• ই-পেপার

বেসরকারি হাসপাতালেও কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে হবে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

রথযাত্রা উৎসব শুরু আগামীকাল, চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
রথযাত্রা উৎসব শুরু আগামীকাল, চলছে শেষ পর্যায়ের প্রস্তুতি
সংগৃহীত ছবি

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান শ্রী শ্রী জগন্নাথদেবের রথযাত্রা উৎসব শুরু হচ্ছে আগামীকাল বৃহস্পতিবার। সনাতনী রীতি অনুযায়ী, প্রতি বছর আষাঢ় মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে শুরু হয় জগন্নাথদেবের রথযাত্রা।

রথযাত্রাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। রথের সংস্কার, রঙ ও সাজসজ্জার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও শ্রমিকরা। রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা ধর্মীয় অনুষ্ঠানমালার মাধ্যমে আনন্দমুখর পরিবেশে ৯ দিনব্যাপী শ্রী শ্রী জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা মহোৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল ৮টায় রাজধানীর স্বামীবাগ মন্দিরে বিশ্বশান্তি ও মঙ্গল কামনায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞের মধ্য দিয়ে রথযাত্রা মহোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। পরে বেলা তিনটায় মন্দির থেকে জগন্নাথদেবের রথযাত্রা বের হবে। সন্ধ্যা সাতটার দিকে রথ ঢাকেশ্বরী মন্দিরে পৌঁছাবে।

6

রথযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত ৯ দিনব্যাপী অনুষ্ঠান মালায় রয়েছে, হরিনাম সংকীর্তন, বিশ্ব শান্তি ও মঙ্গল কামানায় অগ্নিহোত্র যজ্ঞ, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, শোভাযাত্রা, পদাবলী কীর্তন, আরতি কীর্তন, ভগবত কথা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শ্রীমদ্ভাগবত গীতা পাঠ, ধর্মীয় চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও ধর্মীয় নাটক মঞ্চায়ন।

রথযাত্রা উপলক্ষে দুপুর একটায় আলোচনা সভা শেষে বিকেল ৩টায় রথের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হবে। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন।

জানা যায়, রাজধানীর স্বামীবাগ আশ্রম থেকে রথযাত্রা শুরু হয়ে জয়কালী মন্দির, ইত্তেফাক মোড়, শাপলা চত্বর, দৈনিক বাংলার মোড়, পল্টন মোড়, জাতীয় প্রেসক্লাব, হাইকোর্ট, দোয়েল চত্বর, শহীদ মিনার ও পলাশীর মোড় হয়ে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে গিয়ে শেষ হবে। পরে ২৫ জুলাই বিকেলে একই পথে উল্টো রথের শোভাযাত্রা ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে স্বামীবাগ আশ্রমে ফিরে আসবে।

সরকার, প্রশাসন ও পুলিশের সঙ্গে রথযাত্রা উপলক্ষ্যে সর্ব্বোচ নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে। এছাড়াও ৫০০ স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলার দায়িত্বে থাকবে।

ধামরাইয়ে সাজছে ঐতিহ্যবাহী রথ

ঢাকার ধামরাইয়ে শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রাকে সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। ধামরাই বাজারের রথখোলা এলাকা থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত রথ টানার মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হবে। ২৪ জুলাই উল্টোরথ অনুষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে শেষ হবে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা। রথযাত্রাকে ঘিরে ১৬ জুলাই থেকে এক মাসব্যাপী ঐতিহ্যবাহী মেলা বসবে।

প্রচলিত কাহিনী অনুযায়ী, প্রায় ৪০০ বছর আগে ধামরাইয়ের জমিদার শ্রী যশোপাল একদিন সৈন্য-সামন্ত নিয়ে যাওয়ার পথে একটি ঢিবির সামনে এসে তার হাতি থেমে যায়। পরে ঢিবি খনন করে একটি মন্দির ও কয়েকটি দেবমূর্তি পাওয়া যায়। সেগুলো বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর রাতে স্বপ্নে মাধব দেবতার নির্দেশ পান তিনি। এরপর নিজের নামের সঙ্গে ‘মাধব’ যুক্ত করে যশোমাধব নাম গ্রহণ করেন এবং ওই সময় থেকেই যশোমাধবের পূজা ও রথযাত্রার সূচনা হয়। সেই ঐতিহ্য আজও চলে আসছে।

5

সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলা ১২০৪ থেকে ১৩৪৪ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত সাটুরিয়ার বালিয়াটির জমিদাররা বংশানুক্রমে এখানে চারটি রথ নির্মাণ করেন। ১৩৪৪ খ্রিষ্টাব্দে নারায়ণগঞ্জের স্বর্গীয় সূর্যনারায়ণ সাহার তত্ত্বাবধানে এক বছর সময় নিয়ে একটি রথ নির্মিত হয়। ধামরাই, কালিয়াকৈর, সাটুরিয়া ও সিঙ্গাইরের কাঠশিল্পীরা যৌথভাবে ৬০ ফুট উচ্চতার ত্রিতলবিশিষ্ট রথটি নির্মাণ করেছিলেন। পরে বালিয়াটির জমিদাররা এলাকা ছেড়ে গেলে রথের দেখভালের দায়িত্ব নেয় টাঙ্গাইলের রণদাপ্রসাদ সাহার পরিবার।

২০১০ সালে পুরোনো রথের আদলে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন রথ নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৪০ জন শিল্পী ছয় মাসের বেশি সময় ধরে কাজ করে ৩৭ ফুট উচ্চতা ও ২০ ফুট প্রস্থের কারুকার্যমণ্ডিত রথটি তৈরি করেন। লোহার কাঠামোর ওপর সেগুন ও চাম্বল কাঠ বসিয়ে খোদাই করা এ রথে রয়েছে ১৫টি লোহার চাকা। সামনে রয়েছে কাঠের তৈরি দুটি ঘোড়া ও একজন সারথির অবয়ব। বিভিন্ন স্তরে স্থাপন করা হয়েছে কাঠের তৈরি দেব-দেবির মূর্তি।

রথটির দেখভালের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা জানান, সারা বছর খোলা আকাশের নিচে থাকায় রথের রঙ কিছুটা মলিন হয়ে যায়। তাই প্রতি বছর রথযাত্রার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কার, রঙ ও সাজসজ্জার কাজ করা হয়। এরপর এই রথেই অনুষ্ঠিত হয় ধামরাইয়ের ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা।

চলতি বছরের ৬ মাসে শিশুসহ ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ২০২৫ জন : এইচআরএসএস

নিজস্ব প্রতিবেদক
চলতি বছরের ৬ মাসে শিশুসহ ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার ২০২৫ জন : এইচআরএসএস
সংগৃহীত ছবি

গত ৬ মাসে সারা দেশে শিশু, কিশোরীসহ ৪০৪ জনকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। যাদের মধ্যে ২৩৮ জনই শিশু ও কিশোরী। এ ছাড়া এই সময়ে ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছে ১৭ জন।

বুধবার (১৫ জুলাই) দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে (জানুয়ারি-জুন) এমন তথ্য জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত দেশে নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ৬২১ জন নারী ও কন্যাশিশু। গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৪২ জন। অর্থাৎ বছর ব্যবধানে নির্যাতনের ঘটনা বেড়েছে প্রায় ৫৬ শতাংশ।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন বলছে, গত ৬ মাসে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয়েছে ৮৮ নারী ও শিশুকে। সেই সঙ্গে এই সময়ে ৪৭৬ নারী ও শিশুকে যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনায় গত ৬ মাসে ১৯ নারী নিহত হওয়ার পাশাপাশি ৮ জন আহত হয়েছে এবং ৩ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন।

এদিকে গত ৬ মাসে দেশে পারিবারিক সহিংসতায় ৩২০ নারী নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি এই সময়ে পারিবারিক সহিংসতায় ২১১ জন নারী আহত হয়েছেন এবং আত্মহত্যা করেছেন ১৪৭ জন। এ ছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ৪ জন নারী এসিড সহিংসতায় আহত হয়েছেন।

এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৬ মাসে দেশে ১ হাজার ৭৭ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩০৫ জন শিশু মারা গেছে। এ ছাড়া শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে আরো ৭৭২ জন শিশু। যেখানে গত বছরের একই সময়ে শিশু নির্যাতনের সংখ্যা ছিল ৬৭৩। এর মধ্যে ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছিল।

দেশের মূলধারার ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ ছাড়াও এইচআরএসএসের সংগৃহীত তথ্য ও ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে এইচআরএসএসের নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক ও নির্বাচনি সহিংসতা ছাড়াও মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু, নারী ও শিশু নির্যাতন, সাংবাদিক ও শ্রমিক নির্যাতনের বিষয়গুলোর সমাধান না হলে মানবাধিকার পরিস্থিতির আরো অবনতি হতে পারে। এই অবস্থায় দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে মাহদী আমিন

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের ৫ উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের ৫ উদ্যোগ

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনে সরকারের নেওয়া ৫টি উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। বুধবার (১৫ জুলাই) বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র ফেসবুক পোস্টে এই উদ্যোগের কথা জানান।

মাহ্দী আমিন বলেন, আজ চট্টগ্রাম বোর্ড ব্যতীত সারা দেশে ২৫৮৩টি পরীক্ষা কেন্দ্রে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্বতঃস্ফূর্ত ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য উন্নতির পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও যথেষ্ট উদ্দীপনা ও উৎসাহ নিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষা গ্রহণে জটিলতা নিরসনে নির্বাচিত সরকার সময়োপযোগী ও শিক্ষার্থীবান্ধব কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

মাহ্দী আমিনের পোস্টে লেখা সরকারের পাঁচটি উদ্যোগ হুবাহু তুলে ধরা হলো :

১। সারা দেশের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা গ্রহণের বিষয়ে বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ এবং অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে, বিপুলসংখ্যক সংখ্যাগরিষ্ঠ শিক্ষার্থীর স্বার্থকে প্রধান্য দিয়ে, সর্বসম্মতিক্রমে পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী চট্টগ্রাম বোর্ড ছাড়া সারাদেশে পরীক্ষা চালু রাখা হয়েছে।

২। কোথাও যাতায়াত বা জলাবদ্ধতার কারণে সমস্যা হলে প্রয়োজনে কেন্দ্র পরিবর্তন, পরীক্ষা স্থগিত, কিংবা পরীক্ষার সময় বৃদ্ধিসহ যেকোনো প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

৩। প্রতিকূল আবহাওয়া কিংবা সংশ্লিষ্ট অনিবার্য কারণে যারা চলমান এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার কোনো বিষয়ে অংশগ্রহণ করতে পারেনি, সেই অনুপস্থিত শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ইতোমধ্যে স্থগিত হওয়া সংশ্লিষ্ট বিষয়ের অভিন্ন পরীক্ষাপত্রে, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্ধারিত একই তারিখ ও সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে।

৪। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের দুটি ভুল প্রশ্নের জন্য সকল পরীক্ষার্থীকে ফুল মার্কস দেওয়া হবে।

৫। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ফেসবুক পোস্টে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কাছে এইচএসসি শুধু একটি পরীক্ষা নয়; এটি আগামীর বাংলাদেশ গড়ার কারিগরদের ভবিষ্যৎ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। এ কারণে সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা পরিচালনায় সচেষ্ট রয়েছে। সেই পথযাত্রায় শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম অগ্রাধিকার।

শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি

আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক আদেশে নয়, সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে গ্রেপ্তার এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’

বুধবার (১৫ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের বাঁক বদলের দিন’ শীর্ষক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ও সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে ব্যক্তি হিসেবে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও সংগঠন হিসেবে বিচারের আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতা ও জনগণের প্রত্যাশিত গণতন্ত্র রক্ষার দায়িত্ব দেশের সর্বস্তরের মানুষের। ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তন ও যেকোনো ষড়যন্ত্র রুখতে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা জাতীয় ঐক্য আরো সুদৃঢ় ও অটুট রাখতে হবে।

‘প্রশাসনিক আদেশে দল নিষিদ্ধের পক্ষে নই’

আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিষিদ্ধ বা বিচারের মুখোমুখি করার প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমরা কোনো প্রশাসনিক আদেশ বা নির্বাহী আদেশে কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করার পক্ষে নই। আমরা চাই, সম্পূর্ণ আইনানুগ ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সংগঠনের রাজনৈতিক ভাগ্য নির্ধারিত হোক।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনা হয়েছে। এর ফলে শেখ হাসিনার পাশাপাশি আওয়ামী লীগকেও দল হিসেবে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে।

সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ টেনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কোনো সংগঠনকে বিচারের আওতায় আনার বিধান রয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ট্রাইব্যুনালের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, নাৎসি বাহিনী ও গেস্টাপোর বিরুদ্ধে যেভাবে বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, বাংলাদেশেও রাষ্ট্রীয় বাহিনী ব্যবহার করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের দায় সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক সংগঠন এড়াতে পারে না।

তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের পরও আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতৃত্বের মধ্যে কোনো অনুশোচনা বা ক্ষমা প্রার্থনার মনোভাব দেখা যায়নি। বরং জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে দলটি রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছে।

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর চেষ্টা চলছে

শেখ হাসিনার বিচার প্রসঙ্গে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) সংসদেও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি—শেখ হাসিনার আত্মসমর্পণের কোনো সুযোগ নেই। প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠানো হয়েছে। দেশে ফিরিয়ে এনে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং আদালতের রায় কার্যকর করা হবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিদেশে অবস্থানরত সাবেক সরকারের মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও কর্মকর্তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রকাঠামোয় সংস্কারের অঙ্গীকার

দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীনতা অর্জন করা সহজ, কিন্তু তা রক্ষা করা কঠিন। স্বৈরাচারী শক্তি যেন আর কখনো দেশের গণতন্ত্রকে পদদলিত করতে না পারে, সে জন্য আমরা রাষ্ট্রকাঠামোর গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই।

তিনি বলেন, বিএনপির ৩১ দফার আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার সাজানো হয়েছে। ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ‘জাতীয় জুলাই সনদে’ স্বাক্ষর করেছে। এই সনদ অনুযায়ী সংবিধানসহ প্রয়োজনীয় আইন সংস্কারের অঙ্গীকার রয়েছে।

জুলাই আন্দোলনের শুরুর দিকের স্মৃতিচারণা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১৫ জুলাই যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘তুমি কে, আমি কে—রাজাকার, রাজাকার’ এবং ‘কে বলেছে, কে বলেছে—স্বৈরাচার, স্বৈরাচার’ স্লোগানে ইতিহাসের গতিপথ বদলে যাচ্ছিল, তখন আমি নির্বাসনে থাকলেও আমার পূর্ণ মনোযোগ ও সহযোগিতা ছিল এই আন্দোলনের সঙ্গে।

‘জুলাইয়ের কৃতিত্ব কারো একার নয়’

জুলাই আন্দোলনের চেতনাকে কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই জুলাই বিপ্লবের কৃতিত্ব কারো একার নয়। দেশের সাধারণ মানুষ বুক পেতে দিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে। কৃতিত্ব কেবল তাদের।

তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারগুলো যাতে স্বৈরাচারের পরিণতি থেকে শিক্ষা নিতে পারে, সে জন্য গণভবনকে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তর করা হচ্ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের শহীদদের স্বপ্নের নিরাপদ, গণতান্ত্রিক, স্বৈরাচারমুক্ত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণ প্রজন্মসহ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল।

স্বাগত বক্তব্য দেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।