• ই-পেপার

লকডাউনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দিলেন স্পেনের শীর্ষ আদালত

গতি মনিটরিঙে ডিভাইস, গতিতেই গেল প্রাণ

অনলাইন ডেস্ক
গতি মনিটরিঙে ডিভাইস, গতিতেই গেল প্রাণ
সংগৃহীত ছবি

রাস্তায় গাড়ির গতি মনিটরিং করতে ডিভাইস লাগাচ্ছিলেন হেড কনস্টেবল অমিত। তখনই দ্রুতগতির একটি গাড়ি ধাক্কা দেয় তাকে। সহকমীরা দ্রুত তাকে হাসপাতালে নিলেও বাঁচাতে পারেননি। 

ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যায় উত্তর দিল্লির সিঙ্ঘু সীমান্তে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে অমিত ট্রাফিক বুথের কাছে দায়িত্বরত অবস্থায় গাড়ির গতি পরিমাপের জন্য একটি ডিভাইস বসাচ্ছিলেন। তখনই দ্রুতগতির গাড়িটি তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। হরিয়ানার সোনিপতের বাসিন্দা অমিতকে তার সহকর্মীরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। দিল্লি পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ’গভীর দুঃখের সাথে জানাচ্ছি যে, সিঙ্ঘু সীমান্তে ট্রাফিক ইউনিটে কর্মরত হেড কনস্টেবল অমিত একটি হিট অ্যান্ড রান দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। তিনি স্ত্রী ও দুই সন্তান রেখে গেছেন।’

দুর্ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া গাড়ি ও চালককে ধরতে একাধিক দল গঠন করে মাঠে নামে দিল্লি পুলিশ। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ির চালক কুলদীপ ও তার সাথে থাকা নীরজকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং গাড়িটি জব্দ করা হয়। তদন্তকারীরা ঘটনার বিবরণ এবং ঘটনার আগে ও পরে গাড়ির গতিবিধি ট্র্যাক করার জন্য এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা এবং প্রযুক্তিগত ও ফরেনসিক প্রমাণ সংগ্রহ করেছেন। এ ঘটনায় দিল্লি পুলিশ আলিপুর থানায় বিপজ্জনক ও বেপরোয়া গাড়ি চালানোর অভিযোগে একটি মামলা করেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ডের জন্য ১ লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড বা স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতির জন্য আবেদন করতে আগাম এক লাখ ডলার ফি নেওয়ার পরিকল্পনা বিবেচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসনে নিরুৎসাহিত করতেই এই পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবটি কার্যকর হলে আবেদনকারীদের নাগরিকত্ব পাওয়ার আগ পর্যন্ত এই অর্থ বন্ড হিসেবে জমা রাখতে হবে। সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে, কম আয়ের বিদেশিদের অভিবাসন সীমিত করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগাম এক লাখ ডলার নেওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে বলা হয়েছে, স্থায়ী অভিবাসী ভিসার জন্য আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে উচ্চমূল্যের একটি বন্ড আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। কয়েকজন কর্মকর্তা এর পরিমাণ এক লাখ ডলার হতে পারে বলে প্রস্তাব দিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর পরীক্ষামূলকভাবে এই নীতি চালুর বিষয়টি বিবেচনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে আবেদনকারীকে বন্ডের অর্থ আগাম জমা দিতে হবে। তবে ব্যক্তিভেদে বন্ডের পরিমাণ ভিন্ন হতে পারে। পরে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেলে সেই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ায় সময় লাগতে পারে কয়েক বছর।

সূত্রগুলোর মতে, এই বন্ড জামানত হিসেবে কাজ করবে। যদি কোনো গ্রিন কার্ডধারী যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে নিজের আর্থিক ব্যয় বহন করতে সক্ষম না হন, সে ক্ষেত্রে এটি কাজে লাগানো হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ অঙ্কের এই বন্ড মূলত কম আয়ের দেশগুলোর গ্রিন কার্ড আবেদনকারীদের নিরুৎসাহিত করার জন্যই পরিকল্পনা করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বেশি আয়ের আশায় যেতে চাওয়া অনেক বিদেশির পক্ষেই এই অর্থ জোগাড় করা সম্ভব নাও হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সীমিত করার বিষয়ে হোয়াইট হাউস ধারাবাহিকভাবে যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, তার অংশ হিসেবেই এই বন্ড প্রস্তাব এসেছে।

এর আগে গত জানুয়ারিতে ট্রাম্প প্রশাসন ৭৫টি নির্ধারিত দেশের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করে। জাতীয়তার ভিত্তিতে ভিসা স্থগিত করার এই নীতি আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। এ ছাড়া গত জুনে বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসা আবেদনের ক্ষেত্রে নিয়োগদাতাদের ওপর এক লাখ ডলার ফি আরোপের যে উদ্যোগ ট্রাম্প নিয়েছিলেন, সেটিও আদালতে আটকে যায়।

মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবিতে ৫০০ জনের বেশি নিহতের শঙ্কা

অনলাইন ডেস্ক
মিয়ানমার উপকূলে ২ নৌকাডুবিতে ৫০০ জনের বেশি নিহতের শঙ্কা
ছবি : রয়টার্স

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যদের বহনকারী দুটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৫০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, নৌকা দুটি জুনের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করেছিল। যাত্রীদের বেশিরভাগই ছিলেন রোহিঙ্গা। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাংলাদেশের কক্সবাজারের শরণার্থী শিবির থেকেও যাত্রা করেছিলেন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম নৌকাটিতে প্রায় ২৫০ জন যাত্রী ছিলেন। যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর থেকে এর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ছাড়া ৮ জুলাই মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াদি উপকূলের কাছে ২৮০ জন আরোহী নিয়ে দ্বিতীয় একটি নৌকা ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও হতাহতের সঠিক সংখ্যা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি, আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বলেছে, এই সম্ভাব্য বিপর্যয়ে তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উন্নত জীবনের আশায় হাজার হাজার রোহিঙ্গা মিয়ানমার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির ছেড়ে সমুদ্রপথে অন্য দেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে বর্ষাকালে উত্তাল সমুদ্রের কারণে এ ধরনের যাত্রা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ভারি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে সমুদ্রযাত্রা আরো বিপজ্জনক হয়ে পড়েছিল।

বর্তমানে প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানের পর তারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। এখনো রাখাইন রাজ্যে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকায় অনেক রোহিঙ্গা মালয়েশিয়াসহ অন্য দেশে পৌঁছানোর আশায় ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথ বেছে নিচ্ছেন।

আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বলেছে, সর্বশেষ এই নৌকাডুবির ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে যে রোহিঙ্গা সংকটের এখনো কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সুযোগ না থাকা এবং শরণার্থী শিবিরে কঠিন জীবনযাপনের কারণে অনেক রোহিঙ্গা জীবন ঝুঁকিতে ফেলে সমুদ্রপথে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

সংস্থা দুটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য আরো সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সংকটের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তারা আরো বলেছে, বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী এই সমুদ্রপথে প্রাণহানি কমাতে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদার, নিরাপদ আশ্রয় ও সুরক্ষার ব্যবস্থা এবং মানবপাচার ও চোরাচালানকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ৬,৫০০-এর বেশি রোহিঙ্গা সমুদ্রপথে পালানোর চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন মারা গেছেন বা নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে রোহিঙ্গাদের সমুদ্রযাত্রার ইতিহাসে ২০২৫ সাল সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

হরমুজ রুটের জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা ভারতের

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ রুটের জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগে নিষেধাজ্ঞা ভারতের
ছবি: রয়টার্স

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ না দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারত সরকার। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জাহাজের মালিক, পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এবং নাবিক সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোকে এই নির্দেশ মেনে চলতে বলা হয়েছে।

ভারতের নৌপরিবহন মহাপরিদপ্তর (ডিজি শিপিং) বুধবার গভীর রাতে এক নির্দেশ জারি করে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করবে—এমন কোনো জাহাজে নতুন করে ভারতীয় নাবিক নিয়োগ করা যাবে না। সরকারের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ওই অঞ্চলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সাম্প্রতিক জাহাজ হামলার পর। গত তিন দিনে মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় জাহাজে হামলার ঘটনায় দুই ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। নৌপরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ এলাকায় চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও সেখানে কর্মরত নাবিকদের ঝুঁকি সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ডিজি শিপিংয়ের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় সেখানে চলাচলকারী জাহাজে কর্মরত ভারতীয় নাবিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরো কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। নির্দেশে জাহাজের মালিক ও পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি জাহাজের অধিনায়কদেরও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বলা হয়েছে, পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালি এবং আশপাশের সমুদ্র এলাকার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এছাড়া আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল সংস্থার জারি করা সতর্কবার্তা ও নিরাপত্তা নির্দেশনাগুলোও নিয়মিত অনুসরণ করতে বলা হয়েছে। ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় নাবিক সরবরাহকারী দেশ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নাবিক সরবরাহের ক্ষেত্রে বিশ্বে ভারতের অবস্থান তৃতীয়। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজে ৩ লাখের বেশি ভারতীয় নাবিক কাজ করছেন।

এদিকে, মঙ্গলবার জাহাজে হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ইরানের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে ভারত। এ ঘটনায় দিল্লিতে ইরানের উপ-রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি ও বাণিজ্যিক নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বেড়েছে।


 

লকডাউনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা দিলেন স্পেনের শীর্ষ আদালত | কালের কণ্ঠ