• ই-পেপার

বর্ণাঢ্য আয়োজনে ছয় জাতির হ্যান্ডবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

স্বপ্ন ছুঁতে পারবেন ‘বুড়ো’ রোনালদো?

ক্রীড়া ডেস্ক
স্বপ্ন ছুঁতে পারবেন ‘বুড়ো’ রোনালদো?
বিশ্বকাপ জিতে এমন উদযাপন করার স্বপ্নই দেখছেন এবার রোনালদো। ছবি : রয়টার্স

বয়স বেড়েছে। গতিও কিছুটা কমেছে। কিন্তু মনের জোরে কোনো হেরফের নেই। ক্ষুধাও ঠিক আগের মতোই আছে। গোধূলিলগ্নে পৌঁছালেও তাই কৈশোরের সেই তীব্র আকাঙ্ক্ষাই দেখা যায় তার মুখায়বে।

তা না হলে ৪১ বছর বয়সেও কেন হাঁটুর বয়সী ছেলেদের সঙ্গে লড়তে হবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে। নিজের সমবয়সী কিংবা বয়সে অনেক ছোটরাও তো বুটজোড়া তুলে রেখেছেন সেই কবে। এখন পুরো সময় দিচ্ছেন পরিবারকে। ‘সিআর সেভেনেরও’ সে পথেই হাঁটার কথা ছিল এতদিনে।

কিন্তু আজন্ম এক স্বপ্ন তাড়া করছে রোনালদোকে। যা পূরণ না হওয়ায় ‘শান্তির ঘুম’ দিতে পারছেন না তিনি। এ পি জে আবদুল কালামের সেই বিখ্যাত উক্তিটি হয়তো রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক ফরোয়ার্ডের ক্ষেত্রে আরো সত্য। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি বলেছেন, ‘মানুষ ঘুমিয়ে যা দেখে তা স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন হলো সেটাই—যা মানুষকে ঘুমাতে দেয় না।’

স্বপ্ন পূরণের অনেক সুযোগ পেয়েছিলেন রোনালদো। কিন্তু ভাগ্য দেবতা তার পাশে ছিলেন না। তা না হলে ৫ বার বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েও কেন-ই-বা সোনালি ট্রফিটায় চুমু এঁকে দিতে পারলেন না। কেউ কেউ তো একবারেই বাজিমাত করেছেন।

বিশ্ব মঞ্চে পর্তুগালের হয়ে রোনালদোর সেরা সাফল্য শেষ চারে খেলা। ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে। পরের তিন বিশ্বকাপে শুধুই হতাশার গল্প সংগ্রহ করেছে। সর্বশেষ ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে দারুণ কিছু করার স্বপ্ন দেখছিল তারা। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালেই শেষ হয় তাদের পথচলা।      

কাতার বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পর তাই মনের দুঃখে ইনস্টাগ্রামে রোনালদো লিখেছিলেন, ‘পর্তুগালের হয়ে বিশ্বকাপ জয় ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ও উচ্চাভিলাসী স্বপ্ন।’

রোনালদো পোস্টের শেষটা করেছিলেন এভাবে, ‘স্বপ্নটা যতদিন বেঁচে ছিল সত্যি সুন্দর ছিল।’ তখন সবার মনে হয়েছিল বিশ্বকাপে আর হয়তো দেখা যাবে না পর্তুগাল কিংবদন্তিকে। এমনটা ভাবা স্বাভাবিকই ছিল। শেষ আটে মরক্কোর কাছে হারার পর টানেলের ভেতরে শিশুদের মতো ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার দৃশ্যও তো তার ক্যারিয়ারের উপসংহারকেই ইঙ্গিত দিচ্ছিল।

সেই রোনালদোই ৪ বছর পর আবার বিশ্বকাপ মাতাবেন। অমরত্বের স্বাদ পাওয়ার শেষ সুযোগ পাচ্ছেন। শেষ ভালো যার সব ভালো তার করতে পাশে পাচ্ছেন দুর্দান্ত সতীর্থদের। যারা এখন ইউরোপীয় ফুটবল মাতাচ্ছেন। পিএসজির টানা দ্বিতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের কাণ্ডারিদের পাশে পাচ্ছেন আল নাসরের ফরোয়ার্ড। ভিতিনহা-জোয়াও নেভেস-নুনো মেন্ডেসদের সঙ্গে থাকছেন অভিজ্ঞ ব্রুনো ফার্নান্দেস ও বেনার্দো সিলভা। সঙ্গে আক্রমণভাগে রোনালদোর সঙ্গে জুটি বাঁধবেন জোয়াও ফিলিক্স-রাফায়েল লিয়াওরা।

এবারের বিশ্বকাপের স্কোয়াডকে তাই অনেকে ‘সোনালি প্রজন্ম’ বলছে। ১৯৬৬ বিশ্বকাপে খেলা উইঙ্গার আন্তোনিও সিমায়েশ তাই মনে করেন এবার সোনালি ট্রফিটা তাদের শোকেসেই শোভা পাবে। পর্তুগালের সাবেক উইঙ্গার বলেছেন, ‘এই প্রজন্মের সবকিছু আছে। তাদের শক্তিশালী রক্ষণভাগ আছে, আক্রমণভাগে নিঁখুত গোলশিকারি আছে, মিডফিল্ডে সৃষ্টিশীল খেলোয়াড়ও আছে। দলে সৃষ্টিশীল খেলোয়াড় না থাকলে যেকোনো অবস্থাতেই সেই দলকে সংগ্রাম করতে হয়। পর্তুগালের সে সব খেলোয়াড় আছে। তাই কখনোই গর্ব ও একতা হারানো উচিত হবে না পর্তুগালের। আশা করি, ইতিহাস গড়ার সংকল্প নিয়ে মাঠে নামবে খেলোয়াড়রা।’

ব্যক্তিগত সব পুরস্কারই রোনালদোর নামের পাশে আছে, সোনালি ট্রফিটা ছাড়া। কিছু রেকর্ডে তো তার ধারেকাছে নেই কেউই। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বোচ্চ ২২৬ ম্যাচ খেলার সঙ্গে গোলের রেকর্ডটাও তার (১৪৩)। প্রথম ফুটবলার হিসেবে হাজার গোলের পথেও আছেন ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী। পেশাদার ক্যারিয়ারে তার গোলের সংখ্যা এখন ৯৭৩।

রোনালদোর তাই এবার বিশ্বকাপ ট্রফি উঁচিয়ে ধরার পালা। যেমনটা ‘বুড়ো হাড়ের ভেলকি’ দেখিয়ে কাতার বিশ্বকাপে তারই চিরপ্রতিন্দন্দ্বী লিওনেল মেসি স্বর্গের সাক্ষাৎ পেয়েছেন।

আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মুশফিক-তাইজুল

ক্রীড়া ডেস্ক
আইসিসির মাসসেরা খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকায় মুশফিক-তাইজুল
ছবি : মীর ফরিদ

মে মাসের ‘আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ’ পুরস্কারের জন্য মনোনীত সেরা পুরুষ-নারী খেলোয়াড়ের সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছে আইসিসি। পাকিস্তান সিরিজে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্সের সুবাদে পুরুষদের তালিকায় জায়গায় করে নিয়েছেন বাংলাদেশের তারকা ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম ও স্পিনার তাইজুল ইসলাম। তাদের সঙ্গে এই সংক্ষিপ্ত তালিকায় রয়েছেন নেপালের তারকা অলরাউন্ডার দীপেন্দ্র সিং আইরি। নারীদের তালিকায় ইংল্যান্ডের পেসার লরেন বেল, পাকিস্তানের ব্যাটার গুল ফিরোজা এবং নিউজিল্যান্ডের ব্যাটার ম্যাডি গ্রিন জায়গা করে নিয়েছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ২-০ ব্যবধানে জেতা টেস্ট সিরিজে চমৎকার পারফরম্যান্সের সুবাদে দলে জায়গা পেয়েছেন তাইজুল ও মুশফিকুর। অন্যদিকে আইরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সেঞ্চুরির পর বল হাতে দুর্দান্ত ফর্মের সুবাদে তালিকায় জায়গা করে নেন।

মুশফিকুর রহিম : ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ জয়ের পথে দুর্দান্ত পারফর্ম করেন। দুই টেস্টে ৬৩.২৫ গড়ে তিনি মোট ২৫৩ রান সংগ্রহ করেন। যার মধ্যে দ্বিতীয় টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে অসাধারণ ১৩৭ রানের একটি ইনিংসও ছিল।

তাইজুল ইসলাম : দলের জয়ে বোলিং আক্রমণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন এই বাঁহাতি স্পিনার। দুই ম্যাচের সিরিজে তিনি সর্বোচ্চ ১৩ উইকেট শিকার করেন ১৯.৬১ গড়ে।

নারীদের মধ্যে ইংল্যান্ডের পেসার লরেন বেল নিউজিল্যান্ড ও ভারতের বিপক্ষে ঘরের মাঠে ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি সিরিজে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। এদিকে ইংল্যান্ড সিরিজে ভালো করার পুরস্কার হিসেবে দলে জায়গা করে নিয়েছে গ্রিন। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দুটি ওডিআই সেঞ্চুরি করে গাল সংক্ষিপ্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।

র‌্যাংকিংয়ে বিশাল লাফ নাহিদ রানার

ক্রীড়া ডেস্ক
র‌্যাংকিংয়ে বিশাল লাফ নাহিদ রানার
বাংলাদেশ দলের ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা। ছবি: মীর ফরিদ

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২১ বছর পর ওয়ানডে জিতেছে বাংলাদেশ। মিরপুরে গতকাল বাংলাদেশের বড় জয়ে নাহিদ রানা চমৎকার বোলিং (৪১ রানে ৪ উইকেট) করেছেন। সেটির ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে আইসিসি র‌্যাংকিংয়ে। 

ওয়ানডে বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে বিশাল লাফ দিয়েছেন আলোচিত ফাস্ট বোলার নাহিদ। ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে উন্নতি করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসানও।

আজ বুধবার (১০ জুন) হালনাগাদ র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে আইসিসি। যেখানে ওয়ানডে বোলারদের মধ্যে ২৩ ধাপ এগিয়েছেন নাহিদ। ব্যাটারদের তালিকায় শান্তর অগ্রগতি দুই ধাপ, তানজিদের সাত।

ওয়ানডের বোলারদের র‌্যাংকিংয়ে এখন ২৪তম স্থানে আছেন নাহিদ, যা তার ক্যারিয়ারসেরা। বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে তার ওপরে আছেন শুধু একজন@অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। আগের মতোই ৮ নম্বরে অবস্থান করছেন মিরাজ।

কাল অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৪ রান দিয়ে ২ উইকেট নেওয়া অভিজ্ঞ বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের অগ্রগতি দুই ধাপ, অবস্থান ৩৭তম। অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের মধ্যে ১৩ ধাপ এগিয়ে এখন ৩১তম স্থানে নাথান এলিস।

ওয়ানডে র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থানে কোনো পরিবর্তন আসেনি। ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের ড্যারিল মিচেল, বোলিংয়ে আফগানিস্তানের রশিদ খান ও অলরাউন্ডার তালিকায় রশিদের স্বদেশি আজমতউল্লাহ ওমরজাই যথারীতি ১ নম্বরে আছেন। 

তবে টেস্ট ব্যাটারদের র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষস্থান হারিয়েছেন ইংল্যান্ডের জো রুট। তার জায়গা নিয়েছেন সতীর্থ হ্যারি ব্রুক। 

‘শেষ’ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবেন কি দুই মহাতারকা?

ক্রীড়া ডেস্ক
‘শেষ’ বিশ্বকাপে মুখোমুখি হবেন কি দুই মহাতারকা?

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপেই শেষ হতে চলেছে দুই মহাতারকা মেসি-রোনালদোর ক্যারিয়ার। এই দুই মহাতারকা সর্বশেষ ২০২০ সালের উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপপর্বে বার্সেলোনা ও জুভেন্টাস ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল। এর দীর্ঘ ছয় বছর আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মুখোমুখি হননি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্দো। শেষবার কি এই দ্বৈরথের দেখতে পারবে ফুটবল বিশ্ব।

এই অপেক্ষার অবসান হতে পারে আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপে। দুই আলাদা গ্রুপে রয়েছে আর্জেন্তিনা ও পর্তুগাল। তবে নকআউট পর্বে মুখোমুখি হতে পারে তারা। মেলাতে হবে তিনটি অঙ্ক। কিভাবে মুখোমুখি হবেন মেসি-রোনালদো?

বিশ্বকাপে ‘জে’ গ্রুপে রয়েছে আর্জেন্টিনা আর পর্তুগাল রয়েছে গ্রুপ ‘কে’তে। যে সম্ভাবনায় মুখোমুখি হতে পারেন এই দুই মহাতারকা। 

 উভয়দলই নিজ নিজ গ্রুপে  শীর্ষস্থান নিয়ে করে রাউন্ড অফ বত্রিশে যায়। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল নকআউট পর্বেও জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয়। তা হলে কোয়ার্টার ফাইনালেই হবে মেসি বনাম রোনালদো মহারণ।

যদি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল দুই দলই নিজেদের গ্রুপে রানার্সআপ হিসেবে শেষ করে, তা হলে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হবে না। সে ক্ষেত্রে শেষ ষোলোয় মেসি বনাম রোনালদো ম্যাচ দেখতে পারেন ফুটবলপ্রেমীরা। তবে এই সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে কম বলেই মনে করা হচ্ছে।

যদি আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের মধ্যে একটি দল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়  অন্যটি রানার্সআপ হিসেবে নক আউটে ওঠে। তা হলে তাদের পথ আলাদা হয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে মেসি ও রোনালদো একমাত্র বিশ্বকাপ ফাইনালেই মুখোমুখি হতে পারবেন। ১৯ জুলাই নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা ম্যাচে একে অন্যের বিরুদ্ধে নামতে পারেন দুই তারকা।

আর এই সম্ভাবনা নিয়েই জোর চর্চা চলছে। বিশ্বকাপ ফাইনালে মেসি বনাম রোনালদো ম্যাচ ফুটবলপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের লাইন-আপ। আর দুই তারকার কাছেই এটা হতে পারে শেষ বিশ্বকাপ। তাই বিশ্বকাপের মঞ্চে আরো একবার মেসি-রোনালদো দ্বৈরথ দেখার আশায় বুক বাঁধছেন ভক্তরা।