• ই-পেপার

অবসর থেকে নয়্যারকে ফিরিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

মুম্বাইয়ের ‘ভুল পদক্ষেপ’ একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

ক্রীড়া ডেস্ক
মুম্বাইয়ের ‘ভুল পদক্ষেপ’ একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

২০২৩ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক পরিবর্তন করে। হিটম্যান রোহিত শর্মার উত্তরসূরি হিসেবে তরুণ তারকা হার্দিক পান্ডিয়ার নাম ঘোষণা করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সেই সময়ে এই পদক্ষেপটি যুক্তিযুক্ত ছিল। রোহিত আর আগের মতো সাফল্য পাচ্ছিলেন না এবং মুম্বাইও টানা তিনটি মৌসুম কোনো শিরোপা ছাড়াই কাটিয়েছিল। অন্যদিকে হার্দিক গুজরাট টাইটান্সের হয়ে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছিল । ২০২২ সালে দলটিকে আইপিএল শিরোপা জেতানোর পর পরের মৌসুমে রানার্স-আপ হয়েছিলেন।

হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মৌসুমের খারাপ সময় পেছনে ফেলতে হার্দিককে অধিনায়ক করা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পয়েন্ট তালিকায় একবারে তলানিতে রয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? 

এ নিয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মুরলী কার্তিক এবং মনোজ তিওয়ারির জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের সিদ্ধান্ত একবারেই সঠিক ছিল না। কারণ তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা এড়াতে মুম্বাই লখনউর সঙ্গে লড়ছে, তাতে পান্ডিয়ার আগমন ভালোর চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়েছে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ৫ বার চ্যাম্পিয়ান হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

তারা আরো বলেছেন, মুম্বাই এমন একজন অধিনায়ক সরিয়ে দিয়েছিল, যে কিনা পাঁচটি শিরোপা জয় করেছিলো ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য। দেশের হয়ে টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছেন। তাকে সরিয়ে দিলে সমস্যা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল। 

যেখানে রোহিত শর্মা, জসপ্রিত বুমরাহ এবং সূর্যকুমার যাদবের মতো তারকারা থাকার পরেও বাইরে থেকে একজনকে এনে অধিনায়ক করলে, তার প্রভাব ড্রেসিং রুমে পড়েই। তাই হয়েছে। হার্দিকের এমন আচমকা আসা ড্রেসিংরুমে ভালোভাবে গৃহীত হয়নি বলে যোগ করেন কার্তিক।

অধিনায়ক হিসেবে ৩৮টি ম্যাচে হার্দিক জিতেছেন মাত্র ১৫টি, জয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৩৯.৪৭ শতাংশ, যা ১০টির বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা মুম্বাই অধিনায়কদের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

সূর্যকুমার যাদব এবং জসপ্রিত বুমরাহর মতো একাধিক নেতৃত্বের দাবিদার সুযোগের অপেক্ষায় থাকায় কেনো হার্দিক আনতে হলো এর প্রশ্নও অজানা এই দুই সাবেক ক্রিকেটারের কাছে।

‘নাশতার টেবিলে লিটন-রিজওয়ানের ঝামেলা মিটমাট করে দিয়েছি’

ক্রীড়া ডেস্ক
‘নাশতার টেবিলে লিটন-রিজওয়ানের ঝামেলা মিটমাট করে দিয়েছি’
সিলেট টেস্টে লিটন-রিজওয়ানের কথার লড়াইয়ের মুহূর্ত। ছবি : কালের কণ্ঠ

সিলেট টেস্টে শুধু ব্যাট-বলের লড়াইই দেখেননি দর্শক-সমর্থকরা। দেখেছেন বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে তর্কযুদ্ধও। বিশেষ করে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সঙ্গে লিটন দাসের কথার লড়াই তো বেশ জমে উঠেছিল।

দুজনের তর্ক-বিতর্ক থামাতে পরে আম্পায়ারকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে। তাতে অবশ্য শেষ হয়নি। কেননা আম্পায়ারের হস্তক্ষেপের পর রিজওয়ানকে স্লেজিং করতে লিটনের সঙ্গে যুক্ত হন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিমও। তবে মাঠে না হলেও নাস্তার টেবিলে তাদের ঝামেলা শেষ হয়েছে এমনটা দাবি করছেন বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ।

রিজওয়ান-লিটনের দ্বন্দ্ব মিটমাট করার বিষয়টি পাকিস্তানের এআরওয়াই নিউজকে জানিয়েছেন মুশতাক। তিনি বলেছেন, ‘নাশতার টেবিলে রিজওয়ান-লিটনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টা মিটমাট করে দিয়েছি। তাদের মধ্যে আর কোনো সমঝোতা নেই।’

 

দলের কৌশল অনুসরণ করতে গিয়ে রিজওয়ান-লিটন মনোযোগ হারিয়ে ফেলায় এমনটা হয়েছে জানিয়ে মুশতাক বলেছেন, ‘আমার মনে হয় সে (রিজওয়ান) কৌশলগতভাবেই এটা (বোলারদের থামিয়ে দেওয়া) করে যাচ্ছিল। প্রতিপক্ষকে হতাশায় ডুবাতে কিছু বিষয় সে জেনেবুঝেই করে। সে সময় তাই নিজেদের বলয় থেকে বেরিয়ে এসেছিল। খেলার পরিকল্পনা দূরে সরে গিয়েছিল এবং মনোযোগ হারিয়েছিল তারা।’

লিটনকে পরামর্শও দিয়েছেন মুশতাক। বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ বলেছেন, ‘আমি তাকে (লিটন) সীমা অতিক্রম না করার পরামর্শ দিয়েছি। সঙ্গে অন্যায্য মন্তব্য না করারও।’

তবে স্লেজিংকে টেস্ট ক্রিকেটের অংশ মনে করে মুশতাক বলেছেন, ‘টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যের একটা অংশ এটি। একপক্ষ আরেকপক্ষকে হতাশ এবং টিজ করবে। প্রতিপক্ষকে তাদের পরিকল্পনা এবং মাইন্ডসেট থেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করবে। কৌশলগতভাবে এটি একটি স্মার্ট পন্থা। এমনটা অস্ট্রেলিয়ানরা প্রচুর করে।’

সিলেট টেস্টে লিটন-রিজওয়ানের মধ্যেকার কথা কাটাকাটি ধরা পড়েছে স্টাম্প মাইকে। সেটাই নিচে হুবহু তুলে ধরা হলো—লিটন ‘কি হলো? কি করছেন?’ রিজওয়ান ইশারা দিয়ে বলেন, ‘তাকিয়ে দেখ ওদিকে…।’

 

লিটন এবার বলেন, ‘প্রতি বলেই এমন করছেন, সব বলেই…।’ রিজওয়ানের উত্তর, ‘এরকম তো হচ্ছেই…!’ লিটনের উত্তর, ‘ওদিকে তাকানোর কি দরকার? ব্যাটিং করুন…!’ উত্তেজিত কণ্ঠে রিজওয়ান বলেন, ‘এটা কি তোমার কাজ?’ লিটনের উত্তর, ‘আপনি প্রতি বলেই ডিস্টার্ব করছেন…।’ 

আম্পায়ারের হস্তক্ষেপে সে সময় মিটমাট হওয়ার পর ম্যাচ শুরু হলে লিটনের সঙ্গে এবার যোগ দেন অধিনায়ক শান্ত। শুরুটা লিটন করেন এভাবে, ‘কিছু রান করেছে, এখন অভিনয় শুরু করে দেবে।’ শান্ত বলেন, ‘অতি অভিনয়ের জন্য পঞ্চাশ পয়সা কেটে রাখা হবে।’

ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের শিরোপা খরা ঘোচাতে চান কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের শিরোপা খরা ঘোচাতে চান কেইন
ফাইল ছবি

আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে মন্তব্য করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ফুটবলার হ্যারি কেইন। ৬০ বছরের শিরোপার খরার অবসান ঘটাতে তারা অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই খেলতে নামছেন বলেও জানান তিনি।

বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চলতি মৌসুমে দারুণ সময় কাটিয়েছেন হ্যারি কেইন। তার অভিজ্ঞতা এবং উদীয়মান প্রতিভার মিশ্রণ টুর্নামেন্টে নামার আগে তাদের সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। কেইন বিশ্বাস করেন, ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা স্কোয়াড এবং এক বিশেষ দলীয় চেতনা তাদের বিশ্বকাপের গৌরব এনে দিতে পারে এবং শিরোপার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারে।

কেইন বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের স্কোয়াডটি এখন পর্যন্ত সেরা। তিনি উল্লেখ করেন, আমার মনে হয়, আপনি যদি প্রথম একাদশ এবং বেঞ্চ থেকে নামা খেলোয়াড়দের দিকে তাকান, তবে দেখবেন আমরা অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই টুর্নামেন্টে নামছি। বিশ্বকাপে খেলার মধ্যে সবসময়ই একটা বিশেষত্ব থাকে।

এই ফরোয়ার্ড তারকা বলেন, ভেতরে একটা বিশেষ অনুভূতি হয়, বিশেষ করে যখন আপনি জেতেন। আমরা জানি বিশ্বকাপ জয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, শুধু আমাদের জন্য নয়, সমর্থকদের এবং পুরো দেশের জন্যও। এটাই আমাদের মাঠে চালিত করে এবং আশা করি আমরা দেশের হয়ে শিরোপাটি ঘরে আনতে পারব।

কেইন আরো বলেন, তিনি তার সেরা ফর্মে আছেন এবং মূলত ম্যাচ জেতাই তাকে চালিত করে। ব্যক্তিগত রেকর্ডগুলো কেবল তখনই অর্থবহ হয় যখন সেগুলো দলকে সফল হতে সাহায্য করে। 

তিনি বলেন, ‘যখন আমি আমার প্রথম গোল্ডেন বুট (২০১৮ বিশ্বকাপ) জিতেছিলাম, তখন আমি বেশ তরুণ ছিলাম। আমি নিজেকে এখন অনেক বেশি পরিপূর্ণ একজন ফুটবলার মনে করি। আর সত্যি বলতে, আমার মনে হয় আমি এই মুহূর্তে আমার ক্যারিয়ারের সেরা ফুটবল খেলছি।’ 

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয় এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ফুটবল দলের একমাত্র শিরোপা জয়। 

আন্ত কলেজ ফুটবল

বৃন্দাবন সরকারি কলেজকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়

ক্রীড়া ডেস্ক
বৃন্দাবন সরকারি কলেজকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়
আন্ত কলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মুহূর্ত। সৌজন্য ছবি

আন্ত কলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ে শুভ সূচনা করেছে ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়। আজ (বুধবার) বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা। এ জয়ে পরবর্তী রাউন্ডে কোয়ালিফাই করেছে তারা।

উদ্বোধনী দিনে মাঠের লড়াইয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। মাঠের চারপাশজুড়ে দারুণ পাসিং ও টিম স্পিরিটের প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথমার্ধেই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে একের পর এক গোল করে ৫-০ ব্যবধানের এই বিশাল জয় নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়। বিপরীতে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও ময়মনসিংহের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দক্ষতায় কোনো গোল করতে পারেনি।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের সহযোগিতায় নক-আউট পদ্ধতিতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ সকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশব্যাপী এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। উদ্বোধনী বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেছেন, ‘কলেজ পর্যায়ের এই ফুটবলারদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে।’

দেশের ৮টি বিভাগের সেরা ১৬টি কলেজ দল নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বের বাকি ম্যাচগুলো দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে একযোগে চলছে। আগামী কয়েক দিনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ঢাকায় এই প্রতিযোগিতার সমাপনী ও ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।