• ই-পেপার

স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে নার্সিংহোমে বাসন ধোয়ার কাজ নিল স্ত্রী

ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রের ভুলে ভরা গল্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
ইরান যুদ্ধ : যুক্তরাষ্ট্রের ভুলে ভরা গল্প

ইরান যুদ্ধ নিয়ে লেজেগোবরে অবস্থা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার পারিষদরা গত কয়েক মাসে এমন অনেক কথা বলেছেন, যা পরে তাদের গিলতে হয়েছে। তারা চূড়ান্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এমন সব ভবিষ্যদ্‌বাণী করেছেন, পরে যার কিছুই মেলেনি। বরং তাদের আত্মবিশ্বাস চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গেছে। নিজেদের কথার সঙ্গে কাজের মিল নেই, এমন উদাহরণও কম নয়। অনেক সময় নিজেদের কথাই তাদের হাস্যকর ব্যক্তিতে পরিণত করেছে। মনে করা হচ্ছে, ট্রাম্প নিজে যে যুদ্ধ শুরু করেছেন, সেখানে আসলে কী ঘটছে সে সম্পর্কে তাঁর নিজেরই কোনো ধারণা বা বোঝাপড়া নেই। মার্কিন বাতা সংস্থা সিএনএন এক বিশ্লেষণে গত সাড়ে চার মাসে মার্কিন হম্বিতম্বির সঙ্গে বাস্তবতার ফারাক তুলে ধরেছে।

গত সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে ঘোষণা করেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র শিগ্‌গিরই হরমুজ প্রণালির অভিভাবক হিসেবে এর নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং এই পথ দিয়ে যাতায়াতকারী দেশগুলোর জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ হারে ফি ধার্য করবে।’ অথচ গত মে মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছিলেন, ‘আমরা সবসময়ই বলে এসেছি যে এই প্রণালিতে কোনো টোল ব্যবস্থা গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এটা শুধু আমরাই বলছি না, পুরো বিশ্বই বলছে। এটি সম্পূর্ণ অবৈধ হবে।’ বৈধতার প্রশ্ন পরে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা বাস্তবসম্মতও নয়। কারণ হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে, যুক্তরাষ্ট্রকে সেখানে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হবে। ধারণাটি যে বাস্তব নয়, তা প্রমাণ করেছেন ট্রাম্প নিজেই। একদিনের মধ্যেই ট্রাম্প নিজের ঘোষণা থেকে সরে আসেন।

শুরুতে ডোনাল্ড ট্রাম্প একটা সংক্ষিপ্ত যুদ্ধের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। তার ধারণা ছিল যুদ্ধ ৪ থেকে ৫ সপ্তাহ স্থায়ী হবে। দুইমাস পর ১ মে তিনি বলেছিলেন, এ যুদ্ধ খুব দীর্ঘ হওয়া উচিত নয়। বাস্তবতা হলো সাড়ে ৪ মাস পরও যুদ্ধ শেষের কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না।

গত মাসে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর যুক্তরাষ্ট্রের নেতারা ইরানের নেতাদের সম্পর্কে ভালো ভালো অনেক কথা বলেছিলেন। যেন হঠাৎ করেই তারা ভালো হয়ে গেছেন। ১৬ জুন ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা এমন লোকদের সঙ্গে আলোচনা করছি যাদেরকে আমার খুব যৌক্তিক মানুষ মনে হয়। তারা আলোচনার জন্য বেশ ভালো এবং উগ্রপন্থি নন।’ ভাইস প্রেসিডেন্ট জ্যাডি ভ্যান্সও প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরানের নেতাদের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন। তবে তাদের এ কথা গিলে নিতে খুব বেশি সময় লাগেনি। গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি এবং সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার পর ট্রাম্প এখন ইরানের নেতাদের ‘পাগল’, ‘দুষ্ট’, ‘অসুস্থ’, ‘নোংরা খেলোয়াড়’, ‘নিকৃষ্ট’ বলে অভিহিত করছেন। এখন মানুষ কোনটাকে সত্য বলে মেনে নেবে। ইরানি নেতারা কি আসলে যৌক্তিক না কি পাগল?

যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা ছিল, তারা হামলা চালানোর সঙ্গে সঙ্গে ইরানের জনগণ মাঠে নেমে এসে শাসনব্যবস্থা বদলে দেবে। যুদ্ধের শুরুর ঘোষণায় ট্রাম্প স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, ‘আমি সেই সমস্ত ইরানি দেশপ্রেমিকদের আহ্বান জানাচ্ছি যারা স্বাধীনতার জন্য আকুল আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করছেন, তারা যেন এই মুহূর্তটিকে আঁকড়ে ধরেন। সাহসী হন, নির্ভীক হন, বীরত্ব দেখান এবং আপনাদের দেশ ফিরিয়ে নিন। আমেরিকা আপনাদের পাশে আছে। আমি আপনাদের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, তা পূরণ করেছি। বাকিটা আপনাদের ওপর নির্ভর করছে, তবে আমরা সেখানে সাহায্য করার জন্য থাকব।’ কিন্তু বাস্তবে তেমন কিছুই ঘটেনি। বরং মার্কিন হামলা ইরানের শাসক ও জনগণকে আরো ঐক্যবদ্ধ করেছে। গত সপ্তাহে মার্কিন হামলার প্রথম দিনেই নিহত ইরানের ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষ যাত্রায় উল্টো আমেরিকার বিরুদ্ধে গণজাগরণ হয়েছে। শুরুতে ট্রাম্প যে গণজাগরণের ডাক দিয়েছিলেন, এখন তিনি নিজেই সেটা ভুলে যেতে চান। এখন ট্রাম্প উল্টো বলছেন, ‘তাদের (ইরানি জনগণ) সম্পূর্ণ সশস্ত্র না করা পর্যন্ত আমি কখনই ভাবিনি যে তারা এই ধরনের অভ্যুত্থান ঘটাতে পারবে, কারণ তাদের তথাকথিত নেতৃত্ব অত্যন্ত সহিংস।’

ইরান যখন হরমুজ প্রণালিকে যুদ্ধের মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার শুরু করলো, তখন শুরুতে মার্কিন প্রশাসন পাত্তাই দেয়নি। তারা এমন ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যে এটি কোনোভাবেই দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না। ১৩ মার্চ মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছিলেন, ‘এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি।’ এর আগে, ৯ মার্চ ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘এই প্রণালিটি আমাদের ওপর তেমন কোনো প্রভাব ফেলে না, কারণ আমাদের প্রচুর তেল রয়েছে।’ ট্রাম্প আরো বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি নিরাপদই থাকবে। কিন্তু তার কোনো ধারণাই সত্য হয়নি। হরমুজ প্রণালিটি নিরাপদ থাকেনি। বাস্তবতা হলো ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে গোটা বিশ্বের জ্বালানি নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলেছে, যার প্রভাব পড়েছে মাকিন অর্থনীতিতেও।

যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন দাবি করেছিল জ্বালানি তেলের দাম দ্রুত কমে আসবে এবং হরমুজ প্রণালির বন্ধ থাকা তাতে কোনো প্রভাব ফেলবে না। গত ৮ মার্চ মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছিলেন, ‘খুব বেশি সময় লাগার আগেই জ্বালানি তেলের দাম আবার প্রতি গ্যালন ৩ ডলারের নিচে নেমে আসবে।’ ঠিক কখন কমবে, এমন প্রশ্নের জবাবে রাইট বলেছিলেন, পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হলেও কয়েক মাসের পরিবর্তে মাত্র কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। বাস্তবে পরিস্থিতি রাইটের বলা সবচেয়ে খারাপ ধারণার চেয়েও মারাত্মক রূপ নিয়েছে। চার মাসেরও বেশি সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও গ্যাসের দাম এখনো ৩ ডলারের নিচে নামেনি। জ্বালানি তেলের জাতীয় গড় মূল্য এখনো ৩.৭০ ডলারের ওপরে। বরং নতুন করে সংঘাত শুরুর পর দাম জ্বালানি তেলের দাম আবার বাড়ছে। এতে বোঝা যায় বিশ্ব অর্থনীতি এবং তেলের দামের ওপর হরমুজ প্রণালির প্রভাব সম্পর্কে মাকিন প্রশাসনের পরিষ্কার কোনো ধারণাই নেই।

ডোনাল্ড ট্রাম্প গত কয়েক মাসে বারবার দাবি করছিলেন, ইরান যুদ্ধবিরতি চুক্তির করার জর‌্য বেপরোয়া, মরিয়া; তারা নাকি চুক্তির জন্য মিনতি করছিলেন। ট্রাম্প বারবারই বলতেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি হাতের নাগালে। কিন্তু গত তিনমাসর ঘটনাপ্রবাহ যারা দেখেছেন, তারা জানেন ট্রাম্পের এই দাবি কতটা অসার। বরং যুক্তরাষ্ট্রকেই চুক্তির জন্য মরিয়া মনে হয়েছে। তারচেয়ে বড় কথা হলো গত মাসে যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করা হয়েছিল, তা ইরানের জন্য অনেক বেশি সুবিধাজনক ও লাভজনক ছিল।

যুদ্ধের শুরুর দিনগুলো থেকেই ট্রাম্প এবং হেগসেথ দাবি করেছিলেন, ইরানের পরাজয় সুনিশ্চিত, তাই তারা কোনো ঝুঁকি ছাড়াই যেখানে খুশি সেখানে উড়ে যেতে পারবেন। ৪ মার্চের এক ব্রিফিংয়ে হেগসেথ দাবি করেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল ইরানের আকাশের সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পেয়ে যাবে। এবং ইরান এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না’। পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে ট্রাম্পও বলেন, ‘ইরান এ বিষয়ে কিছুই করতে পারবে না। কারণ তাদের কোনো বিমান বিধ্বংসী সরঞ্জাম নেই। তাদের রাডার ব্যবস্থা শতভাগ ধ্বংস হয়ে গেছে। সামরিক শক্তি হিসেবে আমরা অপরাজেয়।’ কিন্তু এপ্রিলের শুরুর দিকেই ইরান দুটি মার্কিন বিমান ভূপাতিত করে ট্রাম্প আর হেগসেথের বাগাড়ম্বর চোখে আঙুল দিয়ে বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরান যুদ্ধ আসলে আমেরিকার জন্য এক ভুলে ভরা গল্প।

যেভাবে গুপ্তচরদের ‘স্বর্গরাজ্য’ হয়ে উঠল জাপান

অনলাইন ডেস্ক
যেভাবে গুপ্তচরদের ‘স্বর্গরাজ্য’ হয়ে উঠল জাপান
ছবি : রয়টার্স

বিদেশি গুপ্তচরদের জন্য বরাবরই নিরাপদ জাপান। দেশটিতে বহু ক্ষেত্রে গুপ্তচরবৃত্তিকে এখনো অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। এই সুযোগে জাপান গুপ্তচরদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশটি এখন নিজেদের ইন্টেলিজেন্স ও কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স সক্ষমতা গড়ে তুলতে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর নিত্যনতুন সামরিক প্রযুক্তি সংগ্রহে রুশ গুপ্তচরদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে জাপান। সম্প্রতি একটি সংবাদমাধ্যমে এমন প্রতিবেদন প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে দেশটির সরকার।

আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য দীর্ঘদিন ধরেই জাপানকে একটি ‘সহজ লক্ষ্য’ হিসেবে বিবেচিত হয়ে এসেছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলো থেকে রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বহিষ্কার করা হলে তাদের অনেকেই জাপানে সক্রিয় হতে শুরু করেন।

জাপানি সংবাদমাধ্যম নিক্কেই বিজনেস ২০২২ সালের আগস্টে জানায়, জাপানে প্রায় ১২০ জন রুশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা সক্রিয় ছিলেন। এর আগে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সতর্ক করে জাপানি পুলিশ বলেছিল, রুশ গোয়েন্দারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছে।

নিক্কেই ও জিজি প্রেসের সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী মতে, টোকিওতে রাশিয়ার বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের একটি জ্যেষ্ঠ পদে সব সময়ই রুশ গোয়েন্দা সংস্থা এসভিআরের একজন কর্মকর্তা থাকেন। এসভিআর সোভিয়েত ইউনিয়নের গোয়েন্দা সংস্থার ফরেন ডিপার্টমেন্টের উত্তরসূরি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে টোকিও মেট্রোপলিটন পুলিশের পাবলিক সিকিউরিটি ব্যুরো জানায়, একটি জাপানি মেশিন-টুল প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের এক কর্মী একটি সন্দেহভাজন এসভিআর অপারেটিভের কাছে বাণিজ্যিক গোপন তথ্য সরবরাহ করছিলেন। ওই সন্দেহভাজন ব্যক্তি ইতোমধ্যে জাপান ছেড়ে চলে গেছেন।

এরপর ১২ জুলাই মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাপানকে ‘গুপ্তচরদের আখড়া’ হিসেবে তুলে ধরা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন বিমানসংস্থা অ্যারোফ্লটের টোকিও অফিসকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য প্রযুক্তি সংগ্রহের একটি রুশ নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছিল।

গত সোমবার জাপানের প্রধান সরকারি মুখপাত্র মিনোরু কিহারা এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চুরিসহ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলা বিদেশি গোয়েন্দা কার্যক্রম মোকাবেলার প্রয়োজনীয়তা ক্রমেই বাড়ছে।’

নতুন কৌশলে কোন পথে যাচ্ছে যুদ্ধ?

অনলাইন ডেস্ক
নতুন কৌশলে কোন পথে যাচ্ছে যুদ্ধ?
সংগৃহীত ছবি

ইরানের সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালানোর পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। এর জেরে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার পাশাপাশি অঞ্চলের অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানি পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসি জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ভাষায় ‘আগ্রাসন’ বন্ধ না করা পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে ব্যবহৃত অন্যান্য জ্বালানি রপ্তানি পথও বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। তবে কোন কোন রুটকে লক্ষ্য করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, বুধবার সকালে ড্রোন, যুদ্ধবিমান ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে রাতভর টানা ৭ ঘণ্টার আরেকটি অভিযানও পরিচালনা করা হয়।

বুধবার সকালের হামলায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা আরো দুর্বল করা হয়েছে বলে দাবি সেন্টকমের। প্রায় ৯০ মিনিটের অভিযানে গ্রেটার তুনব দ্বীপে ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা এবং ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের সংরক্ষণ ও উৎক্ষেপণ কেন্দ্রগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

নতুন হুমকি

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান আলোচনায় ফিরে না এলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হবে। তবে দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলাকে আপাতত শেষের জন্য রাখছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা সেসব লক্ষ্যবস্তুও আঘাত করব।

একই সময় ট্রাম্প জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর ২০ শতাংশ টোল আরোপের যে হুমকি তিনি দিয়েছিলেন, তার পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ‘বৃহৎ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ চুক্তির’ দিকে এগোতে চান।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিলে ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলায় ট্রাম্পের দেওয়া হুমকির নিন্দা জানিয়েছিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। তিনি বলেছিলেন, ‘আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা যুদ্ধাপরাধ।’

বাড়ছে উত্তেজনা

গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নৌ অবরোধ আরোপ করেছে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর। এর ফলে ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।

গত মাসে দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধের লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) অংশ হিসেবে এই অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে নতুন বিরোধের কারণে সেই সমঝোতা কার্যত ভেঙে পড়েছে।

অবরোধ পুনর্বহালের পর আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে জানায়, এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের স্বার্থে ব্যবহৃত অন্যান্য তেল ও গ্যাস রপ্তানি পথও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জানিয়েছে, পৃথক অভিযানে জর্দান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্র-সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এসব মিত্র দেশ জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র তারা প্রতিহত করেছে।

ফলে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অচলাবস্থার কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে তেলবাহী জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়ায় ফের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে।

যুদ্ধ চায় না ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, তবু কেন চলছে?

অনলাইন ডেস্ক
যুদ্ধ চায় না ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, তবু কেন চলছে?
রয়টার্স ছবি

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র—কোনো পক্ষই পূর্ণমাত্রার যুদ্ধে জড়াতে চায় না বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা জেনারেল সাইমন মায়াল। তিনি বলেছেন, উভয়ই চলমান হামলাগুলোকে আলোচনার কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করছে।

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘কিছু পদক্ষেপ প্রতীকী, আবার কিছু সত্যিই প্রাণঘাতী—কারণ এতে হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।’

তবে শেষ পর্যন্ত কে এমন চাপ সৃষ্টি করতে পারবে, যাতে আগের সমঝোতা স্মারকের চেয়ে আরো কার্যকর ও স্পষ্ট কোনো চুক্তি হয়, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। তার মতে, ‘আগের সমঝোতা স্মারকটি শুরু থেকেই টেকসই হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম ছিল।’

মায়ালের মতে, তেহরানে এমন একটি অংশ রয়েছে যারা যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের মতো সুবিধা পেতে আগ্রহী। তবে তাদের এই অবস্থানের বিপরীতে রয়েছে কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। তারা সংঘাত অব্যাহত রাখার পক্ষপাতী করে।

তিনি বলেন, ‘ইরান যদি তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে আসে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে এবং তাদের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনে, তাহলে তা বাস্তবসম্মত ও লাভজনক সিদ্ধান্ত হবে। কিন্তু কট্টরপন্থী গোষ্ঠী এবং আইআরজিসির কাছে বিষয়টি একইভাবে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।’

মায়ালের মন্তব্যে ইঙ্গিত করা হয়েছে, ইরানের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার ভারসাম্য এবং কট্টরপন্থীদের অবস্থানই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য দীর্ঘমেয়াদি সমঝোতার পথে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।

স্বামীর সঙ্গে দেখা করতে নার্সিংহোমে বাসন ধোয়ার কাজ নিল স্ত্রী | কালের কণ্ঠ