• ই-পেপার

জনগণের স্বাস্থ্যসেবায় সরকার নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

অব্যাহত থাকবে বৃষ্টিপাত, বাড়বে রাতের তাপমাত্রা

নিজস্ব প্রতিবেদক
অব্যাহত থাকবে বৃষ্টিপাত, বাড়বে রাতের তাপমাত্রা
সংগৃহীত ছবি

সাগরে সৃষ্ট লঘুচাপ ও দেশের ওপর সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সপ্তাহজুড়ে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এ সময় রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে। 

শনিবার (২৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির জানান, উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি ভাবে সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

রবিবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

সোমবার (২৭ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

বুধবার (২৯ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারী ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারি থেকে ভারি বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

মাহদী আমিন

বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প-প্রবাসী সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে

অনলাইন ডেস্ক
বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প-প্রবাসী সমন্বয়ে ত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে

দেশের বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প-কারখানা এবং প্রবাসীদের মেধা ও অভিজ্ঞতাকে এক ছাতার নিচে এনে একটি শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, ‘দেশে প্রচুর শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও শিল্পের সঙ্গে শিক্ষার প্রয়োজনীয় মেলবন্ধনের অভাব রয়েছে। সরকার এই দূরত্ব ঘুচিয়ে তরুণদের মেধা বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে শিল্প খাত ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় ও নামি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোতে বহু বাংলাদেশি শিক্ষক, প্রকৌশলী ও গবেষক সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন। প্রবাসীদের এই মেধা ও অভিজ্ঞতাকে দেশের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রায় যুক্ত করতে সরকার প্ল্যাটফর্ম তৈরি করছে।’

গবেষণা ও শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়েই মানসম্মত আধুনিক ল্যাবরেটরি ও গবেষণার পর্যাপ্ত সুযোগ নেই। এ বাস্তবতায় এবারের বাজেটে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা খাতে রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই অর্থ কেবল ভবন নির্মাণে নয়, বরং উন্নত ল্যাব স্থাপন ও গবেষণাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে ব্যয় হবে।’

এ ছাড়া যুক্তরাজ্যসহ উন্নত দেশের আদলে ভবিষ্যতে বিশেষায়িত ‘গবেষণা কেন্দ্র’ গড়ে তোলার মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। শিক্ষাব্যবস্থাকে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি প্রয়োগমুখী করার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ইন্টার্নশিপ, সামার স্কুল, ভিজিটিং লেকচার এবং শিল্প বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের হাতে-কলমে দক্ষ করে তুলতে হবে।

১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের

বাসস
১৯ লাখ গাঁট তুলা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা সরকারের
সংগৃহীত ছবি

তুলার আমদানিনির্ভরতা কমাতে এবং স্থানীয় বস্ত্র ও পোশাকশিল্পকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে ২০৫০ সালের মধ্যে দেশীয় তুলার আঁশ উৎপাদন ১৯ লাখ গাঁটে উন্নীত করার একটি দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

বাংলাদেশ বর্তমানে বছরে ২.২৪ লাখ গাঁট তুলার আঁশ উৎপাদন করে, যা দেশের বস্ত্র খাতের চাহিদার প্রায় ১৬-১৭ শতাংশ পূরণ করে। সরকারের দীর্ঘমেয়াদী কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার আঁশ উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে পৌঁছানোর পর ২০৫০ সালের মধ্যে তা বেড়ে ১৯ লাখ গাঁটে দাঁড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিডিবি) উপপরিচালক কুতুব উদ্দিন বাসসকে বলেন, হাইব্রিড তুলার জাত উদ্ভাবন, চাষযোগ্য জমির সম্প্রসারণ এবং কৃষকদের ধারাবাহিক প্রণোদনা সহায়তার মাধ্যমে এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
তিনি বলেন, উপযুক্ত জমির ব্যবহার এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির মাধ্যমে ফলন বৃদ্ধি করে বাংলাদেশে তুলার উৎপাদন বাড়ানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে দেশটি আমদানীকৃত তুলার ওপর নির্ভরতা কমাতে পারবে এবং পোশাক খাতের সরবরাহ শৃঙ্খল (সাপ্লাই চেইন) শক্তিশালী করতে পারবে।’

সিডিবির তথ্য মতে, বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৪৫ হাজার হেক্টর জমিতে তুলার চাষ হয়, যদিও প্রায় ২ লাখ হেক্টর জমি চাষের আওতায় আনার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকার প্রধানত চরাঞ্চল, রাজশাহীর বরেন্দ্র অঞ্চল এবং পাহাড়ি এলাকার খাদ্যশস্য উৎপাদনের জন্য অনুপযোগী উপযুক্ত সমতল ভূমিতে তুলা চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছে।

কর্মকর্তারা জানান, এই কৌশলের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তায় কোনো প্রভাব না ফেলেই তুলার উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক (আরএমজি) শিল্পের জন্য প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ গাঁট কাঁচা তুলার প্রয়োজন হয়, যা দেশটিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম তুলা আমদানিকারক দেশে পরিণত করেছে। এই চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ বছরে আনুমানিক ৭৫-৮০ লাখ গাঁট তুলা আমদানি করে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশীয় চাহিদার যোগান দিতে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে প্রায় ৭৩ লাখ গাঁট কাঁচা তুলা আমদানি করা হয়েছে, যা দেশে তুলা উৎপাদন বাড়ানোর গুরুত্বকে তুলে ধরে।

সিবিডি কর্মকর্তারা বলেছেন, শুধু ২০৩০ সালের মধ্যে তুলার আঁশের উৎপাদন ৫ লাখ গাঁটে উন্নীত করতে পারলেই আমদানিনির্ভরতা কমানো সম্ভব এবং বছরে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা যাবে।
উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তুলা চাষীদের প্রণোদনা প্রদান, ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির আওতায় তুলা চাষীদের আনা এবং কার্বন ট্রেডিং উদ্যোগের মাধ্যমে ঋণ সুবিধা সম্প্রসারণ।

বিশ্বের তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে ৪০তম। অন্যদিকে ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও ব্রাজিল বিশ্বজুড়ে তুলা উৎপাদনে শীর্ষে রয়েছে।

তুলা কেবল দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পের প্রধান কাঁচামালই নয়, এটি থেকে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপজাতও পাওয়া যায়। তুলার বীজ প্রক্রিয়াজাত করে ভোজ্যতেল তৈরি করা হয় এবং খৈল পশুখাদ্য হিসেবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যা এই ফসলের অর্থনৈতিক মূল্য আরও বাড়িয়ে দেয়।

উৎপাদনে ধারাবাহিক অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে এখনো বড় ব্যবধান রয়ে গেছে।

সিডিবি উপপরিচালক ড. মো. তাসদিকুর রহমান বলেন, তুলা চাষ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে- যার মধ্যে রয়েছে নীতিগত পর্যালোচনার অভাব, ফসলের তুলনামূলক দীর্ঘ উৎপাদন সময়, অন্যান্য উচ্চমূল্যের ফসলের সাথে প্রতিযোগিতা, চাষযোগ্য জমির অভাব, জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত, মূল্যের ওঠানামা এবং কীট পতঙ্গের আক্রমণ।

তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো কাটিয়ে উঠতে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সরকারের ধারাবাহিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার ইতোমধ্যে তুলা উন্নয়ন বোর্ডকে শক্তিশালীকরণ, অবকাঠামো সম্প্রসারণ এবং পরিবেশবান্ধব বস্ত্র খাতকে উৎসাহিত করাসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’

উৎপাদন ত্বরান্বিত করার জন্য তুলা চাষের এলাকা আরও সম্প্রসারণ, সিডিবির সাংগঠনিক সংস্কার, বৃহত্তর নীতিগত সহায়তা, তুলা চাষিদের জন্য মূল্য ভর্তুকি এবং বিশেষ কৃষি ঋণের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন তিনি।

সরকারের সহায়তা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে তুলা চাষের জন্য প্রণোদনা হিসেবে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

তুলা উন্নয়ন বোর্ডের (সিবিডি) মৃত্তিকা উর্বরতা ও পানি ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড. এম গাজী গোলাম মুর্তুজা বলেন, ২৬টি জেলার প্রায় ২৫ হাজার প্রান্তিক কৃষক এক বিঘা জমিতে আন্তঃফসল হিসেবে তুলা চাষের জন্য উন্নত মানের বীজ, সার ও কীটনাশক পাবেন।

তিনি বলেন, ‘উৎপাদন খরচ কমিয়ে মুনাফা বৃদ্ধির মাধ্যমে কৃষকদের আরও বেশি তুলা চাষে উৎসাহিত করাই এই প্রণোদনা কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য।’

তুলাকে বাংলাদেশের অন্যতম লাভজনক অর্থকরী ফসল হিসেবে উল্লেখ করে ড. মুর্তুজা বলেন, পাট চাষ কমে যাওয়ায় এই ফসলটি ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

তিনি আরো বলেন, ‘খুব কম ফসলই আছে যা তুলার সমতুল্য আয় দেয়। কৃষকদের তুলা চাষে উৎসাহিত করলে তাদের আয় বাড়বে এবং দেশের আমদানি ব্যয়ও কমবে।’

সিবিডির নির্বাহী পরিচালক মো. রেজাউল আমিন বলেন, কৃষকদের জন্য তুলা চাষ অর্থনৈতিকভাবে আকর্ষণীয়। তার মতে, এক বিঘা জমিতে তুলা উৎপাদন করতে প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়, যেখানে কৃষকরা প্রায় ১৫ মণ কাঁচা তুলা সংগ্রহ করে প্রায় ৬০ হাজার টাকা আয় করতে পারেন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন যে, দেশীয়ভাবে উৎপাদিত প্রতি কেজি তুলা সরকারের প্রায় ৪ মার্কিন ডলার আমদানি খরচ সাশ্রয় করে। যা স্থানীয় উৎপাদনকে কৃষক এবং জাতীয় অর্থনীতি উভয়ের জন্যই লাভজনক করে তোলে।

সাধারণত জুনের মাঝামাঝি সময়ে তুলার বীজ বপন করা হয় এবং ডিসেম্বরে তা কাটা হয়। তুলা উন্নয়ন বোর্ডের বিজ্ঞানীরা বলেছেন, উন্নত বীজ প্রযুক্তি এবং উন্নত চাষাবাদের পদ্ধতির পাশাপাশি জিনগতভাবে পরিবর্তিত তুলার জাতের প্রবর্তন উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে এবং আমদানির উপর নির্ভরতা কমাতে পারে।

তারা আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও জলবায়ুগত পরিস্থিতি তুলা চাষের জন্য অনুকূল। বিশেষ করে দক্ষিণ, পশ্চিম, উত্তর এবং মধ্য অঞ্চলের ৩২টিরও বেশি জেলায় উঁচু ও পাহাড়ি এলাকায় তুলা চাষের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ রয়েছে।

কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সরকারের ধারাবাহিক সহায়তা, চাষাবাদ সম্প্রসারণ, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কৃষকদের বৃহত্তর অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ আগামী দশকগুলোতে অভ্যন্তরীণ তুলা উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে, আমদানিকৃত কাঁচা তুলার ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে এবং বিশ্বে প্রতিযোগিতামূলক বাজারে দেশের বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।

রাওয়ার উদ্যোগে ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
রাওয়ার উদ্যোগে ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ শীর্ষক আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত
সংগৃহীত ছবি

বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, নিরপেক্ষ ও রাজনীতিমুক্ত সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলা এবং অতীত ভুলে জাতীয় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সামরিক বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও বিশিষ্টজনরা। তারা বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে রাজপথের আন্দোলনকারীদের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা দেশজুড়ে নৈতিক শক্তি জুগিয়েছিল।

শনিবার (২৫ জুলাই) মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই-২০২৪’ শীর্ষক এক আলোচনাসভায় তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর ২টা ১০ মিনিট পর্যন্ত চলে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাওয়া প্রেসিডেন্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল হক। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেন, ‘২০০৯ সালের বিডিআর হত্যাকাণ্ড এবং বিগত সরকারের আমলের বঞ্চনাই ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের মূল ভিত্তি।’ 

তিনি উল্লেখ করেন, ‘ছাত্র-জনতার পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত ও কর্মরত সদস্যদের সাহসী অংশগ্রহণ আন্দোলনকে গতিশীল করেছিল। সরকার বর্তমানে একটি নিরপেক্ষ, পেশাদার ও জনমুখী সশস্ত্র বাহিনী গঠনে কাজ করছে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আহত ও শহীদ পরিবারের জন্য ক্যাটাগরি অনুযায়ী মাসিক ভাতা, চিকিৎসাসেবা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সভাপতির বক্তব্যে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল হক বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, সেনাবাহিনীর বিদ্রোহ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর অবদান অনস্বীকার্য। ৫ আগস্টের সংকটকালে সেনাবাহিনীর ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেশকে সম্ভাব্য গৃহযুদ্ধ থেকে রক্ষা করেছে উল্লেখ করে তিনি পচা অতীত ভুলে সাম্য ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

আলোচনায় অংশ নিয়ে সাবেক সেনা কর্মকর্তা লে. জেনারেল (অব.) আব্দুল্লাহিল আমান আজমি জাতীয় সংহতির তাগিদ দেন। তিনি বলেন, ‘জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান ১৬ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসান ঘটিয়েছিল।’ তবে বর্তমানে সেই ঐক্য ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশ ও জাতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে সম্পূর্ণ অরাজনৈতিকভাবে একটি ‘ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কাউন্সিল’ গঠন করা প্রয়োজন।”

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাওয়ার ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) আবু নওরোজ খুরশিদ আলম, বীরপ্রতীক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, রাওয়ার ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) নিয়াজ আহমেদ জাবের, ক্রীড়া সম্পাদক ও বিএনপি নেতা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট (অব.) ড. মোহাম্মাদ হারুনুর রশিদ ভূইয়া, জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সিইও লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) আকবর কামাল, দৈনিক নয়া দিগন্তের যুগ্ম সম্পাদক কবি জাকির আবু জাফর এবং জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ।

এ ছাড়া জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্য, আহত জুলাইযোদ্ধা, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা ও সাংবাদিকরা আলোচনাসভায় অংশ নেন।