• ই-পেপার

টসে হেরে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ

যুদ্ধ নয় শান্তি, মিসাইল নয় গোল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
যুদ্ধ নয় শান্তি, মিসাইল নয় গোল

দেশের সব গণমাধ্যম বিশ্বকাপময় আজ। শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্বই এখন ফুটবল জ্বরে আক্রান্ত। বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন খেলা জনপ্রিয়। সব দেশে সব খেলা হয়ওনা। কিন্তু ফুটবল একমাত্র খেলা যার আবেদন বিশ্বময়। বিশ্বের প্রতিটি কোনায় ফুটবল খেলা হয়। জীবনে কোনো দিন ফুটবলে লাথি দেয়নি, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। ২১১টি দেশ ফিফার সদস্য, জাতিসংঘের চেয়েও বেশি। এবারের বিশ্বকাপের বাছাইপবেই অংশ নিয়েছিল ২০৬টি দেশ। যার মধ্যে ৪৮টি দেশ মূল পবে খেলছে।

এবারই প্রথম ৪৮টি দেশ বিশ্বকাপ মূল পবে খেলার সুযোগ পাচ্ছে। বাছাইপবে অংশ নেয়া ২০৬টি দলের মধ্যে বাংলাদেশও ছিল। কিন্তু বাংলাদেশ কখনোই বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায়নি। নিকট ভবিষ্যতে পাবে, তেমন বাস্তবতাও নেই। তবে ফুটবল নিয়ে মাতামাতি, উন্মাদনা নিয়ে কোনো বিশ্বকাপ আয়োজন হলে বাংলাদেশ নিশ্চয়ই সেরা চারে থাকবে। মেক্সিকো, কানাডা সঙ্গে থাকলেও এবারের বিশ্বকাপের মূল আয়োজক মাকিন যুক্তরাষ্ট্র।

সেই যুক্তরাষ্ট্রে থাকা এক বাঙালি আক্ষেপ করে ফেসবুকে লিখেছেন, নিউইয়কে তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তিনি মেসির নাম লেখা কোনো জার্সি খুঁজে পাননি। আর বাংলাদেশে বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে থেকেই জাসির জমজমাট ব্যবসা হচ্ছে। বাংলাদেশে শুধু জাসির মাকেটই কয়েক কোটি টাকার। যুক্তরাষ্ট্রের রাস্তায় হাঁটলে নাকি বোঝা যায় না, এখানে বিশ্বকাপ হচ্ছে। আর মাসখানেক আগে থেকেই বাংলাদেশ বিশ্বকাপের ছোঁয়ায় রঙিন। বাড়িতে বাড়িতে উড়ছে ব্রাজিল-আজেন্টিনার পতাকা। প্রিয় দলের রঙে গোটা বাড়ি রাঙিয়ে নিয়েছেন অনেকে। অনেক এলাকার চেহারাই বদলে গেছে।

আগামী দেড় মাস বাংলাদেশের রুটিনই বদলে যাবে। রাতভর খেলা দেখে ঘুম ঘুম চোখে অফিসে যাবে লোকজন। অফিসেও কাজের চেয়ে আগের রাতের খেলার বিশ্লেষণ হবে বেশি। বিশ্বকাপ এলেই টিভি বিক্রির ধুম পড়ে যায়। পাড়ায় পাড়ায় বড় পদায় খেলা দেখার আয়োজ হয়। ঘরে ঘরে রাতভর খেলা দেখার জন্য বিশেষ খাবার, বন্ধু-বান্ধব মিল একসাথে খেলা দেখা- অন্যরকম এক উতসবের আবহ দেশজুড়ে।

বাংলাদেশ বিভক্ত হয়ে যাবে ব্রাজিল-আজেন্টিনায়। পাশের টেবিলের সহকমী, ভাই-বোন, প্রেমিক-প্রেমিকা, স্বামী-স্ত্রী, এমনকি বাবা-ছেলেও এই দেড়মাস ব্রাজিল-আজেন্টিনা, মানে শত্রুপক্ষ। কথা কাটাকাটি, ঝগড়াঝাাটি, মান-অভিমান, এমনকি মারামারি পযন্ত হবে। দেড়মাস পর গালাগালি আবার গলাগলিতে বদলে যাবে। ব্রাজিল-আজেন্টিনা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ যা করে, তা দেখে লজ্জা পাবেন বা অনুপ্রাণিত হতে পারেন খোদ ব্রাজিলিয়ান বা আজেন্টাইনরাও।

একসময় বাংলাদেশে ব্রাজিলের সমথক বেশি ছিল। ১৯৮৬ সালে ম্যারাডোনার একক নৈপূণ্যে বিশ্বকাপ জেতার পর আজেন্টিনার সমর্থন হু হু করে বাড়তে থাকে। আর মেসির বিশ্বকাপ জয়ের পর তা চূড়ায় উঠেছে। আজেন্টিনার মোট জনসংখ্যা সাড়ে ৪ কোটি। সম্ভবত বাংলাদেশে আজেন্টিনার সমর্থক আজেন্টিনার চেয়ে বেশি। আসলেই বাংলাদেশে ফুটবল এক আনন্দময় উন্মাদনার নাম। বিশ্বকাপ আসলে বাংলাদেশের মানুষ এমনকি বাংলাদেশকেও ভুলে যায়।

শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল এখন বাংলাদেশ সফর করছে। দুদিন আগে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আজ সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচ। বাংলাদেশ এখন দাড়িয়ে আছে ইতিহাসের দুয়ারে। আজ জিতলেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ জিতবে। একসময় যেটা কল্পনা করতেও সাহস লাগতো। ম্যাচটি হবে ঢাকার মিরপুরে। কিন্তু কোথাও কোনো আওয়াজ নেই।

বিশ্বকাপের ভিড়ে আজকের পত্রিকায় বাংলাদেশের এই অতি গুরুত্বপূণ ম্যাচের খবর খুঁজে পেতে অনুবীক্ষণ যন্ত্র লাগবে। এমনকি বাংলাদেশের অথনীতির জন্য অতি গুরুত্বপূণ জাতীয় বাজেট পেশের খবরও ফুটবলের আড়ালে চলে গেছে। ফুটবলের আড়ালে চলে গেছে আরেকটি খবরও।

যুক্তরাষ্ট্রে যখন বিশ্বকাপের ঢক্কানিনাদ, ইরানে তখন নতুন করে বাজছে যুদ্ধের দামামা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের একতরফা যৌথে আক্রমনে যে যুদ্ধ শুরু, তা থামেনি এখনো। মাঝে যুদ্ধবিরতি হয়েছে, পাকিস্তানের দুতিয়ালিতে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টাও হচ্ছে। একবার পাকিস্তানে দুপক্ষ সামনাসামনি বসেছেনও। নানান শত বিনিময় হচ্ছে। কিন্তু কারো কারো গোয়াতুমি আর শতের বেড়াজোলে আটকে আছে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা। যুক্তরাষ্ট্র একটু নমনীয় হলে ইসরায়েল আবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে হামলা শুরু করলে যুদ্ধে নতুন নতুন উত্তেজনা বাড়ে। ক্ষিপ্ত হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরায়েলের প্রধানমন্ত্রীকে ‘উন্মাদ’ বলেছেন। আসলে ব্যাপারটা ’এক বুড়িকে আরেক বুড়ির নানি’ বলার মত।

ট্রাম্প নিজেই নেতানিয়াহুর চেয়েও বড় উন্মাদ। এই দুই যুদ্ধ উন্মাদ মিলে গোটা বিশ্বকেই গভীর এক খাদের কিনারে দাড় করিয়ে দিয়েছে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি তেলের সরবরাহ পাঁচ ভাগের এক ভাগ কমে গেছে। তাতে বেড়ে গেছে দাম। আর জ্বালানি তেলের দাম বাড়লে যে সবকিছুর দাম বাড়ে, এটা অথনীতি একদম না বোঝা মানুষটাও জানে। এ যুদ্ধ বিশ্ব অথনীতিকে এক অবশ্যম্ভাবী মন্দার সামনে দাড় করিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ যত প্রলম্বিত হবে, মন্দা তত তীব্র হবে। ফুটবলও এক ধরনের যুদ্ধ। ফুটবল মাঠেও আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ হয়। কিন্তু ফুটবলের লড়াই আসল যুদ্ধের মত ধবংস ডেকে আনে না।

আগামী দেড় মাস হয়তো সবাই সবকিছু ভুলে থাকবে। প্রিয় দলের গোলের পর সারাবিশ্বে সম্মিলিত চিতকার হয়তো মিসাইলের শব্দকেও ছাড়িয়ে যাবে। কিন্তু এই সময়ে যুদ্ধ না থামলে ফুটবল শেষে মানুষ দেখবে তাদের খাবার প্লেটে টান পড়েছে। গোল বা ট্রফিতে তো আর পেট ভরবে না। আমরা গণতন্ত্রের কথা বলি, জনমতের কথা বলি। কিন্তু ভিন্নমতকে মানি না। গোটা বিশ্বে যদি এখন গণভোট হয়, প্রায় সবাই যুদ্ধ বন্ধের পক্ষে রায় দেবেন। এমনকি খোদ আমেরিকাতেও অধিকাংশ মানুষ যুদ্ধের বিপক্ষে। তবে সিদ্ধান্ত নেয়ার চেয়ারে যারা বসে আছেন তাদের কাছে জনমতের গুরুত্ব সামান্যই। মানুষ কী ভাবলো তাতে তাদের বয়েই গেছে। ফুটবলের খবর আপাতত যুদ্ধের খবরকে একটু আড়াল করতে পেরেছে। একেবারে যুদ্ধটা আড়াল করে ফেলতে পারতো!

বিশ্বকাপে ৮ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে করেননি ম্যারাডোনা

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে ৮ গোলের একটিও পেনাল্টি থেকে করেননি ম্যারাডোনা
সংগৃহীত ছবি

ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনা। ১৯৮৬ সালে একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো এই মহানায়ককে নিয়ে আলোচনার শেষ নেই। তবে মজার বিষয় নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৪টি বিশ্বকাপ খেললেও মূল ম্যাচে পেনাল্টি থেকে কোনো গোল করেননি ম্যারাডোনা!

ফুটবলের বিশ্বমঞ্চে পেনাল্টি থেকে গোল করে অনেক তারকা নিজেদের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে নিয়েছেন, তবে ‘এল দিয়েগো’র ক্ষেত্রে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন।

আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দিয়েগো ম্যারাডোনা ১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০ এবং ১৯৯৪ বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বমঞ্চে মোট ২১টি ম্যাচ খেলে তিনি গোল করেছেন ৮টি। কিন্তু এই ৮টি গোলের একটিও পেনাল্টি স্পট থেকে আসেনি। তার করা প্রতিটি গোলই ছিল ওপেন প্লে বা সেট-পিস (ফ্রি-কিক) থেকে।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, ১৯৯০ সালের ইতালি বিশ্বকাপে যুগোস্লাভিয়া এবং ইতালির বিপক্ষে ম্যাচ টাইব্রেকারে গড়ালে ম্যারাডোনা পেনাল্টি শ্যুট-আউটে শট নিয়েছিলেন। তবে ফুটবলের নিয়মানুযায়ী, টাইব্রেকারের গোলগুলো কোনো খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত গোল হিসেবে গণনা করা হয় না। 

বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া দলে নিখিল চৌধুরী

ক্রীড়া ডেস্ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়া দলে নিখিল চৌধুরী
নিখিল চৌধুরী

বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টি-টোয়েন্টি সিরিজের জন্য দলে নতুন মুখ যোগ করেছে অস্ট্রেলিয়া। অলরাউন্ডার নিখিল চৌধুরীকে স্কোয়াডে অন্তর্ভুক্ত করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া।

শুক্রবার ঢাকায় এসে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন নিখিল। এরপর সতীর্থদের সঙ্গে সিরিজের প্রস্তুতি শুরু করবেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক টনি ডোডেমাইড জানান, নিখিল দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় দলের নজরদারিতে ছিলেন। বাংলাদেশ সফরের জন্য তিনি স্ট্যান্ডবাই খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত ছিলেন এবং ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত প্রাক-মৌসুম ক্যাম্পেও অংশ নিয়েছিলেন। ট্রাভিস হেডের পরিবর্তে তাকে স্কোয়াডে নেওয়া হয়েছে।

ডোডেমাইড বলেন, ‘নিখিল বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের আগ্রহের একজন খেলোয়াড়। বিশেষ করে গত মৌসুমে বিগ ব্যাশ লিগে তার পারফরম্যান্স নির্বাচকদের মুগ্ধ করেছে। এ কারণেই তাকে দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, চলতি বছরের আইপিএলে দিল্লি ক্যাপিটালসের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন নিখিল। বাংলাদেশের কন্ডিশনে খেলার অভিজ্ঞতা তার ক্যারিয়ারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে বলেও মনে করেন নির্বাচকরা।

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টির একাদশ নির্বাচন করা হলে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে অভিষেকের সুযোগও পেতে পারেন নিখিল চৌধুরী।

দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনা পেলেন নিষিদ্ধ সেই রেফারি

ক্রীড়া ডেস্ক
দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনা পেলেন নিষিদ্ধ সেই রেফারি
বিমানবন্দরে ওমর আরতানিকে স্বাগত জানানো হয়। ছবি : সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দায়িত্ব পালনের স্বপ্ন ভেঙে গেলেও দেশে ফিরে বীরের সংবর্ধনা পেয়েছেন সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান। যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি না পেয়ে বিশ্বকাপের রেফারিং প্যানেল থেকে বাদ পড়া এই ম্যাচ কর্মকর্তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে ভিড় করেন দেশটির সরকারি কর্মকর্তা, ফুটবল ফেডারেশনের প্রতিনিধি, সহকর্মী রেফারি এবং সাধারণ মানুষ।

৩৪ বছর বয়সী আরতান ছিলেন ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য নির্বাচিত ৫২ জন রেফারির একজন। প্রথম সোমালিয়ান হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে ম্যাচ পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ফ্লোরিডায় রেফারিদের প্রস্তুতি ক্যাম্পে যোগ দিতে গিয়ে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মার্কিন সীমান্ত ও অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হাতে আটকা পড়েন।

মার্কিন প্রশাসনের দাবি, অতিরিক্ত নিরাপত্তা যাচাইয়ের সময় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী সংগঠনের সন্দেহভাজন সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বা সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যায়। এর ভিত্তিতেই তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অযোগ্য ঘোষণা করে ফেরত পাঠানো হয়। তবে আরতান শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন।

প্রায় ১১ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে তুরস্ক হয়ে নিজ দেশ সোমালিয়ায় ফেরত পাঠানো হয়। বুধবার মোগাদিসুতে পৌঁছালে তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরে দেশটির প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন তিনি।