• ই-পেপার

ফিজিওর সবুজ সংকেত পেলে মাঠে ফিরবেন তাসকিন

পর্তুগালের দায়িত্ব ছাড়লেন মার্তিনেজ

ক্রীড়া ডেস্ক
পর্তুগালের দায়িত্ব ছাড়লেন মার্তিনেজ
পর্তুগালের কোচের পদ ছেড়েছেন মার্তিনেজ। ছবি : রয়টার্স

বিশ্বকাপে নিজের শেষ ম্যাচ খেলেছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর কখনো বিশ্বমঞ্চে দেখা যাবে না সেই ঘোষণা স্পেনের বিপক্ষে মাঠে নামার আগেই দিয়ে দেন ‘সিআর সেভেন’। স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে পর্তুগালের বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে যতিচিহ্ন পড়েছে।

অধিনায়কের পর এবার দলের কোচকেও হারাল পর্তুগাল। শেষ ষোলোয় বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হওয়ার পর পর্তুগালের কোচ পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন রবার্তো মার্তিনেজ। স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটাই পর্তুগালের ডাগআউটে তার শেষবার দাঁড়ানো ছিল বলে জানান তিনি।

কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময় বলে মনে করছেন মার্তিনেজ। স্প্যানিশ কোচ বলেছেন, ‘হ্যাঁ, পর্তুগালের হয়ে এটিই আমার শেষ ম্যাচ ছিল। আমি গর্বিত। ৪৫ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছি। পর্তুগাল আমাকে সাদরে গ্রহণ করেছে, ভালোবাসা পেয়েছি। এসব স্মৃতি সবসময় লালন করব। এটা ছিল আনন্দের, গর্বের এবং দায়িত্বের। শেষটা কঠিন, কিন্তু একটা অধ্যায়ের সমাপ্তি। পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তই (দায়িত্ব থেকে সরে যাওয়া) যৌক্তিক।’

 

এক হারে পর্তুগাল ব্যর্থ হয়ে যায়নি জানিয়ে মার্তিনেজ বলেছেন, ‘আমরা ব্যর্থ হইনি। একটি ম্যাচই হেরেছি, সেটিও এমন এক দলের বিপক্ষে, যারা এবারের আসরের অন্যতম ফেবারিট। বড় ম্যাচগুলোতে, বড় দলের বিপক্ষে জয়-পরাজয় নির্ভর করে অনেক খুঁটিনাটি বিষয়ের ওপর। কেউ তখনই ব্যর্থ হয় যখন জেতার চেষ্টা করে না, কিন্তু আমরা শেষ পর্যন্ত লড়েছি।’

২০২৩ সালের জানুয়ারি পর্তুগালের দায়িত্ব নেন মার্তিনেজ। তার অধীনে ৪৫ ম্যাচ খেলে ৩২ টিতে জয় পেয়েছে পর্তুগাল। ৬ ড্রয়ের বিপরীতে ৭ হার দেখেছে।

এমবাপ্পের হয়ে প্যারাগুয়ের সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্যের জবাব ফরাসি প্রেসিডেন্টের

ক্রীড়া ডেস্ক
এমবাপ্পের হয়ে প্যারাগুয়ের সিনেটরের বর্ণবাদী মন্তব্যের জবাব ফরাসি প্রেসিডেন্টের
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জয়ের পর এমবাপ্পের উচ্ছ্বাস। ছবি : রয়টার্স

‘ইট মারলে পাটকেল খেতে হয়’-এটা যেন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন প্যারাগুয়ের সিনেটর চেলেস্টে আমারিলা। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করায় একের পর এক সমালোচনায় বিদ্ধ হচ্ছেন তিনি। সেটা শুধু বাইরে থেকে নয়, ঘরেও।

অর্থাৎ, এমবাপ্পে ও ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন আমারিলার সমলোচনা তো করেছেনই। সঙ্গে প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্টও তার মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছেন। তবে এবার এ ঘটনায় এমবাপ্পের পাশে দাঁড়িয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁও। 

সামাজিক মাধ্যম এক্সে ম্যাক্রোঁ লিখেছেন, ‘কিলিয়ান এমবাপ্পের আরেকটি গোল। এবার বর্ণবাদের বিরুদ্ধে। তার প্রতি আমার পূর্ণ সমর্থন রইল। শব্দ যখন কলুষিত করে, তখন আমাদের মূল্যবোধই জবাব দেয়: মর্যাদা, সম্মান, ভ্রাতৃত্ব।’

 

গেল শনিবার বিশ্বকাপের শেষ ১৬-এর ম্যাচে ফ্রান্স-প্যারাগুয়ের ম্যাচটি হয় শারীরিক ও রক্ষণাত্মক এক লড়াই। ৭০ মিনিটে এমবাপ্পের পেনাল্টিতে ১-০ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফ্রান্স। ম্যাচ নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘আমরা জানতাম, কেমন ম্যাচ অপেক্ষা করছে। আমার মনে হয়, আজ আমরা খুব ভালোভাবেই সামলেছি। ওরা ভেবেছিল আমরা বুঝি টাক্সেডো (আভিজাত্যপূর্ণ ও ভদ্র ফুটবল খেলা অর্থে) পরে মাঠে নামব এবং শুধু চোখধাঁধানো কিছু কৌশল দেখাব। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। প্রয়োজন হলে আমরাও কুৎসিত ফুটবল খেলতে জানি। আজ সেটাই করেছি।’

ম্যাচে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে বেশ কবার দ্বন্দ্বে জড়াতে দেখা যায়। এমকি ধাক্কাধাক্কিও হয়। চরম বিশৃঙ্খল এক ম্যাচের জেরেই হয়তো ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের সঙ্গে হাত মেলাননি এমবাপ্পে।

সেই সব ঘটনা নিয়ে পরে এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্যে করে প্যারাগুয়ের সিনেটর আমারিলা সামাজিক মাধ্যমে দুটি পোস্ট দেন। এর মধ্যে একটি ফ্রান্সের ফরোয়ার্ডকে ‘উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয় ফরাসি’ উল্লেখ করে কটাক্ষ করে সিনেটর পোস্টে লেখেন, ‘উপনিবেশিত ক্যামেরুনীয় ফরাসি হওয়ার ভানকারী, বিদ্বেষী, সদ্য ধনী, অহংকারী এবং কুৎসিত। পুরো ম্যাচ জুড়ে সে তার পুরো দলের মতোই ভয়ে কাঁপছিল এবং আতঙ্কিত ছিল। তারা (ওপেন প্লেতে) একটা গোলও করতে পারেনি, কোনোমতে ভাগ্যের জোরে জিতেছে...। আমাদের আলবিরোজার কাছে শুধু একটাই চাওয়া ছিল, ম্যাচ শেষে তাকে যেন খোলা হাতে চড় না মারা হয়। এমনকি সে ফুটবলের ভক্ত না হলেও।’

 

অন্যদিকে আরেক পোস্টে গিলের সঙ্গে এমবাপ্পে হাত না মেলানোয় নিজ দেশের গোলরক্ষককে ‘মধ্যমা আঙুল’ দেখাতে বলেন আমারিলা। তিনি লিখেছেন, ‘ব্রুটাস কখনো লিখতে শেখেনি। মায়ের দুধের বদলে সে নারকেল চুষত, আর তার শোনা সবচেয়ে শিক্ষিত মানুষ ছিল শিম্পাঞ্জিরা। গিল, তোমার তাকে ‘মধ্যমা’ দেখানো উচিত ছিল। আমি সিনেটে তাই করি, কিছুই হয় না!’

জবাবে আমারিলাকে ‘ঘৃণ্য নারী’ উল্লেক করে এমবাপ্পে লেখেন, ‘আপনি একজন ঘৃণ্য নারী এবং পদের অযোগ্য আপনি। আপনি প্যারাগুয়ের প্রতিনিধিত্ব করেন না—যে দেশটি পুরো প্রতিযোগিতা জুড়ে আবেগ ও সম্মান দিয়ে রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছে। 

আপনার এই বেপরোয়া আচরণ এবং চরম বর্ণবাদের কারণে পুরো বিশ্ব ইতিমধ্যেই এই বিশ্বকাপে আপনার খেলোয়াড়দের ঐতিহাসিক প্রচেষ্টা এবং যাত্রার কথা ‍ভুলে গেছে। জায়গা করে নিয়েছেন একজন অযোগ্য নারী, যিনি তার দেশের সবচেয়ে খারাপ ভাবমূর্তি তুলে ধরছেন। আমি কখনোই এ ধরনের মানুষদের বিশ্বজুড়ে ঘৃণা ও বর্ণবাদ ছড়ানোর স্বাধীনতা দেব না।’

 


ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন তাদের বিবৃতিতে লিখেছে, ‘এমবাপ্পেকে উদ্দেশ্য করে প্যারাগুয়ের সিনেটর আমারিলার বর্ণবাদী মন্তব্য সম্পূর্ণ জঘন্য এবং অগ্রহণযোগ্য।’

আমারিলার মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে প্যারাগুয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পেড্রো আলিয়ানা বলেছেন, ‘ভ্রাতৃত্বের বহিঃপ্রকাশ ঘটে ফুটবলে। দেশ এবং মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। এই আবেগ ও অনুভূতির মাঝে কোনো ধরনের বৈষম্যের স্থান নেই।’

প্যারাগুয়ের কংগ্রেসের সদস্য জোহানা ওর্তেগাও আমারিলার সমালোচনা করে বলেছেন, ‘মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও মাঠের বাইরে আমরা সম্মান, মর্যাদা এবং সবার মধ্যে সমতার প্রশ্নে অনেক বেশি ঐক্যবদ্ধ। প্যারাগুয়ান কংগ্রেসের একজন সদস্য হিসেবে ফরাসি জনগণের প্রতি আমার সংহতি এবং ক্ষমাপ্রার্থনা রইল।’ 

সে যাই হোক বিশ্বকাপে উড়ছেন এমবাপ্পে। ইতিমধ্যে তার নামের পাশে রয়েছে ৭ গোল। যা লিওনেল মেসি এবং আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে যৌথভাবে গোলের তালিকায় শীর্ষে জায়গা দিয়েছে। 
আগামী ৯ জুলাই সেই সংখ্যা বাড়াতে মাঠে নামবেন তিনি। মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ খেলতে নামবে ফ্রান্স।

যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে বেলজিয়াম
নিজের ভুলে বেলজিয়াম গোল পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষকের মাথায় হাত। ছবি : রয়টার্স

সিয়াটলে ঘুরে দাঁড়াতে জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছেন সতীর্থরা। বিপরীতে ৫৭ মিনিটে অবিশ্বাস্য এক ভুল করে বসলেন যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষক ম্যাট ফ্রিজ। বল ক্লিয়ার করতে ডি বক্সে ছেড়ে বেরিয়ে গিয়ে ঠিকমতো শটই নিতে পারলেন না তিনি। 

ফল বলের নিয়ন্ত্রণ পান বেলজিয়ামের ডিফেন্ডার ম্যাক্সিম ডি কুইপার। তার কাছ থেকে পরে বল পান হান্স ফানাকান। বল পেয়েই ফাঁকা গোলবারে শট নেন তিনি। তবে বল জালে জড়ানোর আগে ঠেকানোর সুযোগ ছিল টিম রিমের। তিনিও মিস করায় ৩-১ গোলের লিড নেয় বেলজিয়াম। 

গোলটি হতেই তখন সিয়াটলে পিনপতন নীরবতা। হওয়াটাই স্বাভাবিক। জয় নিয়ে ঘরে ফেরার বিপরীতে হার যে তখন ঝেঁকে বসেছে সবার মনে। পরে তাই হয়েছে। ব্যবধানটা আরও বেড়েছে। যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের জালে চতুর্থ গোলটি করেন রোমেলু লুকাকু।

তাতে লুকাকুর ডান পায়ের শটটি যেন শুধু জালেই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের হৃদয়েও আঘাত হানে। ৪-১ গোলে হারায় ঘরের বিশ্বকাপের যাত্রা যে শেষ হলো তাদের। দর্শক হয়ে বাকি অংশ দেখতে হবে তাদের।

ম্যাচ শুরু হতেই এগিয়ে যায় বেলজিয়াম। ৯ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে সহজ গোলটি করেন চার্লস ডি কেটেলার। ৩১ মিনিটে অবশ্য ঠিকই ম্যাচে ফেরে যুক্তরাষ্ট্র। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক ফ্রি কিকে সমতাসূচক গোলটি করেন মালিক টিলম্যান।

কিন্তু আনন্দটা বেশিক্ষণ টেকেনি। ২ মিনিট পরেই নিজের জোড়া ও দলের দ্বিতীয় গোল করেন কেটেলার। তার জোড়া গোলেই পরে ২-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় বেলজিয়াম। বিরতির পর যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষকের অবিশ্বাস্য ভুল আর লুকাকুর দারুণ গোলে প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট পায় বেলজিয়াম। শেষ আটে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।

রোমাঞ্চকর প্রথমার্ধ শেষে এগিয়ে বেলজিয়াম

ক্রীড়া ডেস্ক
রোমাঞ্চকর প্রথমার্ধ শেষে এগিয়ে বেলজিয়াম

কোয়ার্টারে ওঠার লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র-বেলজিয়ামের শেষ ষোলোর ম্যাচে রোমাঞ্চকর প্রথমার্ধ দেখলেন ভক্তরা।

ম্যাচের মাত্র ৯ মিনিটের মাথায় চার্লস ডি কেটেলারার গোল করলে লিড পায় বেলজিয়াম। বক্সের ভেতর বল পেয়ে সহজেই জাল খুঁজে নেন এই ফরোয়ার্ড।

এরপর ম্যাচের ৩১ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রিকিক গোলে যুক্তরাষ্ট্রকে সমতায় ফেরান মালিক টিলম্যান। তবে সে সমতায় বেশিক্ষণ থাকতে পারেনি স্বাগতিকরা। মাত্র তিন মিনিটের মাথায় নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ২-১ করেন বেলজিয়ামের কেটেলারা। এই গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে গিয়েছে বেলজিয়াম।

কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে খেলবে এই ম্যাচের জয়ী দল।  

ফিজিওর সবুজ সংকেত পেলে মাঠে ফিরবেন তাসকিন | কালের কণ্ঠ