• ই-পেপার

রামিসা হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাইলেন মাশরাফি-মুশফিকরা

দ্রাবিড় ও রাঠোরের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ কোহলি

ক্রীড়া ডেস্ক
দ্রাবিড় ও রাঠোরের প্রতি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ কোহলি
ছবি : এএনআই

ভারতের সাবেক অধিনায়ক বিরাট কোহলি নেতৃত্বের মানসিক চাপ নিয়ে মুখ খুলেছেন। নেতৃত্বের চাপ কাটিয়ে উঠতে ভারতের সাবেক প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর তাকে ক্রিকেট খেলার আসল আনন্দ পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করেছেন।

এএনআইয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২২ সালে নেতৃত্বের গুরুভার ঝেড়ে ফেলার পর কোহলির মানসিক অবস্থা এবং ফর্মের যে অবনতি হয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠার নেপথ্যে এই দুই কোচের অবদান ছিল অনস্বীকার্য।

রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরের এক পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে কোহলি বিভিন্ন ফরম্যাটে প্রায় এক দশক ধরে অধিনায়কত্বের চাপ বয়ে বেড়ানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, ‘অধিনায়কের দায়িত্ব ছাড়ার পর অত্যন্ত কঠিন ও মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করছিলাম।’

অধিনায়ক এবং ব্যাটিং ইউনিটের মূল ভরসা হওয়ার কারণে দৈনন্দিন জীবনে বিশাল চাপ তৈরি হয়েছিল। ২০২২ সালে অধিনায়কত্ব ছাড়ার পর অফ-ফর্মের থাকাকালীন বছরের ৬টি টেস্টে ২৬.৫ গড়ে মাত্র ২৬৫ রান করতে সক্ষম হন। এক পর্যায়ে ‘ইম্পোস্টার সিন্ড্রোম’ বা আত্মবিশ্বাসের অভাবজনিত মানসিক জটিলতায় ভুগতে শুরু করি বলে যোগ করেন তিনি।

২০২১ সালের নভেম্বরে দলের দায়িত্ব নেওয়া প্রধান কোচ রাহুল দ্রাবিড় এবং ব্যাটিং কোচ বিক্রম রাঠোর কোহলির মনের ভেতরের এই লড়াইগুলোকে অনুধাবন করেন। কোহলি জানান, অধিনায়কত্ব ছাড়ার পরই দ্রাবিড় ও রাঠোরের কাছে নিজের মানসিক অবস্থা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা শুরু করেন। তারা অত্যন্ত যত্নশীলভাবে তার পাশে দাঁড়ান এবং কোহলির হারানো আত্মবিশ্বাস ও খেলার প্রতি ক্ষুধা ফিরিয়ে আনেন।

দ্রাবিড়ের অভিভাবকত্ব এবং দিকনির্দেশনায় ২০২৩ সালে কোহলি দুর্দান্তভাবে ফর্মে ফেরেন। সেই বছর তিনি ৫৬ গড়ে দুটি সেঞ্চুরি ও দুটি হাফ সেঞ্চুরিসহ ৮টি টেস্টে ৬৭১ রান সংগ্রহ করেন।

কোহলির বলেন, ‘দুই ক্রিকেট ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিই তাকে নতুন করে ২২ গজের লড়াই উপভোগ করতে শিখিয়েছে।’

বোনাস নয়, সেই টাকা দিয়ে সুইমিংপুল চান শান্ত-মুশফিকরা

ক্রীড়া ডেস্ক
বোনাস নয়, সেই টাকা দিয়ে সুইমিংপুল চান শান্ত-মুশফিকরা
সিরিজ জয়ের পর ট্রফিসহ ক্রিকেটারদের ফটোসেশন। ছবি : কালের কণ্ঠ

সাধারণত ঐতিহাসিক ম্যাচ বা সিরিজ জয়ের পুরস্কার হিসেবে ক্রিকেটারদের বোনাস দিয়ে থাকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ঘরের মাঠে পাকিস্তানকে প্রথমবার টেস্ট ও সিরিজ হারানোয় পকেট গরম হওয়ার কথা ছিল নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসদের। 

ক্রিকেটারদের পুরস্কৃত করার ইচ্ছাও ছিল বিসিবির। তবে ক্রিকেটাররাই চেয়েছেন বোনাস না নিতে। তাদের চাওয়া সেই অর্থ দিয়ে যেন সুইমিংপুল বানানো হয়। শান্ত-মুশফিকুর রহিমদের এমন ভাবনার প্রশংসা করেছেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল।

নিজেদের নয়, সবার চিন্তা করে এমনটা করেছেন জানিয়ে তামিম বলেছেন, ‘আমরা তৈরি ছিলাম, যদি বোনাস দেওয়া লাগত, অবশ্যই দিতাম। কারণ, তাদের এটা প্রাপ্য। কিন্তু সবার উচিত তাদের এই উদ্যোগের (বোনাস না নেওয়া) প্রশংসা করা। তারা শুধু নিজেদের কথা চিন্তা করেনি। এই সুবিধা (সুইমিংপুল) তাদের ছোট ভাইয়েরা, অনূর্ধ্ব–১৯ বা হাই পারফরম্যান্সে যারা আছে, তারাও ব্যবহার করবে।’

মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের মূল নকশায় সুইমিংপুলের ব্যবস্থা থাকলেও কখনো আলোর মুখ দেখেনি। এবার অত্যাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন সুইমিংপুলটি তৈরি করা হবে বলে জানিয়েছেন তামিম। যারাই আসন্ন বিসিবি পরিচালনা পর্ষদ আসুক না কেন তারাই সেটা করবে এমন আশ্বাস ব্যক্ত করে তামিম বলেছেন, ‘ইতিমধ্যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আমি খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে চাই। যত টাকা বোর্ড দিত, ওই টাকা হয়তো লাইফ চেঞ্জিং কিছু হতো না। তবে তারা যেটা চেয়েছে, এই সুবিধার কারণে অনেকের অনেক উন্নতি হতে পারে। এই চিন্তাকে সাধুবাদ জানাই। প্রক্রিয়া শুরু করে দেব। নির্বাচন জিতে যারাই আসে আমি বা যে কেউ যেন তাড়াতাড়ি সম্পন্ন করে।’ 

পাকিস্তানকে ২ টেস্টের সিরিজে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠের প্রথমটিতে মিরপুরে ১০৪ রানের জয় পান শান্তরা। আর সিলেটে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারায় বাংলাদেশ। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ টেস্ট দেখাতেও প্রতিপক্ষকে ধবলধোলাই করে বাংলাদেশ। ২ টেস্টের সেই সিরিজ ২০২৪ সালে হয়েছিল পাকিস্তানে।

ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে আসবে, আশা তামিমের

ক্রীড়া ডেস্ক
ভারতীয় দল বাংলাদেশ সফরে আসবে, আশা তামিমের
তামিম ইকবাল ও বিরাট কোহলি। ছবি : সংগৃহীত

আগামী সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের মাটিতে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি খেলার কথা ভারত ক্রিকেট দলের। প্রায় চার বছর পর এটিই হবে ভারতীয় দলের প্রথম বাংলাদেশ সফর। 

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয়। এ বছর বাংলাদেশ দল ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ায় দুই দেশের ক্রিকেট বোর্ডেরও সম্পর্কে অবনতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ভারতীয় দলের বাংলাদেশে খেলতে আসা পুরোপুরি নির্ভর করছে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সবুজ সংকেতের ওপর। 

তবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবালের আশা, বাংলাদেশ-ভারত সিরিজ সূচি অনুযায়ী মাঠে গড়াবে। টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি।

তামিম বলেছেন, ‘এ বছর ভারতের বিপক্ষে একটি নির্ধারিত সিরিজ রয়েছে। আমি খুব আশাবাদী যে ভারত বাংলাদেশে এসে পুরো সিরিজ খেলবে। এটি এমন একটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজ, যা বাংলাদেশের মানুষ সত্যিই উপভোগ করে। দর্শকরা মাঠে আসে এবং দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট দেখা যায়। ভারতের বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজে বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছিল। এই দুই দেশ যখনই খেলে, বিশেষ করে ভারত যখন বাংলাদেশ সফরে আসে, তখন সেটি সব সময়ই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়।’

নিয়মিত যোগাযোগ ও আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) সঙ্গে দূরত্ব ঘোচাতে চান তামিম, ‘সমস্যা সব সময়ই থাকবে এবং সেগুলো সমাধান করার দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ডগুলোর। এখন আমাদের নতুন ক্রিকেট বোর্ড আছে এবং একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমি নিশ্চিত, যোগাযোগ ও আলোচনা চলবে। অন্য যা-ই হোক না কেন, ক্রিকেটের জয় হওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং আমি সে জন্যই কাজ করতে চাই।’

বিসিবির ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, ১, ৩ ও ৬ সেপ্টেম্বর তিনটি ওয়ানডে এবং ৯, ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর তিনটি টি-টোয়েন্টি হওয়ার কথা। 

বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মা টেস্ট ও টি-টোয়েন্টিকে অনেক আগেই বিদায় বলে দিয়েছেন। ভারতের এই দুই মহাতারকা এখন শুধু ওয়ানডে খেলছেন। আশা করা হচ্ছে, সেপ্টেম্বরের সিরিজেও তারা খেলবেন। ভারতের স্কোয়াডে থাকলে এটিই হতে পারে কোহলি-রোহিতের শেষ বাংলাদেশ সফর।

অবসর থেকে নয়্যারকে ফিরিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
অবসর থেকে নয়্যারকে ফিরিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ দল ঘোষণা
অবসর ভেঙে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন নয়্যার। ছবি : রয়টার্স

পুরান চাল ভাতে বাড়ে—বহুল প্রচলিত এই প্রবাদে বিশ্বাস রাখছে জার্মানি। বয়স ও অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফিরিয়েছে তারা। বায়ার্ন মিউনিখের গোলরক্ষককে রেখে আজ ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ হুলিয়ান নাগেলসমান।

২০২৪ ইউরো শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন নয়্যার। সে সময় ছন্দে থাকলেও বয়সটা তো কম হয়েছিল না তার। নতুনদের সুযোগ দিতে তাই ৩৮ বছর বয়সে অবসর নিয়েছিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক। নিজে সরে গেলেও জার্মান দল তার পিছু ছাড়ছে না। 

 

তাই তো ৪০ বছর বয়সী নয়্যারকে দরকার পড়ছে জার্মানির। তিন কাঠির নিচে তার ওপরই বিশ্বাস রাখতে চান নাগেলসমান। শিষ্যকে ফেরানোর বিষয়ে অন্য গোলরক্ষকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানান জার্মান কোচ। বিশেষ করে এতদিন গোলবারের নিচে প্রথম পছন্দ ওলি বাউমানকে তিনি জানিয়েছেন। নাগেলসমান বলেছেন, ‘মার্চের দিকে আমরা ওলিকে জানিয়েছি, মনুর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দেশের সেরা তিন গোলরক্ষকের দিকে নজর রাখাই আমার কাজ।’  

২ বছর আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও গ্লাভসে ধুলো জমতে দেননি নয়্যার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ সব সেভ করে তার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তার ফেরার দিনে জার্মান দলে চমক হিসেবে আছেন লেনার্দ কার্ল। বায়ার্নের হয়ে এ মৌসুমের নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। যদিও ৯ গোল ও ৮ অ্যাসিস্টে তার পারফরম্যান্স পুরোটা ফুটে উঠবে না।

এদের বাইরে পরিচিতমুখরাই দলে জায়গা পেয়েছেন। তবে নাগেলসমানের দলে জায়গা হয়নি গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগানের মতো তারকার। জিরোনায় লোনে থাকা বার্সেলোনার সাবেক গোলরক্ষকের সঙ্গে বাদ পড়েছেন রবার্ট এন্ডরিচ, নিকোলাস ফুলক্রুগ ও করিম আদেয়েমির মতো পরিচিত মুখরা।

জার্মানির বিশ্বকাপ দল :

গোলরক্ষক : ম্যানুয়েল নয়্যার, অলিভার বাউম্যান ও আলেকজান্ডার নুবেল।

রক্ষণভাগ : জোনাথান তাহ, জশুয়া কিমিখ, নিকো শ্লটারবেক, আন্তোনিও রুডিগার, ডেভিড রাউম, নাথানিয়েল ব্রাউন, ভালদেমার আন্তন ও ম্যালিক থিয়াও।

মধ্যমাঠ : প্যাসকাল গ্রস, লেয়ন গোরেৎস্কা, আলেকজেন্ডার পাভলোভিচ, ফেলিক্স নমেচা, নাদিয়েম আমিরি ও অ্যাঞ্জেলো স্টিলার।

আক্রমণভাগ: কাই হাভার্টজ, নিক ভোল্টমেড, দেনিজ উন্দাভ, জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস, লেনার্ট কার্ল, জেমি লেভেলিং (২৫, স্টুটগার্ট), লিরয় সানে ও ম্যাক্সিমিলিয়ান বায়ার।