• ই-পেপার

হারিস রউফকে জার্সি উপহার দিলেন কোহলি

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে মাঠের বাইরে ২ তারকা ফুটবলার

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচে মাঠের বাইরে ২ তারকা ফুটবলার
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে ইংল্যান্ড শিবির। আলবিসেলেস্তেদের রুখে দেওয়ার মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দুই তারকা ফুটবলারকে পাচ্ছেন না থ্রি-লায়ন্সদের প্রধান কোচ থমাস টুখেল। তারা হলেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার জর্ডান হেন্ডারসন ও তরুণ ডিফেন্ডার জারেল কুয়ানসাহ। 

মেক্সিকোর বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচে নাটকীয় জয়ের পর উদযাপনের সময় হাত ভেঙে যায় হেন্ডারসনের। এরপর তাকে দ্রুত অস্ত্রোপচারের টেবিলে বসতে হয়। বর্তমানে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ায় সেমিফাইনালের মঞ্চে দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে তাকে। অন্যদিকে, একই ম্যাচে প্রতিপক্ষকে ফাউল করে সরাসরি লাল কার্ড দেখেছিলেন ডিফেন্ডার জারেল কুয়ানসাহ। নিষেধাজ্ঞা থাকায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে হাইভোল্টেজ এই ম্যাচে ডাগআউটে বসেই কাটাতে হবে তাকে।

তবে এই দুই ধাক্কার মাঝেও টুখেল শিবিরের জন্য স্বস্তির খবর, দলের বাকি সদস্যরা পুরোপুরি ফিট রয়েছেন। ফলে শুরুর একাদশ সাজাতে বেশ কয়েকটি বিকল্প মাথায় রাখছেন ইংলিশ বস। চলতি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত টানা দুই ম্যাচে একই ব্যাক ফোর (রক্ষণভাগ) খেলাননি টুখেল। তবে নরওয়ের বিপক্ষে কোয়ার্টার-ফাইনালের জয়ী রক্ষণভাগকেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও ধরে রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

কোয়ার্টারে নরওয়েকে ২-১ ব্যবধানে হারানোর ম্যাচে রক্ষণভাগে অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন এজরি কনসা, জন স্টোনস, মার্ক গেহি ও নিকো ও'রাইলি। তাদের পারফরম্যান্সে বেশ সন্তুষ্ট টুখেল। তাই সেমিফাইনালেও এই চার প্রাচীরের ওপরই ভরসা রাখতে পারেন তিনি।

এদিকে ইংলিশ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছেন মাঝমাঠের প্রাণভোমরা ডেকলান রাইস। অসুস্থতার কারণে নরওয়ে ম্যাচের আগে ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিতে পারেননি তিনি। তবে সোমবারই বিবিসি স্পোর্টস সুখবর দিয়ে জানায়, অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছেন রাইস। মঙ্গলবারের অনুশীলনেও তাকে পুরো উদ্যমে সতীর্থদের সাথে ঘাম ঝরাতে দেখা গেছে।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেমিফাইনালের মহারণে শুরুর একাদশেই দেখা যাবে ডেকলান রাইসকে।  
 

রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, কখন কিভাবে দেখবেন

ক্রীড়া ডেস্ক
রাতে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনাল, কখন কিভাবে দেখবেন
ছবি : রয়টার্স

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের উন্মাদনা ও উত্তেজনার কোনো সীমা নেই। আর যদি হয় আর্জেন্টিনার ম্যাচ, তবে তো ভক্তদের আগ্রহের কোনো কমতি থাকে না। সেমিফাইনালে আজ রাত ১ টায় ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা।

ঘরে বসেই টিভিতে দেশের তিনটি চ্যানেলে দেখা যাবে ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার খেলা। রাষ্ট্রীয় চ্যানেল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ছাড়াও এই ফুটবল মহাযজ্ঞের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করবে টি স্পোর্টস ও সময় টেলিভিশন।

এছাড়া মোবাইল ফোন কিংবা ল্যাপটপ থেকেও ম্যাচগুলো উপভোগ করতে পারবেন দর্শকরা। তবে সেক্ষেত্রে সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে।

নির্দিষ্ট সাবস্ক্রিপশন ফি দিয়ে মোবাইল ফোন ও স্মার্ট ডিভাইসে মাই রবি অ্যাপ, বাংলালিংকের টফি ও গ্রামীণফোনের বায়োস্কোপে ঘরে বসেই ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ উপভোগ করতে পারবেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। এ ছাড়া পাড়া-মহল্লার বিভিন্ন জায়গায় বড় পর্দায় দেখানো হচ্ছে বিশ্বকাপ।

ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা সেই গোল কেন বাতিল হয়নি?

অনলাইন ডেস্ক
ম্যারাডোনার হাত দিয়ে করা সেই গোল কেন বাতিল হয়নি?

ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত গোলগুলোর একটি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে বাঁ হাত দিয়ে করা সেই গোলটি আজও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রশ্ন ওঠে—স্পষ্ট হ্যান্ডবল হওয়া সত্ত্বেও কেন গোলটি বাতিল করা হয়নি?

এর সহজ উত্তর, ম্যাচের রেফারি আলী বিন নাসের এবং সহকারী রেফারি বোগদান দোচেভ—দুজনেরই নজর এড়িয়ে গিয়েছিল ঘটনাটি।

ফকল্যান্ড যুদ্ধের চার বছর পর অনুষ্ঠিত হওয়ায় আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড ম্যাচটি ছিল রাজনৈতিক ও আবেগঘন উত্তেজনায় ভরপুর। প্রথমার্ধ গোলশূন্য থাকার পর ম্যাচের ৫১তম মিনিটে ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার স্টিভ হজের ভুল ক্লিয়ারেন্স থেকে বল উঠে যায় পেনাল্টি এলাকায়। গোলরক্ষক পিটার শিলটনের সঙ্গে বলের জন্য লাফিয়ে ওঠেন ম্যারাডোনা। উচ্চতার ঘাটতি পুষিয়ে নিতে বাঁ হাত দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি।

ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা তীব্র প্রতিবাদ জানালেও রেফারি গোলের বাঁশি বাজান। পরে ম্যারাডোনা নিজেই এই গোলকে আখ্যা দেন ‘হ্যান্ড অব গড’—অর্থাৎ ‘ঈশ্বরের হাত’।

বিতর্কিত সেই গোলের মাত্র চার মিনিট পরই ম্যারাডোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলটি করেন। নিজের অর্ধ থেকে বল নিয়ে একের পর এক ইংলিশ ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে গোলরক্ষক শিলটনকে পরাস্ত করে জালে বল জড়ান। গোলটি পরে ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

ম্যাচের শেষ দিকে গ্যারি লিনেকার একটি গোল শোধ করলেও ২-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠে আর্জেন্টিনা। পরে বেলজিয়াম ও পশ্চিম জার্মানিকে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয় করে দলটি।

বহু বছর পর রেফারি আলী বিন নাসের জানান, ঘটনাটি তার দৃষ্টিসীমার বাইরে ছিল।

বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নাসের বলেছিলেন, ‘ইংলিশ ডিফেন্ডারের কাছে বল ছিল, তিনি সেটি পেছনে পাঠান এবং ম্যারাডোনা পিটার শিলটনের সঙ্গে শূন্যে লাফিয়ে ওঠেন। তখন তারা দুজনেই আমার উল্টো দিকে মুখ করে ছিল। তাদের মুখ ছিল আমার সহকারী রেফারি বুলগেরিয়ার বোগদান দোচেভের দিকে। প্রথমে আমি কিছুটা দ্বিধায় ছিলাম। আমি দোচেভের দিকে তাকালাম। তিনি মাঠের মাঝখানের দিকে হেঁটে যাচ্ছিলেন এবং গোলটি নিশ্চিত করছিলেন। তিনি হ্যান্ডবলের কোনো সংকেত দেননি।’

তবে ২০১৭ সালে মারা যাওয়া দোচেভ বলেছিলেন যে, তার হাত বাঁধা (রূপক অর্থে) ছিল। গার্ডিয়ান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি বুলগেরিয়ান সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, ‘যদিও আমি তাৎক্ষণিকভাবে বুঝতে পেরেছিলাম যে কিছু একটা অনিয়ম হয়েছে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে ফিফা সহকারীদের রেফারির সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করার অনুমতি দিতো না।’

২০১৫ সালে নাসেরকে ম্যারাডোনা একটি আর্জেন্টিনার জার্সি উপহার দিয়েছিলেন, তাতে স্প্যানিশ ভাষায় লেখা ছিল ‘আলীর জন্য, আমার চিরকালের বন্ধু।’

ফাইনালে যাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে চান স্কালোনির ‘গুরু’ স্পেন কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালে যাদের প্রতিপক্ষ হিসেবে চান স্কালোনির ‘গুরু’ স্পেন কোচ
সংগৃহীত ছবি

মাঠজুড়ে নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ আর চোখধাঁধানো ছন্দের প্রদর্শনীতে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে স্পেন। কিলিয়ান এমবাপ্পে-উসমান দেম্বেলেদের বিশ্বসেরা আক্রমণভাগকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করে দীর্ঘ ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে পা রেখেছে ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফ্রান্স-বাধা পেরিয়ে শিরোপার মঞ্চে ওঠা স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে এখন অপেক্ষা করছেন ফাইনালের প্রতিপক্ষের। তবে মনে মনে স্প্যানিশ এই মাস্টারমাইন্ড ফাইনালে প্রতিপক্ষ হিসেবে চাচ্ছেন আর্জেন্টিনাকে। কারণটা আর কিছু নয়, ডাগআউটে গুরু-শিষ্যের এক মহাকাব্যিক লড়াইয়ের আকাঙ্ক্ষা।

আর্জেন্টিনার ডাগআউটে থাকা লিওনেল স্কালোনির সঙ্গে স্প্যানিশ কোচ লা ফুয়েন্তের সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের ও বেশ গভীর। রয়্যাল স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের (আরএফইএফ) কোচিং কোর্সে স্কালোনি যখন ছাত্র, তখন তার শিক্ষক বা ট্রেইনার ছিলেন এই লা ফুয়েন্তেই। ফলে স্কালোনির ফুটবল দর্শনের অনেকটাই গড়ে উঠেছে এই স্প্যানিশ গুরুর হাত ধরে।

আজ বুধবার দিবাগত রাতে আটালান্টায় দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এই ম্যাচের জয়ী দলই ফাইনালে লড়বে স্পেনের বিপক্ষে। দুই প্রতিপক্ষকে নিয়েই সমীহ ঝরেছে লা ফুয়েন্তের কণ্ঠে। তার মতে, এবারের সেমিফাইনাল দুটি ছিল আসলে ‘আগাম ফাইনাল’।

তবে প্রিয় শিষ্যের সঙ্গে শিরোপার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হতে পারলে যে বাড়তি আনন্দ পাবেন, তা লুকাতে চাননি স্প্যানিশ কোচ, ‘স্কালোনির সঙ্গে আমার বন্ধুত্বের কারণে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলতে পারলে দারুণ লাগবে। তবে ইংল্যান্ডও অত্যন্ত কঠিন প্রতিপক্ষ। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চার দলের সবাই এবার সেমিফাইনালে উঠেছে, যা এই লড়াইয়ের গভীরতা প্রমাণ করে।’

এদিকে গুরুর এমন আকাঙ্ক্ষার জবাবে কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা ঝরেছে আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনির কণ্ঠেও। ইংল্যান্ড ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘লুইসের (লা ফুয়েন্তে) জন্য আমি খুবই খুশি। তিনি এই সাফল্যের পুরোপুরি যোগ্য। লুইস অসাধারণ একজন মানুষ এবং ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই তিনি সব সময় আমাকে সাহায্য করেছেন।’

ফাইনালে দেখা হলে তো কথাই নেই, তবে ম্যাচ শেষে গুরুকে ফোন করার ব্যাপারে মজার এক সমীকরণ দিয়েছেন কাতার বিশ্বকাপজয়ী এই কোচ, ‘(সেমিফাইনালে) যদি আমরা জিতি, তাহলে হয়তো ফাইনালের আগে তাকে ফোন করব না। আর যদি হেরে যাই, তবে হয়তো তার সাহায্য চাইব। তবে আমার আশা, ফাইনাল শেষ হওয়ার আগে তাকে ফোন করার প্রয়োজন হবে না।’

হারিস রউফকে জার্সি উপহার দিলেন কোহলি | কালের কণ্ঠ