• ই-পেপার

কার্তিকের উৎসাহ মনে ধরেছে বাবরের

উত্তেজিত হয়ে রেফারিকে কি বলেছিলেন মেসি?

ক্রীড়া ডেস্ক
উত্তেজিত হয়ে রেফারিকে কি বলেছিলেন মেসি?

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নেমে দারুণ এক অগ্নিপরীক্ষাই দিতে হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে। মাঠের ফুটবলে প্রথমার্ধে আলবিসেলেস্তেরা লিড নিলেও দ্বিতীয়ার্ধে সমতা ফিরিয়ে সুইসরা ম্যাচ জমিয়ে তোলে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলের জয়ে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মেসিবাহিনী।

তবে ম্যাচের এই চরম উত্তেজনার মাঝে ফুটবলবিশ্বের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক লিওনেল মেসি ও পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনহেইরোর মধ্যকার মাঠের বাকবিতণ্ডা। প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক কী কারণে রেফারির ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছিলেন মেসি?

ম্যাচের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মাঠেই পর্তুগিজ রেফারি পিনহেইরোর মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড়িয়ে যান মেসি। রেফারির আচরণে স্পষ্ট অসন্তুষ্ট ও বিরক্ত আর্জেন্টাইন মহাতারকা আঙুল উঁচিয়ে সরাসরি তাকে সতর্ক করে বলেন, ‘ভালোভাবে কথা বলুন, অসম্মান করবেন না। আমার সঙ্গে সম্মান রেখে কথা বলুন। আমি আপনার সঙ্গে সম্মান রেখেই কথা বলেছি।’

রেফারির সঙ্গে এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের আগেই বড় এক ধাক্কা খেয়েছিলেন মেসি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে সুইজারল্যান্ডের এক খেলোয়াড়ের সঙ্গে বল দখলের লড়াইয়ে গিয়ে ডান চোখে মারাত্মক আঘাত পান তিনি। পরিস্থিতি এতটাই জটিল ছিল যে, পরবর্তীতে পানিবিরতির (ড্রিংকস ব্রেক) সময় দলের চিকিৎসকরা মাঠে নেমে তার চোখে বরফ দিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। তবে চোখের এই চোটও মাঠ থেকে থামাতে পারেনি ক্ষুদে জাদুকরকে। নিজে গোল না পেলেও পুরো ম্যাচ জুড়ে সুইস ডিফেন্সের ওপর একের পর এক আক্রমণের ঝড় তুলেছেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক।

১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ‘অপ্রতিরোধ্য’ আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
১০ জনের সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ‘অপ্রতিরোধ্য’ আর্জেন্টিনা

টাইব্রেকারের শঙ্কা যখন জেঁকে বসেছিল আর্জেন্টাইন শিবিরে, ঠিক তখনই ত্রাতা হয়ে এলেন হুলিয়ান আলভারেজ। অতিরিক্ত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে তার চোখধাঁধানো এক গোল এবং ইনজুরি টাইমে লাউতারো মার্তিনেসের লক্ষ্যভেদে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল আলবিসেলেস্তেরা। ১০ জনের লড়াকু সুইসদের প্রতিরোধ ভেঙে শেষ মুহূর্তের এই জোড়া গোলে উল্লাসে মাতল মেসিবাহিনী। 

এর আগে ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনা। নবম মিনিটেই কর্নার পায় তারা। কর্নার থেকে একেবারে মাপা শট নেন কাপ্তান লিওনেল মেসি। সুইসদের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে গোল পেতে হলে অনেকটা লাফাতে হতো ম্যাক অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান অ্যালিস্টার। দ্বিতীয় বার ঘেঁষে বল যখন জালে জড়ায়, সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কেবল তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। এই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ডান দিক থেকে থ্রু বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রিল এম্বোলো। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে। এনদোয়ে শট নিলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লকে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন। অবশ্য গোল হলেও সেটি বৈধ হতো না, কারণ তার আগেই এম্বোলোর অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন লাইন্সম্যান।

কিছুক্ষণ পর আবারও আক্রমণ। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস দূরের পোস্টে হেড করেন এনদোয়ে। তবে বাজপাখির মতো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে সুইস মিডফিল্ডারের এক জোরালো শট মার্তিনেসের সামনে ড্রপ খেয়ে দিক পাল্টালেও দক্ষতার সঙ্গে তা রুখে দেন এই গোলরক্ষক।

আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৬৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন এনদোয়ে। কোণাকুনি শটে পরাস্ত করেন মার্তিনেসকে। বল দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে সুইস শিবির।

গোল করার ঠিক ৫ মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। ফাউলের অভিনয় করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড এম্বোলোর। এর আগে ৬৯ মিনিটে রেফারি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শই হয়নি। ফলে ফাউলের অভিনয় করায় শাস্তি পান এম্বোলো।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডের ওপর আক্রমণের স্টিমরোলার চালায় আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের ক্রস থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পেয়ে ডান দিকে কাট ইন করে জোরালো শট নেন মেসি। কিন্তু বলটি বিপজ্জনকভাবে বাঁক খেয়ে পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে বক্সের ভেতর জটলার সৃষ্টি হলে লিসান্দ্রো মার্তিনেস একটি অ্যাক্রোবেটিক কিক নেন। তবে সুইস কিপার কোবেল সহজেই তা লুফে নিলে সমতাতেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। 

 

আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল ১০ জনের সুইজারল্যান্ড

ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনাকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে গেল ১০ জনের সুইজারল্যান্ড
ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে রোমাঞ্চের সবটুকু রঙ ছড়াল আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ড ম্যাচ। প্রথমার্ধেই লিওনেল মেসির জাদুকরী পাস আর ম্যাক অ্যালিস্টারের গোলে লিড নিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে সমতা ফেরায় সুইসরা। ম্যাচের শেষ ১৮ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেললেও আর্জেন্টিনার একের পর এক আক্রমণ বুক চিতিয়ে রুখে দিয়েছে সুইজারল্যান্ড। নির্ধারিত ৯০ মিনিটের খেলা ১-১ সমতায় শেষ হওয়ায় ম্যাচটি এখন গড়িয়েছে অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।

ম্যাচের শুরু থেকেই চেনা ছন্দে আক্রমণ শানাতে থাকে আর্জেন্টিনা। নবম মিনিটেই কর্নার পায় তারা। কর্নার থেকে একেবারে মাপা শট নেন কাপ্তান লিওনেল মেসি। সুইসদের দীর্ঘদেহী ডিফেন্ডারদের ফাঁকি দিয়ে গোল পেতে হলে অনেকটা লাফাতে হতো ম্যাক অ্যালিস্টারকে। তবে তার সামনে থাকা সুইস ডিফেন্ডার ম্যানুয়েল আকানজি লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি। সেই সুযোগটাই কাজে লাগান অ্যালিস্টার। দ্বিতীয় বার ঘেঁষে বল যখন জালে জড়ায়, সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেলের কেবল তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। এই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকেই প্রথমার্ধ শেষ করে আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে সুইজারল্যান্ড। ডান দিক থেকে থ্রু বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন ব্রিল এম্বোলো। তিনি বল বাড়িয়ে দেন বাঁ দিকে থাকা এনদোয়ের উদ্দেশ্যে। এনদোয়ে শট নিলেও লিসান্দ্রো মার্তিনেস দুর্দান্ত এক ব্লকে আর্জেন্টিনাকে রক্ষা করেন। অবশ্য গোল হলেও সেটি বৈধ হতো না, কারণ তার আগেই এম্বোলোর অফসাইডের পতাকা তুলেছিলেন লাইন্সম্যান।

কিছুক্ষণ পর আবারও আক্রমণ। বাঁ দিক থেকে ভেসে আসা ক্রস দূরের পোস্টে হেড করেন এনদোয়ে। তবে বাজপাখির মতো ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে বল আটকে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ। এরপর বক্সের বাইরে প্রায় ৩০ মিটার দূর থেকে সুইস মিডফিল্ডারের এক জোরালো শট মার্তিনেসের সামনে ড্রপ খেয়ে দিক পাল্টালেও দক্ষতার সঙ্গে তা রুখে দেন এই গোলরক্ষক।

আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৬৭ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায় সুইজারল্যান্ড। বাঁ দিকে রদ্রিগেজের সঙ্গে চমৎকার ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে পড়েন এনদোয়ে। কোণাকুনি শটে পরাস্ত করেন মার্তিনেসকে। বল দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়ালে উল্লাসে মাতে সুইস শিবির।

গোল করার ঠিক ৫ মিনিট পর বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। ফাউলের অভিনয় করার দায়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়তে হয় সুইস ফরোয়ার্ড এম্বোলোর। এর আগে ৬৯ মিনিটে রেফারি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর রিভিউতে দেখা যায় দুজনের মধ্যে কোনো সংস্পর্শই হয়নি। ফলে ফাউলের অভিনয় করায় শাস্তি পান এম্বোলো।

১০ জনের দলে পরিণত হওয়া সুইজারল্যান্ডের ওপর আক্রমণের স্টিমরোলার চালায় আর্জেন্টিনা। ৯০ মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের ক্রস থেকে ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

যোগ করা সময়ে বক্সের বাইরে বল পেয়ে ডান দিকে কাট ইন করে জোরালো শট নেন মেসি। কিন্তু বলটি বিপজ্জনকভাবে বাঁক খেয়ে পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে মেসির কর্নার থেকে বক্সের ভেতর জটলার সৃষ্টি হলে লিসান্দ্রো মার্তিনেস একটি অ্যাক্রোবেটিক কিক নেন। তবে সুইস কিপার কোবেল সহজেই তা লুফে নিলে সমতাতেই শেষ হয় নির্ধারিত সময়ের খেলা। 

এগিয়ে থেকেই বিরতিতে আর্জেন্টিনা

ক্রীড়া ডেস্ক
এগিয়ে থেকেই বিরতিতে আর্জেন্টিনা
ছবি : এক্স থেকে

কোয়ার্টার ফাইনালের শুরুটা দারুণ হয়েছে আর্জেন্টিনার। শুরুতেই কানসাস সিটিতে এগিয়ে গেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। অ্যালেক্সিস ম্যাক আলিস্টারের গোলে বিরতিতে গেছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের ১০ মিনিটে এগিয়ে যায় তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। লিওনেল মেসির কর্নার থেকে হেড গোরটি করেন অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। 

অ্যাসিস্ট করে রেকর্ড বইয়ে নাম তুলেছেন মেসি। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপে ১০ গোলে সহায়তা করার কীর্তি গড়েছেন ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। 

৩১ মিনিটে গোল শোধ দেওয়ার দারুণ সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড। তবে গোলবার ছেড়ে বেরিয়ে এসে প্রতিহত করেন গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।

এর আগে সুইজারল্যান্ডের কাছে কখনো হারেনি আর্জেন্টিনা। দুই দল ৭ বারের দেখায় আর্জেন্টিনা জিতেছে ৫ বার। বিপরীতে বাকি ২ ড্র হয়েছে।

কার্তিকের উৎসাহ মনে ধরেছে বাবরের | কালের কণ্ঠ