারণত বেশি সময় লাগে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই স্নাতকোত্তর পর্যায়ে, বিশেষ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ে পড়াশোনা করেন। এসব বিষয়ে গবেষণা ও গবেষণাপত্র প্রকাশে বেশি সময় লাগে। এ ছাড়া গবেষণার অর্থায়নের অভাব ও ব্যক্তিগত কারণে অনেকের পড়াশোনার সময়ও বেড়ে যায়।

নতুন নীতিতে বলা হয়েছে, পড়াশোনা শেষ করার পর বা অন্য কোনো ভিসায় পরিবর্তন হলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ৩০ দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে। আগে এ জন্য ৬০ দিনের সময় দেওয়া হতো। এই পরিবর্তনের ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও গবেষণা সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হতে পারে।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংস্থা নাফসা : অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেটরস যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসানীতির সমালোচনা করেছে।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী ফ্যান্টা আও বলেন, এই নীতিমালা দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর একটি ব্যবস্থায় অপ্রয়োজনীয় অনিশ্চয়তা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও ভয়ের পরিবেশ তৈরি করবে। তার মতে, এটি এমন একটি সমস্যার সমাধানের চেষ্টা, যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।

বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমানো এবং যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন আরও সীমিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য। এর অংশ হিসেবে প্রশাসন কিছু নামকরা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বিদেশি শিক্ষার্থীর ভর্তি সীমিত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করা কিছু বিদেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিলের উদ্যোগও নিয়েছে।

বামপন্থি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান রুবিওর

অনলাইন ডেস্ক
বামপন্থি সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বিশ্বকে এক হওয়ার আহ্বান রুবিওর
ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে বামপন্থি সন্ত্রাসবাদের ক্রমবর্ধমান হুমকি মোকাবিলায় একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এই ধরনের উগ্রবাদ এখন সীমান্ত পেরিয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এটি মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ট্রাম্প প্রশাসনের আয়োজনে ৬০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশ নেওয়া মার্কিন কর্মকর্তারা দাবি করেন, বামপন্থি রাজনৈতিক সহিংসতা এমন একটি বিশেষ ধরনের উগ্রবাদ, যার মূল ভিত্তি সভ্যতার প্রতি গভীর বিদ্বেষ। তবে বৈঠকে ডানপন্থি উগ্রবাদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। বৈঠকে মার্কো রুবিও বলেন, অতি-বামপন্থি উগ্রবাদ এখন শুধু একটি দেশের সমস্যা নয়। এটি আন্তর্জাতিকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তাই এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় দেশগুলোর মধ্যে আরো বেশি সহযোগিতা দরকার। 
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগি এবং যৌথ পদক্ষেপের মাধ্যমে এই হুমকি মোকাবিলা করা সম্ভব। ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই বৈঠকে ইউরোপের অধিকাংশ দেশের প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া লাতিন আমেরিকার কয়েকটি দেশ, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের কর্মকর্তারাও অংশ নেন। ট্রাম্প প্রশাসন এরই মধ্যে অ্যান্টিফা (অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট) আন্দোলনকে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী হিসেবে ঘোষণা করেছে। প্রশাসনের দাবি, অ্যান্টিফাসহ বিভিন্ন অতি-বামপন্থি গোষ্ঠী সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত। বৈঠকে হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার বলেন, অতি-বামপন্থি আন্দোলনের মূল চালিকা শক্তি হলো সহিংসতা, ঘৃণা এবং ঈর্ষা।

বৈঠকের দিনই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নতুন ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়। এই নিষেধাজ্ঞা এমন ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে দেওয়া হয়েছে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র 'অতি-বামপন্থি সন্ত্রাসী' বা সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর সদস্য বলে মনে করছে। এ ছাড়া যেসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক নাশকতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের সদস্যদেরও এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের চারটি সংগঠনকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। এগুলো হলো জার্মানির 'অ্যান্টিফা ওস্ট', ইতালির 'ইনফরমাল অ্যানার্কিস্ট ফেডারেশন/ইন্টারন্যাশনাল রেভল্যুশনারি ফ্রন্ট', গ্রিসের 'আর্মড প্রলেতারিয়ান জাস্টিস' এবং 'রেভল্যুশনারি ক্লাস সেলফ-ডিফেন্স'।

ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগের সমালোচনা করেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাট দল। বুধবার ডেমোক্র্যাট দলের ১১ জন আইনপ্রণেতা মার্কো রুবিওকে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তারা প্রশ্ন তোলেন, শুধু বামপন্থি গোষ্ঠীগুলোর ওপর জোর দেওয়া হলে বৈধ রাজনৈতিক আন্দোলন ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভও অযথা নজরদারির শিকার হতে পারে। রয়টার্সের হাতে পাওয়া ওই চিঠিতে বলা হয়, পররাষ্ট্র দপ্তরের উচিত রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে তথ্য ও বাস্তবতার ভিত্তিতে কাজ করা। আইনপ্রণেতাদের অভিযোগ, পররাষ্ট্র দপ্তর প্রশাসনের রাজনৈতিক অগ্রাধিকারের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম মিলিয়ে নিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে অতি-বামপন্থি ও অতি-ডানপন্থি উগ্রবাদ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় ভিন্ন ধরনের তথ্য উঠে এসেছে।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিএসআইএস)–এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে প্রথমবারের মতো বামপন্থি সন্ত্রাসবাদের ঘটনা ডানপন্থি সন্ত্রাসবাদের চেয়ে বেশি ছিল। তবে একই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উভয় ধরনের হামলার সংখ্যাই সামগ্রিকভাবে তুলনামূলক কম ছিল। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের ২০২৪ সালের একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণায় বলা হয়েছিল, মতাদর্শগত কারণে সংঘটিত প্রাণহানির বেশির ভাগ ঘটনার জন্য অতি-ডানপন্থি উগ্রবাদীরা দায়ী। তবে পরে বিচার বিভাগ কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই সেই গবেষণাটি তাদের ওয়েবসাইট থেকে সরিয়ে দেয়।

সোনমকেই শিক্ষামন্ত্রী বানানো উচিত, কেজরিওয়ালের মত

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
সোনমকেই শিক্ষামন্ত্রী বানানো উচিত, কেজরিওয়ালের মত

দিল্লীর সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও আম আদমি পার্টির আহ্বায়ক অরবিন্দ কেজরিওয়াল মনে করেন, সোনম ওয়াংচুককেই ভারতের শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ করা উচিত। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২৮ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে আমরণ অনশন করছেন লাদাখের বিখ্যাত প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, শিক্ষা সংস্কারক এবং পরিবেশবাদী সোনম ওয়াংচুক।

বৃহস্পতিবার যন্তর মন্তরে ওয়াংচুকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কেজরিওয়াল বলেন, ‘ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ করে সোনম ওয়াংচুককে দেশের শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করা উচিত।’

কেজরিওয়াল বলেন, বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থী ও তরুণদের উদ্বেগের সমাধান সরকারকে অবশ্যই করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় এবং যুবসমাজকে এর খেসারত দিতে হয়। আমি সরকারের কাছে আবেদন জানাচ্ছি যেন তারা শিক্ষার্থী ও ওয়াংচুকের কথা শোনে।’

আন্না হাজারের সঙ্গে যন্তর মন্তরে ২০১১ সালের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করে কেজরিওয়াল বলেন, ‘আজ এখানে আসার সময় আমার ২০১১ সালের ৪ এপ্রিলের কথা মনে পড়ে গেল। তিন বছর পর, সেই সরকার ক্ষমতা হারিয়েছিল কারণ তারা জনগণের কথা শুনতে ব্যর্থ হয়েছিল।’

আমরণ অনশনের ২০ দিনে ওয়াংচুক ৯ কেজিরও বেশি ওজন হারিয়েছেন। তার ব্লাড প্রেসার ও ব্লাড সুগার নেমে যাচ্ছে। বেড়ে গেছে ইউরিক এসিড।

এদিকে সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশন ওয়াংচুককে তার অনশন শেষ করার আবেদন জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার নেয়া এসোসিয়েশনের একটি প্রস্তাবে বলা হয়, সোনমের এই পদক্ষেপ জাতির বিবেককে জাগিয়ে তুলেছে।

এসোসিয়েশনের সভাপতি বিকাশ সিং বৃহস্পতিবার যন্তর মন্তর পরিদর্শন করেন এবং সোনমের কাছে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ভারতের একটি ভেঙ্গে পড়া ব্যবস্থার জন্য আপনার মারা যাওয়ার প্রয়োজন নেই। আমরা চাই আপনি বেঁচে থাকুন, কাজ করুন এবং সামনে থেকে আমাদের নেতৃত্ব দিন।’

নিট পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই আন্দোলন করে আসছে। তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে গত ২৮ জুন থেকে আমরণ অনশন শুরু করেন ওয়াংচুক। আন্দোলনেন অংশ হিসেবে আগামী ২০ জুলাই সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিনে ককরোচ পার্টি ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। সোনম ওয়াংচুক এক ভিডিও বার্তায় সবাইকে ২০ জুলাইয়ের কর্মসূচিতে শরিক হওয়ার ডাক দিয়েছেন।

ট্রাম্পের ভাষণে বাজি, হোয়াইট হাউসকর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
ট্রাম্পের ভাষণে বাজি, হোয়াইট হাউসকর্মীর বিরুদ্ধে ১ লাখ ডলার আয়ের অভিযোগ
ছবি : রয়টার্স

হোয়াইট হাউসের এক টেলিপ্রম্পটার পরিচালকের বিরুদ্ধে ভেতরের তথ্য ব্যবহার করে বাজি ধরার অভিযোগে তদন্ত চলছে। অভিযোগ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণে কোন শব্দ বা বাক্য ব্যবহার করা হবে, সেই তথ্য কাজে লাগিয়ে তিনি প্রায় ১ লাখ ডলার আয়ের চেষ্টা করেছিলেন।

অভিযুক্ত কর্মীর নাম গ্যাব্রিয়েল পেরেজ। তিনি ২০১৬ সাল থেকে হোয়াইট হাউসে টেলিপ্রম্পটার অপারেটর হিসেবে কাজ করছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ট্রাম্পের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনসভা ও সরকারি ভাষণে তিনি কোন শব্দ ব্যবহার করবেন, তা নিয়ে বাজি ধরতেন। এসবের মধ্যে প্রেসিডেন্টের বার্ষিক স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণও ছিল। এসব বাজি ধরা হয়েছিল ‘কালশি’  নামের একটি পূর্বাভাসভিত্তিক বাজার প্ল্যাটফর্মে। এই প্ল্যাটফর্মে বাস্তব বিশ্বের বিভিন্ন ঘটনা কীভাবে ঘটবে, তা নিয়ে অর্থের বিনিময়ে পূর্বাভাস দেওয়া যায়। কালশি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি শনাক্ত করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের (সিএফটিসি) কাছে তথ্য ও প্রমাণ পাঠিয়েছে। এই সংস্থাই প্ল্যাটফর্মটির কার্যক্রম তদারকি করে। প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, অর্থ তোলার আগেই পেরেজের অ্যাকাউন্ট স্থগিত করা হয়।

কালশির তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে তাদের বিশ্লেষকেরা প্রেসিডেন্টের ভাষণে নির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহারের ওপর করা বাজিতে অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ্য করেন। এই ধরনের বাজারে অংশগ্রহণকারীরা অনুমান করেন, কোনো বক্তা তার ভাষণে নির্দিষ্ট কোনো দেশ, অর্থনীতি সংক্রান্ত শব্দ বা নির্বাচনী স্লোগান ব্যবহার করবেন কি না। কালশি বলেছে, প্রেসিডেন্ট বা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের প্রধানের বক্তব্য অনেক সময় বৈদেশিক মুদ্রাবাজার, তেলের বাজার এবং শেয়ারবাজারে বড় প্রভাব ফেলে। তাই এসব ভাষণকে ঘিরে তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি থাকে। 

তদন্তে অ্যাকাউন্টের তথ্য বিশ্লেষণ করে কালশি জানতে পারে, ওই ব্যবহারকারী একজন ফেডারেল কর্মী এবং তিনি হোয়াইট হাউসে টেলিপ্রম্পটার পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, অর্থ তোলার আগেই তারা ৯০ হাজার ডলারের বেশি আটকে দেয়। কালশির প্রয়োগবিষয়ক প্রধান রবার্ট ডেনল্ট বলেন, সন্দেহজনক লেনদেন শনাক্ত করার পর প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে জানায় এবং প্রয়োজনীয় প্রমাণও জমা দেয়। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টি সম্পর্কে জানতেন। তিনি জানান, অভিযোগ ওঠার পর গ্যাব্রিয়েল পেরেজকে প্রথমে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠানো হয়। পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তিনি আর হোয়াইট হাউসে কাজ করবেন না।

ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ করে এবিসি নিউজ। পরে বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগী সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজও খবরটি নিশ্চিত করে। সংবাদমাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গ্যাব্রিয়েল পেরেজ বর্তমানে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশনের তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতা করছেন। এদিকে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের ফেডারেল কৌঁসুলিরা এ ঘটনায় আপাতত কোনো ফৌজদারি মামলা দায়ের না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে বিবিসি তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে কমোডিটি ফিউচার্স ট্রেডিং কমিশন জানায়, কোনো তদন্ত চলছে কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিতও করতে পারে না, আবার অস্বীকারও করতে পারে না।

বাল্টিমোর সিটির রাস্তা থেকে নামিয়ে নেওয়া হলো জিয়ার নামফলক | কালের কণ্ঠ