• ই-পেপার

জার্সি খুলে উদযাপন রোনালদোর, পেলেন কার্ড, পরে গোলটিও বাতিল

ফাইনালে উঠতে না পেরে রেফারিকে দুষলেন ফ্রান্সের কোচ

ক্রীড়া ডেস্ক
ফাইনালে উঠতে না পেরে রেফারিকে দুষলেন ফ্রান্সের কোচ
সংবাদ সম্মেলনে ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। ছবি: ফিফা

টানা তৃতীয়বার বিশ্বকাপ ফাইনালে খেলার হাতছানি ছিল ফ্রান্সের সামনে। তারকায় ঠাসা দলটার পক্ষে তা খুব কঠিন বলেও মনে হচ্ছিল না। 

কিন্তু ডালাসে আজ বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে পাত্তাই দিল না স্পেন। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য দেখিয়ে স্প্যানিশরা জিতল ২-০ গোলে। 

এমবাপ্পে-ওলিসে-দেম্বেলেদের সামর্থ্যের ছিটেফোঁটাও আজ দেখা যায়নি মাঠে। স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ তাদের এক রকম বোতলবন্দী করে রেখেছিল। তবে দল বাজে খেললেও হারের দায় রেফারিকে দিলেন ফ্রান্সের কোচ দিদিয়ের দেশম। 

এ ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পালন করেছেন এল সালভাদরের ইভান বার্তন, যিনি একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকও। বার্তনের কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন দেশম।

ম্যাচ শেষে দেশম বলেছেন, ‘এই রেফারির (বার্তনের) কি আদৌ বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মতো ম্যাচ পরিচালনা করার যোগ্যতা আছে? এখন কিছু বললে মনে হবে হেরে গিয়ে কাঁদছি। তবে এটা শুধু পেনাল্টির বিষয় না; অনেকগুলো ভুল সিদ্ধান্তের সমষ্টি। উত্তরটা আমি না, আপনারাই দিন।’

Mbappe
রেফারি ইভান বার্তনের সঙ্গে তর্কে জড়ান ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে। ছবি: ফিফা

ফ্রান্সের অধিনায়ক ও কোচ—উভয় ভূমিকায় অতীতে বিশ্বকাপ জেতা দেশমের মতে, ম্যাচে এমন কিছু সিদ্ধান্ত ছিল যা তার কাছে বোধগম্য হয়নি। বিশেষ করে কয়েকটি ফাউল ও শারীরিক সংঘর্ষের ক্ষেত্রে রেফারির সিদ্ধান্তে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন। 

৫৭ বছর বয়সী এই কোচের ভাষায়, ‘আমি রেফারির সব সিদ্ধান্ত বুঝতে পারিনি। কিছু পরিস্থিতিতে মনে হয়েছে সিদ্ধান্তগুলো আমাদের বিপক্ষে গেছে।’

তবে দেশম স্বীকার করেছেন, যোগ্য দল হিসেবেই স্পেন এই ম্যাচ জিতেছে, ‘স্পেন আমাদের চেয়ে ভালো খেলেছে। আমরা অনেক ভুল করেছি। বলের দখল ও কৌশলগত দিক থেকে তারা এগিয়ে ছিল।’

প্রথমার্ধে মিকেল ওইয়ারজাবালের পেনাল্টি থেকে এগিয়ে যায় স্পেন। দ্বিতীয়ার্ধে পেদ্রো পোরো ব্যবধান দ্বিগুণ করেন। ২০১০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্প্যানিশরা। 

সেমিফাইনাল হেরে যাওয়া ফ্রান্স এরপর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলবে। আগামী শনিবার রাতের সেই ম্যাচই ফ্রান্সের কোচ হিসেবে দেশমের শেষ ম্যাচ হয়ে থাকবে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ

১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন, অশ্রুসিক্ত বিদায় ফ্রান্সের

ক্রীড়া ডেস্ক
১৬ বছর পর ফাইনালে স্পেন, অশ্রুসিক্ত বিদায় ফ্রান্সের
বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার পর স্প্যানিশদের উচ্ছ্বাস। ছবি: সংগৃহীত

ফ্রান্স ০-২ স্পেন

রেফারি শেষ বাঁশি বাজানোর কিছুক্ষণ আগে টিভি ক্যামেরা ঘুরানো হলো এক ফরাসির শিশুর দিকে। মায়ের কোলে চড়ে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে সে। 

ধারাভাষ্যকার তখনই বললেন, ‘ফ্রান্সকে আজ পুরোপুরি নাস্তানাবুদ করে ছাড়ল স্পেন।’ আক্ষরিক অর্থেই তা-ই। 

অপ্টার সুপার কম্পিউটার থেকে শুরু করে দেশ-বিদেশের কতশত বিশেষজ্ঞ বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ফ্রান্সকে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে দিয়েছিল। 

কিন্তু স্কোয়াড দেখে ভবিষ্যদ্বাণী করা আর মাঠে খেলে জিতে আসা যে এক নয়, তা আবারো প্রমাণ করল স্পেন। ডালাসে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে স্প্যানিশদের কাছে পাত্তাই পেল না তারকায় ঠাসা ফরাসিরা। 

France
বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের হতাশায় মুখ ঢেকেছেন ফ্রান্সের দেজিরে দুয়ে। ছবি: ফিফা

পেনাল্টি থেকে মিকেল ওইয়ারজাবালের পর পেদ্রো পোরোর গোলে ফ্রান্স ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে উঠল স্পেন। আগামী রবিবার রাতে নিউ জার্সিতে শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে আর্জেন্টিনা অথবা ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে স্পেন। 

এর আগে একবারই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলেছিল স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আসরে চ্যাম্পিয়নও হয়েছিল তারা। 

অন্য দিনগুলোতে এমবাপ্পে, দেম্বেলে এবং ওলিসে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে ত্রাস সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু আজ স্পেনের জমাট রক্ষণের সামনে তারা যেন হয়ে পড়েছিলেন বোতলবন্দী। খুব বেশি গোলের সুযোগ তৈরি করা দূরে যাক, স্পেনের বক্সে ঢুকতেই বেগ পেতে হয়েছে তাদের। 

এই ম্যাচ জিতলে জার্মানি (১৯৮২, ১৯৮৬, ১৯৯০) ও ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২) পর তৃতীয় দল হিসেবে টানা তিন বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলার কীর্তি গড়ত ফ্রান্স। কিন্তু আজ তাদেরই হারিয়ে টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্ব রেকর্ডে ইতালিকে ছুঁয়ে ফেলল স্পেন।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন সবচেয়ে বেশি ম্যাচ না হারার রেকর্ড এখন যৌথভাবে ইতালি ও স্পেনের। স্প্যানিশদের আগে ইতালিয়ানরা এই কীর্তি গড়েছিল ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে। 

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ

ওইয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন

ক্রীড়া ডেস্ক
ওইয়ারজাবালের গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে স্পেন
মিকেল ওইয়ারজাবালের গোল উদযাপন। ছবি: ফিফা

ফ্রান্স ০-১ স্পেন (প্রথমার্ধ শেষে)

নিজেদের বক্সে বলটাকে ক্লিয়ার করতে চেয়েছিলেন লুকাস দিনিয়ে। কিন্তু বলের নাগাল না পেয়ে ভুলে লামিনে ইয়ামালকে মেরে বসলেন লাথি। 

ব্যস! সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির বাঁশি বাজালেন রেফারি ইভান বার্তন। ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এ নিয়ে অভিযোগ জানালেও কোনো লাভ হলো না। নিজের সিদ্ধান্তেই অনড় থাকলেন রেফারি।

তবে ইয়ামাল পেনাল্টি আদায় করিয়ে দিলেও তিনি শট নিলেন না। স্পট কিক করতে গেলেন স্পেনের মূল স্ট্রাইকার মিকেল ওইয়ারজাবাল এবং সফলও হলেন। তার উঁচু করে নেওয়া শট বাঁ দিকে ঝাপিয়ে পড়েও ঠেকাতে পারলেন না ফ্রান্সের গোলকিপার মাইক মেনিয়ঁ। 

ডালাসে বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালে ১-০ গোলে এগিয়ে গেল স্পেন। ফ্রান্সকে প্রবল চাপে রেখেই বিরতিতে গেল স্প্যানিশরা।

১০ বছর পর জানা গেল সেনেগাল দলের চিকিৎসক একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ

ক্রীড়া ডেস্ক
১০ বছর পর জানা গেল সেনেগাল দলের চিকিৎসক একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ
মাঠে এক খেলোয়াড়ের চিকিৎসা করছেন ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর। ছবি: সংগৃহীত

এবারের ফিফা বিশ্বকাপে কোনো রকমে গ্রুপ পর্বের বাধা টপকালেও বেশিদূর এগোতে পারেনি সেনেগাল। সাদিও মানের দল বাদ পড়েছে রাউন্ড অব ৩২ পর্ব থেকে। 

ব্যর্থ বিশ্বকাপ অভিযান শেষে সেনেগাল দল দেশে ফেরার পর রীতিমতো চুলচেরা বিশ্লেষণ ও ময়নাতদন্ত চলছে। এরই মধ্যে প্রধান কোচ পাপে থিয়াওসহ পুরো কোচিং স্টাফকে বরখাস্ত করেছে দেশটির ফুটবল ফেডারেশন (এফএসএফ)।

এবার সেনেগাল দলের দীর্ঘ দিনের চিকিৎসককে নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। এফএসএফ সভাপতি আব্দুলায়ে ফল দাবি করেছেন, প্রায় ১০ বছর ধরে জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করা ডাক্তার আব্দেরহমানে ফেদিওর মূলত একজন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ; ক্রীড়া চিকিৎসাবিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ নন।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুলায়ে ফল বলেন, ‘আমরা সম্প্রতি জানতে পেরেছি যে, জাতীয় দলের চিকিৎসক একজন গাইনোকোলজিস্ট। আমি আগে এটি জানতাম না।’

আব্দুলায়ে ফল আরো দাবি করেন, বিষয়টি জানার পর খেলোয়াড়দের চিকিৎসা সেবা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তার ভাষায়, ‘কয়েকজন খেলোয়াড় চিকিৎসা সহায়তা নিয়ে আস্থাহীনতায় ভুগছিল। এ কারণেই বিশ্বকাপের সময় অতিরিক্ত স্পোর্টস মেডিসিন বিশেষজ্ঞ নিয়োগ দিতে হয়।’

DOCTOR
সেনেগাল দলের চিকিৎসক ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর। ছবি; সংগৃহীত

তবে ফেডারেশন সভাপতির এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করেছে সেনেগালিজ অ্যাসোসিয়েশন অব স্পোর্টস মেডিসিন। সংস্থাটির এক বিবৃতিতে বলা হয়, ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর শুধু স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নন; তার ক্রীড়া চিকিৎসাবিজ্ঞান ও ক্রীড়া জীববিজ্ঞানে বিশেষ ডিপ্লোমা রয়েছে। 

সংস্থাটি আরো জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু চিকিৎসক তাদের মূল বিশেষায়নের পাশাপাশি স্পোর্টস মেডিসিনে অতিরিক্ত প্রশিক্ষণ নিয়ে জাতীয় দলের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেন। তাই কেবল ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর মূল বিশেষায়ন গাইনোকোলজি হওয়াকে অযোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে দেখানো ঠিক নয়।

বিবৃতিতে ফেডারেশন সভাপতির মন্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং একজন অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্নকারী’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

ফলে বিষয়টি এখন দুই পক্ষের ভিন্ন দাবির কারণে বিতর্কে রূপ নিয়েছে। একদিকে ফেডারেশন সভাপতির অভিযোগ, অন্যদিকে স্পোর্টস মেডিসিন অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওরের স্পোর্টস মেডিসিনে যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দীর্ঘ আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে। 

এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্তকারী সংস্থার বক্তব্য জানা যায়নি।

২০১৭ সালের শুরুর দিক থেকে সেনেগাল জাতীয় দলের সঙ্গে কাজ করছেন ডাক্তার আব্দেলরহমানে ফেদিওর। এই সময়ে তিনি তিনটি ফিফা বিশ্বকাপ ও পাঁচটি আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সে দলের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জার্সি খুলে উদযাপন রোনালদোর, পেলেন কার্ড, পরে গোলটিও বাতিল | কালের কণ্ঠ