ফুটবল ইতিহাসের এক পরম বৃত্ত সম্পূর্ণ হলো আটলান্টায়। আরও একটি মহাকাব্যিক জয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে শেষ ধাপে পা রাখল আর্জেন্টিনা। পিছিয়ে পড়ার পরও আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। আর চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংলিশদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানের এই অবিস্মরণীয় জয়কে আর্জেন্টিনার প্রয়াত ফুটবল কিংবদন্তি দিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে উৎসর্গ করেছেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
টানা দ্বিতীয় এবং শেষ চার আসরের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে লাতিন পরাশক্তিরা। এই ম্যাচের স্কোরলাইন যেন ফুটবল রোমান্টিকদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে ঠিক ৪০ বছর আগে, ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে। সেবার কোয়ার্টার-ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জাদুকরী ফুটবল উপহার দিয়েছিলেন ম্যারাদোনা। ফকল্যান্ড যুদ্ধের ক্ষত বুকে নিয়ে ২-১ গোলের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পথে ম্যারাদোনা করেছিলেন ইতিহাসের অন্যতম বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং শতাব্দীর সেরা ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’।
চলতি বিশ্বকাপে হয়তো ম্যারাদোনার মতো একক কোনো জাদুকরী মুহূর্তের অবতারণা করতে হয়নি, তবে পিছিয়ে পড়ার পর যেভাবে পুরো দল নিজেদের উজাড় করে দিয়েছে, তা কোনো অংশে কম নয়। প্রতিপক্ষের জালে একের পর এক আক্রমণ শানিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই জয় ছিনিয়ে এনেছেন মেসিরা।
বিশেষ করে পিছিয়ে পড়ার পর ম্যাচের বাকি সময়ে প্রায় ৮৮ শতাংশ বল পজেশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে ইংলিশ ডিফেন্সকে রীতিমতো চূর্ণবিচূর্ণ করে দেয় আর্জেন্টিনা। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে এনজো ফের্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজের করা দুটি গোলেই জাদুকরের মতো অবদান রাখেন অধিনায়ক লিওনেল মেসি।
ম্যাচ শেষে ‘টিওয়াইসি স্পোর্টস’-এর মুখোমুখি হয়ে রোমাঞ্চকর এই জয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অবধারিতভাবেই নিজের মেন্টর ও প্রিয় ‘দিয়েগো’র প্রসঙ্গ টানেন মেসি।
আর্জেন্টাইন অধিনায়ক বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, দিয়েগো ওপর থেকে আজকের ম্যাচটি খুব উপভোগ করছেন। কারণ, আজকের দিনটি তার জন্য খুবই বিশেষ ও আবেগের একটি দিন। তাকে এই আনন্দ দিতে পারা এবং ওপর থেকে তিনি যেভাবে চান সেভাবে এটি উদযাপন করতে পারাটা সত্যিই দারুণ এক অনুভূতি। তাকে এই মুহূর্তটা উপভোগ করতে দিন, কারণ এই জয় তার জন্য আমাদের এক পরম উপহার।’




