kalerkantho

রবিবার । ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭। ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১। ১৫ রজব ১৪৪২

এটাই ভালোবাসা?

জহিরুল ইসলাম

১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ১৫:৩০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এটাই ভালোবাসা?

ছবি: ইন্টারনেট থেকে

তখন মাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু করলাম। নতুন পরিবেশ। নতুন নতুন বন্ধু-বান্ধব। অনেক কিছু নতুন করে জানা এবং বুঝতে চেষ্টা করা। একদিন কয়েকজন বন্ধু বললো চল ইডেনের (ইডেন মহিলা কলেজ) সামনে যাবো। পুরান ঢাকা থেকে নীলক্ষেত হয়ে গন্তব্যে এসে রাস্তার ধারের ফুটপাতে বসলাম। দেখলাম ফুটপাত জুড়ে প্রেম সাজিয়ে বসেছে প্রেমিয়ালরা। যে যার মতো করে 'সময়' প্রিয়জনের সঙ্গে কাটাচ্ছেন। 

কিছুক্ষণ পরে এক আপু আসলো। সঙ্গে থাকা এক বন্ধু পকেট থেকে দুই হাজার টাকা বের করে দিয়ে জানালো ভাইয়া দিয়েছে। এভাবে বেশ কয়েকবার যাওয়া হলো ইডেন মহিলা কলেজের সামনে। আপুও অনেকবার ভাইয়ার জন্য খাওয়ার পাঠাতো। আমরাও হতাম তার ভাগিদার। জানতে পারলাম একই জেলায় ভাইয়া আর আপুর বাড়ি। প্রায় ১০ বছরের সম্পর্ক। সেদিন আমরা দেখা করার ঠিক দুই বছর পর একদিন ওই আপু আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনের সামনে যেতে বললো। 

সময়মতো আমরা চার বন্ধু গিয়ে হাজির। যে ভাইয়ার দেওয়া টাকা নিয়ে যেতাম সেই ভাইয়াও আসছে। কিন্তু আপু এখনো এসে পৌঁছায়নি। ঘণ্টাখানেক অপেক্ষার পর তিনি আসলেন। বসে থাকা আমরা সবাই একটু অবাক হলাম ওনার সঙ্গে আরেক সুদর্শনকে দেখে। আপু আসলেন, বসলেন এবং জানালেন সুদর্শন ব্যাক্তি ওনার স্বামী। পরিবারের চাপে পড়ে তিনি বিয়ে করেছেন। জানানোর সুযোগ হয়নি। এছাড়া ভাইয়া কোনো চাকরিরও চেষ্টা করছেন না। তার গান লেখায় তো (ওই ভাইয়া গান লিখতো) জীবন চলবে না। এসময় আর কিছু বলার মতো বা ভাবার মতো অবস্থায় আমরা ছিলাম না। সঙ্গে থাকা ভাইয়া অনেকটা চুপচাপ কোন প্রশ্ন না করেই স্থান ত্যাগ করলেন। আর আমরা ভালোবাসার সংজ্ঞা নিয়ে খানিকটা চিন্তিত হয়ে পড়লাম! এটাই ভালোবাসা?

অনার্স তৃতীয় বর্ষে উঠে পাশের বন্ধু-বড় এবং ছোটদের প্রেমের সময়কাল অনেকটা ভাবিয়ে তুলেছিলো। চারুকলার এক ছোট ভাই দুই বছর প্রেম চালিয়ে যাচ্ছিলো। তার প্রেমিকা সব সময় তার খাওয়া দাওয়া থেকে শুরু করে অন্য মেয়ের দিকে তাকানো যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করতো তা দেখে ভালোই লাগতো। কিন্তু সেটিও দীর্ঘ সময় চললো না। সেই ছোট ভাই আর তার প্রেমিকাকে দেখলাম কয়েকমাস পর ভিন্ন ভিন্ন ভালো লাগার মানুষ নিয়ে আবার নতুন করে সুখে দিন পার করছেন। এটাই ভালোবাসা?

এবার বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার আগে গ্রামের এক প্রেমিক জুটির কথা বলি। নয়তো ভালোবাসাকে ছোট করা হবে। ছোট থেকে প্রেম এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক। শৈশব থেকে কৈশোর। এরপর যৌবনে এসে দুজনের আরো কাছে আসা। পরিবার জানলে মানবে না বলে পালিয়ে বিয়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর তিন বছর দুই পরিবারে যোগাযোগ বন্ধ। তারপর আবার মিলনের শঙ্কা! দুই পরিবারের চাপে পড়েও কেউ বিয়ে না করায়। অবশেষে মেনে নিয়ে বিয়ে। শেষমেশ দুজনের ১২ বছরের সংসার। একযুগ পার করলেও সন্তান নেই। তবু ভালোবাসা কমেনি। এখনো দুজনের ভুলভ্রান্তি মেনে নিয়ে চলছে জীবন। এটাই ভালোবাসা?

তবে এসব ছাড়িয়ে ভাই-বোন, মা-বাবা। সম্পর্কের ভালোবাসাগুলো দেখেছি স্বার্থহীন। যে ভালোবাসার জন্য দিনক্ষণ লাগেনি। দিনক্ষণ লাগে না। ভাঙ্গা গড়া, ভালোমন্দের মধ্যেও জীবনে সুখের শেষ নেই। একজন অন্যজনের আগে মরে গিয়ে প্রিয়জনের মৃত্যু শোক থেকে বাঁচাই তাদের আরাধনা। এসবের মধ্যেই বেঁচে থাকে ভালোবাসা। বেঁচে থাকুক ভালোবাসা। এটাই ভালোবাসা!

লেখক: স্টাফ রিপোর্টার, কালের কণ্ঠ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা