রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারের হত্যার ঘটনায় পুরো দেশ এখন উত্তাল। ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করেন অভিযুক্ত সোহেল রানা। এ ঘটনায় অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছেন সবাই।
বাদ যাচ্ছেন না ক্রিকেটাররাও। ফুলের মতো নিষ্পাপ শিশুকে হত্যায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমরা। নিচে তাদের পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো—
প্রতিটি শিশু নির্ভয়ে বেড়ে উঠুক এমন বাংলাদেশ চেয়ে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি লিখেছেন, ‘রামিসার মতো কত নিষ্পাপ প্রাণ হারিয়ে গেছে, সেই হিসেব হয়তো কেউ রাখবে না। কিন্তু এই নৃশংসতার শেষ চাই। বিচারহীনতার প্রতিটি ঘটনা অপরাধীদের সাহস বাড়ায়। এই ঘৃণিত অন্যায়ের দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক। প্রতিটি শিশু বেড়ে উঠুক নির্ভয়ে, নিশ্চিন্তে, আনন্দে...।’
যারা এমন নৃশংস কাজ করে তারা মানবতার শত্রু উল্লেখ করে সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব লিখেছেন, ‘একটি শিশুর কান্না শুধু একটি পরিবারের শোক নয়, এটি পুরো সমাজের ব্যর্থতার প্রতিধ্বনি। যারা নিষ্পাপ শৈশবকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো নৃশংসতায় ধ্বংস করে, তারা মানবতার শত্রু। ন্যায়বিচার বিলম্বিত মানেই অন্যায়ের সাহস বাড়ানো। রামিসার জন্য দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
আর কোনো পরিবারকে যেন এমন কষ্ট সইতে না হয় এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চেয়ে মুশফিক লিখেছেন, ‘আজ সকালে খবরটা শুনে স্তব্ধ হয়ে গেছি। ছোট্ট রামিসার নিরাপত্তা, ভালোবাসা আর আশ্রয় পাওয়ার কথা ছিল, এমন ভয়ানক নিষ্ঠুরতা নয়। এই নিষ্পাপ শিশুটির জন্য দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানাচ্ছি। কোনো পরিবারকে যেন এমন কষ্ট সইতে না হয়। শিশুদের ওপর অপরাধের সর্বোচ্চ শাস্তি হওয়া উচিত।’
বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত লিখেছেন, ‘‘আমরা এমন এক সমাজ চাই, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদে হাসতে পারবে; ভয় নয়, স্বপ্ন নিয়ে বড় হবে। আর কোনো জীবন যেন এভাবে থেমে না যায়। আল্লাহ তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করুন, আর দোষীদের এমন শাস্তি হোক, যা সমাজের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।’
ওয়ানডে দলের অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ লিখেছেন, ‘মিরপুরের পল্লবীতে নির্মমতার শিকার শিশু রামিসা ও এই ধরনের অন্যান্য সব ঘটনায় দোষীদের দ্রুত সময়ের মাঝে আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। ধর্ষণ, নিপীড়ন ও সব ধরনের সহিংসতার বিরুদ্ধে আমাদের সবাইকে আরো সচেতন ও ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। প্রতিটি শিশুর নিরাপদ শৈশব, সম্মান ও মানবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। রামিসার মতো আর কোনো শিশুকে যেন এমন নির্মমতার শিকার হতে না হয়, সেই দায়িত্ব আমাদের সবার।’
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মিরপুর ১১ নম্বরের বি ব্লকের একটি বাড়ির তিনতলার ফ্ল্যাট থেকে রামিসার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বড় বোনের সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু হঠাৎ করেই সে নিখোঁজ হয়।
রামিসার মা ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে মেয়ের জুতো দেখতে পেয়ে পাশের ফ্ল্যাটে নক করেন। ভেতর থেকে দরজা না খোলায় সন্দেহ বাড়ে। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ এসে দরজা ভেঙে খাটের নিচ থেকে ধড় এবং শৌচাগার থেকে বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করে। ঘটনার পর শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায় মূল অভিযুক্ত সোহেল রানা।
পরে একই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সে পেশায় রিকশা মেকানিক এবং দুই মাস আগে স্ত্রীকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটে ভাড়া ওঠেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা আলামত জব্দ করেছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সোহেল রানার স্ত্রীকে আটক করেছে।




