ইংল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্ধশ্বাস সেমিফাইনাল জিতে ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার উদযাপনে মাতোয়ারা আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু এই আনন্দের রেশ কাটার আগেই চরম এক বিতর্কে জড়িয়ে পড়লেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা। ম্যাচ শেষের পর মাঠের ভেতরেই এক সংবেদনশীল রাজনৈতিক ব্যানার প্রদর্শন করেছেন লিসান্দ্রো মার্তিনেস-লো সেলসোরা, যা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বুধবার রোমাঞ্চকর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত করার পর মাঠেই বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন আর্জেন্টাইন ফুটবলাররা। কিন্তু সেই উদযাপনের মাঝেই হঠাৎ একটি ব্যানার হাতে ক্যামেরায় ধরা পড়েন তারা। স্প্যানিশ ভাষায় লেখা সেই ব্যানারে পরিষ্কার অক্ষরে খোদাই করা ছিল— ‘লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’, যার বাংলা অর্থ— ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’।
ম্যাচ শেষে ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল মুখে ব্যানারটি উঁচিয়ে গ্যালারির দর্শকদের দিকে নাড়তে দেখা যায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এমন মহাগুরুত্বপূর্ণ জয়ের পর রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই দ্বীপপুঞ্জের দাবি সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন করাকে ইংলিশদের কাটা গায়ে নুনের ছিটে দেওয়ার মতোই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। তবে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা মাঠের ভেতরে এই ব্যানারটি কোথা থেকে এবং কার মাধ্যমে এসেছে, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফুটবল মাঠে রাজনৈতিক পক্ষপাত বা কোনো বিশেষ প্রচারণার ব্যাপারে ফিফার নিয়ম বরাবরই কঠোর। ফিফার স্টেডিয়াম আচরণবিধি অনুযায়ী— স্টেডিয়ামের ভেতরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, আপত্তিকর কিংবা বৈষম্যমূলক ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক বা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের এই প্রকাশ্য নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনার পর বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তাৎক্ষণিক মন্তব্য চাওয়া হলেও ফিফার পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।




