• ই-পেপার

একজন শেফ, একটি টেপ, যেভাবে আর্জেন্টিনার হলেন মেসি

আর্জেন্টিনাই ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাই ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন
বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয়ে গেল আর্জেন্টিনার। ছবি: ফিফা

বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন—১৮ ডিসেম্বর ২০২২ তারিখে কাতারের লুসাইলে লিওনেল মেসি সোনালি ট্রফিটা উঁচিয়ে ধরার পর গর্বে ভরা যে তকমা লেগে ছিল আর্জেন্টিনার সঙ্গে, নিউ জার্সিতে আজ থেকে সেটি উধাও!

রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর পর মেসির দুই পা ছেড়ে দিয়ে মাঠে বসে পড়া এবং এরপর কয়েক ফোঁটা চোখের জল ফেলাই যেন জানান দিচ্ছিল আর্জেন্টিনা এখন সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

শুধু সাবেক নয়; স্পেনের কাছে এবারের ফাইনাল হেরে শিরোপা ধরে রাখতে না পারায় আর্জেন্টিনাই এখন ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন।

১৮ ডিসেম্বর ২০২২ থেকে ১৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত সময়টা হিসাব করলে দাঁড়ায় ১৩০৯ দিন। 

সাধারণত একটি দল ফিফা বিশ্বকাপ জিতলে প্রায় ৪ বছর বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা ধরে রাখা নিশ্চিত হয়। কিন্তু আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে এবার সেটি হয়েছে ৩ বছর ৭ মাস। 

কারণ, বিশ্বকাপের আয়োজন জুন-জুলাইয়ে হয়ে থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে ২০২২ বিশ্বকাপ হয়েছিল শীতকালে; নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপ আবার আগের নিয়ম মেনে জুন-জুলাইয়ে হওয়ায় এত কম সময় নিজেদের তৃতীয় বিশ্বকাপ ধরে রাখতে পারল আর্জেন্টিনা। 

সবচেয়ে বেশি সময় বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার রেকর্ডটা ইতালির। ১৯৩৪ ও ১৯৩৮ সালে টানা দুবার বিশ্বকাপ জেতে ইতালি। 

এরপর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু হয়। দীর্ঘ ১২ বছর পর আবার বিশ্বকাপ চালু হয় ১৯৫০ সাল থেকে। সেইবার চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে। 

১৯৩৪ সালের ১০ জুন ইতালি বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর ১৯৫০ বিশ্বকাপ শিরোপা নিষ্পত্তির ম্যাচের (১৬ জুলাই) আগ পর্যন্ত এই ১৬ বছরে ৫৮৮০ দিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়নের খেতাব ধরে রাখে তারা।

বিশ্বকাপে কে কী পুরস্কার পেলেন

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে কে কী পুরস্কার পেলেন
ছবি: ফিফা

রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই আনন্দের আতিশয্যে মাঠে শুয়ে পড়লেন স্পেনের ফুটবলাররা। লিওনেল মেসি ঠাঁই দাঁড়িয়ে। কিছুক্ষণ পর মেসি কয়েক ফোঁটা চোখের জলও ফেললেন। তার দলের কাছ থেকে বিশ্বকাপটা যে হাতছাড়া হয়ে গেল!

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালে ফেরান তোরেসের গোলে আর্জেন্টিনাকে ১-০ ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলো স্পেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট সোনালি ট্রফিটা স্প্যানিশ অধিনায়ক রদ্রির হাতে তুলে দেওয়ার আগে সবচেয়ে বড় পুরস্কারটা তিনি জিতলেন। রদ্রিই হলেন এবারের বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়।

আসরে ৮ ম্যাচে মোট ৭২৬ মিনিট খেলেছেন রদ্রি। নির্ভুল পাস দিয়েছেন ৬৯২টি, যা টুর্নামেন্টে যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে বেশি। তার মোট পাসের ৯৪ শতাংশই ছিল নিখুঁত। এ ছাড়া ট্যাকলে জিতেছেন ১৩ বার। 

ফাইনালের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার উঠেছে ফেরান তোরেসের হাতে। ম্যাচের ১০৬ মিনিটে তার গোলেই বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্পেন। 

কিলিয়ান এমবাপ্পে জিতেছেন সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার গোল্ডেন বুট। ফরাসি অধিনায়ক এবারের বিশ্বকাপে মোট ১০ গোল করেছেন। 

সেরা গোলকিপার হয়েছেন উনাই সিমন। স্পেনের এই গোলকিপার পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করেছেন। তার নামের পাশে ৭টি ক্লিনশিট। বিশ্বকাপে প্রায় ৫৫০ মিনিট গোল না খাওয়ার কীর্তি গড়েছেন গোল্ডেন গ্লাভ জয়ী সিমন। 

সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার জিতেছেন পাউ কুবারসি। স্পেনের এই ১৯ বছর বয়সী ডিফেন্ডারের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ দল মাত্র একটি গোল করতে পেরেছে। সব মিলিয়ে তিনি ৩৩ বার বল ক্লিয়ার বা বিপদমুক্ত করেছেন। 

এ ছাড়া সবচেয়ে সুশৃঙ্খল খেলা উপহার দিয়ে ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড জিতে নিয়েছে নেদারল্যান্ডস। দলটি শেষ বত্রিশ থেকে বাদ পড়েছে। 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে পুরস্কার জয়ী

ফাইনালের সেরা ফেরান তোরেস (ম্যাচের একমাত্র গোলদাতা)
গোল্ডেন বল (টুর্নামেন্টসেরা) রদ্রি 
গোল্ডেন বুট (সর্বোচ্চ গোলদাতা) কিলিয়ান এমবাপ্পে (১০ গোল)
গোল্ডেন গ্লাভ (সেরা গোলকিপার) উনাই সিমন (৭টি ক্লিনশিট)
সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় পাউ কুবারসি (মাত্র ১ গোল হজম, ৩৩টি ক্লিয়ারেন্স)
ফেয়ার প্লে অ্যাওয়ার্ড নেদারল্যান্ডস

আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন
ফেরান তোরেস ও নিকো উইলিয়ামসের উচ্ছ্বাস। ছবি: ফিফা

আর্জেন্টিনা ০-১ স্পেন

আর্জেন্টিনাকে বোতলবন্দী করে নিজেদের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিতে নিল স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ফাইনালের অতিরিক্ত সময়ে একমাত্র গোল করেছেন স্পেনের ফেরান তোরেস।  এতে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জেতা হলো না লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার।

নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে সোনালী ট্রফিটি নিজেদের করে নিল লুইস দে লা ফুয়েন্তের শিষ্যরা।

টানা ৩৭ ম্যাচে অপরাজিত থেকে ফাইনালে আসা ইউরো চ্যাম্পিয়নদের নিখুঁত ও গোছানো ফুটবলের সামনে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করতে হয়েছে আলবিসেলেস্তেদের।

বাংলাদেশ সময় রবিবার দিবাগত রাতে মহারণ দেখতে মুখিয়ে ছিল ফুটবল বিশ্ব। ম্যাচের শুরু থেকেই মাঠে স্প্যানিশদের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে আর্জেন্টাইন রক্ষণভাগকে তটস্থ করে রাখে ফুয়েন্তের দল। ম্যাচের পঞ্চম মিনিটেই স্প্যানিশদের এগিয়ে নেওয়ার সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন তরুণ তুর্কি লামিন ইয়ামাল। এরপর ১২তম মিনিটে স্পেনের প্রথম কর্নার দারুণ দক্ষতায় নস্যাৎ করে দেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ।

প্রথমার্ধের পুরোটা সময় জুড়ে স্পেনের নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের সামনে খাবি খেয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা। আক্রমণ সামলাতেই ব্যস্ত থাকা আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধে স্পেনের গোলমুখে কোনো ভীতিই ছড়াতে পারেনি। তবে বলের দখলে স্প্যানিশরা আধিপত্য দেখালেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা মেলেনি।

বিরতির পরও আক্রমণের ধার বজায় রাখে স্পেন। তবে স্প্যানিশদের একের পর এক আক্রমণ চীনের প্রাচীর হয়ে রুখে দিচ্ছিলেন আর্জেন্টাইন বাজপাখি এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এর মধ্যে দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্জেন্টিনা।

নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই ডেডলক ভাঙতে না পারলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।

আর সেখানেই স্পেনের ত্রাতা হয়ে আসেন ফেররান তোরেস। অতিরিক্ত সময়ের ১০৬ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ভেসে আসা বল নিখুঁত নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ভেতরে বাড়ান নিকো উইলিয়ামস। ফাঁকায় থাকা তোরেস চলন্ত বলেই এক বুলেট গতির শটে বল জড়ান আর্জেন্টিনার জালে। উল্লাসে ফেটে পড়ে স্প্যানিশ শিবির।

ম্যাচের শেষ দিকে ১০ জনের দলে পরিণত হওয়া আর্জেন্টিনা সমতায় ফেরার আপ্রাণ চেষ্টা চালালেও স্পেনের জমাট রক্ষণ ভাঙতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্পেন। 

স্পেনকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল ১০ জনের আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
স্পেনকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল ১০ জনের আর্জেন্টিনা

ম্যাচের নির্ধারিত সময়ে গোলের জন্য চেষ্টার কোন কমতি রাখেনি স্পেন। তবে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষকের একের পর এক সেইভে জালের দেখা পায়নি তারা। বিপরীতে ধুঁকতে থাকা আর্জেন্টিনা গোল পাওয়া তো দূরের কথা শট নিতে পারেনি একটিও। 

এতে গোলশূন্য নির্ধারিত সময়ের পর ম্যাচ গিয়েছে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। এর মধ্যে ফল না এলে খেলা গড়াবে পেনাল্টিতে।

এর আগে দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে লাল কাড পান আর্জেন্টিনার এনজো ফার্নান্দেজ। পাউ কুবারসিকে ফাউল করে যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে লাল কার্ড দেখেন তিনি। সবশেষ দ্বিতীয়ার্ধে শেষভাগে লামিন ইয়ামালে নেওয়া একটি শট ঠেকিয়ে দেন মার্তিনেজ।