• ই-পেপার

ইডেন পরিদর্শনে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা দল

মেক্সিকোকে হারাতে যৌন শক্তিবর্ধক ট্যাবলেট খেয়ে নামছেন কেইন-বেলিংহামরা

ক্রীড়া ডেস্ক
মেক্সিকোকে হারাতে যৌন শক্তিবর্ধক ট্যাবলেট খেয়ে নামছেন কেইন-বেলিংহামরা
ভায়াগ্রা ট্যাবলেট খেয়ে মাঠে নামতে পারেন কেইন-বেলিংহামরা। ছবি: এআই দিয়ে বানানো

ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়াম মেক্সিকোর জন্য শুধু পয়মন্ত ভেন্যুই নয়; যেন এক অভেদ্য দুর্গও। 

এই মাঠে ৮৯ ম্যাচ খেলে মাত্র ২টিতে হেরেছে মেক্সিকো; সর্বশেষ হার সেই ২০১৩ সালে। বিশ্বকাপে তো মেক্সিকানরা সেখানে এখনো অজেয়। ১০ ম্যাচ খেলেছে জয় ৮টি, ড্র ২টি।

এমন ইতিহাস মাথায় নিয়ে আগামীকাল সকালে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে মেক্সিকোর মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইংল্যান্ড। আর ম্যাচটি জিততে হ্যারি কেইন-জুড বেলিংহামরা নাকি যৌন শক্তিবর্ধক ট্যাবলেট ভায়াগ্রা খেয়ে মাঠে নামতে যাচ্ছেন! ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য সান এই তথ্য জানিয়েছে। 

ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল অনুমতি দিয়েছেন বলেই চিকিৎসকদল খেলোয়াড়দের ভায়াগ্রা ট্যাবলেট খাওয়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে দ্য সানের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। 

আজকেতা স্টেডিয়াম সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৭৩৫০ ফুট বা ২২৪০ মিটার উঁচুতে অবস্থিত। এত উচ্চতায় বাতাসে অক্সিজেনের পরিমাণ তুলনামূলক কম থাকে। ফলে যেসব দলের খেলোয়াড়রা এমন পরিবেশে খেলতে অভ্যস্ত নন, তারা দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়তে পারেন। স্ট্যামিনাও ধরে রাখা কঠিন হয়ে যায়, যা তাদের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। 

Azteca
আজতেকা স্টেডিয়ামের অবস্থান সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে অনেক উঁচুতে। ছবি: সংগৃহীত

এ কারণে ইংল্যান্ডের চিকিৎসকদল কয়েকটি উপায় নিয়ে কাজ করেছে। এর মধ্যে একটি হলো ভায়াগ্রা। এই ট্যাবলেট পুরুষদের যৌন অক্ষমতা বা লিঙ্গ উত্থানজনিত সমস্যার সমাধানে বেশি ব্যবহার করা হয়। এটি রক্তনালি প্রসারিত করতে সাহায্য করে। ফলে রক্ত সঞ্চালন কিছুটা বেড়ে যায় এবং অধিক উচ্চতায় কম অক্সিজেনের প্রভাব মোকাবেলায় সহায়ক হতে পারে বলে ধারণা করা হয়।

ভায়াগ্রা ব্যবহারে বাধা নেই

বিশ্ব অ্যান্টি-ডোপিং সংস্থা (ওয়াডা) ভায়াগ্রাকে নিষিদ্ধ ওষুধের তালিকায় রাখেনি। তাই প্রতিযোগিতার সময় কিংবা প্রতিযোগিতায় নামার আগে খেলোয়াড়রা এটি ব্যবহার করতে পারেন।

রক্তনালি ও রক্তসঞ্চালনের ওপর এর প্রভাবের কারণে ওয়াডা বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন গবেষণা করেছে। এটি খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স বাড়ায়—এমন দাবি এখনো প্রতিষ্ঠিত নয়। তবে বেশি উচ্চতায়, বিশেষ করে যেখানে অক্সিজেন কম থাকে, সেখানে শরীরকে মানিয়ে নিতে ভায়াগ্রা কিছুটা সহায়তা করে থাকে বলে ধারণা করা হয়।

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬

মিসরের সাফল্যের গল্প লিখছেন যমজ ভাই হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান

ক্রীড়া প্রতিবেদক
মিসরের সাফল্যের গল্প লিখছেন যমজ ভাই হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান
মিসরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান (বাঁয়ে) ও সহকারী কোচ ইব্রাহিম হাসান। ছবি : এক্স

মাঠে একজন দাঁড়িয়ে থাকেন টাচলাইনের একেবারে সামনে। কখনো হাত নেড়ে খেলোয়াড়দের নির্দেশনা দেন, কখনো রেফারির সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ঝাড়েন, আবার গোল হলে মুষ্টিবদ্ধ হাতে উদযাপন করেন।

তার ঠিক পাশেই আরেকজন। তিনি কখনো খেলোয়াড়দের ডেকে বার্তা দেন, কখনো বেঞ্চে বসা ফুটবলারদের প্রস্তুত করেন। একজন প্রধান কোচ, অন্যজন সহকারী। তবে সম্পর্কটা শুধু সহকর্মীর নয়, তারা দুজন যমজ ভাই—হোসাম হাসান ও ইব্রাহিম হাসান।

হোসাম মিসরের প্রধান কোচ, আর ইব্রাহিম তার সহকারী। এবারের বিশ্বকাপে মিসরের সাফল্যের অন্যতম কারিগরও তারাই।

বিশ্ব ফুটবলে ভাইদের একসঙ্গে খেলার উদাহরণ অনেক। তবে খেলোয়াড়ি জীবন শেষে একসঙ্গে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফে থাকার ঘটনা খুবই বিরল।

Egypt
খেলোয়াড়িজীবনে যমজ দুই ভাই দেশের হয়ে একসঙ্গে ট্রফি জিতেছেন। ছবি : সংগৃহীত

১৯৬৬ সালের ১০ আগস্ট কায়রোর হেলওয়ান এলাকায় জন্ম তাদের। ছোটবেলায় আর্থিকভাবে খুব সচ্ছল ছিলেন না। ফুটবলই জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। ১৩ বছর বয়সে দুজনই যোগ দেন আল আহলি এসসি একাডেমিতে। সেখান থেকেই শুরু।

খেলোয়াড়ি জীবনেও তারা ছিলেন একজন আরেকজনের ছায়া। হোসাম ছিলেন স্ট্রাইকার, ইব্রাহিম ডিফেন্ডার। একসঙ্গে খেলেছেন আল আহলি, গ্রিসের পিএওকে এফসি, সুইজারল্যান্ডের নিউশাতেল জ্যামাক্স এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল আইন এফসিতে।

১৯৯০ বিশ্বকাপে মিসরের জার্সিতে পাশাপাশি খেলেছিলেন এই যমজ ভাই। ৬৮ গোল করা হোসাম এখনো মিসরের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষ হওয়ার পরও দুজন আলাদা হননি। মিসরের বিভিন্ন ক্লাব, এমনকি একসঙ্গে ছিলেন জর্দান জাতীয় দলের দায়িত্বেও।

২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিসর জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়া হয় দুই ভাইকে। এর পর থেকেই বদলে যেতে শুরু করে পিরামিডের দেশটির ফুটবল। দুজনের ছোঁয়ায় বিশ্বকাপের বাছাই পর্বের বাধা সহজেই উতরে যায় গত বিশ্বকাপ খেলতে না পারা দলটি।

আর এখন তো তাদের দল বিশ্বকাপের মূল পর্বের শেষ ষোলোতেই উঠে গেছে। আগামী মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে মিসরের প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। 

খবরটি প্রথম বাবাকে জানিয়েছিলেন সূর্যবংশী

কালের কণ্ঠ ডেস্ক
খবরটি প্রথম বাবাকে জানিয়েছিলেন সূর্যবংশী
ছবি : রয়টার্স

বিহারের সঞ্জীব নিজে ক্রিকেটার হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ভারতের অন্য রাজ্যের তুলনায় পিছিয়ে থাকা বিহারের পরিস্থিতিতে তার স্বপ্নপূরণ হয়নি। কিন্তু হাল ছাড়েননি সঞ্জীব। নিজের অপূর্ণ স্বপ্ন তিনি ছেলের মাধ্যমে পূরণ করতে চেয়েছিলেন। তার সে স্বপ্ন এখন পরিণত হয়েছে গোটা ভারত, তথা ক্রিকেট বিশ্বের স্বপ্নে।

বাবার পুরো নামটা বললে আপনি ছেলেকেও চিনে যাবেন মুহূর্তেই, সঞ্জীব সূর্যবংশী। সঞ্জীবের ছেলে বৈভব সূর্যবংশী শনিবার ভারতের হয়ে প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন মাত্র ১৫ বছর ৯৯ দিনে। শচীনকে হটিয়ে তিনি এখন ভারতের সবচেয়ে কমবয়সী আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। কিন্তু বৈভব এখন আর সঞ্জীবের একার স্বপ্ন নয়, একার সন্তান নয়। কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার বৈভবকে আখ্যায়িত করেছেন ‘বেবি অব ইন্ডিয়া বা ভারতের শিশু’ হিসেবে।

নিজের ক্রিকেটার হওয়ার পথে যা যা প্রতিবন্ধকতা ছিল, সঞ্জীব চেষ্টা করেছেন বৈভবের পথ থেকে তা সরিয়ে দিতে। মাত্র চার বছর বয়সে বৈভবের হাতে তুলে দেন ক্রিকেট ব্যাট, নিজে বনে যান ছেলের কোচ। বিহারের সমস্তিপুরে ভালো ক্রিকেট একাডেমি নেই, তাই সপ্তাহে অন্তত ৪ দিন ছেলেকে নিয়ে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরে পাটনার একটি ক্রিকেট একাডেমিতে যেতেন সঞ্জীব, যাতে বৈভব ভালো বোলারদের মুখোমুখি হতে পারে। ছেলের উন্নত প্রশিক্ষণ এবং একাডেমির খরচ জোগাতে সঞ্জীব তার শেষ সম্বল চাষের জমি বিক্রি করে দিয়েছিলেন।

কভিডের সময় সব একাডেমি বন্ধ থাকায় বাড়ির ভেতরে পিচ বানিয়ে ছেলের অনুশীলন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করেছিলেন সঞ্জীব। শুধু বৈভব নয়, বৈভবকে যারা নেটে বল করত, তাদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করতেন সঞ্জীব। এক কথায় সন্তানের ব্যাটে নিজের স্বপ্নপূরণের চেষ্টায় কোনো কমতি রাখেননি সঞ্জীব। তার চেষ্টা বৃথা যায়নি। তাই তো বিহারের সমস্তিপুরের সেই শিশু বৈভব আজ ক্রিকেট জগতেরই বিস্ময়, গোটা ভারতের স্বপ্ন। 

শনিবার ভারতের হয়ে খেলার সুযোগ পাওয়ার খবরটি বৈভব প্রথম জানিয়েছিলেন তার বাবাকে। বয়স কম বলে বিসিসিআই বিশেষ ব্যবস্থাপনায় এবং বোর্ডের খরচে বৈভবের বাবা-মাকেও আয়ারল্যান্ড-ইংল্যান্ড সফরে দলের সঙ্গে একই হোটেলে রাখার ব্যবস্থা করেছে। হোটেলের রুমে ফিরে বাবাকেই প্রথম খবরটি জানান বৈভব, ‘খবরটি পাওয়ার পর আমি প্রথম নিজের রুমে যাই এবং আমার বাবাকে বলি। তিনি আমার সঙ্গেই থাকছেন। আমি প্রথমে তাকেই জানিয়েছিলাম। অন্য কাউকেই বলিনি। এরপর আমার মা এবং আমার কোচ রমি স্যারকে জানাই। বাবা ভীষণ খুশি হয়েছিলেন এবং আমাকে একই ভাবে খেলে যাওয়ার কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, কোনো চাপ নেই, শুধু নিজের স্বাভাবিক খেলাটা খেলে যাও।’

ভারতের হয়ে খেলাটা বৈভবের জন্য গর্বের, ‘খুবই ভালো লাগছে। ভারতের হয়ে খেলা যেকোনো ভারতীয়র জন্য সবচেয়ে বড় বিষয়, কারণ প্রতিটি ক্রিকেটারই দেশের প্রতিনিধিত্ব করতে এবং দেশকে গর্বিত করতে চায়।’

বৈভবের হাতে দলের অভিষেক ক্যাপ তুলে দিয়েছিলেন দলের সহঅধিনায়ক তিলক ভার্মা। তখন তিনি বৈভবকে বলেছিলেন, ‘প্রথমত, এটি তোমার এবং তোমার পরিবারের জন্য অত্যন্ত গর্বের একটি মুহূর্ত। তারা সত্যিই তোমার পেছনে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। তুমি নিজের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এই ক্রিকেট ক্যাপটি অর্জন করেছ। কোনো ভয় ছাড়া নিজের স্বাভাবিক ক্রিকেট খেলো, এখানে কোনো কিছুই বদলে যায়নি। সঠিক মানসিকতা এবং মুখে হাসি নিয়ে খেলাটা উপভোগ করো।’

সূর্যবংশীর মুখের হাসি এখন গোটা ভারতের হাসি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বৈভবের ছেলেবেলার কোচ মণিষ ওঝা বলছেন, ভারতের হয়ে তার আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সুযোগ পাওয়াটা একসঙ্গে গর্ব ও আবেগের মুহুর্ত। তবে কঠোর পরিশ্রম আর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে এ সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি বলেন, আইপিএল আর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে যা করেছে, বৈভবের সামনে এখন সুযোগ আন্তর্জাতিক মঞ্চেও তা দেখিয়ে দেয়ার।

বৈভবের সবচেয়ে বড় সমর্থকদের একজন ভারতের সাবেক অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কার। তিনি বরাবরই তাকে দ্রুত সুযোগ দেয়ার পক্ষে বলে গেছেন। সুযোগ পাওয়ার পর প্রথম ইনিংসে ১০ বলে ২ ছক্কায় ১৪ রান করেছেন সূর্যবংশী। অফ স্পিনার উইল জ্যাকসের অফ স্ট্যাম্পের বাইরের বলে কাট করতে গিয়ে স্টাম্পড হয়েছেন বৈভব। তার আউট হওয়ার ধরনে খুব অবাক গাভাস্কার, ‘এটা কোনোভাবেই তার শট নয়। তার শট হলো কাভার ড্রাইভ।’ খেলা শুরুর আগে গাভাস্কার বলেছিলেন, ‘আমি অবাক হব না যদি সে প্রথম বল থেকেই মারমুখী হয়ে খেলতে শুরু করে। ভারতের যারা খেলা দেখছেন তারা সবাই আনন্দে লাফিয়ে উঠবেন। তারা সবাই উল্লসিত হবেন কারণ সে এখন ভারতের আদরের সন্তান। আর সবাই চায় তাদের সন্তান ভালো করুক।’

স্কালোনির ১০০ ম্যাচ

যেভাবে অখ্যাত এক কোচ বদলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ভাগ্য

সাহিদ রহমান অরিন
যেভাবে অখ্যাত এক কোচ বদলে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ভাগ্য
আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি। ছবি: ইন্সটাগ্রাম

২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পর্ব থেকে ছিটকে পড়ে আর্জেন্টিনা। ব্যর্থতার দায় নিয়ে দায়িত্ব ছাড়েন দলটির প্রধান কোচ হোর্হে সাম্পাওলি।

আগের তিন বড় টুর্নামেন্টে (২০১৪ বিশ্বকাপ, ২০১৫ ও ২০১৬ কোপা আমেরিকা) রানার্সআপ হলেও ২০১৮ বিশ্বকাপে তেমন পারফরম্যান্সের ছিটেফোঁটাও দেখা যায়নি। তাই আর্জেন্টাইন ফুটবল অঙ্গন একরকম বিমর্ষ হয়ে পড়ে। হতাশায় মুষড়ে পড়া লিওনেল মেসিও অনির্দিষ্টকালের জন্য আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিরতিতে যান।

কিন্তু থেমে থাকলে তো চলবে না। যারা আছেন, তাদের নিয়েই এগোতে হবে। সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে। খেলোয়াড়ের তো আর অভাব নেই। কিন্তু সাম্পাওলির জায়গা কে নেবেন? কে হবেন আলবিসেলেস্তেদের নতুন প্রধান কোচ?

২০১৮ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়ার পর যেহেতু দুই মাস আর্জেন্টিনার কোনো ম্যাচ ছিল না, তাই একটু ভেবেচিন্তে কোচ নিয়োগ দিতে চাইছিল দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। 

এমন দুঃসময়েও সুসংবাদ আসছিল স্পেনের বালেয়ারিক দ্বীপপুঞ্জ থেকে। সেখানে চলতে থাকা লা আলকুদিয়া আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্টে (কোটিফ টুর্নামেন্ট নামে পরিচিত) দারুণ খেলছিল আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দল। সেই দলের প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনিকে ওই বছরের ২ আগস্ট জাতীয় দলের অন্তর্বর্তী কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয় এএফএ।

ফেডারেশনের সিদ্ধান্ত যে ভুল ছিল না, তা ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দলকে শিরোপা জিতিয়ে বুঝিয়ে দেন স্কালোনি। এটিকে এখন আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের ‘যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত’ বলা যেতেই পারে। 

আপৎকালীন কোচ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া স্কালোনিই পরে স্থায়ী কোচ হয়ে আর্জেন্টিনার ২৮ বছরের শিরোপাখরা ঘুচিয়েছেন, ৩৬ বছর পর দেশকে বিশ্বকাপ এনে দিয়েছেন, একের পর এক ম্যাচ জিতিয়ে দলকে নিয়ে গেছেন ফিফা র‌্যাংকিংয়ের চূড়ায়। এখন তার দল বিশ্বকাপ শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে। 

Scaloni Debut
২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে অভিষেক হয় স্কালোনির। ছবি: এক্স

২০১৮ সালের ২ আগস্ট নিয়োগ পাওয়া স্কালোনির অধীন আর্জেন্টিনা প্রথম ম্যাচ খেলে ৭ সেপ্টেম্বর, গুয়াতেমালার বিপক্ষে। বাংলাদেশ সময় গতকাল ৪ জুলাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে তার ১০০ বার ডাগআউটে দাঁড়ানোর মাইলফলক ছোঁয়া হয়ে গেছে। 

৪৮ বছর বয়সী স্কালোনির অধীন ১০০ ম্যাচ খেলে ৭৭টিতেই জিতেছে আলবিসেলেস্তেরা, ড্র করেছে ১৪ ম্যাচ, হার মাত্র ৯টি। মাঝে টানা ৩৫ ম্যাচ অপরাজিত (২৪ জয়, ১১ ড্র) থাকার রেকর্ডও গড়ে তাঁর দল। এখন বিশ্বকাপে অপরাজিত টানা ১০ ম্যাচ। 

স্কালোনির কোচিংয়ে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে গুয়াতেমালাকে ৩-০ গোলে হারায় আর্জেন্টিনা। প্রীতি ম্যাচটা হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের মেমোরিয়াল কোলিসিয়াম স্টেডিয়ামে। সেই দলের বেশির ভাগ সদস্যই বর্তমান স্কোয়াডে নেই।

স্কালোনির ১০০তম ম্যাচেও আর্জেন্টিনা দিয়েছে ৩ গোল; যদিও এবার হজম করেছে ২টি। তবে বিশ্বকাপের রাউন্ড অব ৩২-এর এই ম্যাচও হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে; মেসির বর্তমান ঠিকানা মায়ামিতে।

অথচ ২০১৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলো থেকে আর্জেন্টিনার বিদায়ের পর মেসির আরেকটি বিশ্বকাপ খেলা দূরে থাক; দেশের হয়ে খেলা চালিয়ে যাবেন, সেই নিশ্চয়তাও ছিল না। ওই বছর আর্জেন্টিনা আরো ছয় ম্যাচ খেললেও মেসি ছিলেন না কোনোটিতেও। পরে স্কালোনিই মেসিকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে আবারো জাতীয় দলের হয়ে খেলতে উদ্বুদ্ধ করেন।

Messi-Scaloni
কোচ-অধিনায়কের সম্পর্ক যে এত মধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে, সেটির নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন স্কালোনি ও মেসি। ছবি: এএফপি

পরের ইতিহাস না বললেও চলছে। দুজন মিলে গড়ে তোলেন এক ভয়ডরহীন শক্তিশালী দল, যারা বিশ্বের যেকোনো দলকে যেকোনো ভেন্যুতে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারে। কোচ-অধিনায়কের সম্পর্কও যে এত মধুর ও বন্ধুত্বপূর্ণ হতে পারে, সেটিরও নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন ‘দুই লিওনেল’ স্কালোনি আর মেসি। গত পাঁচ বছরে আর্জেন্টিনার সব বড় সাফল্যই এসেছে তাঁদের হাত ধরে।

এই সাফল্য পেতে স্কালোনিকে ধাপে ধাপে এগোতে হয়েছে। দলটাকে গুছিয়ে তুলতেই কয়েক বছর লেগে গেছে। কিন্তু প্রক্রিয়া ঠিক রাখায় এএফএ তার ওপরই আস্থা রেখেছে। লম্বা সময়ের ট্রফিখরা ঘোচাতে, কয়েকবার তীরে এসেও তরি ডোবার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে আর্জেন্টিনার একজন সৌভাগ্যের দূত দরকার ছিল। স্কালোনিকে হয়তো সেই দূত মনে হয়েছে ফেডারেশনের।

শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালের আগস্টে স্কালোনিকে স্থায়ীভাবে প্রধান কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর তিনি দুই দফা চুক্তি নবায়ন করেছেন। শোনা যাচ্ছে, ২০৩১ সাল পর্যন্ত আর্জেন্টিনার দায়িত্বে থাকবেন স্কালোনি। এএফএর সঙ্গে নাকি ‘মৌখিক চুক্তি’ সেরে ফেলেছেন। 

আর্জেন্টিনার ফুটবলপ্রেমীদের সব দুঃখ ঘোচানোর পরও স্কালোনি অগোচরের নায়ক হয়ে থাকতেই পছন্দ করেন। ইএসপিএনের মতে, বিশ্বকাপজয়ী সবচেয়ে অবমূল্যায়িত কোচের তালিকা করলে স্কালোনিই সবার ওপরে থাকবেন।

স্কালোনি নিজেও আসলে অগোচরের নায়ক হয়ে থাকতে চান। এক সাক্ষাৎকারে আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করতে বলা হলে তিনি সব কৃতিত্ব দেন খেলোয়াড়দের, ‘আমি খুবই ভাগ্যবান যে আমার সময়ে এসব খেলোয়াড়ের আবির্ভাব ঘটেছে। ওদের ছাড়া এটা সম্ভব হতো না।’

মেসি ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলবেন কি না, তা আসর শুরুর মাসখানেক আগেও নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছিল না। এ দফায়ও স্কালোনিই নাকি ‘লাস্ট ড্যান্স’-এর জন্য মেসিকে রাজি করান।

দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলের (কনমেবল) বাছাইয়েও এবার শীর্ষ দল হিসেবে বিশ্বকাপের মূল পর্বে উঠেছে আর্জেন্টিনা। এখন তার চ্যালেঞ্জ একটাই—বিশ্বকাপ ট্রফি ধরে রাখা। 

বলা হয়ে থাকে, স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে রক্ষা করা কঠিন। ট্রফি জয়ের চেয়ে ধরে রাখা নাকি এর চেয়েও কঠিন! স্কালোনি পারবেন কি না, তা সময়ই বলে দেবে।

আর্জেন্টিনার কোচ হিসেবে স্কালোনির ১০০ ম্যাচ

ম্যাচ ১০০ জয় ৭৭ ড্র ১৪ হার

দলীয় অর্জন

》২০২১ ও ২০২৪ কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন
》২০২২ ফিনালিসিমা চ্যাম্পিয়ন
》২০২২ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন

ব্যক্তিগত অর্জন

》২০২২ ও ২০২৩ আইএফএফএইচএস বর্ষসেরা জাতীয় দলের কোচ
》২০২২ ফিফা বর্ষসেরা পুরুষ কোচ
》২০২২ দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা কোচ
》২০২৩ গ্লোব সকার ক্যারিয়ার কোচ পুরস্কার
》২০২৩ পাঞ্চিনা ডি’অরো (বিশেষ পুরস্কার)

আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে স্কালোনির প্রথম ম্যাচে শুরুর একাদশ

হেরোনিমো রুয়ি, রেনজো সারাভিয়া, হেরমান পেজ্জেলা, রামিরো ফুনেস মোরি, নিকোলাস তালিয়াফিকো, জিওভানি লো সেলসো, লিয়ান্দ্রো পারেদেস, এজেকিয়েল পালাসিওস, ক্রিস্তিয়ান পাভন, জিওভানি সিমিওনে ও গঞ্জালো মার্তিনেজ।

আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ হিসেবে স্কালোনির ১০০তম ম্যাচে শুরুর একাদশ

এমিলিয়ানো মার্তিনেজ, নাহুয়েল মোলিনা, ক্রিস্তিয়ান রোমেরো, লিসান্দ্রো মার্তিনেজ, ফাকুন্দো মেদিনা, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার, এনজো ফার্নান্দেজ, রদ্রিগো দি পল, লাউতারো মার্তিনেজ, থিয়াগো আলমাদা ও লিওনেল মেসি। 

ইডেন পরিদর্শনে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নিরাপত্তা দল | কালের কণ্ঠ