• ই-পেপার

‘নাশতার টেবিলে লিটন-রিজওয়ানের ঝামেলা মিটমাট করে দিয়েছি’

অবসর থেকে নয়্যারকে ফিরিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ দল ঘোষণা

ক্রীড়া ডেস্ক
অবসর থেকে নয়্যারকে ফিরিয়ে জার্মানির বিশ্বকাপ দল ঘোষণা
অবসর ভেঙে ২০২৬ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন নয়্যার। ছবি : রয়টার্স

পুরান চাল ভাতে বাড়ে—বহুল প্রচলিত এই প্রবাদে বিশ্বাস রাখছে জার্মানি। বয়স ও অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে ফিরিয়েছে তারা। বায়ার্ন মিউনিখের গোলরক্ষককে রেখে আজ ২৬ সদস্যের দল ঘোষণা করেছেন কোচ হুলিয়ান নাগেলসমান।

২০২৪ ইউরো শেষে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেন নয়্যার। সে সময় ছন্দে থাকলেও বয়সটা তো কম হয়েছিল না তার। নতুনদের সুযোগ দিতে তাই ৩৮ বছর বয়সে অবসর নিয়েছিলেন ২০১৪ বিশ্বকাপজয়ী গোলরক্ষক। নিজে সরে গেলেও জার্মান দল তার পিছু ছাড়ছে না। 

 

তাই তো ৪০ বছর বয়সী নয়্যারকে দরকার পড়ছে জার্মানির। তিন কাঠির নিচে তার ওপরই বিশ্বাস রাখতে চান নাগেলসমান। শিষ্যকে ফেরানোর বিষয়ে অন্য গোলরক্ষকের সঙ্গে তার কথা হয়েছে বলে জানান জার্মান কোচ। বিশেষ করে এতদিন গোলবারের নিচে প্রথম পছন্দ ওলি বাউমানকে তিনি জানিয়েছেন। নাগেলসমান বলেছেন, ‘মার্চের দিকে আমরা ওলিকে জানিয়েছি, মনুর সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। দেশের সেরা তিন গোলরক্ষকের দিকে নজর রাখাই আমার কাজ।’  

২ বছর আগে জাতীয় দল থেকে অবসর নিলেও গ্লাভসে ধুলো জমতে দেননি নয়্যার। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দারুণ সব সেভ করে তার প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। তার ফেরার দিনে জার্মান দলে চমক হিসেবে আছেন লেনার্দ কার্ল। বায়ার্নের হয়ে এ মৌসুমের নিজের প্রতিভার পরিচয় দিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড। যদিও ৯ গোল ও ৮ অ্যাসিস্টে তার পারফরম্যান্স পুরোটা ফুটে উঠবে না।

এদের বাইরে পরিচিতমুখরাই দলে জায়গা পেয়েছেন। তবে নাগেলসমানের দলে জায়গা হয়নি গোলরক্ষক মার্ক-আন্দ্রে টের স্টেগানের মতো তারকার। জিরোনায় লোনে থাকা বার্সেলোনার সাবেক গোলরক্ষকের সঙ্গে বাদ পড়েছেন রবার্ট এন্ডরিচ, নিকোলাস ফুলক্রুগ ও করিম আদেয়েমির মতো পরিচিত মুখরা।

জার্মানির বিশ্বকাপ দল :

গোলরক্ষক : ম্যানুয়েল নয়্যার, অলিভার বাউম্যান ও আলেকজান্ডার নুবেল।

রক্ষণভাগ : জোনাথান তাহ, জশুয়া কিমিখ, নিকো শ্লটারবেক, আন্তোনিও রুডিগার, ডেভিড রাউম, নাথানিয়েল ব্রাউন, ভালদেমার আন্তন ও ম্যালিক থিয়াও।

মধ্যমাঠ : প্যাসকাল গ্রস, লেয়ন গোরেৎস্কা, আলেকজেন্ডার পাভলোভিচ, ফেলিক্স নমেচা, নাদিয়েম আমিরি ও অ্যাঞ্জেলো স্টিলার।

আক্রমণভাগ: কাই হাভার্টজ, নিক ভোল্টমেড, দেনিজ উন্দাভ, জামাল মুসিয়ালা, ফ্লোরিয়ান ভির্টৎস, লেনার্ট কার্ল, জেমি লেভেলিং (২৫, স্টুটগার্ট), লিরয় সানে ও ম্যাক্সিমিলিয়ান বায়ার।

মুম্বাইয়ের ‘ভুল পদক্ষেপ’ একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

ক্রীড়া ডেস্ক
মুম্বাইয়ের ‘ভুল পদক্ষেপ’ একটি ঐতিহ্যকে ধ্বংস করল

২০২৩ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স অধিনায়ক পরিবর্তন করে। হিটম্যান রোহিত শর্মার উত্তরসূরি হিসেবে তরুণ তারকা হার্দিক পান্ডিয়ার নাম ঘোষণা করে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। সেই সময়ে এই পদক্ষেপটি যুক্তিযুক্ত ছিল। রোহিত আর আগের মতো সাফল্য পাচ্ছিলেন না এবং মুম্বাইও টানা তিনটি মৌসুম কোনো শিরোপা ছাড়াই কাটিয়েছিল। অন্যদিকে হার্দিক গুজরাট টাইটান্সের হয়ে দুর্দান্ত সাফল্য পেয়েছিল । ২০২২ সালে দলটিকে আইপিএল শিরোপা জেতানোর পর পরের মৌসুমে রানার্স-আপ হয়েছিলেন।

হিন্দুস্থান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন মৌসুমের খারাপ সময় পেছনে ফেলতে হার্দিককে অধিনায়ক করা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। চলতি মৌসুমে ফ্র্যাঞ্চাইজিটি পয়েন্ট তালিকায় একবারে তলানিতে রয়েছে। তাই প্রশ্ন উঠছে পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত কি সঠিক ছিল? 

এ নিয়ে ভারতের সাবেক ক্রিকেটার মুরলী কার্তিক এবং মনোজ তিওয়ারির জানিয়েছে, মুম্বাইয়ের সিদ্ধান্ত একবারেই সঠিক ছিল না। কারণ তিন মৌসুমে দ্বিতীয়বারের মতো পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা এড়াতে মুম্বাই লখনউর সঙ্গে লড়ছে, তাতে পান্ডিয়ার আগমন ভালোর চেয়ে ক্ষতি বেশি হয়েছে যৌথভাবে সবচেয়ে বেশি ৫ বার চ্যাম্পিয়ান হওয়া ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।

তারা আরো বলেছেন, মুম্বাই এমন একজন অধিনায়ক সরিয়ে দিয়েছিল, যে কিনা পাঁচটি শিরোপা জয় করেছিলো ফ্র্যাঞ্চাইজিটির জন্য। দেশের হয়ে টোয়েন্টি বিশ্বকাপও জিতেছেন। তাকে সরিয়ে দিলে সমস্যা তৈরি হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল। 

যেখানে রোহিত শর্মা, জসপ্রিত বুমরাহ এবং সূর্যকুমার যাদবের মতো তারকারা থাকার পরেও বাইরে থেকে একজনকে এনে অধিনায়ক করলে, তার প্রভাব ড্রেসিং রুমে পড়েই। তাই হয়েছে। হার্দিকের এমন আচমকা আসা ড্রেসিংরুমে ভালোভাবে গৃহীত হয়নি বলে যোগ করেন কার্তিক।

অধিনায়ক হিসেবে ৩৮টি ম্যাচে হার্দিক জিতেছেন মাত্র ১৫টি, জয়ের হার দাঁড়িয়েছে ৩৯.৪৭ শতাংশ, যা ১০টির বেশি ম্যাচে অধিনায়কত্ব করা মুম্বাই অধিনায়কদের মধ্যে সর্বনিম্ন। 

সূর্যকুমার যাদব এবং জসপ্রিত বুমরাহর মতো একাধিক নেতৃত্বের দাবিদার সুযোগের অপেক্ষায় থাকায় কেনো হার্দিক আনতে হলো এর প্রশ্নও অজানা এই দুই সাবেক ক্রিকেটারের কাছে।

ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের শিরোপা খরা ঘোচাতে চান কেইন

ক্রীড়া ডেস্ক
ইংল্যান্ডের ৬০ বছরের শিরোপা খরা ঘোচাতে চান কেইন
ফাইল ছবি

আসন্ন বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের জাতীয় দলকে দেশটির ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে মন্তব্য করেছেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা ফুটবলার হ্যারি কেইন। ৬০ বছরের শিরোপার খরার অবসান ঘটাতে তারা অন্যতম প্রধান দাবিদার হিসেবেই খেলতে নামছেন বলেও জানান তিনি।

বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চলতি মৌসুমে দারুণ সময় কাটিয়েছেন হ্যারি কেইন। তার অভিজ্ঞতা এবং উদীয়মান প্রতিভার মিশ্রণ টুর্নামেন্টে নামার আগে তাদের সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে। কেইন বিশ্বাস করেন, ইংল্যান্ডের সর্বকালের সেরা স্কোয়াড এবং এক বিশেষ দলীয় চেতনা তাদের বিশ্বকাপের গৌরব এনে দিতে পারে এবং শিরোপার জন্য দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে পারে।

কেইন বলেন, আমার মনে হয়, আমাদের স্কোয়াডটি এখন পর্যন্ত সেরা। তিনি উল্লেখ করেন, আমার মনে হয়, আপনি যদি প্রথম একাদশ এবং বেঞ্চ থেকে নামা খেলোয়াড়দের দিকে তাকান, তবে দেখবেন আমরা অন্যতম ফেভারিট হিসেবেই টুর্নামেন্টে নামছি। বিশ্বকাপে খেলার মধ্যে সবসময়ই একটা বিশেষত্ব থাকে।

এই ফরোয়ার্ড তারকা বলেন, ভেতরে একটা বিশেষ অনুভূতি হয়, বিশেষ করে যখন আপনি জেতেন। আমরা জানি বিশ্বকাপ জয় কতটা গুরুত্বপূর্ণ, শুধু আমাদের জন্য নয়, সমর্থকদের এবং পুরো দেশের জন্যও। এটাই আমাদের মাঠে চালিত করে এবং আশা করি আমরা দেশের হয়ে শিরোপাটি ঘরে আনতে পারব।

কেইন আরো বলেন, তিনি তার সেরা ফর্মে আছেন এবং মূলত ম্যাচ জেতাই তাকে চালিত করে। ব্যক্তিগত রেকর্ডগুলো কেবল তখনই অর্থবহ হয় যখন সেগুলো দলকে সফল হতে সাহায্য করে। 

তিনি বলেন, ‘যখন আমি আমার প্রথম গোল্ডেন বুট (২০১৮ বিশ্বকাপ) জিতেছিলাম, তখন আমি বেশ তরুণ ছিলাম। আমি নিজেকে এখন অনেক বেশি পরিপূর্ণ একজন ফুটবলার মনে করি। আর সত্যি বলতে, আমার মনে হয় আমি এই মুহূর্তে আমার ক্যারিয়ারের সেরা ফুটবল খেলছি।’ 

উল্লেখ্য, ১৯৬৬ সালের বিশ্বকাপ জয় এখন পর্যন্ত ইংল্যান্ড ফুটবল দলের একমাত্র শিরোপা জয়। 

আন্ত কলেজ ফুটবল

বৃন্দাবন সরকারি কলেজকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়

ক্রীড়া ডেস্ক
বৃন্দাবন সরকারি কলেজকে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করল ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়
আন্ত কলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মুহূর্ত। সৌজন্য ছবি

আন্ত কলেজ ফুটবল প্রতিযোগিতা-২০২৬ এর জাতীয় পর্যায়ে শুভ সূচনা করেছে ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়। আজ (বুধবার) বীর শ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে হবিগঞ্জের বৃন্দাবন সরকারি কলেজকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত করেছে তারা। এ জয়ে পরবর্তী রাউন্ডে কোয়ালিফাই করেছে তারা।

উদ্বোধনী দিনে মাঠের লড়াইয়ে ময়মনসিংহ বিভাগীয় চ্যাম্পিয়ন ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। মাঠের চারপাশজুড়ে দারুণ পাসিং ও টিম স্পিরিটের প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রথমার্ধেই তারা ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। ম্যাচের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বৃন্দাবন সরকারি কলেজের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রেখে একের পর এক গোল করে ৫-০ ব্যবধানের এই বিশাল জয় নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ মহাবিদ্যালয়। বিপরীতে বৃন্দাবন সরকারি কলেজ বেশ কিছু আক্রমণ চালালেও ময়মনসিংহের শক্তিশালী রক্ষণভাগ ও গোলরক্ষকের দক্ষতায় কোনো গোল করতে পারেনি।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের সহযোগিতায় নক-আউট পদ্ধতিতে এই প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আজ সকালে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেশব্যাপী এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। উদ্বোধনী বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল বলেছেন, ‘কলেজ পর্যায়ের এই ফুটবলারদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড় বেরিয়ে আসবে।’

দেশের ৮টি বিভাগের সেরা ১৬টি কলেজ দল নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বের বাকি ম্যাচগুলো দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে একযোগে চলছে। আগামী কয়েক দিনের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষে ঢাকায় এই প্রতিযোগিতার সমাপনী ও ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।