kalerkantho

রবিবার । ২১ আষাঢ় ১৪২৭। ৫ জুলাই ২০২০। ১৩ জিলকদ  ১৪৪১

কস্তুরী কথন

আবু নাছের টিপু   

৯ মে, ২০২০ ২১:০২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কস্তুরী কথন

মহামূল্যবান প্রাণিজ সুগন্ধি। হরিণের নাভীতে সৃষ্ট গ্রন্থি নিঃসৃত সুগন্ধিই কস্তুরী। খুবই মূল্যবান। এ ঘ্রাণকে বলা হয় যোজনগন্ধা। অথচ এর গভীরে লুকানো নির্মম ট্র্যাজেডি ক’জনেই বা মনে রাখে!

কথিত আছে, কস্তুরীর এক তিল পরিমাণ কোন বাড়িতে পড়লে বহু বছর সেখানে এর ঘ্রাণ থাকে। তিন হাজার ভাগ গন্ধহীন পদার্থের সাথে এর এক ভাগ মেশালে সমস্ত পদার্থই সুবাসিত হয় কস্তুরীর ঘ্রাণে।

নারী নয়, পুরুষ হরিণের নাভিতে পাওয়া যায় এ সুগন্ধি। আবার সব পুরুষ হরিণ নয়, আলাদা প্রজাতির কস্তুরীমৃগ বা ‘মাস্ক ডিয়ার” এর নাভিতে। স্বভাবে লাজুক, টানা টানা চোখ আর নির্জনতাপ্রিয় এ হরিণের দেখা মেলে হিমালয়ের উঁচু পার্বত্যভূমিতে, পামীর মালভূমির উঁচু তৃণভূমিতে, সবুজ উপত্যকায়।

অল্পবয়সেই নাভিমুখের গ্রন্থিতে জন্ম নেয়া সুগন্ধি কোষ পরিপক্ক হয় হরিণের দশবছর পূর্ণ হলে। ছড়িয়ে পড়ে তীব্র সৌরভ।তখন তার পরিপূর্ণ যৌবন। সে প্রজনন বা মিলন ঋতুতে ছড়িয়ে পড়া বনসৌরভে আকৃষ্ট হয় হরিণী। অতপর শরীর থেকে খসে পড়ে পশমে আবৃত সুগন্ধিথলি। 

বুঝতে পারেনা তার শরীর থেকে ছড়িয়ে পড়া সুগন্ধির উৎস। গন্ধে পাগলপ্রায় হরিণ দিগ্বিদিক ছুটতে থাকে। আর তখনই ঘটে ট্র্যাজেডি। আত্মরক্ষায় পটু এ হরিণের দুর্বলতাও শরীরের সুগন্ধি। যা কিছু চির অহংকারের তাহাই চির দুর্বলতা। নিজেকে লুকোতে পারেনা তীব্র ঘ্রাণের জন্য। সুগন্ধির উৎস ধরে তাকে খুঁজে পায় শিকারী। কস্তুরীমৃগকে হত্যা করে নাভি থেকে তুলে নেয় ৬০-৬৫ গ্রাম ওজনের গ্রন্থি। 

কস্তুরি আর কস্তুরীমৃগ বা মৃগনাভী নিয়ে কত শত কথা, কত কবিতা আর গান। হেমন্ত মুখার্জি যেমন দূর হতে দেখা প্রিয়তমার রূপ তুলে ধরেছেন গানের ভাষায়;

          “(যেন) কস্তুরী মৃগ তুমি,
            আপন গন্ধ ঢেলে এ হৃদয় ছুঁয়ে গেলে
            সে মায়ায় আপনারে ঢেকেছি.....।”

কস্তুরী দেহসৌরভছাড়াও ঔষধ তৈরিতে ব্যবহার হয়। এর বাইরেও আছে বহুবিধ ব্যবহার। মোগল সম্রাটরা এ মূল্যবান সুগন্ধি ব্যবহার করতেন বলে জানা যায়।

কিন্তু নিজেকে নিঃশেষ করা সুগন্ধির সাথে কে’বা মনে রাখে সেই কস্তুরীমৃগের কথা! 

 

*** মতামত লেখকের নিজস্ব

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা