কানাডা ১-১ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা
ম্যাচ শেষে তুলনামূলকভাবে কারা বেশি খুশি, তা দুই দলের খেলোয়াড়দের দিকে তাকালেই বোঝা যায়।
টরন্টোর বিএমও ফিল্ডে উপস্থিত গুটি কয়েক সমর্থকদের উদ্দেশে করতালি দিতে থাকত বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা দল। সমর্থকরাও সেটির জবাব দিল আনন্দ চিত্তেই।
বিপরীতে কানাডিয়ানের দেখে মনে হলো মনমরা। কাইল লারিনের হতাশা ছিল সবচেয়ে বেশি। ৩১ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকারই কানাডকে ম্যাচে ফিরিয়েছেন। কিন্তু একদম শেষ দিকে যে সুযোগ হাতছাড়া করেছেন, সেটির জন্য নিশ্চয় আক্ষেপে পুড়ছেন।
লারিনের সেই মিসই যে অপেক্ষা বাড়াল কানাডার; বিশ্বকাপে একটা জয়ের অপেক্ষা। দেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে নেমে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করল কানাডা।
বিএমও ফিল্ডে ম্যাচের ২১ মিনিটে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন ইয়োভো লুকিচ। ৭৮ মিনিটে সমতাসূচক গোলটা করেন কাইল লারিন।
তবে জিততে না পারলেও নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এই প্রথম পয়েন্ট পেল কানাডা। উত্তর আমেরিকার দলটি এর আগে ১৯৮৬ ও ২০২২ বিশ্বকাপে তিনটি করে ছয়টি ম্যাচ খেলে হেরেছে সবকটিতে।
অন্যদিকে বসনিয়ার এটি দ্বিতীয় বিশ্বকাপ। ২০১৪ সালে নিজেদের অভিষেক আসরে তিন ম্যাচের দুটিতে হার ও একটিতে জয় ছিল ইউরোপের দেশটির। তবে বাদ পড়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক কানাডাকে রুখে দিয়ে শুরুটা দারুণ হলো তাদের।
চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইতালিকে বাছাই পর্বের প্লে অফ থেকে বিদায় করে এবারের বিশ্বকাপের টিকিট কেটেছিল বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। তবে ম্যাচটা আয়োজক কানাডার মাটিতে হওয়ায় ফুটবলবোদ্ধারা স্বাগতিকদেরই কিঞ্চিৎ এগিয়ে রেখেছিলেন। কাগজে-কলমে এগিয়ে থাকলেও মাঠে সেটির ছাপ দেখা যায়নি।
অবশ্য চোট থেকে পুরোপুরি সেরে না ওঠায় এই ম্যাচে অধিনায়ক আলফনসো ডেভিসকে পায়নি কানাডা। বায়ার্ন মিউনিখ তারকার অনুপস্থিতি দলকে বেশ ভুগিয়েছে।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ হলেও দুই দলই কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেলেছে। ম্যাচজুড়ে গোছালো আক্রমণ খুব কমই দেখা গেছে। বলা যায়, বল মাঠে থাকার চেয়ে মাঠের বাইরেই গেছে বেশি। দুই দল মিলিয়ে ৫৮টি থ্রো ইন সে কথাই বলে। মানে, প্রতি দেড় মিনিটে বল বাইরে গেছে। এর বাইরে ১৬টি গোল কিক ও ১৩টি কর্নার তো ছিলই।
এমনই এক কর্নার থেকে হেডে বসনিয়াকে এগিয়ে দেন লুকিচ। পিছিয়ে পড়ার পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে ওঠে কানাডা। প্রথমার্ধে সমতা প্রায় এনেছিল স্বাগতিকরা। কিন্তু বসনিয়া ডিফেন্ডার সেয়াদ কোলাসিনাক গোললাইন থেকে বল ক্লিয়ার করেন।
অবশেষে বদলি লারিনে ‘ডেড লক’ ভাঙে কানাডা। ৭৬ মিনিটে টানি ওলুওয়াসেয়ির জায়গায় মাঠে নামেন লারিন। এর ২ মিনিট পরেই চমৎকার শটে সমতা ফেরান এই স্ট্রাইকার।
তবে শেষ পর্যন্ত দুই দলকে সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়। ‘বি’ গ্রুপ থেকে তাদের পয়েন্ট সমান ১ করে।




