গাইবান্ধার সাদুল্লাহপুর উপজেলা শাখার আয়োজনে ‘নাগরিক দায়িত্ব ও সামাজিক সম্প্রীতি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাজে দায়িত্বশীল নাগরিক গড়ে তোলা, পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করা এবং স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে তরুণদের সম্পৃক্ত করার লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়।
গতকাল সোমবার (০৬ জুলাই) আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবীরা অংশ নেন। আলোচনা সভায় নাগরিক সচেতনতা, সামাজিক মূল্যবোধ, আইন মেনে চলার গুরুত্ব এবং একটি শান্তিপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণে তরুণদের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসুন্ধরা শুভসংঘ সাদুল্লাহপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আশিকুর রহমানের সভাপতিত্বে মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন গাইবান্ধা জেলা শাখার উপদেষ্টা হুমায়ুন আহমেদ বিপ্লব, জেলা শাখার সভাপতি আহসান আজিম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক আহসানিয়া তাসনিম, সুমাইয়া আক্তার, জান্নাতুল আক্তার, আশিদুল রহমান, দিবাকর মোদক কাব্যসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও স্বেচ্ছাসেবীরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, একজন দায়িত্বশীল নাগরিক শুধু নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকেন না, বরং নিজের দায়িত্বও যথাযথভাবে পালন করেন। আইন মেনে চলা, অন্যের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করা প্রতিটি নাগরিকের কর্তব্য।
বক্তারা আরো বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, বিভ্রান্তি ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণা সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করছে। এসব থেকে দূরে থেকে যাচাই-বাছাই করে তথ্য গ্রহণ এবং ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে তরুণদের সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে।
তারা বলেন, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলা, বৃক্ষরোপণ, রক্তদান, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও মানবিক সমাজ গঠন সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বসুন্ধরা শুভসংঘ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে ইতিবাচক ভূমিকা রেখে চলেছে।
বক্তারা স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে বলেন, দেশপ্রেম, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই সচেতন, দায়িত্বশীল ও সম্প্রীতিময় সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
আলোচনা শেষে উপস্থিত সবাই নাগরিক দায়িত্ব পালনে সচেতন হওয়ার এবং সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।








