দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুদ রাখা হয়েছে।
আজ বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বিধি-৭১-এ জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ এবং সমন্বিত মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারকরণ’ শীর্ষক এ নোটিশটি উত্থাপন করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম। নোটিশে তিনি ডেঙ্গু পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে এ বিষয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৯৭৮ জন এবং মারা গেছেন ২৮ জন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অর্ধেকেরও কম হলেও সরকার আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর এনএস১ পরীক্ষা বিনামূল্যে করা হচ্ছে। এ ছাড়া আইজিজি ও আইজিএম পরীক্ষার ফি ৩০০ টাকা থেকে কমিয়ে ৫০ টাকা করা হয়েছে। বর্তমানে কেন্দ্রীয় ঔষধাগারে এক লাখ ৬ হাজার ৬০০ পরীক্ষার কিট মজুদ রয়েছে। আগামী এক মাসে আরো ৫ লাখ কিট যুক্ত হবে। পাশাপাশি এক লাখ অতিরিক্ত স্যালাইন ব্যাগ বিশেষ রিজার্ভ হিসেবে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেড় মাস আগে হাসপাতাল মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য মোট শয্যার ১০ শতাংশ সংরক্ষণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারি নির্ধারিত রেটেই পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার বিষয়ে তারা সম্মতি দিয়েছেন।
ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হলে তা মোকাবেলায় মোবাইল হাসপাতাল প্রস্তুত রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনীর সহায়তাও নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে আইসিইউ সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ইতিমধ্যে ১২টি জেলায় ১০ শয্যার আইসিইউ চালু হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরো পাঁচটি জেলায় এ সুবিধা চালু হবে।
মশা নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার চলমান কার্যক্রমের পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদারের আহ্বান জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনগণের সচেতনতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





