• ই-পেপার

হাসপাতাল নিজেই আইসিইউতে চলে গেছে : এমপি সানসিলা

হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক
হামের উপসর্গে আরো ৭ শিশুর মৃত্যু
ছবি : কালের কণ্ঠ

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো সাত শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে নতুন করে এক হাজার ২৮৭ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। রবিবার (৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরো পড়ুন
কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ এসআইসহ আহত ৫, আটক ৩

কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় ২ এসআইসহ আহত ৫, আটক ৩

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত এক দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে শুধু ঢাকা বিভাগেই চারজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে হামের উপসর্গে চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগে একজন করে মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও উপসর্গে মোট ৬২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এদিকে দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। পাশাপাশি এই সময়ে আরো ১ হাজার ২২১ জনের মধ্যে রোগটির উপসর্গ দেখা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত মোট ৭৯ হাজার ১২ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সেই সঙ্গে এই সময়ে মোট ৯ হাজার ৬৮৬ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।

আরো পড়ুন
হরমুজ সংকটের মধ্যেই চতুর্থবার তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

হরমুজ সংকটের মধ্যেই চতুর্থবার তেল উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে রবিবার পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৪ হাজার ২৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৬০ হাজার ৮৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।

কসম! আমি খুব নার্ভাস, খুব দুর্বল—ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
কসম! আমি খুব নার্ভাস, খুব দুর্বল—ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি : সংগৃহীত

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ডেঙ্গু মোকাবেলার চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেছেন, ‘আমি কসম কেটে বলছি, আমি খুব নার্ভাস হয়ে গেছি। আমি খুব দুর্বল হয়ে গেছি। আমি কিভাবে এই ফাইটটা করব? আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি, কিন্তু চিকিৎসায় মৃত্যুর বিষয়ে আমার কোনো হাত নেই।’

রবিবার (৭ জুন) সকালে বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) অনুষ্ঠিত ‘ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল ব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু এখন আর সাধারণ কোনো রোগ নয়; এটি পুরো জাতির জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। এই সংকট মোকাবেলা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা হাসপাতালের দায়িত্ব নয়, বরং দেশের প্রতিটি নাগরিককে এতে সম্পৃক্ত হতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমি সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসকদের ওপর চাপ দিতে পারি, পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালাতে বলতে পারি। কিন্তু শতভাগ মশা বা লার্ভা ধ্বংস করা সম্ভব কি না, তা নিশ্চিত করতে পারি না। মশা ২০০ মিটার পর্যন্ত উড়তে পারে, যেকোনো ফাঁকফোকর দিয়ে ঘরে ঢুকে যেতে পারে। তাই এটি অত্যন্ত কঠিন একটি লড়াই।’

ডেঙ্গু পরিস্থিতিকে ‘টোটাল ফাইট’ আখ্যা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি নালা-নর্দমা, ডোবা, জলাবদ্ধ স্থান এবং কচুরিপানাযুক্ত এলাকা পরিষ্কার না করলে এই যুদ্ধে জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। একক কোনো প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির পক্ষে এসংকট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।

তিনি বলেন, ‘১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছি, ঠিক তেমনি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে লড়তেও জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। সবাইকে যার যার অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

ভ্যাকসিন নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকাদান কর্মসূচির বিষয়টি বিবেচনায় থাকলেও এটি অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং বাস্তবায়নও কঠিন।

তিনি বলেন, যদি ব্যাপক ভ্যাকসিনেশনে যেতে হয়, তাহলে বিপুল বাজেট প্রয়োজন হবে। চার মাস পর পর টিকা দেওয়ার প্রয়োজন হলে দেশের স্বাস্থ্য বাজেটের ওপর বিশাল চাপ সৃষ্টি হবে। তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধেই বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

ডেঙ্গু বিস্তারের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, শহর ও গ্রামে অসংখ্য ছোট ছোট স্থানে বৃষ্টির পানি জমে থাকে, যা এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। গ্যারেজে গাড়ি ধোয়ার পর জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত টায়ার, অব্যবহৃত ক্যান, রাস্তার ছোট গর্ত কিংবা বড় ড্রেন ও খালে জমে থাকা ময়লাযুক্ত পানি সবখানেই লার্ভার উপস্থিতি পাওয়া যাচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিরোধব্যবস্থা শতভাগ কার্যকর করা কঠিন। তাই আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিতের ওপর।’

চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্লাজমা লিকেজ সময়মতো শনাক্ত করা। রোগীর অবস্থা কখন সংকটজনক পর্যায়ে যাচ্ছে, সে বিষয়ে সতর্ক নজর রাখতে হবে।

তিনি বলেন, ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে এই লড়াই শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ বা কয়েকটি বড় হাসপাতালের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। দেশের প্রতিটি হাসপাতাল, প্রতিটি ক্লিনিক এবং সব পর্যায়ের চিকিৎসকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

সোসাইটি অব মেডিসিনের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের সঠিক চিকিৎসা প্রটোকল অনুযায়ী প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির বার্তা জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চিকিৎসকদের কাছেও পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ইতিমধ্যে প্রায় আড়াই লাখ স্যালাইন সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা সম্ভাব্য চাহিদা পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী বলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলায় মশক নিধন কার্যক্রম আরো জোরদার করা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত এ কার্যক্রম দৃশ্যমান মাত্রায় পৌঁছায়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু রোগীর ক্ষেত্রে প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকা জরুরি। নিয়মিত সিবিসি পরীক্ষা এবং প্লাজমা লিকেজ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রোগীর অবস্থা মূল্যায়ন করতে হবে। প্লাজমা লিকেজ বেড়ে গেলে রোগী দ্রুত শকে চলে যেতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকি তৈরি করে।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিনের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনায় এবার ‘রিঅ্যাকটিভ’ নয়, বরং ‘প্রো-অ্যাকটিভ’ কৌশল গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সমস্যা বড় আকার ধারণ করার আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম। তাই সিটি করপোরেশনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। রোগীর প্লাটিলেট কাউন্টের চেয়ে ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ডেঙ্গুর প্রধান জটিলতা হলো, শরীরে তরল পদার্থের লিকেজ এবং রোগের ক্রিটিক্যাল ফেজ সফলভাবে অতিক্রম করা।’

তার ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। অনেক রোগী ডায়রিয়া ও বমি নিয়ে হাসপাতালে আসছেন। এর ফলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে শকের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। 

তিনি বলেন, অধিকাংশ ডেঙ্গু রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রয়োজন হয় না। সঠিকভাবে বাসায় চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার গ্রহণের মাধ্যমে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন। তবে যাদের মধ্যে সতর্কতামূলক লক্ষণ দেখা যায়, তাদের দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

ডেঙ্গু চিকিৎসা নিয়ে প্রচলিত কিছু ভুল ধারণার বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি। 

অধ্যাপক মনিরুজ্জামান বলেন, ডেঙ্গুতে স্টেরয়েড বা ব্যথানাশক ওষুধের কোনো ভূমিকা নেই। একইভাবে প্লাটিলেট বাড়ানোর জন্য পেঁপেপাতার ক্যাপসুল বা এ ধরনের প্রচারিত ওষুধেরও কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

তিনি বলেন, যারা আগে থেকে রক্ত পাতলা করার ওষুধ গ্রহণ করছেন, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ চালিয়ে যাওয়া বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কী করে ঔষধ প্রশাসন

নিয়মিত ওষুধ খেয়েও ফল না পাওয়ার ঘটনা বাড়ছে অনলাইনেই হচ্ছে সর্বরোগের ওষুধ বিক্রি

অনলাইন ডেস্ক
কী করে ঔষধ প্রশাসন

দেশের বাজার নকল, ভেজাল ও নিম্নমানের ওষুধে সয়লাব। গ্যাস্ট্রিক, ব্যথানাশক, অ্যান্টিবায়োটিক বা ডায়াবেটিসের ওষুধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন খাদ্য সম্পূরক ও হারবাল পণ্য কিনে বিপদে পড়ছে মানুষ। এর সঙ্গে সমাজমাধ্যমে অনুমোদনহীন ওষুধ ও স্বাস্থ্যপণ্য বিক্রির প্রবণতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। এসব ভেজাল ওষুধ সেবনে রোগ সারার পরিবর্তে জটিলতা বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স, এমনকি অনেক ক্ষেত্রে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। সবার চোখের সামনে রীতিমতো বিজ্ঞাপন দিয়ে এসব প্রতারণা চললেও নীরব ঔষধ প্রশাসন। অভিযোগ রয়েছে, বাজারে নকল ওষুধের বিস্তার রোধে আইন থাকলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগই নেই ঔষধ প্রশাসনের।

চিকিৎসকরাও এটা স্বীকার করে নিয়েছেন যে রোগীরা নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পরও প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। পরে দেখা যাচ্ছে, ব্যবহৃত ওষুধটি ছিল নকল বা নিম্নমানের। বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্ষেত্রে এ প্রবণতা অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ নিম্নমানের অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে জীবাণুর ওষুধ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, যা ভবিষ্যতে চিকিৎসাকে আরও জটিল করে তোলে।

স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানান, অসাধু চক্র নামি কোম্পানির ওষুধের মোড়ক ও ডিজাইন হুবহু নকল করে বাজারজাত করছে। কারণ ওষুধের বাজার ক্রমাগত বড় হলেও সে অনুপাতে পরিদর্শক, পরীক্ষাগার এবং নজরদারি ব্যবস্থার উন্নয়ন হয়নি। ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক ফার্মেসি ও বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত তদারকির বাইরে থেকে যাচ্ছে। এদিকে সমাজমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে প্রতিদিন ২৪ ঘণ্টা চলছে অসংখ্য চটকদার ভিডিও বিজ্ঞাপন। এসব বিজ্ঞাপনে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত ওজন কমানো, যৌনশক্তি বৃদ্ধি, কিডনি, লিভারের রোগ নিরাময়সহ নানান ধরনের অবাস্তব দাবি করা হয়। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে এসব পণ্যের অধিকাংশেরই বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। অনেক ক্ষেত্রে পণ্যের প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানের নাম-ঠিকানাও স্পষ্ট থাকে না। আবার অনেক পণ্যের কোনো সরকারি নিবন্ধন বা অনুমোদন নেই। তবু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সহজেই এসব পণ্য বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানীর কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেখে ওজন কমানোর ওষুধ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের কথিত হারবাল পণ্য কিনে খাওয়ার পর তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। কিন্তু পরে বিক্রেতার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। দেশে ওষুধ উৎপাদন, বিপণন ও বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে ওষুধ ও কসমেটিকস আইন, ২০২৩ কার্যকর রয়েছে। আইনে নকল, ভেজাল বা অনুমোদনহীন ওষুধ উৎপাদন ও বিক্রির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। আর ওষুধের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, নিবন্ধন এবং বাজার তদারকির দায়িত্ব পালন করে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

ভোক্তা অধিকারকর্মীরা বলছেন, আইনের কার্যকর প্রয়োগ ও নিয়মিত নজরদারির অভাবে অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ পাচ্ছেন। বাজারে অভিযান পরিচালনা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। দেশের বিপুলসংখ্যক ফার্মেসি, অনলাইন বিক্রয় চ্যানেল এবং সরবরাহব্যবস্থার তুলনায় তদারকি সক্ষমতা এখনো সীমিত।

চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, নকল বা ভেজাল ওষুধে প্রয়োজনীয় কার্যকর উপাদান না থাকলে রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হয় না। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান মেশানো থাকায় কিডনি, লিভার ও হৃদ্যন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ বা ক্যানসারের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের জন্য এ ঝুঁকি আরও বেশি। কারণ তারা দীর্ঘদিন নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন এবং ওষুধের মানের ওপর তাদের চিকিৎসার সাফল্য নির্ভর করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে নকল ও ভেজাল ওষুধের বিস্তার শুধু একটি বাণিজ্যিক অপরাধ নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, ঔষধ প্রশাসন, চিকিৎসক, ফার্মেসি মালিক এবং ভোক্তা সবার সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এ সংকট মোকাবিলা কঠিন হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

লাইসেন্স বাতিল প্রক্রিয়াকে ‘বেআইনি’ বললেন আইনজীবী শিশির মনির

ছয় নবজাতকের মৃত্যু : ক্ষতিগ্রস্তদের আজীবন পাশে থাকার ঘোষণা আদ্-দ্বীনের

নিজস্ব প্রতিবেদক
ছয় নবজাতকের মৃত্যু : ক্ষতিগ্রস্তদের আজীবন পাশে থাকার ঘোষণা আদ্-দ্বীনের
ছবি: কালের কণ্ঠ

রাজধানীর আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে আজীবন থাকার ঘোষণা দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে আজীবন বিনা মূল্যে চিকিৎসা, শিক্ষাসহায়তা, চাকরিতে অগ্রাধিকার এবং সম্মানজনক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৬ জুন) দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে এই ঘোষণা তুলে ধরেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ‘এই মর্মান্তিক ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর সদস্যরা যত দিন জীবিত থাকবেন, তত দিন আদ্-দ্বীন হাসপাতাল ও এর আওতাধীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে ওষুধ ব্যতীত সব ধরনের চিকিৎসাসেবা সম্পূর্ণ বিনা মূল্যে পাবেন। নিহত নবজাতকদের বাবা-মা, ভাই-বোন এবং ভবিষ্যৎ সন্তানরাও এই সুবিধার আওতায় থাকবেন।

স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের বিষয়েও বিশেষ ঘোষণা দেওয়া হয়। শিশির মনির বলেন, ‘ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা আদ্-দ্বীন পরিচালিত যেকোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির যোগ্যতা অর্জন করলে বিনা বেতনে অধ্যয়নের সুযোগ পাবেন। আদ্-দ্বীন পরিচালিত মেডিকেল কলেজ বা অন্যান্য অধিক ব্যয়সাপেক্ষ পেশাগত শিক্ষার ক্ষেত্রে পূর্ণ বৃত্তি, আংশিক বৃত্তি বা টিউশন ফি মওকুফের বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা হবে। এ ছাড়া যোগ্যতা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের হাসপাতালের বিভিন্ন পদে চাকরির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে পরিবারগুলোর জন্য সম্মানজনক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থাও করা হবে।

এদিকে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তিনি এই প্রক্রিয়াকে ‘আইনসম্মত নয়’ বলে দাবি করেন।

শিশির মনির বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেওয়া কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব রোববার (৭ জুন) বিকেল ৫টার মধ্যে জমা দেওয়া হবে। তবে নোটিশে আগে থেকেই ‘জবাব সন্তোষজনক না হলে লাইসেন্স বাতিল হবে’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে, যা আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।’

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘শিশুদের মৃত্যুর কারণ হিসেবে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা এবং কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু প্রতিবেদনে অক্সিজেন ও কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রকৃত মাত্রা কত ছিল বা ঠিক কত মাত্রার ঘাটতির কারণে শিশুদের মৃত্যু হতে পারে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য ও স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। ফলে তদন্ত প্রতিবেদনের কিছু বিষয়ে প্রশ্ন ও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নিহত এক নবজাতকের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই, যে প্রকৃত দোষী তারই শাস্তি হোক। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হোক, সেটা আমরা চাই না। আমার আগের দুই সন্তানেরও জন্ম এই হাসপাতালে হয়েছে এবং তারা সুস্থ অবস্থায় রয়েছে।’ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি প্রতিষ্ঠানটির সেবা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ না করার অনুরোধ জানান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মো. আবদুর সবুর বলেন, ‘ঘটনার পর হাসপাতালের কিছু কর্মীর অসদাচরণ ও দায়িত্বহীন আচরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি বলেন, ‘যে অসদাচরণ বা ব্যবহার করা হয়েছে, তা আমরা সমর্থন করি না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। এরই মধ্যে দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এবং একজন স্টাফ নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শেষাংশে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ঘোষিত সব সুবিধা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে।