• ই-পেপার

আমিরাতে ঈদ বৃহস্পতিবার, ১৫ মিনিটে শেষ হবে জামাত

ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা

ফ্রান্স থেকে তানভীর আহমদ তোহা
ফ্রান্সসহ ইউরোপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জন্য সতর্কবার্তা
সংগৃহীত ছবি

অবৈধ অভিবাসীদের বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরো দ্রুত ও কঠোর করতে নতুন নীতিতে একমত হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। ফরাসি বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে নতুন ব্যবস্থায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত বা বৈধ কাগজপত্রবিহীন অভিবাসীদের ইউরোপ থেকে সরাসরি নিজ দেশে কিংবা তৃতীয় দেশে স্থাপিত বিশেষ প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানোর সুযোগ থাকবে।

গত ১ জুন প্রকাশিত রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউরোপে যেসব বিদেশিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয় তাদের একটি বড় অংশ বাস্তবে নিজ দেশে ফিরে যায় না। এই পরিস্থিতিতে বহিষ্কার প্রক্রিয়া কার্যকর করতে ইউরোপীয় কমিশন, ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে নতুন নীতিতে সমঝোতা হয়েছে।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির আশ্রয় আবেদন চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যাত হলে অথবা ইউরোপে থাকার বৈধ অনুমতি না থাকলে সংশ্লিষ্ট দেশ তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। প্রয়োজনে তাকে নিজ দেশে না পাঠিয়ে ইউরোপের বাইরে কোনো তৃতীয় দেশে স্থাপিত ‘রিটার্ন হাব’ বা প্রত্যাবাসন কেন্দ্রে পাঠানো যাবে।

এ ছাড়া নতুন ব্যবস্থায় সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত হবে। ফলে এক দেশ থেকে অন্য দেশে গিয়ে বহিষ্কার এড়ানোর সুযোগ অনেকটাই সীমিত হয়ে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিবাসন নীতির এই পরিবর্তনকে ইউরোপের সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম কঠোর পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসে অভিবাসন ইস্যুতে রাজনৈতিক চাপ বাড়তে থাকায় ইউরোপীয় নেতারা আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছেন।

ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই বৈধভাবে কর্মসংস্থান, ব্যবসা বা শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও একটি অংশ এখনো কাগজপত্রসংক্রান্ত জটিলতা কিংবা আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছেন।

অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে যাদের আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে বা যাদের বৈধ বসবাসের অনুমতি নেই তারা আগের তুলনায় দ্রুত প্রশাসনিক নজরদারি ও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার আওতায় আসতে পারেন। এতে ফ্রান্সসহ ইউরোপে অনিয়মিতভাবে অবস্থানকারীদের জন্য ঝুঁকি আরো বাড়বে।

এদিকে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নতুন ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেছে, তৃতীয় দেশে প্রত্যাবাসন কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা অভিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে পারে। তবে ইউরোপীয় কমিশনের দাবি, যাদের ইউরোপে থাকার আইনগত ভিত্তি নেই তাদের ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থাকে কার্যকর করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে ইউরোপে অভিবাসন ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আসবে। বিশেষ করে অনিয়মিত অভিবাসীদের ওপর প্রশাসনিক চাপ ও প্রত্যাবাসন কার্যক্রম আরো জোরদার হবে।

ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের কাগজপত্র বা বৈধতার বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে তাদের দ্রুত আইনি সহায়তা নেওয়া এবং অবস্থান নিয়মিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে হতাহত বাংলাদেশিদের নিয়ে যা জানাল হাইকমিশন

অনলাইন ডেস্ক
দিল্লির অগ্নিকাণ্ডে হতাহত বাংলাদেশিদের নিয়ে যা জানাল হাইকমিশন
সংগৃহীত ছবি

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরে একটি বহুতল ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ দেশের মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে মো. নুরুল আমিন (৪৪) নামের একজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তার মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করছে নয়াদিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন। এ ছাড়া চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে হাইকমিশন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাতে ঘটনার সর্বশেষ তথ্যের বরাতে বাংলাদেশ হাইকমিশন তাদের ফেসবুক পেজে দেওয়া বার্তা থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

বার্তায় বলা হয়, ৪ জুন সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ৩ জুন সকালে নয়াদিল্লির একটি হোটেলের অগ্নিকাণ্ডে ২ বাংলাদেশি পরিবার বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হোটেলে অবস্থানরত উভয় পরিবারই কাছের ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দিল্লিতে এসেছিলেন।

এ ঘটনায় ৭ দেশের মোট ২২ জন নিহতের মধ্যে মো. নুরুল আমিন নামের একজন বাংলাদেশি। নয়াদিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশন তার মরদেহ দ্রুত সময়ে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণে সহায়তা করছে।

এ ছাড়া চিকিৎসাধীন ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে হাইকমিশন। বৃহস্পতিবার সকালে ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার ম্যাক্স হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সব বাংলাদেশি নাগরিককে পরিদর্শন করেন এবং তাঁদের চিকিৎসার অবস্থা সম্পর্কে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন।

বার্তায় আরো বলা হয়, হাইকমিশনের কর্মকর্তারা হাসপাতালে অবস্থান করছেন এবং রোগী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক সমন্বয় করে যেকোনো জরুরি প্রয়োজন মোকাবেলায় কাজ করছেন।

ভুক্তভোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সহায়তা নিশ্চিত করতে হাইকমিশন ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে।

বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘ডেইলি ড্যাজলিং ডন’কে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা

যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি
বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘ডেইলি ড্যাজলিং ডন’কে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের প্রথম এবং একমাত্র পূর্ণাঙ্গ মূলধারার বাংলাদেশি মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি ড্যাজলিং ডন’-এর তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার।

মঙ্গলবার (২ জুন) ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর এই অভিনন্দন ও শুভেচ্ছাবার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ডাইরেক্ট কমিউনিকেশনস ইউনিটের প্রধান ম্যান্ডি গডরিজ পত্রিকাটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রকাশক মুনজের আহমেদ চৌধুরীর কাছে এই চিঠি পাঠান।

চিঠিতে বলা হয়, ডেইলি ড্যাজলিং ডনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংবাদমাধ্যমটির অবদান ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যকার সুদৃঢ় সম্পর্ককে মূল্যায়নকারী সবার কাছে বিশেষভাবে প্রশংসিত হবে। এই ঐতিহাসিক মাইলফলক উদযাপনের মুহূর্তে আগামী বছরগুলোতেও ডেইলি ড্যাজলিং ডনের ধারাবাহিক সাফল্য কামনা করেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় বর্ষপূর্তিতেও ১০ ডাউনিং স্ট্রিট থেকে অনুরূপ শুভেচ্ছাবার্তা পাঠানো হয়েছিল।

এদিকে পত্রিকাটির তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বিশেষ সম্পাদকীয় লিখেছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান এবং যুক্তরাজ্যের প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সংসদ সদস্য রুশনারা আলী।

সাংবাদিকতার নৈতিক স্বাধীনতার কঠোর নীতিমালার অধীনে পরিচালিত ডেইলি ড্যাজলিং ডন কোনো ধরনের অনুদান, করপোরেট উপহার কিংবা পাঠক-সাবস্ক্রিপশন গ্রহণ করে না। সম্পূর্ণ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংবাদচর্চার ধারা বজায় রেখে এগিয়ে চলা সংবাদমাধ্যমটি বর্তমানে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৬০ লাখ পাঠক ও দর্শকের কাছে পৌঁছাচ্ছে।

জনকল্যাণমুখী সাংবাদিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং আন্তর্জাতিক সংলাপ প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনের পাশাপাশি পাঠকের আস্থা ও জনস্বার্থের প্রতি অঙ্গীকার সমুন্নত রেখেই এগিয়ে যাচ্ছে ‘ডেইলি ড্যাজলিং ডন’।

কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত

অনলাইন ডেস্ক
কুয়েত বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় ৪ বাংলাদেশি আহত
সংগৃহীত ছবি

কুয়েতের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন হামলায় চার বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় ফারওয়ানিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে কুয়েতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস।

গতকাল বুধবার (৩ জুন) দূতাবাসের এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পশ্চিম এশিয়ার চলমান আঞ্চলিক সংকটের প্রভাবে সম্প্রতি কুয়েতের আকাশসীমা একাধিকবার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। সর্বশেষ হামলায় চার বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের কয়েকজন নাগরিক আহত হয়েছেন এবং একজন নিহত হয়েছেন।

দূতাবাস জানিয়েছে, আহত বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে কুয়েত সরকার বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনা জারি করেছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, রকেট বা ড্রোন হামলা এবং তা প্রতিহত করার দৃশ্যের ছবি তোলা বা ভিডিও ধারণ করা দেশটির আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। এ কারণে বাংলাদেশি প্রবাসীদের কুয়েতের আইন মেনে চলা এবং এ ধরনের ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে দূতাবাস।

হতাহত বৃদ্ধির কারণে কুয়েতের কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাংকে রক্তের সংকট দেখা দিয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে। এ পরিস্থিতিতে রক্তদানে সক্ষম প্রবাসী বাংলাদেশিদের দ্রুত কেন্দ্রীয় ব্লাড ব্যাংকে গিয়ে রক্তদান করার এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস।

দূতাবাস বলেছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সকল প্রবাসী বাংলাদেশিকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে, যাতে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

আমিরাতে ঈদ বৃহস্পতিবার, ১৫ মিনিটে শেষ হবে জামাত | কালের কণ্ঠ