৩৬ রানের লজ্জা ভুলতে মরিয়া ভারত, দলে ফেরাচ্ছে জাদেজাকে
আর্জেন্টিনাকে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন স্কালোনি
ক্রীড়া ডেস্ক
উচ্ছ্বসিত লিওনেল স্কালোনি। ছবি: ফিফা
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে আবার বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। আটলান্টায় মাত্র সাত মিনিটের ব্যবধানে লিওনেল মেসির জোড়া অ্যাসিস্টে গোল করে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নিয়েছে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি বললেন, ‘আমি ভাষাহীন। আমাদের দেশ ও মানুষের জন্য এটি বিশাল আনন্দের মুহূর্ত। এই অসাধারণ দলটিকে দেখে আমি মুগ্ধ। আমরা অবশ্যই শিরোপা জেতার চেষ্টা করব। কিন্তু আজকের ম্যাচের পর কথা বলাটাই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।’
এরপর খেলোয়াড়দের প্রশংসায় ভাসিয়ে স্কালোনি বললেন, ‘মানুষের পক্ষে বোঝা কঠিন, আমাদের খেলোয়াড়রা মাঠে কী অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে। আমরা অনন্য। এই কথা আমি অহংকার করে বলছি না।’
‘শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সবটুকু উজাড় করে দেওয়ার মর্যাদা এই জার্সির প্রাপ্য, কোনো কিছুই জমিয়ে রাখা উচিত নয়। আমাদের খেলোয়াড়রা আবারো প্রমাণ করেছে যে, সাধারণ মানুষের মতোই তারাও এই জার্সির টান মনে-প্রাণে অনুভব করে’—যোগ করেন স্কালোনি।
নিউ জার্সিতে আগামী রবিবার রাতে ফাইনালে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ স্পেন।
ঘুরে দাঁড়ানোর আরেকটি গল্প লিখে ফাইনালে আর্জেন্টিনা
ক্রীড়া ডেস্ক
আর্জেন্টিনা ২-১ ইংল্যান্ড
অবিশ্বাস্য, অকল্পনীয়, অননুমেয়, অভাবনীয়—এসব বিশেষণও এখন ক্লিশে হয়ে গেছে।
শুধু এটুকুই বলা যায়, আর্জেন্টিনা, আর কত!
এই আটলান্টাতেই মিশরের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। তবে তাদের সেই জয় নিয়ে ছিল অনেক বিতর্ক।
তবে আজ আর বিতর্কের কোনো সুযোগ দিলেন না মেসি-মার্তিনেজরা। অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে ইংল্যান্ড ৮৪ মিনিট পর্যন্ত এগিয়ে থাকলেও প্রত্যাবর্তনের আরেকটি অদম্য গল্প লিখল আর্জেন্টিনা। যাতে নেই কোনো বিতর্ক কিংবা সমালোচনার সুযোগ; আছে শুধু গর্ব করার মতো উপাদান।
৮৫ মিনিটে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে বুলেট গতির শটে সমতা ফেরালেন এনজো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে বদলি লাউতারো মার্তিনেজ করলেন জয়সূচক গোল। দুটি গোলেই বল বানিয়ে দিলেন মেসি।
জয়সূচক গোলের পর লিওনেল মেসিকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন লাউতারো মার্তিনেজ। ছবি: ফিফা
ব্যস! ইংল্যান্ডের হৃদয় ভেঙে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠল আর্জেন্টিনা। নিউ জার্সিতে আগামী রবিবার রাতে বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
মার্সিডিজ বেঞ্জ স্টেডিয়ামে দ্বিতীেয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধ ছিল হট্টগোলে ভরপুর। ফাউল ও বাজে ট্যাকলকে কেন্দ্র করে দুই দল প্রায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি শান্ত করতে এগিয়ে আসতে হয় রেফারি ইসমাইল এলফাতকে।
বিরতিতে যাওয়ার আগে দুই দল লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি। তবে ফাউল হয়েছে ১৯টি!
তখন অনেকেই হয়তো ভাবতে পারেননি, দ্বিতীয়ার্ধ এতটা রোমাঞ্চ উপহার দেওয়ার অপেক্ষায় আছে।
৫৫ মিনিটে ডান প্রান্তে মরগান রর্জাসরে ক্রসে দারুণ এক গোল করে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। নিজের বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়লেও বলের নাগাল পাননি আর্জেন্টিনার গোলকিপার এমিলিয়ানো মার্তিনেজ।
কিন্তু এই আর্জেন্টিনা যে হাল ছাড়তে জানে না! পিছিয়ে পড়ার পর গোলের জন্য হন্যে হয়ে ওঠেে আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু ইংল্যান্ডের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ডের বীরত্ব ও ম্যাক অ্যালিস্টার হেড পোস্টে লেগে ফেরায় তখন সমতা আনা হয়নি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
তবে মুহুর্মুহু আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণভাগের ওপর চাপ বাড়াতেই থাকে আর্জেন্টিনা। এর প্রথম সুফল পায় ৮৫ মিনিটে। মেসির পাস থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে সমতা আনেন এনজো ফার্নান্দেজ।
এরপর নির্ধারিত সময়ের খুব বেশি বাকি না থাকায় মনে হচ্ছিল, খেলা গড়াবে অতিরিক্ত সময়ে। কিন্তু আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনির ‘মাস্টারস্ট্রোক’ সেমিফাইনালের দৈর্ঘ্য আর বাড়তে দেয়নি। বদলি নামার ১০ মিনিট পরেই আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ।
ম্যাক অ্যালিস্টারের আরেকটি শট পোস্টে লেগে ফিরলে ডান দিকে বল পেয়ে যান মেসি। তার সামনে ইংল্যান্ডের দুই খেলোয়াড় থাকলেও বাধার দেয়াল তুলে দাঁড়াতে পারেননি। মেসি দারুণভাবে উঁচু করে ক্রস বাড়ান বক্সের জটলায় দাঁড়ানো মার্তিনেজের উদ্দেশে। সেখান থেকেই হেডে গোল করে আর্জেন্টিনা টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে তোলেন এই স্ট্রাইকার।
ইংল্যান্ড স্বপ্ন দেখেছিল ১৯৬৬ বিশ্বকাপের পর প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার। কিন্তু এবারে বিশ্বকাপে শেষ বত্রিশ, শেষ ষোলো ও কোয়ার্টার ফাইনালে ম্যাচের শেষ দিকে গোল করাকে অভ্যাসে পরিণত করা আর্জেন্টিনা আবার ঘুরে দাঁড়ানোয় অপেক্ষা বাড়ল তাদের।
ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার আশা এখন করতেই পারে আর্জেন্টিনা।
পিছিয়ে পড়ার পর গোলের জন্য হন্যে হয়ে উঠেছে আর্জেন্টিনা। কিন্তু ইংল্যান্ডের গোলকিপার জর্ডান পিকফোর্ডের বীরত্ব ও ম্যাক অ্যালিস্টার হেড পোস্টে লেগে ফেরায় সমতা আনা হয়নি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ মজা করে লিখেছেন, ‘যারা ফকল্যান্ড যুদ্ধ দেখেননি, তারা এই ম্যাচ দেখতে পারেন।’
দুই দলের খেলোয়াড়দের যুদ্ধংদেহী মনোভাব দেখে আরো অনেকেরই এমন মনে হওয়ার কথা। আটলান্টায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের প্রথমার্ধে গোল না হলেও উত্তেজনার কমতি ছিল না।
ফাউল ও বাজে ট্যাকলকে কেন্দ্র করে কয়েক দফা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়লেন মেসি-কেইনরা। অবস্থা প্রায় হাতাহাতির পর্যায়ে চলে গিয়েছিল। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসতে হলো রেফারি ইসমাইল এলফাতকে। ইংল্যান্ডের এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজ দেখলেন হলুদ কার্ড।
এরপর আবার খেলা চালিয়ে গেলেও প্রথমার্ধ শেষের বাঁশি বাজতেই আবার কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়ল আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড দল।
বিরতিতে যাওয়ার আগে বল দখলের লড়াইয়ে আর্জেন্টিনা কিঞ্চিৎ এগিয়ে থাকলেও ভালো খেলেছে ইংল্যান্ডই। তবে অবাক করা ব্যাপার হলো, এখনো পর্যন্ত দুই দলের কেউ লক্ষ্যে কোনো শট নিতে পারেনি।
দুই দল মিলে ১৯টি ফাউল করলে আর কয়েক দফা হট্টগোলে জড়ালে গোছানো ফুটবল উপহার দেওয়ার সময় কোথায়?