• ই-পেপার

প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য ১৭ এপ্রিল

সংবিধান বদলের শর্তে আর্মেনিয়ার সঙ্গে শান্তি চায় আজারবাইজান

অনলাইন ডেস্ক
সংবিধান বদলের শর্তে আর্মেনিয়ার সঙ্গে শান্তি চায় আজারবাইজান
ছবি: রয়টার্স

দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতের পর আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে এখন 'সত্যিকারের শান্তি' বিরাজ করছে বলে দাবি করেছে আজারবাইজান। দুই দেশের মধ্যে ধীরে ধীরে বাণিজ্য ও যোগাযোগও আবার শুরু হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তিতে সই করার আগে আর্মেনিয়াকে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে বলে আবারও জানিয়েছে আজারবাইজান।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন আজারবাইজানের প্রেসিডেন্টের সহকারী এবং পররাষ্ট্রনীতি বিভাগের প্রধান হিকমেত হাজিয়েভ। দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলের প্রতিবেশী এই দুই দেশের মধ্যে ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিক থেকে একাধিকবার যুদ্ধ হয়েছে। এসব সংঘাতের মূল কারণ ছিল পাহাড়ি নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে বিরোধ। গত বছরের আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় দুই দেশ একটি প্রাথমিক শান্তি সমঝোতায় পৌঁছায়। এরপর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিক শান্তি চুক্তি সই হয়নি। এর প্রধান কারণ হিসেবে আর্মেনিয়ার সংবিধানের একটি বিষয়কে উল্লেখ করছে আজারবাইজান। বাকুর দাবি, আর্মেনিয়ার সংবিধানের ভূমিকায় সোভিয়েত আমলের একটি নথির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে আর্মেনিয়া ও নাগোরনো-কারাবাখকে এক করার আহ্বান জানানো হয়েছিল। আজারবাইজানের মতে, এটি তাদের ভূখণ্ডের ওপর পরোক্ষ দাবি। প্রায় ৩০ বছর নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলটি কার্যত জাতিগত আর্মেনীয়দের নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ২০২৩ সালে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে অঞ্চলটির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় আজারবাইজান। ওই অভিযানের পর সেখানে বসবাসকারী প্রায় এক লাখ মানুষ আর্মেনিয়ায় চলে যান।

 

বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠিত হলে দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে বাণিজ্য ও পরিবহন ব্যবস্থা নতুন করে চালু হবে। এতে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে যোগাযোগ আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে রাশিয়া, তুরস্ক ও ইরানের আঞ্চলিক প্রভাবেও পরিবর্তন আসতে পারে। সম্প্রতি শুশা শহরে একটি আন্তর্জাতিক ফোরামের ফাঁকে রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে হিকমেত হাজিয়েভ বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। তার ভাষায়, 'আমরা এখন সত্যিকারের শান্তির পরিবেশে বাস করছি। আজারবাইজান ও আর্মেনিয়ার মধ্যে শান্তি এখন শুধু কোনো কাগজে লেখা প্রতিশ্রুতি নয়, এটি বাস্তব।' তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ছে এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যও ধীরে ধীরে বাড়ছে। এমনকি আর্মেনিয়ায় আজারবাইজানের তেলজাত পণ্যের সরবরাহও বেড়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আর্মেনিয়ার সংবিধান পরিবর্তনের বিষয়ে আজারবাইজানের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। হাজিয়েভ বলেন, সংবিধান কীভাবে পরিবর্তন করবে, সেটি সম্পূর্ণ আর্মেনিয়ার অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে আজারবাইজান চায়, তাদের দেশের বিরুদ্ধে ভূখণ্ডগত দাবি হিসেবে দেখা যায়—এমন সব ধারা আনুষ্ঠানিকভাবে সংবিধান থেকে বাদ দেওয়া হোক। তিনি বলেন, নতুন সংবিধান গ্রহণের মাধ্যমে হোক বা অন্য কোনো আইনি উপায়ে—এই বিষয়টির সমাধান হলেই চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি সইয়ের আর কোনো বাধা থাকবে না বলে তারা মনে করেন।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, তিনি সংবিধান পরিবর্তনের জন্য গণভোট করতে চান। তিনি বলেছেন, নতুন সংবিধানের খসড়া চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রকাশ করা হবে। তবে এই গণভোট আয়োজন করতে সংসদে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা তার দল সিভিল কনট্রাক্টের নেই। এছাড়া বিরোধী দলগুলো এ উদ্যোগে সমর্থন দেবে কি না, সেটিও এখনো নিশ্চিত নয়। হাজিয়েভ বলেন, শুধু সংবিধানের খসড়া প্রকাশ করলেই হবে না। বাস্তবে সংবিধান পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শেষ হওয়াই শান্তি চুক্তির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

হিকমেত হাজিয়েভ জানান, পরিকল্পিত একটি আন্তর্জাতিক পরিবহন করিডর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে তারা ইতিবাচক বার্তা পেয়েছেন। তার আশা, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন থাকা এই প্রকল্পের নির্মাণকাজ আগামী শরৎকালেই শুরু হতে পারে। 'আন্তর্জাতিক শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প রুট' নামে পরিচিত এই প্রকল্পের সংক্ষিপ্ত নাম ট্রিপ। প্রস্তাবিত ৪৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই করিডরটি আর্মেনিয়ার ভেতর দিয়ে যাবে। এর মাধ্যমে আজারবাইজান সরাসরি তার বিচ্ছিন্ন অঞ্চল নাখচিভান এবং মিত্র দেশ তুরস্কের সঙ্গে স্থলপথে যুক্ত হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন বাণিজ্য ও জ্বালানি রুট গড়ে তুলতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র। এই করিডর চালু হলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহন আরো সহজ ও দ্রুত হবে। হাজিয়েভ বলেন, আজারবাইজান চায় যত দ্রুত সম্ভব এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক। তিনি আরো জানান, আজারবাইজানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জাঙ্গিলান পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ প্রায় শেষ হয়ে যাবে। এরপর সেটিকে আর্মেনিয়া ও তুরস্কের পরিকল্পিত সড়ক ও রেলপথের সঙ্গে যুক্ত করা হবে।

ফেডের গুরুত্বপূর্ণ পদে ২ ভারতীয়কে নিয়োগ দিল যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ফেডের গুরুত্বপূর্ণ পদে ২ ভারতীয়কে নিয়োগ দিল যুক্তরাষ্ট্র
রঘুরাম রাজন। ছবি : রয়টার্স

দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার পর আর্থিক নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়াকে অরো কার্যকর করতে বড় ধরনের সংস্কার উদ্যোগ শুরু করেছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড)। এর অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি বিভিন্ন নীতি ও কার্যক্রম পর্যালোচনার জন্য পাঁচটি বিশেষ টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে।

এসব টাস্ক ফোর্সে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিআই) সাবেক গভর্নর রঘুরাম রাজন, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ রাজ চেটি এবং মাইক্রোসফটের শীর্ষ কর্মকর্তা আশা শর্মাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের সাবেক গভর্নর মার্ভিন কিং, ওয়ালমার্টের সাবেক সিইও ডগ ম্যাকমিলন, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ টমাস সার্জেন্ট এবং সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগকারী মার্ক অ্যান্ড্রেসেনও এসব দলে রয়েছেন।

ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) হলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা। ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাধীন প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কাজ হলো দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, সুদের হার নির্ধারণ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা।

নবনিযুক্ত ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ বৃহস্পতিবার বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রের শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের একত্র করে ফেডের কার্যক্রম আরো শক্তিশালী করাই তাদের লক্ষ্য। তিনি জানান, এই উদ্যোগের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করা হবে।

ওয়ার্শ বলেন, গত পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে মুদ্রাস্ফীতি ফেডের লক্ষ্যমাত্রার ওপরে থাকায় নতুন চিন্তাভাবনা ও সংস্কারের প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। সে কারণেই এই টাস্ক ফোর্সগুলো গঠন করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, ১৫ জন অভিজ্ঞ ও বিভিন্ন মতাদর্শের বিশেষজ্ঞকে এই উদ্যোগে যুক্ত করা হয়েছে, যাতে নতুন ধারণা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

ফেডের কাজের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র, যোগাযোগ কৌশল, ব্যালেন্স শিট নীতি, অর্থনৈতিক তথ্যের ব্যবহার, উৎপাদনশীলতা ও কর্মসংস্থান এবং মুদ্রাস্ফীতির কাঠামো, এই টাস্ক ফোর্সগুলো পর্যালোচনা করবে। রঘুরাম রাজন হার্ভার্ডের অর্থনীতিবিদ ক্যারেন ডাইনান এবং ফেডের সাবেক গভর্নর জেরেমি স্টাইনের সঙ্গে ব্যালেন্স শিট পলিসি টাস্ক ফোর্সে কাজ করবেন। এই দল ফেডের বর্তমান ব্যালেন্স শিট ব্যবস্থার ব্যয়, সুবিধা ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব মূল্যায়ন করবে। পাশাপাশি সম্পদ ধারণ এবং মুদ্রানীতি বাস্তবায়নে এসব সম্পদের ভূমিকা পর্যালোচনা করবে।

রাজন ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আরবিআইয়ের গভর্নর ছিলেন। এর আগে তিনি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রধান অর্থনীতিবিদ ও গবেষণা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর্থিক স্থিতিশীলতা ও মুদ্রানীতি নিয়ে তার কাজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। অন্যদিকে রাজ চেটি ডেটা টাস্ক ফোর্সের নেতৃত্ব দেবেন। এই দলের কাজ হবে অর্থনৈতিক তথ্যের মান ও দ্রুত প্রাপ্যতা উন্নত করা, যাতে ফেড আরো কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত নিতে পারে। 

অর্থনৈতিক সুযোগ, বৈষম্য ও শ্রমবাজার নিয়ে গবেষণার জন্য চেটি সুপরিচিত। মাইক্রোসফটের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও এক্সবক্স প্রধান আশা শর্মা প্রোডাক্টিভিটি অ্যান্ড জবস টাস্ক ফোর্সে কাজ করবেন। এই দল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ (এআই) নতুন প্রযুক্তির উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব মূল্যায়ন করবে। ফেড বর্তমানে তার মুদ্রানীতি কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করছে। 

কোভিড-১৯ মহামারির সময় কেন্দ্রীয় ব্যাংকটি তার ব্যালেন্স শিট প্রায় ৯ ট্রিলিয়ন ডলারে সম্প্রসারণ করেছিল। এখন মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি সেই ব্যালেন্স শিট ধীরে ধীরে কমানোর প্রক্রিয়াও চলছে। এই প্রেক্ষাপটে গঠিত নতুন টাস্ক ফোর্সগুলো ভবিষ্যতের নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।


 

মার্কিন হামলায় শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত, দাবি ইরানি চিকিৎসকের

অনলাইন ডেস্ক
মার্কিন হামলায় শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত, দাবি ইরানি চিকিৎসকের
ছবি : ভিডিও থেকে নেওয়া।

ইরানের এক চিকিৎসক দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় দেশটির একটি শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

মার্কিন হামলার পর ইরানের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সামনে আসছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছেন। বাসিন্দাদের দাবি, হামলায় একটি বন্দরসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইরানি ওই চিকিৎসক ও দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর আহভাজে শহীদ বাঘাই হাসপাতালের কাছাকাছি এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হয়। হাসপাতালটিতে শিশু ও অন্যান্য ক্যান্সার রোগীদের কেমোথেরাপি চিকিৎসা দেওয়া হয়। হামলার পর নিরাপত্তার কারণে রোগীদের সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।

মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই পদক্ষেপ নেয়। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না বা হাসপাতালটির কতটা ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি।
 

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৯

অনলাইন ডেস্ক
পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত ৯
ফাইল ছবি

পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি বিক্ষোভকারী সংগঠনের সমর্থকদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

এ মাসের শেষ দিকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আঞ্চলিক নির্বাচনকে সামনে রেখে বুধবার (১৫ জুলাই) বড় একটি মিছিল করার পরিকল্পনা করেছিল সংগঠনটি। তবে তার আগেই বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। এই সংঘর্ষের পেছনে মূল বিরোধ আঞ্চলিক আইনসভার ১২টি সংরক্ষিত আসন নিয়ে। এসব আসন পাকিস্তানের অন্য অঞ্চলে বসবাসকারী শরণার্থীদের জন্য নির্ধারিত। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, এই ব্যবস্থা স্থানীয় মানুষের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব কমিয়ে দিচ্ছে। তাদের দাবি, সংরক্ষিত আসনের কারণে নির্বাচনে স্থানীয় জনগণের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না। 

পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার ওয়াহিদ খান বলেন, পুঞ্চ এলাকায় বিক্ষোভকারীরা একটি নিরাপত্তা বহরের পথ আটকে দেন। এ সময় তারা দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তাদের ওপরও হামলা চালান। তার দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং আত্মরক্ষার জন্য পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা পাল্টা ব্যবস্থা নেন। ওয়াহিদ খান জানান, তারারখাল এলাকায় সংঘর্ষে ছয়জন বিক্ষোভকারী এবং একজন পুলিশ সদস্য নিহত হন। অন্যদিকে রাওয়ালাকোটে আরেকটি সংঘর্ষে একজন বিক্ষোভকারী ও একজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য প্রাণ হারান। নিহতদের মধ্যে মোট সাতজন বিক্ষোভকারী এবং দুজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন।

যৌথ কর্মপরিষদ বা জয়েন্ট অ্যাকশন কমিটি (জেএএসি) নামে পরিচিত সংগঠনটিকে গত জুন মাসে পাকিস্তানের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটি বুধবার রাওয়ালাকোটের দিকে মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। পুঞ্চ বিভাগের কমিশনার বলেন, রাওয়ালাকোট শহরে যাতে মিছিলকারীরা প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য নিরাপত্তা বাহিনী প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় সূত্রের হিসাব অনুযায়ী, জুন মাসে অস্থিরতা শুরু হওয়ার পর থেকে পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরে সহিংস ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ জন নিহত হয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে চলমান এই উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।


 

প্রিন্স ফিলিপের শেষকৃত্য ১৭ এপ্রিল | কালের কণ্ঠ