আমাদের শরীর একটি নির্দিষ্ট জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম অনুযায়ী কাজ করে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর সক্রিয় হয় এবং রাতে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত হয়। এই শরীরঘড়ি আমাদের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এনডিটিভি-র এক প্রতিবেদন এ তথ্য দেয়।
আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশনের (আইডিএফ) ২০২৫ সালের ডায়াবেটিস অ্যাটলাস অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০২৪ সালে প্রায় ১ কোটি ৩৯ লাখ (১৩.৯ মিলিয়ন) প্রাপ্তবয়স্ক ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন, যা দেশের মোট প্রাপ্তবয়স্ক জনসংখ্যার ১৩.২ শতাংশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি খাবার গ্রহণের সঠিক সময়ও রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
শরীরের ঘড়ি কিভাবে কার্বোহাইড্রেট নিয়ন্ত্রণ করে?
কার্বোহাইড্রেট খেলে তা ভেঙে গ্লুকোজে পরিণত হয়। সকালে শরীর ইনসুলিনের প্রতি বেশি সংবেদনশীল থাকে, ফলে গ্লুকোজ সহজে কোষে প্রবেশ করে এবং শক্তি হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
কিন্তু রাতে একই পরিমাণ কার্বোহাইড্রেট খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বেড়ে যেতে পারে। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে।
কেন রাতে কার্বোহাইড্রেট বেশি ক্ষতিকর হতে পারে?
রাত ৮টার পর ইনসুলিনের কার্যকারিতা কিছুটা কমে যায়।
রাতে শরীরের বিপাকক্রিয়া স্বাভাবিকভাবেই ধীর হয়ে আসে।
শারীরিক নড়াচড়া কম থাকায় অতিরিক্ত গ্লুকোজ ও চর্বি জমার সম্ভাবনা বাড়ে।
রক্তে শর্করার ওঠানামা শক্তি ও ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণায় দেখা যায়,সকালে খাওয়া কার্বোহাইড্রেট শরীর তুলনামূলকভাবে ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু একই খাবার রাতে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বৃদ্ধি পায়।
প্রিডায়াবেটিস রোগীদের জন্য এর অর্থ কী?
যদি অনিয়মিত সময়ে বা বারবার রাতে বেশি কার্বোহাইড্রেট খাওয়া হয়, তাহলে রক্তে শর্করা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি থাকতে পারে। এতে প্রিডায়াবেটিস থেকে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে রূপ নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
তাই প্রিডায়াবেটিস থাকলে শুধু কী খাচ্ছেন তা নয়, কখন খাচ্ছেন সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার সবচেয়ে ভালো সময়
বিশেষজ্ঞদের মতে, কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার আদর্শ সময় হলো:
সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত
সন্ধ্যার পর ও গভীর রাতে বেশি কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলা ভালো।
এছাড়া কার্বোহাইড্রেটের সঙ্গে প্রোটিন ও আঁশযুক্ত (ফাইবার) খাবার খেলে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার সময় ঠিক না হলে যে লক্ষণগুলো দেখা দিতে পারে
রাতে বারবার ক্ষুধা লাগা বা খাবারের আকাঙ্ক্ষা
ঘুমের সমস্যা
সকালে ক্লান্ত বা ঝিমঝিম অনুভব করা
খালি পেটে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকা
দীর্ঘমেয়াদে অগ্ন্যাশয়ের (প্যানক্রিয়াস) ওপর চাপ বৃদ্ধি পাওয়া
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহজ কিছু অভ্যাস
সকালের নাশতায় তুলনামূলক বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করুন।
রাতের খাবার সম্ভব হলে সন্ধ্যা ৭–৮টার মধ্যে শেষ করুন।
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
রাতের খাবারের পর অতিরিক্ত মিষ্টি বা কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ নাশতা এড়িয়ে চলুন।
কারা বেশি সতর্ক থাকবেন ?
প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তি
স্থূলতা (ওবেসিটি) আছে এমন ব্যক্তি
মেটাবলিক সিনড্রোমে আক্রান্ত ব্যক্তি
রাতের শিফটে কাজ করেন এমন কর্মীরা
উল্লেখ্য, শরীর সকালে কার্বোহাইড্রেট বেশি দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করতে পারে। তাই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে দিনের প্রথম ভাগে কার্বোহাইড্রেট খাওয়া এবং রাতে তা কমিয়ে আনা উপকারী হতে পারে।




