• ই-পেপার

বিশ্বকাপ ২০১৫ প্রিভিউ

‘মওকা’ এবার বাংলাদেশেরই!

ভিনি-রাফিনিয়ার কাঁধে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন

ক্রীড়া প্রতিবেদক
ভিনি-রাফিনিয়ার কাঁধে ব্রাজিলের হেক্সা স্বপ্ন
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া। ছবি : সংগৃহীত

রিয়াল মাদ্রিদের জার্সিতে গত মৌসুমে দারুণ সময় পার করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। বার্সেলোনার হয়েও ছন্দে ছিলেন রাফিনিয়া। ক্লাব ফুটবলে এই দুই ব্রাজিলিয়ান বরাবরই প্রতিপক্ষের জন্য হুমকির; কিন্তু জাতীয় দলে এলে যেন নিজেদের হারিয়ে খোঁজেন তাঁরা। সর্বশেষ ২০২৪ সালে কোপা আমেরিকায় নিজেদের ছায়া হয়ে ছিলেন দুজনই। বিশ্বকাপ বাছাইয়েও নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেননি। আরেকটি বিশ্বকাপের বাঁশি যখন বেজেছে তখন আরো একবার আলোচনায় ভিনি-রাফিনিয়ারা।

এবার কি সেরা ছন্দে দেখা যাবে তাঁদের, এই প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে। রবিবার ভোর ৪টায় মরক্কোর বিপক্ষে হেক্সা মিশন শুরু করতে যাচ্ছে ব্রাজিল। মরক্কোর সুসংগঠিত রক্ষণ ভাঙতে হলে ভিনি-রাফিনিয়াকেই দায়িত্ব নিতে হবে। সঙ্গে মাতেয়াস কুনিয়া, ইগোর থিয়াগো, এনদ্রিকদেরও হতে হবে ভীষণ কার্যকর। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের এই আক্রমণভাগ এবারের আসরের অন্যতম সেরা।

পায়ের মাংসপেশির চোট থেকে সেরে ওঠার প্রক্রিয়ায় আছেন নেইমার। এ কারণে গত কয়েক দিন নিউজার্সির মরিসটাউনে ব্রাজিলের অনুশীলনে দেখা মেলেনি এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ডের। মরক্কো ম্যাচে তাই নেইমারকে ছাড়াই আক্রমণভাগ সাজাতে হচ্ছে কোচ কার্লো আনচেলোত্তিকে। নেইমার না থাকায় ভিনি ও রাফিনিয়ার দিকেই থাকছে সব নজর। দুজনই ক্লাব ফুটবলে পরীক্ষিত। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ভিনিসিয়ুসের ওপরই চাপটা থাকবে বেশি। গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ২২টি গোল করেছেন। এক ডজনের মতো অ্যাসিস্টও আছে তাঁর। গতি, ড্রিবলিং ও ওয়ান-টু-ওয়ান পরিস্থিতিতে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার দক্ষতা আছে তাঁর। তবে জাতীয় দলের হয়ে এখনো সেই ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি। সেলেসাও জার্সিতে ৪৯ ম্যাচে গোল করেছেন মাত্র ৯টি! এত কম গোল করা নিয়ে সমালোচনাও শুনতে হয়েছে ভিনিকে।

রাফিনিয়ার গল্পটাও অভিন্ন। বার্সেলোনার আক্রমণভাগের অন্যতম সেরা তিনিই। কিন্তু ক্লাবের পারফরম্যান্স জাতীয় দলে টেনে আনতে পারেননি। ডান প্রান্ত থেকে ভেতরে ঢুকে বাঁ পায়ের শটে কিংবা সেট-পিসে তাঁর দক্ষতা ব্রাজিলের জন্য বড় অস্ত্র হতে পারে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের হয়ে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন নাম্বার নাইন হিসেবে প্রথম পছন্দ মাতেয়াস কুনিয়া। ইউরোপিয়ান ফুটবলে নিজেকে কার্যকর স্ট্রাইকার হিসেবে প্রমাণ করেছেন তিনি। সামনে থেকে প্রেসিং, বল ধরে রাখা এবং সতীর্থদের খেলায় যুক্ত করার ক্ষেত্রে কুনিয়া ব্রাজিলের আক্রমণে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারেন। বিকল্প স্ট্রাইকার হিসেবে কার্যকর হতে পারেন ইগোর থিয়াগো ও এনদ্রিক। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গত মৌসুমে ২২ গোল করে হৈচৈ ফেলে দেন থিয়াগো। একের পর এক গোল করে ম্যানচেস্টার সিটির গোলমেশিন আর্লিং হালান্ডের সঙ্গে সমান তালে লড়েছেন ব্রাজিলের এই স্ট্রাইকার। আর রিয়াল ছেড়ে ফ্রেঞ্চ ক্লাব লিওনে গিয়ে নিজের জাত চেনান এনদ্রিক। তাঁর গতি, আত্মবিশ্বাস ও গোলের ক্ষুধা যেকোনো সময় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে। কার্লো আনচেলোত্তিও এনদ্রিককে নিয়ে ভীষণ আশাবাদী।

মরক্কোর সবচেয়ে শক্তির জায়গা রক্ষণ। ২০২২ বিশ্বকাপে তারা সেমিফাইনালে ওঠার পথে শক্তিশালী দলগুলোকেও ভুগিয়েছিল নিজেদের রক্ষণের শক্তি দিয়ে। তাই মরক্কো-বাধা পেরোতে হলে ভিনি-রাফিনিয়া-কুনিয়াদের আরো নিখুঁত হতে হবে। ক্লাব ফুটবলের ফর্ম জাতীয় দলের জার্সিতে টেনে আনতে পারলে ব্রাজিলকে পথ দেখাতে পারেন তাঁরাই।

ক্রিকেটার নাঈমের ওপর পুলিশি নির্যাতনের তীব্র নিন্দা কোয়াবের

ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রিকেটার নাঈমের ওপর পুলিশি নির্যাতনের তীব্র নিন্দা কোয়াবের
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। ছবি : সংগৃহীত

জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসনের ওপর পুলিশের শারীরিক নির্যাতন ও হয়রানির অভিযোগ তুলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (১৩ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোয়াব জানায়, গত ১২ জুন রাতে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ শেষে সাভার থেকে নিজ বাড়ি চট্টগ্রামে ফেরার পথে লালখান বাজার এলাকায় পুলিশের মুখোমুখি হন নাঈম হাসান।

কোয়াবের দাবি, পুলিশ শুরু থেকেই তার সঙ্গে বৈরী আচরণ করে। একপর্যায়ে নাঈম কথা বলার চেষ্টা করলে তার গলা চেপে ধরা হয়। আশপাশের লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও পুলিশ তাকে পাইপ দিয়ে মারধর করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

সংগঠনটির ভাষ্য অনুযায়ী, পরে নাঈমকে খুলশী থানায় নেওয়া হলে সেখানেও তার সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। সাহায্যের জন্য ফোন করার পর পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে কোয়াব বলেছে, দেশের যেকোনো নাগরিকের সঙ্গে এমন আচরণ সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য এবং ন্যায়বিচারের স্বার্থে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত প্রয়োজন।

কোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন ইতোমধ্যে নাঈম হাসানের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি নাঈমকে আশ্বস্ত করেছেন যে দেশের সব ক্রিকেটার তার পাশে রয়েছে।

এ ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে কোয়াব।

ক্রিকেটার নাঈমকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ

ক্রীড়া ডেস্ক
ক্রিকেটার নাঈমকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ
জাতীয় দলের ক্রিকেটার নাঈম হাসান। ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে ডিবি পরিচয়ে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার রাতে চট্টগ্রাম নগরীর লালখানবাজার ফ্লাইওভারের মুখে এ ঘটনা ঘটে বলে দাবি করেছেন এই ক্রিকেটার।

জানা গেছে, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচ খেলে বিমানযোগে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাসায় যাচ্ছিলেন তিনি। রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালখানবাজার এলাকায় তার গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

নাঈম অভিযোগ করেন, একপর্যায়ে সাদা পোশাকে থাকা এক ব্যক্তি ও পুলিশের সদস্যরা তাকে জোর করে গাড়ি থেকে নামিয়ে নিজেদের গাড়িতে তুলতে চান। তিনি পরিচয় দেওয়ার পরও শারীরিকভাবে হেনস্তা ও মারধরের শিকার হন বলে দাবি করেন।

চট্টগ্রামের একটি হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নেওয়ার পর বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় রয়েছেন।

ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত নাঈম বলেন, তিনি পুলিশকে ব্যাগ তল্লাশির অনুমতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই তার গলা চেপে ধরা হয় এবং পরে মারধর করা হয়। স্থানীয় লোকজন তাকে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিলেও পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাঈমের দাবি, পরে তাকে খুলশী থানায় নেওয়া হয়। সেখানে তিনি পরিবারের সদস্য ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গে কথা হওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে বলে আশ্বাস পান।

এদিকে ঘটনাটির বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আমিরুল ইসলাম বলেছেন, নাঈম হাসান ন্যায়বিচার পাবেন এবং অভিযোগের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, ‘উনি (নাঈম হাসান) ন্যায় বিচার পাবেন। আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। পুলিশ সদস্য যেই হোক না কেন, আমরা এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্স। কারণ এটার সঙ্গে পুলিশের ইমেজ জড়িত। আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্নে কাজ করতেছি। বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো কিছুই টলারেট করব না ‘

ডিসি আমিরুল ইসলাম আরও জানান, এখানে চোরাচালান সংক্রান্ত তথ্য আছে। যেটা আপনারা শুনেছেন, তথ্যের উৎসটাও জেনেছেন, এটি ভেরিফাই করা হবে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে উনারা (পুলিশ) গিয়েছেন এবং যাওয়ার প্রক্রিয়াটুকু যথাযথ নিয়ম অনুসারে হয়েছে কি না সেটা আমরা যাচাই-বাছাই করে দেখব।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশিং প্রক্রিয়ায় কাউকে মারধরের সুযোগ নেই। পুরো বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের

ক্রীড়া ডেস্ক
বিশ্বকাপে উড়ন্ত সূচনা যুক্তরাষ্ট্রের
প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারাল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। ছবি : রয়টার্স

স্বাগতিক হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের যাত্রা শুরু করেই নিজেদের শক্তির জানান দিল যুক্তরাষ্ট্র। গ্রুপ ‘ডি’-এর ম্যাচে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে মার্কিনরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। সপ্তম মিনিটে প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দামিয়ান বোবাদিয়ার আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। এরপর ৩১ মিনিটে ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুন।

প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে আবারও গোল করেন বালোগুন। মালিক টিলম্যানের সহায়তায় নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রকে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যান এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধেই কার্যত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় মার্কিনরা।

দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে যুক্তরাষ্ট্র। তবে ৭৩ মিনিটে হুলিও এনসিসোর পাস থেকে গোল করে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমান মৌরিসিও। এতে কিছুটা আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।

বরং যোগ করা সময়ের অষ্টম মিনিটে জিওভানি রেইনার গোল যুক্তরাষ্ট্রের জয়কে আরো বড় করে তোলে। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা।

এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপের শুরুতেই গ্রুপে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট অর্জন করল যুক্তরাষ্ট্র। 

‘মওকা’ এবার বাংলাদেশেরই! | কালের কণ্ঠ