• ই-পেপার

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলা, বিচার দেখতে পেল না ১৩ ভুক্তভোগী

ইরান সংঘাতে মার্কিন সৈন্যের মৃত্যু বেড়ে ১৪, আহত চার শতাধিক

অনলাইন ডেস্ক
ইরান সংঘাতে মার্কিন সৈন্যের মৃত্যু বেড়ে ১৪, আহত চার শতাধিক
ছবি : রয়টার্স

ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান সামরিক সংঘাতে মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়েছে। চলতি জুলাই মাসের শুরুতে আরব সাগরে এক হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নৌবাহিনীর এক পাইলটের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই সংঘাতে মার্কিন মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। এ ছাড়া সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়ে গেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই আরব সাগরে একটি হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার শিকার হয়। নৌবাহিনী প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি জরুরি অবতরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে। পেন্টাগন জানিয়েছে, এই দুর্ঘটনার পেছনে শত্রুপক্ষের কোনো হামলা বা কার্যকলাপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পরপরই হেলিকপ্টারে থাকা অপর তিন ক্রু সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও নৌবাহিনীর ওই পাইলট প্রাণ হারান। এ ছাড়া চলতি বছরের মার্চে যুদ্ধের শুরুতে পৃথক কয়েকটি হামলায় ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছিলেন।  এর আগে তিনটি পৃথক ঘটনায় ১৩ মার্কিন সেনার মৃত্যু হয়েছিল।

কুয়েতের একটি মার্কিন কমান্ড সেন্টারে ইরানের ড্রোন হামলায় ছয়জন সৈন্য নিহত হন। ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন সামরিক অভিযানে সহায়তাকারী একটি কেসি-১৩৫ ফুয়েল ট্যাংকার (জ্বালানি সরবরাহকারী) ইরাকে বিধ্বস্ত হয়ে আরো ছয় সেনা সদস্য নিহত হন। সোমবার (১৩ জুলাই) পর্যন্ত এই সংঘাতের কারণে মোট আহত মার্কিন সেনার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৪ জনে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স জানিয়েছেন, আহতদের একটি বড় অংশই মাথায় বা মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন।

ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ও শক্তিশালী বিস্ফোরণের কারণে সৈন্যরা এই দীর্ঘমেয়াদী ব্রেইন ইনজুরির শিকার হচ্ছেন, যা মার্কিন বাহিনীর ভেতর একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেন্ট্রাল কমান্ডের অপর মুখপাত্র মেজর এমা থম্পসন জানিয়েছেন, আহত সৈন্যদের প্রায় সকলেই চিকিৎসা শেষে পুনরায় কাজে ফিরেছেন।

হরমুজে আমিরাতের ট্যাংকারে ইরানের হামলা, ভারতীয় নাবিক নিহত

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজে আমিরাতের ট্যাংকারে ইরানের হামলা, ভারতীয় নাবিক নিহত
ছবি : রয়টার্স

হরমুজ প্রণালীতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুইটি তেল ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। এ হামলায় আরো আটজন আহত হয়েছেন। ওমান জলসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়া জাহাজগুলোর  নাম ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’। সোমবার (১৩ জুলাই) আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে

আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জাহাজ দুইটি ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় হামলার শিকার হয়। নিহত ভারতীয় নাগরিক ‘মোম্বাসা’ জাহাজের ক্রু ছিলেন। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় এবং দুইজন ইউক্রেনীয় নাগরিক রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হামলার পর দুটি ট্যাংকারেই আগুন ধরে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে নাবিকদের দ্রুত তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো গেছে।

এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত এটিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। একই সঙ্গে নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ গ্রহণ এবং হামলার পাল্টা জবাব দেওয়ার অধিকার দেশটির রয়েছে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাত যেকোনো হুমকি মোকাবেলা করতে এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ক্ষুণ্ণকারী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।’

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, ওমানের কালহাত থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পূর্বে অপর একটি অজ্ঞাত ট্যাংকারে আঘাত হেনেছে কোনো দূরপাল্লার বস্তু। এই হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন রুম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ক্রুরা নিরাপদ রয়েছেন। তবে এই ঘটনাটি আমিরাতের ওপর হওয়া হামলারই অংশ কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সামরিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করার পরই এই হামলাগুলো চালানো হলো। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জাহাজ চলাচলের ওপর অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেয় এবং মার্কিন বাহিনী টানা তিন রাত ধরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়। পাল্টা জবাবে ইরান  জানিয়ে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা তেহরান মেনে নেবে না।

যুদ্ধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম
ছবি : শাটারস্টক

ইরান যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম। সোমবার বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের প্রভাব শুধু এই দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। কারণ এই যুদ্ধের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ওঠানামা করে জ্বালানি তেলের দাম। তাই গোটা বিশ্বেই এর প্রভাব পড়ে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপরই অনেকটা নির্ভর করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম। বিশ্বের জ্বালানি তেলের চাহিদার পাঁচ ভাগের এক ভাগ পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে।

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি বাতিল করে নতুন করে আক্রমণ শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তারপরই আবার নড়াচড়া শুরু হয়েছে তেলের বাজারে। সবশেষ ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণার পর তেলের দাম বড় লাফ দিয়েছে। আজ হঠাৎ করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম একলাফে ৪ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের প্রধান বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৪ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৯ দশমিক ১১ ডলার। আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআই ক্রুডের দাম ৪ দশমিক ১১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৪ দশমিক ৩৭ ডলারে পৌঁছেছে।

যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়ে গত মার্চে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ ডলার পর্যন্ত উঠেছিল। তবে যুদ্ধবিরতির পর দ্রুতই তা ৭০ ডলারে নেমে আসে। 

যুদ্ধের তীব্রতা আরো বাড়লে বা হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকলে তেলের দাম আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

হরমুজ দখলে নিয়ে ২০ শতাংশ শুল্ক চালুর ঘোষণা ট্রাম্পের

অনলাইন ডেস্ক
হরমুজ দখলে নিয়ে ২০ শতাংশ শুল্ক চালুর ঘোষণা ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় নতুন করে আবার মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ ঘোষনা করে ইরান। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে তেহরানের জাহাজের ওপর পুনরায় অবরোধ ঘোষনা দিয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল ট্রাম্প। একই সঙ্গে নৌ রুট দিয়ে চলাচলকারী অন্যান্য সব জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ নিরাপত্তা ফি আদায়ের ঘোষণাও দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (১৩ জুলাই) দেওয়া এক ঘোষণায় এই নতুন পদক্ষেপের কথা জানান তিনি। খবর ইন্ডিয়ান টুডে

ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিবে এবং প্রণালিটির অভিভাবক হয়ে উঠবে। তারপরই নিজের স্যোশাল প্ল্যাটফর্ম  ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এই ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।

উপসাগরীয় অঞ্চলে গত কয়েকদিনের টানা সামরিক উত্তেজনার পর ট্রাম্পের এই বক্তব্য ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত চরম পর্যায়ে গিয়ে ঠেকলো।

ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প  লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত আছে এবং ইরানের সমর্থন থাকুক বা না থাকুক, এটি উন্মুক্তই থাকবে। আমরা ইরানি অবরোধ পুনর্বহাল করছি, যার নামকরণ এই কারণেই করা হয়েছে। এটি কেবল ইরানি বন্দর অভিমুখে যাওয়া বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা জাহাজগুলোর ওপর কার্যকর হবে।

অন্য সব দেশ এই প্রণালীটি ন্যায্য ও মুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারবে বলে যোগ করেন তিনি।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরো ঘোষণা করেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন থেকে ‘হরমুজ প্রণালীর অভিভাবক’ হবে এবং  এই নৌপথ ব্যবহারকারী দেশগুলোর উচিত এর সুরক্ষার খরচ বহন করা।

ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে হামলা, বিচার দেখতে পেল না ১৩ ভুক্তভোগী | কালের কণ্ঠ