• ই-পেপার

জর্ডানে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এক শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ ৭০০ শিশু

মোনাকো হামলার সন্দেহভাজন হত্যায় বয়ান বদল ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার

অনলাইন ডেস্ক
মোনাকো হামলার সন্দেহভাজন হত্যায় বয়ান বদল ইউক্রেনীয় কর্মকর্তার
সংগৃহীত ছবি

মোনাকোতে এক ধনী ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের ওপর হত্যাচেষ্টার মামলায় নতুন মোড় এসেছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা আগে স্বীকার করা ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তা ভ্লাদিস্লাভ রেউত এখন আদালতে দাবি করেছেন, তিনি কোনো গুলি চালাননি এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই।

বৃহস্পতিবার কিয়েভের একটি আদালতে হেফাজত শুনানিতে ৩৪ বছর বয়সী রেউত বলেন, তিনি আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কাকে হত্যার অভিযোগ 'সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার' করছেন। তার দাবি, হত্যাকাণ্ডটি ঘটিয়েছেন তার কথিত সহযোগী ভিতালি ঝিকোভিচ। তবে কয়েক দিন আগেই রেউত তদন্তকারীদের কিয়েভের পশ্চিমাঞ্চলের একটি বন এলাকায় নিয়ে গিয়ে বেরেজোভস্কার কবর দেখিয়েছিলেন। সেই সময় তিনি হত্যার দায়ও স্বীকার করেছিলেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। আদালতে এসে তিনি সেই বক্তব্য থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। 

মামলাটি ইউক্রেনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ রেউত দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিইউআরের কর্মরত ও পদকপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। অন্যদিকে অভিযুক্ত ভিতালি ঝিকোভিচ কিছুদিন আগ পর্যন্ত ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউতে কর্মরত ছিলেন। এদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে এ ঘটনা সম্পর্কে আরো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হবে। তবে মোনাকোতে যে বিস্ফোরণে ধনী ব্যবসায়ী ভাদিম ইয়ারমোলায়েভকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল, সেই হামলার উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। ইয়ারমোলায়েভ কনিয়াক ও আবাসন ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। কয়েক বছর আগে তিনি ইউক্রেনের নাগরিকত্ব ছেড়ে দেন। পরে রাশিয়া ক্রিমিয়া দখলের পরও সেখানে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ায় কিয়েভ তার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে জানান, মোনাকোর বিস্ফোরণের দুই দিন পর আনাস্তাসিয়া বেরেজোভস্কা পোল্যান্ড হয়ে বাসে করে ইউক্রেনে প্রবেশ করেন। তখনও তিনি এই মামলার প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন না। পরে তার বিরুদ্ধে সন্দেহ তৈরি হলে তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দ্রুত রেউত ও ৫০ বছর বয়সী ঝিকোভিচের কাছে পৌঁছে যান। তদন্তে দেখা যায়, ওই দুই ব্যক্তি বেরেজোভস্কার হিসাবে নগদ অর্থ ও ক্রিপ্টোকারেন্সি পাঠিয়েছিলেন। এরপর রেউত প্রথমে হত্যার কথা স্বীকার করেন এবং তদন্তকারীদের বনাঞ্চলে নিয়ে গিয়ে ডালপালা দিয়ে ঢেকে রাখা একটি কবর থেকে বেরেজোভস্কার মরদেহের অবস্থান দেখিয়ে দেন।

কয়েক দিনের মধ্যেই আদালতে এসে রেউত বলেন, তিনি এবার 'সত্য' বলতে চান। তার দাবি, তিনি কখনোই বেরেজোভস্কাকে গুলি করেননি। রেউত বলেন, 'আমি দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। শত্রুর বিরুদ্ধে লড়েছি। আমি ইচ্ছা করে কোনো নিরীহ নারীকে হত্যা করতে পারি না।' তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি ও ঝিকোভিচ একটি বিএমডব্লিউ গাড়িতে করে কিয়েভের মহাসড়কে বেরেজোভস্কাকে আনতে যান। কারণ একটি অপরাধসংক্রান্ত ঘটনার পর তাকে লুকিয়ে রাখার প্রয়োজন ছিল। তবে সেই অপরাধ কী ছিল, সে বিষয়ে তিনি কোনো ব্যাখ্যা দেননি। রেউতের দাবি, পথে ঝিকোভিচ তার ব্যাগ থেকে পরিবর্তিত একটি মাকারভ পিস্তল বের করে তাতে গুলি ভরেন। তিনি আপত্তি জানালে ঝিকোভিচ বলেন, বেরেজোভস্কা আতঙ্কিত হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য অস্ত্রটি রাখা হয়েছে। পরে তিনজন ইউরিভ গ্রামের কাছে একটি বনপথে যান। সেখানে গাড়ি থেকে নেমে ঝিকোভিচ তাকে গুলি করার নির্দেশ দেন। রেউতের দাবি, ঝিকোভিচ তখন বলেন, 'হয় সে থাকবে, নয় আমরা।' তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি গুলি চালাতে অস্বীকৃতি জানালে ঝিকোভিচ নিজেই বেরেজোভস্কাকে চারটি গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তারা দুজনে মিলে একটি কবর খুঁড়ে মরদেহটি সেখানে লুকিয়ে রাখেন। পরে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র এবং বেরেজোভস্কার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র একটি হ্রদে ফেলে দেওয়া হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আদালতে রেউতকে প্রশ্ন করা হয়, তিনি যদি গুলি না চালিয়ে থাকেন, তাহলে আগে হত্যার দায় স্বীকার করেছিলেন কেন? জবাবে তিনি বলেন, ঝিকোভিচ তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন। রেউতের ভাষায়, 'সে আমাকে বলেছিল, আমার কিছু হলে তোমার আত্মীয়দের ক্ষতি হবে।' ঝিকোভিচের আইনজীবী আনাতোলি ইভানভ আদালতে রেউতের নতুন বক্তব্য পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, তার মক্কেল এসবিইউর সাবেক নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা। একজন সাধারণ নাগরিকের পক্ষে কর্মরত একজন সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি আরো বলেন, ঝিকোভিচ একজন দেশপ্রেমিক। ২০১৪ সালে তিনি পূর্ব ইউক্রেনে যুদ্ধ করেছেন। পরে ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের সময়ও কিয়েভ রক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। আইনজীবীর দাবি, রেউত শুধু কারাগার এড়ানোর জন্য নিজের বক্তব্য বদলেছেন। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, তার মক্কেল কোনো হত্যাকাণ্ডে জড়িত নন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, রেউত ও ঝিকোভিচ পরিকল্পিতভাবে একসঙ্গে কাজ করেছেন। তাই দুজনের বিরুদ্ধেই পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। তদন্তকারীদের মতে, এ মামলায় এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। আদালতে ঝিকোভিচের আইনজীবী দাবি করেন, এর পেছনে রাশিয়ার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তার বক্তব্য, অতীতে ইউক্রেনের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের রাশিয়ার হয়ে কাজ করার ঘটনাও ঘটেছে। তবে এ দাবির পক্ষে তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। অন্যদিকে তদন্তে দুর্নীতি, সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রসিকিউটর দিমিত্রো তকাচুক বলেন, 'সব সম্ভাবনাই তদন্ত করা হচ্ছে।'তিনি জানান, সন্দেহভাজনদের একজন সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে কিছু তথ্য দিয়েছেন। তবে তদন্তের স্বার্থে এখনই তা প্রকাশ করা হচ্ছে না। বিচারক দুই সন্দেহভাজনের জামিন আবেদন নাকচ করেছেন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের হেফাজতেই রাখা হবে।

স্পেনে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
স্পেনে দাবানলে ১২ জনের মৃত্যু
ছবি : রয়টার্স

স্পেনের দক্ষিণ-পূর্ব আলমেরিয়া প্রদেশের লস গালার্দোসে দাবানলে অন্তত ১২ জন নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। দেশটির আন্দালুসিয়ার আঞ্চলিক সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আরো ছয়জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর লস গালারদোসের অগ্নিকাণ্ডে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২ জনে দাঁড়িয়েছে।

আঞ্চলিক সরকারের প্রধান হুয়ানমা মোরেনো এই মৃত্যুগুলোকে মর্মান্তিক ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন। প্রাথমিকভাবে ছয়জনের মৃত্যুর খবর ঘোষণার পর তিনি টুইটারে লেখেন, ‘আমাদের হৃদয় ভারাক্রান্ত এবং আমরা শোকে বিধ্বস্ত।’

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ছিঁড়ে পড়া একটি বিদ্যুতের তার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয় এবং তা দ্রুত নিকটবর্তী একটি জঙ্গলে ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ আগুন লাগার কারণ এখনো নিশ্চিত করেনি। আগুনে পুড়ে যাওয়া কয়েকটি গাড়ির ভেতর থেকে কয়েকজন ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করা হয়।

প্রায় ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) তাপমাত্রার এক দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহের কারণে দক্ষিণ ইউরোপজুড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। ফ্রান্স, পর্তুগাল ও স্পেনে শত শত দমকলকর্মী আগুন নেভানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। হাজার হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। 

জরুরি পরিষেবা সূত্রে জানা গেছে, এই অগ্নিকাণ্ডের কারণে রাস্তাঘাটও বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং এক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যম ও এএফপি জানিয়েছে, ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ মে মাসে বলেছেন, স্পেন এ বছর গ্রীষ্মকালীন দাবানল মোকাবেলায় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। স্পেনের সামরিক জরুরি ইউনিট (ইউএমই) জানিয়েছে, তারা লস গ্যালারডোসের অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে যোগ দেবে। 

জুন মাসে স্পেনে ১৯৫০ সালের পর সর্বোচ্চ দৈনিক গড় তাপমাত্রা দেখা যায় এবং এমন কিছু দিন ছিল যেদিন সে মাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। দেশের কিছু অংশে সর্বোচ্চ ৪২ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১০৭.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) পর্যন্ত তাপমাত্রার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে দাবানলের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। ইউরোপীয় বন অগ্নিকাণ্ড তথ্য ব্যবস্থা (ইএফএফআইএস) জানিয়েছে, গত বছর স্পেনে রেকর্ড ৩ লাখ ৯৩ হাজার হেক্টর জমি পুড়ে গেছে। ২০০৬ থেকে ২০২৪ সালের গড়ের তুলনায় এটি ছয় গুণেরও বেশি।

কোপারনিকাস জলবায়ু পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উষ্ণ হওয়া মহাদেশ। এখানে বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ গতিতে তাপমাত্রা বাড়ছে। এর ফলে গ্রীষ্মে তাপপ্রবাহ বৃদ্ধি, পানির সংকট এবং দাবানলের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে।

এদিকে, ২০০৬ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর গত বছরটি ছিল ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের মৌসুম। এ সময় ইইউজুড়ে ১০ লাখ হেক্টরেরও বেশি এলাকা পুড়ে যায়, যা ওয়েলসের প্রায় অর্ধেক ভূখণ্ডের সমান।

অন্যদিকে, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন গ্রুপের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে দাবানলের মৌসুম দীর্ঘ ও তীব্র হওয়ার পেছনে জলবায়ু পরিবর্তন সরাসরি দায়ী।

‘আমেরিকার চাকরি বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
‘আমেরিকার চাকরি বিদেশি প্রতারকদের জন্য নয়’

বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবীদের নিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে ভিসা কর্মসূচি, তা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করে বলে দিয়েছেন, ‘আমেরিকান চাকরিগুলো আমেরিকান কর্মীদেরই পাওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের নয়।’

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন কম্পানি এইচ-১বি ও পার্ম ভিসা ক্যাটাগরির আওতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ দেয়। তবে এ ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার, জালিয়াতি, অদক্ষ পেশাজীবীদের নিয়োগ, বিদেশি পেশাজীবীদের বেতন কেটে রাখাসহ নানা অভিযোগে তদন্তে নেমেছে মার্কিন শ্রমবিভাগ।
 
শ্রম বিভাগের ইন্সপেক্টর জেনারেল অ্যান্থনি ডি’এসপোসিটো জানিয়েছেন, বিদেশি কর্মী ভিসা কর্মসূচির অপব্যবহার এবং সন্দেহভাজন মানবপাচারের বিষয়ে একটি বড় আকারের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে তার কার্যালয় সমন জারি করা শুরু করেছে। 

তিনি বলেন, ‘আমরা জোরালো পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি, যা আমাদের বিশ্বাস—কোনো ইন্সপেক্টর জেনারেল বা এই প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদেশি শ্রম জালিয়াতির বিরুদ্ধে সম্ভবত সবচেয়ে আগ্রাসী পদক্ষেপ।’ 

ডি’এসপোসিটো জানান, হুইসেলব্লোয়ারদের দেওয়া গোপন তথ্য তদন্তকারীদের ‘কগনিজ্যান্ট’-এর মতো কিছু বড় বড় কম্পানির দিকে ইঙ্গিত করেছে। 

তিনি জানান, তার দল প্রতিটি সূত্রের শেষ পর্যন্ত খুঁজে বের করবে। ডি’এসপোসিটো বলেন, ‘তদন্ত চলাকালে তদন্তকারীরা প্রেসিডেন্ট এবং ভাইস প্রেসিডেন্টের জালিয়াতি বিরোধী টাস্ক ফোর্সের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে।’

এদিকে শ্রম বিভাগের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শ্রম বিভাগের অধীনে থাকা অফিস অব দ্য ইন্সপেক্টর জেনারেল এমন ব্যাপক কারসাজি উন্মোচন করেছে, যেখানে নিয়োগকর্তা এবং শ্রম দালালরা ভুয়া আবেদন জমা দিয়েছিল এবং মজুরি থেকে অবৈধভাবে টাকা কেটে রাখার মাধ্যমে বিদেশি কর্মীদের শোষণ করেছিল। 

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অপব্যবহারগুলো শ্রম বিভাগের কর্মসূচির সততা ও উদ্দেশ্যকে নষ্ট করে। অথচ এই কর্মসূচিগুলো তৈরি করা হয়েছে প্রকৃত শ্রম ঘাটতি পূরণ করার জন্য, আমেরিকানদের চাকরির বিনিময়ে অসাধুচক্রের পকেট ভারি করার জন্য নয়।

এদিকে এ তদন্ত শুরুর পর গত বুধবার মিলওয়াকিতে এক সভায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘শ্রম বিভাগ ইতিমধ্যেই সমন জারি করা শুরু করেছে এবং ভিসা ব্যবস্থার অপব্যবহারকারী বিদেশি প্রতারকদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে।’ 

তিনি বলেন, ‘আমাদের এইচ-ওয়ানবি ভিসা প্রোগ্রাম নামের একটি কর্মসূচি রয়েছে। এই প্রোগ্রামটি মূলত একজন মেধাবী প্রযুক্তিবিদ বা একজন মেধাবী বিজ্ঞানী, বা একজন মেধাবী চিকিৎসকের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে কাজ করার একটি পথ ছিল। 

ভ্যান্সের যুক্তি অনুযায়ী, সেই উদ্দেশ্যকে এখন বড্ড বেশি টেনেহিঁচড়ে নষ্ট করা হয়েছে। 

তিনি বলেন, ‘কিন্তু আপনারা জানেন, এখন সবচেয়ে বেশি যা ঘটছে; তা হলো, বড় করপোরেশন এবং বিদেশের প্রতারকরা আমেরিকান কর্মীদের মজুরি কমাতে এই প্রোগ্রামটি ব্যবহার করছে।’

জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা বলছি, আর নয়। আমরা এটিও নিশ্চিত করছি যেন প্রতারকরা এই ভিসা প্রোগ্রামগুলোর সুযোগ নিতে না পারে।’ 

ভ্যান্স বলেন, ‘আপনি যদি এই ভিসা প্রোগ্রামের অন্যায় সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে আপনাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।’ 

জেডি ভ্যান্স আরো যোগ করেন, ‘এখানে একটি সহজ নীতি রয়েছে : আমেরিকান চাকরিগুলো আমেরিকান কর্মীদেরই পাওয়া উচিত, বিদেশি প্রতারকদের নয়। আর শ্রম বিভাগ এর বিরুদ্ধে কঠোর লড়াই করছে।’

শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাতের প্রস্তুতিতে চীন-তাইওয়ান

অনলাইন ডেস্ক
শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাতের প্রস্তুতিতে চীন-তাইওয়ান
ছবি : রয়টার্স

শক্তিশালী টাইফুন বাভির আঘাতের আশঙ্কায় চীন ও তাইওয়ানে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবেলায় উপকূলীয় এলাকার জেলেরা নৌকা নিয়ে বন্দরে আশ্রয় নিয়েছেন। বাসিন্দারা বন্যার পানি ঠেকাতে বালুর বস্তা সংগ্রহের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েছেন। অন্যদিকে কৃষকেরা দ্রুত মাঠ থেকে ফসল ঘরে তুলছেন।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, বাভি গত কয়েক বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়গুলোর একটি হতে পারে। এদিকে বাভি তাইওয়ানের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় দক্ষিণ চীনে টাইফুন মায়সাকের ধ্বংসযজ্ঞের পর উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে আঘাত হানা মায়সাকে অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। আরো কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাইওয়ানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাছ ধরার শহর সুয়াওতে শত শত মাছ ধরার নৌকা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য বন্দরে ভিড় করেছে। তিন মেট্রিক টন ধারণক্ষমতার একটি মাছ ধরার নৌকার অধিনায়ক চেন মিং-হুই বলেন, বাইরে এখন আবহাওয়া শান্ত মনে হলেও পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যেতে পারে। তিনি বলেন, এখন আকাশ পরিষ্কার দেখে কেউ যেন ভুল না করেন। এ ধরনের টাইফুন খুবই ভয়ংকর হতে পারে। আগের ঝড়ে অনেক নৌকা ডুবে গিয়েছিল। পুরো শহর পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল।

তাইওয়ানের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বাভির প্রভাবে রাজধানী তাইপের উত্তরের পাহাড়ি এলাকায় এক মিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। সম্ভাব্য উদ্ধার ও ত্রাণকাজে অংশ নিতে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রায় ২৯ হাজার সেনাকে প্রস্তুত রেখেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, ২০২৪ সালের কং-রে টাইফুনের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী টাইফুন হতে পারে। কং-রে টাইফুনে তিনজনের মৃত্যু হয়েছিল। চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, বাভির বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ২০০ কিলোমিটার। ঝড়টির বিস্তৃতি সবচেয়ে চওড়া অংশে প্রায় এক হাজার কিলোমিটার, যা প্রায় ফ্রান্সের সমান। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বাভি উত্তর তাইওয়ানের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে শনিবার সন্ধ্যায় চীনের পূর্বাঞ্চলের ফুজিয়ান প্রদেশে আঘাত হানতে পারে। তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসনের পূর্বাভাসকারী জেসন চ্যাং বলেন, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে এত বড় আকারের টাইফুন দেখা যায়নি। তার মতে, আকারের দিক থেকে ১৯৮৭ সালের পর এটি তাইওয়ানে আঘাত হানা সবচেয়ে বড় ঝড় হতে যাচ্ছে। টাইফুনের কারণে তাইওয়ানের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তাওইয়ান শনিবার দেশটির সব আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ছেড়ে যাওয়া ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে।

বাভির প্রভাব শুধু চীন ও তাইওয়ানেই নয়, জাপানেও পড়তে পারে। জাপানের আবহাওয়া সংস্থা ওকিনাওয়ার বাসিন্দাদের শুক্রবার ও শনিবার সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে বলেছে। প্রবল বাতাস, ভারি বৃষ্টি, ভূমিধস, বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। জাপান এয়ারলাইনস শুক্রবারের ৫০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ৭ হাজার ৬০০ যাত্রীর ভ্রমণ পরিকল্পনা ব্যাহত হবে। অল নিপ্পন এয়ারওয়েজও ৩৪টি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ যাত্রী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। শনিবারও আরো কিছু ফ্লাইট বাতিল করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চীন, তাইওয়ান ও জাপানে শক্তিশালী ঝড়ের ঝুঁকি বাড়ছে। এ বছর সম্ভাব্য এল নিনোর প্রভাবে সমুদ্রের তাপমাত্রা আরো বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে আরো শক্তিশালী এবং ঘন ঘন টাইফুন তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্যিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান আকুওয়েদারের বিশেষজ্ঞ জেসন নিকোলস বলেন, বৃহস্পতিবার থেকে বাভির বাতাসের গতি কিছুটা কমতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে সোমবার পর্যন্ত এটি তাইওয়ান ও পূর্ব চীনে বিপজ্জনক অবস্থায়ই থাকবে। ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় গবেষক শিয়াংবো ফেং বলেন, বাভি দীর্ঘ সময় ধরে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণ পানির ওপর অবস্থান করেছে। সেখান থেকে এটি প্রচুর শক্তি ও আর্দ্রতা সংগ্রহ করেছে। তাই স্থলভাগে আঘাত করলে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেক বড় হতে পারে। তিনি আরো বলেন, ঝড়টির গতিপথে সামান্য পরিবর্তন হলেও ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেড়ে যেতে পারে।

বাভির জন্য প্রস্তুতি চললেও দক্ষিণ চীনের অনেক এলাকা এখনো টাইফুন মায়সাকের ধ্বংসযজ্ঞ সামাল দিতে ব্যস্ত। মায়সাকের অবশিষ্ট অংশ থেকে চীনের মধ্যাঞ্চলের হুবেই প্রদেশে অন্তত দুটি স্থলভাগের ঘূর্ণিঝড় সৃষ্টি হয়েছে। এতে সেখানে বড় ধরনের বন্যা হয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গুয়াংসি অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে মানুষ নতুন ঝড় আঘাত হানার আগেই নিজেদের ঘরবাড়ি ও জীবন স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছেন। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, অনেক মানুষ নিজেদের ফ্ল্যাট থেকে বের হতে দ্বিতীয় তলার জানালা দিয়ে উদ্ধারকর্মীদের সহায়তায় নিচে নামছেন। আবার অনেকে কোমরসমান পানিতে নেমে ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র উদ্ধার করছেন। দুর্গম এলাকায় জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পৌঁছে দিতে উদ্ধারকর্মীরা ড্রোন ব্যবহার করছেন।

বেইজিং নিউজের প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বিনইয়াং কাউন্টির একটি খামারে সারি সারি মৃত শূকর পড়ে রয়েছে। টানা দুই দিন পানির নিচে ডুবে থাকার কারণে প্রাণীগুলোর দেহ ফুলে গিয়ে পচতে শুরু করেছে। চীনের গ্লোবাল টাইমস জানিয়েছে, গুয়াংসি অঞ্চলের গুইগাং চিড়িয়াখানায় বন্যার পানিতে তিনটি সিংহ মারা গেছে। এছাড়া জেব্রা, সজারু, টিয়া, র‍্যাকুনসহ প্রায় ১০০টি প্রাণী এখনো নিখোঁজ রয়েছে। 

জর্ডানে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় এক শিশুর মৃত্যু, অসুস্থ ৭০০ শিশু | কালের কণ্ঠ