• ই-পেপার

ডেঙ্গুতে আরো তিনজনের মৃত্যু

হামের উপসর্গে আরো ৪ জনের প্রাণহানি, আক্রান্ত ১১৬০

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৪ জনের প্রাণহানি, আক্রান্ত ১১৬০
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরো চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮২০ জনে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৬০ জন। রবিবার (২৬ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারো মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে হাম ও উপসর্গের রোগী ১ হাজার ১৬০ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৭০ জনের শরীরে। এ নিয়ে মোট হাম আক্রান্ত ১৫ হাজার ৪৪২ জন। আর হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ৯৯০ জনের শরীরে। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫৩ জন। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৬ হাজার ২৩৯ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৭ জন।

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ড দখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক
গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ড দখলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ আবারও চরম রূপ নিয়েছে। আদালতের সাম্প্রতিক একটি আদেশের ব্যাখ্যাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া এই উত্তেজনার মাঝে সাভার ক্যাম্পাসে ভাঙচুর, সিসিটিভি ক্যামেরা ও গাড়ি ক্ষতিসাধন এবং নিরাপত্তাকর্মীকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে। 

বাংলা ট্রিবিউন এক প্রতিবেদন এ তথ্য জানায় শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ট্রাস্টি ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ শত শত লোক নিয়ে সাভার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বর্তমানে পুরো বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে।  

বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ও ট্রাস্টি বোর্ডের অভিযোগ অনুযায়ী, আদালতের আদেশের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ প্রায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন বহিরাগত লোক নিয়ে জোরপূর্বক সাভার ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করেন। 

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পরিচালক (ভূমি প্রশাসন) মোহাম্মদ আবদুস সালাম জানান, সকাল ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে বহিরাগতরা গণস্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যালসে ঢুকে একটি গাড়ি, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করে এবং এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর করে। 

অপরদিকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন শিরীন হক দাবি করেন, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর মৃত্যুর পর থেকেই ডা. নাজিমউদ্দিন প্রতিষ্ঠানটির নিয়ন্ত্রণ নিতে অনিয়ম করছেন। তার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানে বিপুল পরিমাণ ঋণ ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ তুলে তিনি জানান, আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া সত্ত্বেও ডা. নাজিমউদ্দিন কর্মীদের বিভ্রান্ত করে ক্যাম্পাস দখলের চক্রান্ত করছেন। দখলচেষ্টার আশঙ্কায় পুলিশকে আগে থেকেই জানানো হয়েছিল এবং পরবর্তীতে পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেয়। 

তবে এসব অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন ডা. নাজিমউদ্দিন আহমেদ। তার দাবি, আদালতের গত ৫ জুলাইয়ের আদেশের ভিত্তিতে ১৯৭২ ও ১৯৮০ সালের মূল দলিল অনুযায়ী তিনি এখন প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক দায়িত্ব ও পূর্ণ স্বত্বাধিকারী। প্রশাসন ও পুলিশকে আইনি কাগজের অনুলিপি দেখিয়েই তিনি ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেছিলেন। 

ফার্মাসিউটিক্যালসে ভাঙচুরের বিষয়ে তিনি জানান, তার সঙ্গে থাকা কেউ সেখানে প্রবেশ করেননি; বরং বর্তমান কর্তৃপক্ষের লোকজন নিজেরাই ভাঙচুর চালিয়ে তার ওপর দোষ চাপাচ্ছে। 

ক্যাম্পাসে ঢুকে চিকিৎসাসেবার ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়ে ডা. নাজিমউদ্দিন বলেন, ‘রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়া হচ্ছিল যা তিনি কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’

তিনি দাবি করেন, ২০২৪ সালে জোরপূর্বক তার কাছ থেকে পদত্যাগ নেওয়া হয়েছিল এবং উচ্চ আদালতের আদেশে সম্পূরক দলিল স্থগিত হওয়ায় তিনি আইনগতভাবে দায়িত্বে ফিরেছেন। 

সমগ্র আইনশৃঙ্খলা ও আইনি পরিস্থিতির বিষয়ে জানতে চাইলে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, ডা. নাজিমউদ্দিন দলবল নিয়ে গণস্বাস্থ্যে এলেও দুপুরে পুলিশের হস্তক্ষেপে এলাকা ত্যাগ করেন। 

ফার্মাসিউটিক্যালসে একটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও দুটি কাচ ভাঙার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘এ নিয়ে উভয় পক্ষই একে অপরকে দোষারোপ করছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষই থানায় লিখিত মামলা দায়ের করেনি।’

হাঁটু ও কোমর প্রতিস্থাপন : আধুনিক চিকিৎসায় নতুন জীবন

অধ্যাপক ডা. আমজাদ হোসেন
হাঁটু ও কোমর প্রতিস্থাপন : আধুনিক চিকিৎসায় নতুন জীবন
সংগৃহীত ছবি

হাঁটু প্রতিস্থাপন কী?
হাঁটুর ক্ষতিগ্রস্ত বা ক্ষয়ে যাওয়া হাড় ও কার্টিলেজ (নরম হাড়) অপসারণ করে সেখানে ধাতু, টাইটানিয়াম বা বিশেষ বায়োকম্প্যাটিবল উপাদান দিয়ে তৈরি কৃত্রিম ইমপ্ল্যান্ট বা জয়েন্ট বসিয়ে দেওয়াকে হাঁটু প্রতিস্থাপন বা নীল রিপ্লেসমেন্ট বলা হয়। এর ফলে হাঁটুর স্বাভাবিক নড়াচড়া, ভার বহনের ক্ষমতা এবং ব্যথামুক্ত জীবন ফিরে আসে।

কোমর (হিপ) প্রতিস্থাপন কী?
কোমরের জয়েন্টের ক্ষতিগ্রস্ত বল ও সকেট অপসারণ করে সেখানে কৃত্রিম ধাতব, সিরামিক বা উচ্চমানের প্লাস্টিকের জয়েন্ট প্রতিস্থাপন করাকে কোমর প্রতিস্থাপন বা হিপ রিপ্লেসমেন্ট বলা হয়। এতে তীব্র ব্যথা কমে যায় এবং রোগী আবার স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন।

কখন এবং কাদের জন্য এই সার্জারি?
নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিলে হাঁটু বা কোমর প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হতে পারে—

তীব্র অস্টিওআর্থ্রাইটিস
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস
আঘাতজনিত জয়েন্ট ক্ষতি
হাড়ের টিউমার
হাড়ে রক্ত সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাওয়া
জন্মগত জয়েন্টের ত্রুটি
দীর্ঘদিনের অসহনীয় ব্যথা
ওষুধ, ফিজিওথেরাপি বা ইনজেকশনেও উপকার না পাওয়া
হাঁটাচলা, সিঁড়ি ওঠানামা বা দৈনন্দিন কাজ করতে না পারা
হাঁটু বেঁকে যাওয়া বা কোমরের জয়েন্ট বিকৃত হয়ে যাওয়া

যাদের জন্য প্রযোজ্য :
সাধারণত ৫০–৭০ বছর বয়সীদের মধ্যে এই অপারেশনের হার বেশি হলেও, প্রয়োজন হলে কম বয়সেও এই অস্ত্রোপচার করা যায়।

কী দিয়ে তৈরি?
আধুনিক ইমপ্ল্যান্টগুলো শরীরের সঙ্গে সহজে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এমন বায়োকম্প্যাটিবল উপাদান দিয়ে তৈরি হয়। এগুলোতে ব্যবহৃত হয়—
ক্যোবাল্ট-ক্রোমিয়াম অ্যালয়
টাইটানিয়াম অ্যালয়
সিরামিক
মেডিকেল গ্রেড আল্ট্রা-হাই-মলিকুলার-ওয়েট পলিইথিলিন ইত্যাদি।

এসব উপাদান দীর্ঘদিন টেকসই থাকে এবং জয়েন্টকে স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়া করতে সাহায্য করে।

অপারেশনের সুবিধা :
এটা বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক পদ্ধতির চিকিৎসা যাতে অপারেশন করে আধুনিক ডিভাইস বসিয়ে দেওয়া হয়। অপারেশনের পর যেসব লাভ হয় তা হলো—

দীর্ঘদিনের ব্যথা থেকে স্থায়ী মুক্তিলাভ 
স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করার সক্ষমতা ফিরে আসে
লাঠি বা অন্যের সাহায্যের প্রয়োজন কমে যায়
হাঁটু বা কোমরের স্বাভাবিক আকৃতি ও ভারসাম্য ফিরে আসে
দৈনন্দিন কাজ সহজ হয়
জীবনযাত্রার মান ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায় ইত্যাদি।

আধুনিক ইমপ্ল্যান্ট সঠিক যত্নে সাধারণত ১৫–২৫ বছর বা তারও বেশি সময় কার্যকর থাকতে পারে।

অপারেশনের পর করণীয় :
নিয়মিত ফিজিওথেরাপি
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়াম
ওজন নিয়ন্ত্রণ
সংক্রমণ প্রতিরোধে সতর্কতা
নিয়মিত ফলো-আপ

বাংলাদেশে বাস্তবতা :
বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন অর্থোপেডিক সার্জনগন বিশ্বমানের প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক মানের ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে হাঁটু ও কোমর প্রতিস্থাপন করছেন। উন্নত বিশ্বের তুলনায় এ দেশে চিকিৎসার খরচ তুলনামূলক কম হলেও হাসপাতাল, সার্জনের অভিজ্ঞতা, ইমপ্ল্যান্টের ব্র্যান্ড (আমেরিকান, ইউরোপীয় বা অন্যান্য) এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর সার্বিক খরচ নির্ভর করে।

লেখক : চিফ কনসালটেন্ট , অর্থোপেডিক ও অর্থোপ্লাস্টি সেন্টারের প্রধান, ল্যাবএইড স্পেশালাইজড হাসপাতাল

ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪০ ছাড়াল, নতুন ভর্তি ৪৩৯

অনলাইন ডেস্ক
ডেঙ্গুতে মৃত্যু ৪০ ছাড়াল, নতুন ভর্তি ৪৩৯
সংগৃহীত ছবি

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর এ রোগে ৪০ জনের মৃত্যু হলো। শনিবার (২৫ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো ডেঙ্গু বিষয়ক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩৯ জন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়াদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৮৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৫ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৭৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৪৬ জন, খুলনা বিভাগে ৪১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ২৬ জন, রংপুর বিভাগে ৩০ জন এবং সিলেট বিভাগে একজন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৪০ জন। এর মধ্যে ৬১ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৮ দশমিক ৬ শতাংশ নারী রয়েছেন। ডেঙ্গু থেকে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১১ হাজার ৪৯৭ জন।