kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২২ আগস্ট ২০১৯। ৭ ভাদ্র ১৪২৬। ২০ জিলহজ ১৪৪০

এই যুবকের ৫ অঙ্গ নিয়ে বেঁচে থাকবেন অন্যরা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ জুলাই, ২০১৯ ১৫:২৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এই যুবকের ৫ অঙ্গ নিয়ে বেঁচে থাকবেন অন্যরা

চিন্ময় ঘোষ

সোমবার দুপুরে কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে 'ব্রেন ডেথ' হয় চিন্ময় ঘোষ নামের এক যুবকের। এরপরই চিন্ময়ের অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেয় পরিবার।

কয়েকদিনের ব্যবধানে অঙ্গদানের আবারও নজির সৃষ্টি হলো কলকাতায়। চিন্ময় ঘোষ কলকাতার মেমারি এলাকার বাসিন্দা। চিন্ময় ঘোষের ৫ অঙ্গ পাচ্ছেন অন্যরা।

জানা গেছে, চিন্ময়ের হৃদযন্ত্র পাচ্ছেন ডানকুনি এলাকার সুরজিৎ পাত্র। কলকাতা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন সুরজিৎ। অন্যদিকে, চিন্ময়ের লিভার ও একটি কিডনি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এসএসকেএমে। অ্যাপোলেতে নিয়ে যাওয়া হবে তার আরেকটি কিডনি। এখনও গ্রহীতার নাম জানা যায়নি। চিন্ময়ের কর্নিয়া পাচ্ছে দিশা আই হাসপাতাল। মেমারির যুবকের ত্বক এসএসকেএমের স্কিন ব্যাঙ্কে রাখা থাকবে।

সূত্রের বরাতে জানা গেছে, গত বুধবার বাড়ি ফেরার পথে চিন্ময়ের স্কুটিতে ধাক্কা মারে একটি ট্রাক। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিন্ময়কে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে পরে কলকাতায় আনা হয়। গতকাল দুপুরে চিন্ময়ের 'ব্রেন ডেথ' হয়েছে বলে জানান চিকিৎসকরা।

এদিকে, অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে চিন্ময়ের দাদা বলেন, প্রচুর আনন্দ হচ্ছে, যে তার অঙ্গ দান করতে পারছি। আমি চাইবো যে, সমাজে  এর আরও প্রসার ঘটুক। 

অন্যদিকে, সুরজিৎ পাত্রের পরিবারের সদস্য বলরাম বাঘ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, যিনি হৃদযন্ত্র দিয়েছেন তাকে কীভাবে কৃতজ্ঞতা জানাবো সে বিষয়ে আমার কোনও ভাষা নেই। সুরজিৎ অনেকদিন ধরেই হার্টের অসুখে ভুগছিলেন। প্রথমে আমরা পিজি হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে সামান্য কিছু ওষুধ দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও তার সমস্যা দূর হচ্ছিল না। তখন আমরা মেডিকেল কলেজে দেখাই। সেখানে জানানো হয়, হার্টের অবস্থা ভালো নয়। হৃদযন্ত্র বদল করতে হবে। অনেকদিন ধরেই খোঁজ চলছিল। অবশেষে আজকে এসএসকেএম হাসপাতাল থেকেই হৃদযন্ত্রের সন্ধান পাই। 

কলকাতায় চলতি মাসের শুরুতে অঞ্জনা ভৌমিক নামের এক নারীর অঙ্গপ্রতিস্থাপন করা হয়। হাসপাতালে 'ব্রেন ডেথ' হয় অঞ্জনা ভৌমিকের। এরপরই অঞ্জনার পরিবারের পক্ষে অঙ্গদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অঞ্জনার হৃদযন্ত্র, ত্বক, কিডনি ও লিভার দান করা হয়।

অঞ্জনা ভৌমিকের হৃদযন্ত্র পান নদিয়ার তেহট্টের বাসিন্দা মৃন্ময় দাস। সেদিন সকালে মাত্র ১২ মিনিটে আন্দুল থেকে এসএসকেএমে গ্রিন করিডর দিয়ে অঙ্গ আনা হয় এসএসকেএমে। অন্যদিকে,অঞ্জনা ভৌমিকের চক্ষুদান করা হয় শঙ্কর নেত্রালয়ে। কিডনি পান হাওড়া সাঁকরাইলের হারুন রসিদ খান। লিভার পান ৫৩ বছর বয়সী রীনা শি। 

প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে নয়াবাদের বাসিন্দা সুমিতা বসুর হাত ধরে কলকাতায় এ বছর প্রথম অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা হয়। পেশায় শিক্ষিকা সুমিতা বসুর (৫৪) কিডনি ও লিভার পেয়ে নতুন জীবন পান অন্যরা। সে সময় সুমিতাদেবীর ২টি কিডনি ও লিভার দান করা হয়। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা